বইয়ে খোঁজার সময় নাই
সব কিছু এখানেই পাই

বাগধারা ও প্রবাদ-প্রবচন - খ, গ, ঘ

 খ 
খইয়ের বন্ধনে পড়া (মুশকিলে পড়া) – মৃত বন্ধুর দুষ্ট প্রকৃতির ছেলেকে আশ্রয় দিয়ে খইয়ের বন্ধনে পড়েছি।

খণ্ডকপালে (দুর্ভাগ্য) – আমরা খণ্ডকপালে মানুষ রে ভাই; এত সুখ কি আমাদের সয়?

খণ্ডপ্রলয় (তুমুল কাণ্ড) – গতকাল রহিম ও করিমের মধ্যে একটা খণ্ডপ্রলয় বেধে গিয়েছিল।

খোদার খাসি (হৃষ্টপুষ্ট ব্যক্তি) – উকিল সাহেবের ছেলে ইউসুফ কোনো কাজ কর্ম করে না, খায় দায় ও ঘুরে বেড়ায়, একদম খোদার খাসি।

খাল কেটে কুমির আনা (স্বীয় দোষে বিপদে পড়া) – ওর মতো বদমাশ লোককে স্থান দিয়ে আমি যেন খাল কেটে কুমির এনেছি, ওর জন্য আমাকে বিপদে পড়তে হলো।

খরচের হাত (দরাজভাবে খরচ করা, খরচে উদারতা) – ওর যা খরচের হাত, ও কি আর বাড়ি-গাড়ি করতে পারবে?

খাই-খরচ (খাওয়ার খরচ, খোরাকি) – খাই-খরচ বাবদ কিছু টাকা নিজের হাতে রেখে দিই।

খাবি খাওয়া (বিপদে হাঁসফাঁস করা বা ছটফট করা) – এই বিশাল কাজের বোঝা ঘাড়ে নিয়ে এখন খাবি খাচ্ছি।

খেউর গাওয়া (অশ্লীল গালাগালি দেয়া) – কি করে সে অত লোকের সামনে এভাবে খেউর গাইল।

খেজুরে আলাপ (ধানাইপানাই কথাবার্তা, অকাজের কথাবার্তা) – লোকের সঙ্গে অকারণে খেজুরে আলাপ করতে ভালো লাগে না আমার।

 গ 
গাছে না উঠতেই এক কাঁদি (কাজ না করে ফল চাওয়া) – কাজ না করেই টাকা চাও এ যে দেখছি গাছে না উঠতেই এক কাঁদি।

গায়ে ফুঁ দিয়ে বেড়ানো (চিন্তাহীন লোক) – পরীক্ষায় ফেল করেও গায়ে ফুঁ দিয়ে বেড়াচ্ছ, তোমার কি ভাবনা-চিন্তা নেই?

গর্দভ-রাগিণী (নিরেট মুর্খ ব্যক্তির বেসুরো গান) – আরে কামাল, তুমি নাকি গান গাইবে আসরে? তোমার গর্দভ-রাগিণী শুনবে কে?

গায়ের ঝাল ঝাড়া (শোধ লওয়া) – আর কিছু পারি বা না পারি, কুকথায় পঞ্চমুখ হয়ে গায়ের ঝাল ঝাড়তে পারবো।

গড্ডলিকা প্রবাহ (অন্ধ অনুকরণ) – গড্ডলিকা প্রবাহে ভেসে চললে জীবনে উন্নতির কোনো আশা নেই।

গায়ে পড়া (অযাচিত) – তোমার গায়ে পড়া কথায় কি আসে যায় আমরা মোটেই তাতে কোনো গুরুত্ব দেই না।

গাছে তুলে মই সরানো (কাজে নেমে সরে পড়া) – বন্ধুরা আমাকে স্কুল করার কাজে নামিয়ে পালিয়েছে, এ যে দেখছি গাছে তুলে মই সরানো।

গা ঢাকা দেয়া (আত্মগোপন করা) – খুনী ঘটনার পর গা ঢাকা দিয়েছে, পুলিশ তাকে খুঁজে পাচ্ছে না।

গো মূর্খ (নিরেট মূর্খ বা বর্ণজ্ঞানহীন) – হাফিজ সাহেবের গো মূর্খ ছেলেটার এমন রূপসী গুণবতী বৌ জুটল, একেই বলে ভাগ্য।

