পরীক্ষায় বেশি নম্বর পাওয়ার কৌশল

আমরা সবাই জানি পরীক্ষার খাতায় ভালো করে লিখলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। ভালো ফল পেতে কোনো ভালো স্টুডেন্ট হতে হয় না। হতে হয় স্মার্ট স্টুডেন্ট, বুদ্ধিমান স্টুডেন্ট। পরীক্ষার হলে যে যত বেশি smart idea ব্যবহার করে এবং যে যত শান্ত ও স্থীর থেকে পরীক্ষা দেয় তার ততই ভালো ফল পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। 

নিচে আমি ভালো ফল পাওয়ার কিছু কৌশল নিয়ে আলোচনা করছি। আশাকরি তোমাদের উপকারে আসবে। 
strategies to get higher marks in exam
কারো কারো প্রশ্নপত্রে তেমন কিছুই কমন পড়ে না, তারপরও সে ভালো রেজাল্ট করে। আবার কারো কারো সব কমন পড়ার পরও সে তেমন ভালো রেজাল্ট করতে পারে না। এর কারণ কি? এর কারণ মেধাবী শিক্ষার্থী আর স্মার্ট পরীক্ষার্থীর পার্থক্য।

সুতরাং এসো জেনে নিই স্মার্ট হওয়ার কিছু idea -

স্মার্ট পরীক্ষার্থী হওয়ার idea

  • পরীক্ষা শুরুর ত্রিশ মিনিট আগে পরীক্ষার হলে পৌঁছতে হবে। 
  • অতিরিক্ত কলম, পেন্সিল, রাবার ও পানি সাথে নিতে হবে। 
  • গরমে ঢিলেঢালা পোশাক ও টিস্যু রাখতে হবে। 
  • অন্যদের সাথে কম কথা বলার চেষ্টা করতে হবে। 
  • পরীক্ষার আগে পেট ভরে না খাওয়াই ভালো। 

স্মার্ট উত্তরপত্র তৈরি করার idea

idea one : উত্তর পত্রে যেখান থেকে লিখা শুরু করার নির্দেশ আছে সেখান থেকে লিখা শুরু করতে হবে। প্রতি পৃষ্ঠার উপরে ও বামে এক স্কেল পরিমাণ জায়গা খালি রেখে মার্জিন করতে হবে। কোনোভাবে ডানে বা নিচে মার্জিন করা যাবে না। আর মার্জিন অবশ্যই পেন্সিল দিয়ে করতে হবে। 

idea two : খাতায় লাল কালি বা লাল রঙের কাছাকাছি কালি ব্যবহার করা যাব না। আর সাইন-পেনও ব্যবহার করা যাবে না অর্থাৎ এই পৃষ্ঠার কালি কাগজের অপর পিঠে বুঝাযায় এমন কলম ব্যবহার করা যাবে না। আরেকটা বিষয়, কিছু কিছু কলম আছে যেগুলো দিয়ে লিখলে কালি কিছু দিন পর ছড়িয়ে যায় বা ঘোলা হয়ে যায়। অনেক সময় মেঘলা আবহাওয়ার সময় কিছু কিছু কলমের কালি ঘোলা হয়ে যায়। পরীক্ষার খাতা মাঝে মাঝে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার বেশ কিছু দিন পর কাটা হয় বা মূল্যায়ন করা হয়। তাই খাতায় এমন কালি ব্যবহার করা উচিত নয় যা সময় ও আবহাওয়ার কারণে  লিখা নষ্ট করে। সে জন্য ঘরে নিয়মিত লিখার সময়ই কলম সম্পর্কে ভালো ধারণা নিয়ে নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, অনভ্যস্ত কলম, ক্যালকুলেটর বা অন্য যেকোনো কিছু পরীক্ষার হলে ব্যবহার করা উচিত নয়।

idea three : হিসাব বিজ্ঞান বা চিত্র ভিত্তিক উত্তর লিখতে হয় এমন পরীক্ষার সময় আগে থেকে প্রতি পৃষ্ঠায় মার্জিন না করাই ভালো। উত্তর লিখার প্রয়োজনে টেবল, চিত্র বা গাণিতিক যুক্তির জন্য মার্জিনের প্রয়োজন নাও থাকতে পারে। 

স্মার্ট উত্তর লিখার idea

idea one : যে প্রশ্নের উত্তর লিখবে তা ভালো করে বুঝতে হবে। প্রশ্নে চাইলো একটা তুমি লিখলে আরেকটা, হবে না। প্রশ্ন ভালোভাবে বুঝার উপর ৫০% সফলতা নির্ভর করে। 

idea two : যে প্রশ্নটি তুমি সবচেয়ে ভালো পারো সেই প্রশ্নের উত্তর সবার আগে লিখা শুরু করতে হবে। সৃজনশীলের উদ্বৃপক অংশের যে বিষয় গুলো উত্তর লিখার সময় প্রয়োজন পড়বে তা পেন্সিল দিয়ে দাগ দিয়ে দিতে হবে। দীর্ঘ উত্তর লিখা শুরু করার আগে পুরো উত্তরটি মাথায় গুছিয়ে নাও। তারপর লিখা শুরু করো। 

idea three : সৃজনশীল প্রশ্নের প্রতিটি উত্তর ধারাবাহিক ভাবে লিখতে হবে। এলোমেলো করে লিখা যাবে না। একটি সৃজনশীল প্রশ্নের কয়েকটি উত্তর দিয়ে আরেকটি সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর শুরু করে পুনরায় আগের সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর লিখা যাবে না। 

idea four : যে প্রশ্নের উত্তর লিখা শুরু করছো, তার শুরুতে প্রশ্নের বিভাগ একটু বড় করে লিখতে হবে রঙিন কালি দিয়ে আন্ডার-লাইন করতে হবে। ইংরেজী প্রশ্নের উত্তর লিখার সময় “Answer to the Question No ......”, গণিতের ক্ষেত্রে “.... নং সমস্যার সমাধান”, বাংলার ক্ষেত্রে “..... নং প্রশ্নের উত্তর” লিখতে হবে। তারপর আধা ইঞ্চি নিচ থেকে লিখা শুরু করতে হবে। প্রতিটি উত্তরের শুরুতে (ক), (খ), (গ), (ঘ) রঙিন কালি দিয়ে লিখে উত্তর লিখতে হবে যেন পরীক্ষক সহজেই ক, খ, গ, ঘ খুঁজে নিতে পারে। 

