My All Garbage

Shuchi Potro
সাধারণ জ্ঞান অ্যাসাইনমেন্ট-২০২১ বাংলা রচনা সমগ্র ভাবসম্প্রসারণ তালিকা অনুচ্ছেদ চিঠি-পত্র ও দরখাস্ত প্রতিবেদন প্রণয়ন সারাংশ সারমর্ম খুদে গল্প ব্যাকরণ Composition / Essay Paragraph Letter, Application & Email Dialogue List Completing Story Report Writing Graphs & Charts English Note / Grammar পুঞ্জ সংগ্রহ কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স বই পোকা হ য ব র ল তথ্যকোষ পাঠ্যপুস্তক CV & Job Application বিজয় বাংলা টাইপিং My Study Note আমার কলম সাফল্যের পথে
About Contact Service Privacy Terms Disclaimer Earn Money


বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শিক্ষা সহায়ক ওয়েব সাইট

বিদায় অনুষ্ঠানে বিদায় সম্ভাষণ বক্তব্য

তোমার স্কুলের এস,এস,সি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানে বিদায় সম্ভাষণ বক্তব্য রচনা কর।


‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’

‘ক’ উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত ২০২০ সালের এস,এস,সি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত মাননীয় সভাপতি, প্রধান অতিথি, উপস্থিত সম্মানিত অন্যান্য অতিথিবৃন্দ, শিক্ষক, অভিভাবক এবং মঞ্চের সামনে উপস্থিত আমার বড় ভাই - বোন ও স্নেহের ছোট ভাই এবং বোনদের সকলকে আমার অন্তরের অন্তঃস্থল হতে জানাই অত্যন্ত ভালোবাসা, অভিনন্দন ও সালাম – "আসসালামু আলাইকুম"

অত্যন্ত দুঃখ ও অনেক ভারাক্রান্ত মন নিয়ে বলতে হচ্ছে আজ আমাদের বিদায় অনুষ্ঠান। যদিও আমরা মনে করি এটা একটা বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। কারণ মন থেকে চিরতরে বিদায় নেওয়া হয়তো সম্ভব নয়। তিন অক্ষরের ছোট্ট একটি শব্দমাত্র – বিদায়। মাত্র তিন অক্ষর। কিন্তু শব্দটির আপাদমস্তক যেন বিষাদে ভরা। শব্দটা কানে আসতেই মনটা কেন যেন বিষণ্ণ হয়ে ওঠে। এমন কেন হয়? কারণ এই যে,বিদায় হচ্ছে বিচ্ছেদ। আর প্রত্যেক বিচ্ছেদের মাঝেই নিহিত থাকে নীল এক বেদনার ছাপ! কষ্ট। সে-ই যে জন্ম লগ্ন থেকে বিদায়ের সূচনা, তারপর জীবন পথের বাঁকে বাঁকে প্রতিটা অধ্যায়ে শুরু হয় বিদায়ের পর্ব। আর প্রতিক্ষা ক্ষেত্রেই এই বিদায় যেন অনিবার্য হয়ে আসে...।

দোলনায় দোল খেতে খেতে কিংবা
সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়ে ওঠা আমাদের
শৈশবের কিছুই মনে নেই। নদীর পাশে সেই প্রাইমারী স্কুলটা হয়তো আজো আছে কিন্তু আমি নেই সেখানে। স্কুল জীবনটা যে কিভাবে শেষ হয়ে গেল টের-ই পেলাম না। হারালাম অনেক বন্ধুকে! হারালাম শৈশবের কত প্রিয় আর পরিচিত মুখ। মনে পড়লে বুকের ভেতর কেমন খা খা করে। আজ-ই সম্মুখিন ঠিক সেইরকম এক বিদায়ের। মন চাইছে না তবু বলতে হচ্ছে —

"যেতে হবে বহুদূর
তাই এই ছেঁড়া বাধন
বিরহ-ব্যথা কাতর মনে
রয়েছে হাসি আর কাঁদন
আজ ছেড়ে চলেছে সকল
সকল মায়া সুশাসন
সম্মুখে দাঁড়িয়ে দিতে
বিদায়ী ভাষণ"!!

