বইয়ে খোঁজার সময় নাই
সব কিছু এখানেই পাই

বাগধারা ও প্রবাদ-প্রবচন - ভ, ম

 ভ 
ভরাডুবি (সর্বনাশ) – মামলার পর মামলায় হেরে গিয়ে অবশেষে তার ভরাডুবি হলো।

ভালুক জ্বর (ক্ষণস্থায়ী জ্বর) – ম্যালেরিয়া রোগী গফুর তার ভালুক জ্বর ছেড়ে যাওয়া মাত্র ভাত খেলো।

ভেরেন্ডা ভাজা (অকাজের কাজ) – আবদুল, আর কদিন ভেরেন্ডা ভাজবে, কাজকর্ম নেই শুধু ঘুমানোই কি তোমার একমাত্র কাজ।

ভাইয়ের ভাত ভাজের হাত (ভ্রাতৃগৃহে বসবাসকারী যে স্ত্রীলোক ভাইয়ের অন্ন খায় ভ্রাতৃবধূর কর্তৃত্বও তার সয়) – বেগম নিতান্ত অসহায়, তাই ভাইয়ের ভাত ভাজের হাত দুই-ই জুটেছে।

ভুঁইফোঁড় (অর্বাচীন, হঠাৎ অভ্যুদিত) – করিম দেখছি আচ্ছা ভুঁইফোঁড় লোক, গানের সা-রে-গা-মা তো জানে না, ওস্তাদ বনে গিয়েছে।

ভিজা বিড়াল (কপটাচারী) – সে একজন ভিজা বিড়াল, বাইরে শান্ত ভিতরে কূট।

ভূতের বেগার (বৃথা পরিশ্রম) – সারা জীবন ভূতের বেগার খাটলাম, এখন দেখছি সবই বৃথা।

ভাতে মারা (খাদ্য সংগ্রহের উপায় বন্ধ করা) – লোকটি এখনো তোমার বশীভূত হলো না, ওকে হাতে না মার তো ভাতে মার; বাধ্য হবেই।

ভূতের বাপের শ্রাদ্ধ (অত্যধিক ব্যয়) – অন্যের টাকায় ভূতের বাপের শ্রাদ্ধ অনেকেই করে।

ভস্মে ঘি ঢালা (যথাসময়ে কাজ না করে কাজ নষ্ট হয়ে গেলে পরিশ্রম করা বা অর্থ ব্যয় করা) – মতিন সারা বছর পড়াশুনা না করে পরীক্ষার পূর্বরাত্রি জেগে পড়ে ভস্মে ঘি ঢালছে।

ভরাডুবির মুষ্টিলাভ (শেষ সম্বল) – সবই তো গেছে, এখন অস্থাবর সম্পত্তিটা আমার ভরাডুবির মুষ্টিলাভ।

ভূশন্ডির কাক (দীর্ঘজীবী) – স্ত্রী, পুত্র, কন্যা – সবার মৃত্যুর পরও বৃদ্ধ ভূশন্ডির কাকের মতো বেঁচে আছে।

ভিটায় ঘুঘু চড়ানো (সর্বনাশ করা) – সামান্য প্রজা হয়ে তুমি আমার বিরুদ্ধে যাচ্ছ, ঠিক আছে, তোমার ভিটায় ঘুঘু চড়াবো দেখো।

ভাঁড়ের কলসী (স্বার্থসিদ্ধির উপায়) – মাহমুদ মোড়ল রহমানকে ভাঁড়ের কলসীর মতো ব্যবসার করে।

ভানুমতির খেলা (জাদুর খেলা) - গায়ে ফোঁসকা পড়া গরমে হঠাৎ দমকা বাতাস আর বৃষ্টি, এ যেন ভানুমতির খেলা।

ভাজে ঝিঙে তো বলে পটোল (সত্য গোপন করে মনে রাখার জন্য মিথ্যা প্রচার করা) – লোকটির ডেঁপোমি দেখলে গা জ্বালা করে, সংসার চলে না, ভাজে ঝিঙে তো বলে পটোল।

ভবলীলা সাঙ্গ হওয়া (মারা যাওয়া) – বন্দুকের গুলিটা কপাল ফুটো করে দিল, আর তাতেই বাঘটার ভবলীলা সাঙ্গ হয়ে গেল।

ভাঁড়ে মা ভবানী (নিঃস্ব অবস্থা) – টাকা দেবে কোত্থেকে? ভাঁড়ে যে মা ভবানী।

ভিদভিদে (চাপা স্বভাবের) – এমন ভিদভিদে লোকের মনের হদীস পাওয়া ভার।

ভিরমি খাওয়া (মূর্ছা যাওয়া) – এক ঘুঁসি দিতেই ভিরমি খেল লোকটা।

ভীমরুলের চাকে খোঁচা দেয়া (শত্রুকে উত্তেজিত করা) – কি দরকার ভীমরুলের চাকে খোঁচা দিয়ে? চুপচাপ সহ্য করে যাও।

ভেস্তে দেয়া (পণ্ড করে দেয়া) – দিলে তো প্ল্যানটাকে ভেস্তে।

 ম 
মন না মতি (মানবচিত্তের অস্থিরতা) – মানব মন, তার তো পরিবর্তন ঘটতে পারে, কথায় বলে মন না মতি।