যদি ঘ নং প্রশ্নের উত্তর বেশি বড় হয় তবে তা তিনটি প্যারায় বিভক্ত করে লিখতে হবে। প্রথম প্যারায় প্রশ্নের উত্তর সংক্ষেপে লিখতে হবে। এতে পরীক্ষক প্রথমে বুঝতে পারবে তুমি প্রশ্নের উত্তর বুঝেছো। দ্বিতীয় প্যারায় বিস্তারিত উল্লেখ করতে হবে। এবং শেষ প্যারায় তোমার মতামত দিতে হবে। এইভাবে উত্তর দেয়াটাই প্রকৃত নিয়ম। 

idea five : যদি তৎক্ষনাৎ কোনো প্রশ্নের উত্তর মনে না পড়ে তবে ঐ প্রশ্নের জন্য প্রয়োজন মত জায়গা খালি রেখে পরবর্তী প্রশ্নের উত্তরে চলে যেতে হবে। এবং যখনই সেই প্রশ্নের উত্তর মনে পড়ে তখন লিখতে হবে। ভুলেও সময় নষ্ট করা যাবে না। 

idea six : গাণিত পরীক্ষায় খাতার শেষ পৃষ্টা রাফ করার জন্য ব্যবহার করা যায়। কোনোভাবেই অতিরিক্ত কাগজ নিয়ে তাতে রাফ করা যাবে না। রাফ করা পৃষ্ঠার উপরে বড় করে রাফ লিখে আন্ডার-লাইন করে দিতে হবে এবং ঐ পৃষ্ঠায় কোনো প্রশ্নের উত্তর লিখা যাবে না। 

idea seven : বিজ্ঞান বা জীববিজ্ঞান পরীক্ষাগুলোতে প্রশ্নে চিত্র না চাইলেও চিত্র আঁকতে হবে। না আঁকলে যতই ভালো লিখনা কেন নাম্বার কম পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ছবি আঁকার ক্ষেত্রে অবশ্যই পেন্সিল ব্যবহার করতে হবে। এবং ছবির নিচে ছবির নাম দিতে হবে। যদি কোনো কিছুর পার্থক্য লিখতে হয় তবে ছক করে লিখতে হবে। ছক করে লিখলে পরীক্ষক সহজেই পার্থক্যগুলো বুঝতে পারে এবং ভালো নাম্বার পাওয়া যায়। 

idea eight : অতিরিক্ত কাগজ নিলে অবশ্যই তাতে প্রয়োজনীয় তথ্য (নাম/রোল/রেজি.নাম্বার) লিখতে হবে এবং শিক্ষকের Signature আছে কিনা দেখে নিতে হবে। এরপর মূল খাতার মত মার্জিন করে নিতে হবে। অবশ্যই প্রথম পৃষ্ঠা থেকেই লিখা শুরু করতে হবে। যদি একাধিক অতিরিক্ত কাগজ নেয়া লাগে তবে প্রতিটি কাগজের কোণায় পেন্সিল দিয়ে সিরিয়াল নাম্বার লিখে দিতে হবে। যাতে সব গুলো কাগজ এক সাথে মূল খাতার সাথে বাঁধাই করার সময় পর-পর সাজাতে সমস্যা না হয়। 

idea nine : এবার আসি হাতের লিখা নিয়ে, যদিও হাতের লিখার উপর তেমন কোনো Marks নেই। তবুও সুন্দর হাতের লিখা কিছুটা সুবিধাতো পেয়ে থাকেই। পরীক্ষক একটি পরিষ্কার হাতের লিখা খাতা দেখে যদি সন্তুষ্ট হয়ে যায় তবে কিছু বাড়তি নাম্বারতো অবশ্যই পাওয়া যায়। তবে হাতের লিখা খারাপ হলেও সমস্যা নেই, সেক্ষেত্রে শিক্ষক যাতে পড়তে পারে সেদিকে খেয়াল রাতে হবে। লিখায় ভুল হলে ঘষা-মাঝা না করে একটানে কেটে দিতে হবে। 

শেষে এসে বলতে হয় কোনো প্রশ্নের উত্তর যদি একেবারে না পারো তবে উদ্বিগ্ন হওয়া যাবে না। সব প্রশ্নের উত্তর শেষ করে শান্ত হয়ে চিন্তা শুরু করো, বার বার প্রশ্নটি পড়ো। কিছুনা কিছুতো অবশ্যই মাথায় আসবে। প্রশ্নপত্রে যতগুলো প্রশ্নের উত্তর চাওয়া হয়েছে সবগুলো দেয়ার চেষ্টা করবে। কোনো প্রশ্নের উত্তর ছেড়ে আসা ঠিক নয়। ছোট করে হলেও সবগুলো প্রশ্নের উত্তর লিখার চেষ্টা করো।

5 Comments

Post a Comment
Previous Post Next Post