শ্রদ্ধেয় শিক্ষকমন্ডলী, আপনাদের বিরক্ত হতে দেখিনি কখনো। একজন মালি কতটা আঘাত সহ্য করে একটা ভালো চারা উৎপাদন করে আর একজন শিক্ষক কতো অনায়াসেই সেটা করে শুধু সমাজে ভালো কিছু উপহার দেওয়ার জন্য। আজ আমরা সকলে সম্মানিত শিক্ষকদের কাছে আমাদের অতীত জীবনের সেইসকল বিরক্তিকর আচরণের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করছি। একজন মনিষী বলেছেন –
"The mediocre teacher tells, the good teacher explains, the superior teacher demonstrates, the great teacher inspires."
আমাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষক সম্পর্ক বলতে গেলে সেরাটাই বলতে হয়। হয়তো এতেও কমতি রয়ে যাবে। থেকে যাবে তাদের অপ্রাপ্তি। সত্যি বলতে জাতির সেরা মানুষ তৈরির কারিগর শিক্ষকদের কোনো তুলনা হয়না। তারা এক অনন্য ব্যক্তিত্ব।

সম্মানিত অভিভাবক আপনাদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রথমে এই যে – আপনারা এমন সুন্দর একটা অনুষ্ঠানে আমাদের সুযোগ করে দিয়েছেন শেখার জগতে জ্ঞানী-গুণী মানুষের সাথে মেশার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। আমরা নিজ নিজ অভিভাবক কে হারিয়ে আর পেয়েছিলাম ভালো কিছু কর্তা। তাইতো বিদায় শব্দতা ব্যবহার করতে চাইছিনা। তবুও আজ যখন আমরা বিদায় নামক এক শব্দের কাছে বন্দী হয়ে গেছি তখন বলতেই হয়—
"যেতে নাহি দিব হায়
তবু যেতে দিতে হয়
তবু চলে যায়"

প্রিয় অগ্রজ : যারা আমাদের কে সারাক্ষণ সঠিক পথ প্রদর্শনের দায়িত্ব পালন করেছে তাদের প্রতি থাকলো চিরকৃতজ্ঞতা। অনেক সময় না বুঝে ভুল করেছি। আবার কখনো ইচ্ছাকৃত দোষ করেছি মনের কোনো অজানা ক্ষোভে কিংবা নিছক আনন্দ পাওয়ার জন্য কখনো অনা অহেতুক কোনো কাজ করেছি যা বেয়াদবির সামিল। আপনারা ছিলেন আমাদের আলোকবর্তিকা স্নেহ ভালোবাসার প্রকৃত উদাহরণ। আপনাদের সুশাসন মনে পড়বে বারে বারে। আপনারা আমাদের জন্য দোয়া করবেন যাতে আমরা ও আপনাদের মত স্বপ্ন শিখরে উঠতে পারি।

আজ অপূর্ণ থেকে গেল সেই ইচ্ছেটি সাম্যের ছবি আঁকা নয়, এক সাথে থাকার ইচ্ছা। চলার পথে দীর্ঘ পথচলা যখন, তখনতো ছোটখাটো ভুলত্রুটি থাকতে-ই পারে। আজ সকল ভেদাভেদ ভুলে গেয়ে তোমাদের নিকট ক্ষমার হাত বাড়িয়ে দিলাম।আর তোমাদের ক্ষমা করে দিলাম। যদিও ছোটদের ভুল বলে কিছু নেই থাকবেও না।

একটি কথা বলতে হয় আমার বিদায়ী সহপাঠী এবং সহযোদ্ধাদের উদ্দেশ্যে। এই প্রতিষ্ঠান আমাদের যা দিয়েছে তা অপূরণীয়। তাই জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে ভালো কিছুর চেষ্টা অবশ্যই থাকবে এবং সেইসব ভালোর মধ্য দিয়ে অত্র প্রতিষ্ঠানের প্রতি আপনার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ পাবে। তাই জীবনের সবক্ষেত্রেই নিজেকে সেরাটা দিতে দ্বিধা করো না।

পরিশেষে, শ্রদ্ধেয় শিক্ষক, অভিভাবক, ছোট ভাই-বোন, বড় ভাই-বোনসহ সকল শিক্ষার্থীদের কাছে আমরা আমাদের ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

আগামী দিনের সাফল্যের জন্য দোয়া প্রার্থী। আমরা সবাই যেন আশানুরুপ ফলাফল অর্জন রতে পারি।

সর্বোপরি আমরা আমাদের প্রিয় মানুষগুলোর ইচ্ছা পূরণ করতে পারি। দেশ ও দশের জন্য নিজেকে নিয়োজিত করতে পারি।

মহান প্রতিপালক রাব্বুল আলামিনের কাছে প্রার্থনা জীবনের সর্বাবস্থায় তিনি যেন আমাদের সকলে ভালো রাখুন আর পূর্ণতা পাক আমাদের সকল চাওয়া পাওয়া এই বলে আমি বিদায় নিচ্ছি। আল্লাহ হাফেজ।

আজিবুল হাসান
২৭ মার্চ, ২০২১

No comments