মুখে চুনকালি দেয়া (কলঙ্ক দেয়া) – কুলাঙ্গার মেয়ে বংশের মুখে চুনকালি পরালো।

মুখে ফুল চন্দন পড়া (শুভ সংবাদের জন্য ধন্যবাদ) – এই সুসংবাদ দেয়ার জন্য তোমার মুখে ফুল চন্দন পড়ুক।

মামার বাড়ির আবদার (সহজে মেটে এমন আকাঙ্ক্ষা) – একি মামার বাড়ির আবদার যে চাইলেও টাকা দেবো।

মেনিমুখো (সলজ্জ) – কলেজে পড়া ছেলে, কিন্তু এখনো সেই মেনিমুখো হয়ে থাকলে ভবিষ্যৎ যে অন্ধকার।

মাৎস্যন্যায় (অরাজকতা, মৎস্যের ন্যায় হানাহানি) – দেশ যে দুর্নীতিতে মাৎস্যন্যায় হয়ে উঠলো, শেষরক্ষা হবে কিভাবে?

মশা মারতে কামান দাগা (সামান্য কাজে বিরাট আয়োজন) – সামান্য একখানা বই চুরির ব্যাপার, এজন্য কোর্ট কাছারি, এ যে দেখছি মশা মারতে কামান দাগা।

মাঠে মারা যাওয়া (ব্যর্থতায় পর্যবসিত হওয়া) – চোর ধরার এত ষড়যন্ত্র, শেষ পর্যন্ত মাঠে মারা যাবে ভাবতে পারিনি।

মাথা খাওয়া (সর্বনাশ করা) – পিতা পুত্রকে আদর দিয়ে তার মাথা খাওয়ার উপক্রম করেছেন।

মাছি মেরে হাত কালো করা (ছোট কাজ করে অখ্যাতি অর্জন) – খান সাহেবের ছেলে আবুল হাশিম বাড়ির কাজের মেয়েটির গায়ে হাত তুললো, এ যে দেখছি সে মাছি মেরে হাত কালো করলো।

মানিকজোড় (অন্তরঙ্গ বন্ধুদ্বয়) – আলতাফ ও শরীফের গলায় গলায় ভাব, দুটিতে যেন মানিকজোড়, কেউ কাউকেও একদণ্ড ছেড়ে থাকতে পারে না।

মাথার মণি (শ্রদ্ধেয়) – শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক বাঙালির মাথার মণি ছিলেন।

মানে মানে (সসম্মানে) – এখানো বলছি মানে মানে বিদায় হও, নইলে তুমি নাকালের একশেষ হবে।

মাথায় রাখা (ভক্তি সম্মান বা আদর যত্ন করা) – আপনার উপদেশ মাথায় রাখব।

মুশকিল আসান (বিপদের শান্তি) – ঝড়ের তোড়ে পড়েছিলাম বাপু, মুশকিল আসানের জন্য আল্লাহর নাম স্মরণ করতে হলো।

মণিকাঞ্চন যোগ (যোগ্যের সঙ্গে যোগ্যের মিল) – দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে ইংল্যান্ডের সঙ্গে আমেরিকার মিতালী যেন মণিকাঞ্চন যোগ।

মনে লাগা (পছন্দ হওয়া) – মেয়েটি নিখুঁত সুন্দরী আর শিক্ষিতা, তাই আমাদের মনে লেগেছে।

মাছের মা (নির্মম) – নুরজাহানের নিজের পেটের ছেলের উপর দয়ামায়া নেই, সে যেন মাছের মা।

মাটির মানুষ (নিরীহ ব্যক্তি) – হাজী সাহেব মাটির মানুষ, এমন মহাপ্রাণ ব্যক্তি সচরাচর বিরল।

মেও ধরা (ঝুঁকি লওয়া) – শরীরের ওপর যে এত অত্যাচার করছ, অসুখ হলে মেও ধরবে কে?

মুখ রাখা (মান রাখা) – লুৎফুল হক এমএসসি পরীক্ষায় ফাস্ট ক্লাস পেয়ে বাপের মুখ রেখেছে।

মওকা পাওয়া (সুযোগ পাওয়া) – অনেকদিন পরে এবার সে প্রতিশোধ নেয়ার মওকা পেয়ে গেছে।

মেনতামুখো (মিনমিনে) – সে এমন মেনতামুখো যে এই সামান্য কথাটাও বলার সাহস তার হলো না।

মোমের পুতুল (সামান্য পরিশ্রমেই কাতর হয় এমন লোক) – তোমার মতো মোমের পুতুলকে দিয়ে এই কাজ চলবে না।

মিছরির ছুড়ি (মুখে মধু অন্তরে বিষ) - অন্তরে মিছরির ছুড়ি মারা বন্ধুরাই সুসময়ের বন্ধু।

বর্ণ অনুসারে পরবর্তী গুলো পাওয়ার জন্য নিচে ক্লিক করুন -
 -  -  -  -  -  -  -  -  -  -  -  -  -  -  -  -  -  -  -  -  -  -  -  -  -  -  - ভ - ম -  -  -  -  -  -  - 

1 comment:


Show Comments