বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শিক্ষা সহায়ক ওয়েব সাইট

প্রতিবেদন : বিদ্যালয়ে বাংলা নববর্ষ উদ্‌যাপন উপলক্ষ্যে

তোমার বিদ্যালয়ে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানমালার বিবরণ দিয়ে একটি প্রতিবেদন রচনা করো।

বা, তুমি রতন। আনন্দ পাঠশালার দশম শ্রেণির একজন ছাত্র। তোমার বিদ্যালয়ে বাংলা নববর্ষ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানমালার বিবরণ দিয়ে প্রধান শিক্ষক বরাবরে একটি প্রতিবেদন রচনা করো।


১৮ই এপ্রিল. ২০২১

বরাবর
প্রধান শিক্ষক
শান্তিনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
ঢাকা।

বিষয় : বাংলা নববর্ষ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানমালা সম্পর্কে পতিবেদন।

সূত্র : শা.বা.উ.বি./৮৭/২০২১

জনাব,
আপনার আদেশক্রমে শান্তিনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সম্প্রতি যে বাংলা নববর্ষ উদ্‌যাপন অনুষ্ঠান হয়ে গেল সে সম্পর্কে আপনার সমীপে প্রতিবেদন উপস্থাপন করলাম।

শান্তিনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বাংলা নববর্ষ উদ্‌যাপিত

গত ১৪ এপ্রিল, ২০২১ শান্তিনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ‘বাংলা নববর্ষ-১৯২৮’ উদ্‌যাপিত হয়। এ উপলক্ষ্যে আয়োজন করা হয় আলোচনা সভা, বৈশাখি মেলা, বইমেলা, স্বরচিত কবিতা পাঠের আসর, সংগীত ও নৃত্যানুষ্ঠানের।

নববর্ষ উপলক্ষ্যে কলেজ মাঠকে চমৎকারভাবে সজ্জিত করা হয়। ‘বাংলা নববর্ষ’ খুব বড় করে লেখা হয় বিদ্যালয়ে প্রবেশ পথের প্রধান তোরণে, যা অনেক দূর থেকে দেখা যায়। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানমালার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন মাননীয় তথ্য প্রতিমন্ত্রী।

এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান শিক্ষক আবদুল রহিম। প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যথাক্রমে মাননীয় তথ্য প্রতিমন্ত্রী এবং জেলা প্রশাসক।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলা নববর্ষ একটি সর্বজনীন উৎসব, জাতীয় উৎসব। আমাদের জাতিসত্তার সাথে এ উৎসবের আমেজ জড়িয়ে আছে। জাতি হিসেবে আমাদের স্বকীয়তার অন্যতম স্মারক এ বাংলা নববর্ষ। নববর্ষ আমাদের জীবনকে নতুনভাবে উদ্দীপ্ত করে, আমরা পুরাতন বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানাই। অতীতের ব্যর্থতা, গ্লানি ভুলে গিয়ে নতুনের আহ্বানে জেগে উঠি, স্বপ্ন দেখি নতুন দিনের। বাংলা নববর্ষ আমাদের ঐতিহ্য, কৃষ্টি ও সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বাংলা নববর্ষ আমাদের জন্যে নতুন নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আসে বলেও প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন।

বিশেষ অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলা নববর্ষের উৎসবের সঙ্গে আমাদের গৌরবময় অতীত ও ঐতিহ্যের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। বাংলা নববর্ষ আমাদের জীবনে স্বকীয়তা ও সচেতনতা সৃষ্টি করে, আমাদের আশাবাদী জীবনে নববর্ষ সীমাহীন সম্ভাবনা নিয়ে হাজির হয়।

অনুষ্ঠানের সভাপতি তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলা নববর্ষ আমাদের জীবনে আসে বিশেষ তাৎপর্য নিয়ে। জাতীয় জীবনে নতুন চেতনার সৃষ্টি করে বলে আমরা বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে নববর্ষকে বরণ করে নিয়ে গেয়ে উঠি- ‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো।’

আলোচনা সভা শেষে প্রধান অতিথি বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত বৈশাখি মেলার উদ্বোধন করেন। এতে কুটিরশিল্পজাত বিভিন্ন সামগ্রীর সমাবেশ ঘটে। এ ছাড়াও মেলার বিভিন্ন দোকানে ছোটদের মন ভুলানো পণ্য এবং নানারকমের দেশীয় খাবারদাবার দেখা যায়। বিনোদনের নানা উপকরণ মেলাকে বেশ উপভোগ্য করে তোলে। মেলায় প্রচুর দর্শক সমাগম ঘটে। চারদিকে যেন আনন্দ কোলাহল শোনা যায়। কেনা-বেচা হয় অনেক কিছু। বিদ্যালয় মাঠের এক কোণে দেখা যায় নাগরদোলায় চড়ার জন্যে অনেক শিশু-কিশোর জড়ো হয়ে আছে। বাঁশির শব্দে আর শিশুদের কোলাহলে মুখরিত হয়ে ওঠে মেলার চারপাশ। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষ্যে বইমেলারও আয়োজন করা হয়। বইমেলায় বেশ কটি দোকান দেখা যায়। এতে অনেক বইয়ের সমাগম ঘটে। দর্শকরা বইমেলা ঘুরে ঘুরে দেখেন। অনেকে বই কেনেন।

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে স্বরচিত কবিতা পাঠেরও আয়োজন করা হয়। এতে দেশবরেণ্য বেশ কজন কবিসহ স্থানীয় কবিরা কবিতা পাঠ করেন। দেশবরেণ্য কবিদের মধ্যে কবিতা পাঠ করেন মহাদেব সাহা, নির্মলেন্দু গুণ ও আসাদ চৌধুরী।

এ উপলক্ষ্যে সংগীতানুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ বেতার এবং টেলিভিশনের শিল্পীসহ স্থানীয় শিল্পীরা দেশাত্মবোধক সংগীত পরিবেশন করেন।

নৃত্যানুষ্ঠানে বেশ কজন শিশুশিল্পী নৃত্য পরিবেশন করে। নৃত্যানুষ্ঠান দর্শকদের বেশ আনন্দ দেয়।

নিবেদক
সাবরিনা আক্তার দোলা
দশম শ্রেণি
শান্তিনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ঢাকা।

No comments