গোঁয়ার গোবিন্দ (কাণ্ডজ্ঞানহীন মানুষ) – গোঁয়ার গোবিন্দের মতো কাজ করলে ঠকতে হয়।

গন্ধমাদন বহিয়া আনা (অবাস্তব বিষয়ের অবতারণা) – প্রশ্নে চেয়েছে কি, আর তুমি গল্পটা আগাগোড়া লিখেছ, যেন একেবারে গন্ধমাদন বয়ে এনেছ।

গোবরে পদ্মফুল (নীচকুলে মহৎ ব্যক্তি) – কৃষকের ঘরে এমন দয়ালু ও শিক্ষিত ছেলে -এ যে দেখছি গোবরে পদ্মফুল।

গৌরীসেনের টাকা (অফুরন্ত অর্থ) – একি গৌরীসেনের টাকা পেয়েছ যে, এক ধারছে খরচ করছ, রেখে ঢেকে খরচ কর।

গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়ল (গ্রামবাসী না মানলেও নিজেই নিজেকে কর্তা বলে জাহির করা) – তুমি বাপু ফপর দালালি করছ কেন, গাঁয়ে মানে না আপনি মোড়ল হয়ে বসেছ দেখছি।

গোড়া কেটে আগায় পানি ঢালা (জ্ঞাতসারে ক্ষতি করে পরে সংশোধনের প্রয়াস) – ছাত্র হয়ে পরীক্ষার হলে শিক্ষকের গায়ে হাত দিয়ে পরে ক্ষমা প্রার্থনা কর; এ যে দেখছি গোড়া কেটে আগায় পানি ঢালা।

গোল্লায় যাওয়া (নষ্ট হওয়া) – ক্যাপ্টেন সাহেবের অমন তুখোড় ছেলে গোল্লায় গিয়েছে, সে চুপেচুপে মদ খায়।

গভীর পানির মাছ (ধূর্ত) – রহমত আলী তো গভীর পানির মাছ, তার মর্ম বোঝা মুশকিল।

গদাই লস্করী চাল (আলসেমী) – ওহে বাপু তাড়াতাড়ি হাত চালাও, অমন গদাই লস্করী চালে কাজ করলে সব পণ্ড হবে।

গায়ে গায়ে শোধ (দেনা না দেয়া ও প্রাপ্য না লওয়া অথবা দেনা-পাওনার শোধবোধ) – তুমি আমার নিকট একশত টাকা পাবে, তা তোমার খোরাকি বাবদ খরচ ধরে গায়ে গায়ে শোধ দিতে চাই।

গো-বৈদ্য (হাতুড়ে) – ইসলাম সাহেবের মেয়ে এবার এ গো-বৈদ্যের হাতে পড়ে মরতে বসেছিল।

গৌরচন্দ্রিকা (ভূমিকা) – গৌরচন্দ্রিকা না করে আসল কথা বল।

গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল (প্রাপ্তির পূর্বেই ভোগের আয়োজন) – তোমার চাকরি হলে তবে তুমি খাওয়াবে, আমাদের সেই আশায় বসে থাকতে হবে, এ যে গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেলের ব্যাপার।

গণেশ উল্টানো (তুলে নেয়া) – কয়েক বছর যেতেই দোকানটি গণেশ উল্টিয়েছে।

গা তোলা (উঠা) – এখন গা তুলুন, ট্রেনের সময় হয়েছে।

গা মাখা (আমল দেয়া) – বড় ভাই গুরুজন, তার বকুনি গা মাখতে নেই।

গাছেরও খায় তলারও কুড়ায় (সব আত্মসাৎ করা) – সরকারি চাকরিতে পদস্থ কোনো কোনো ব্যক্তি বেতনও পান আবার পুরস্কারও লাভ করেন যেন গাছেরও খান, তলারও কুড়ান।

গা-করা (মনোযোগ দেয়া) – পরের কাজ হলেও গা-করা দরকার, নচেৎ সব পণ্ডশ্রম হবে।

গলগ্রহ (পরের বোঝা হয়ে থাকে) – অনেক দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যক্তি পুত্র ও পুত্রবধূর গলগ্রহ হয়ে থাকে।

গড়িমসি (ঢিলেমি/আলসেমি/দীর্ঘসূত্রতা) – সব কাজেই তার গড়িমসি কারও ভালো লাগে না।

গণ্ডগ্রাম (অজ পাড়া গাঁ) – সেই কোন গণ্ডগ্রামে তার বাড়ি।

গেঁড়াকল (লোককে ঠকাবার কৌশল) – আচ্ছা গেঁড়াকল বার করেছ তো?

গ্যাঁট হয়ে বসো (অনড় অটল হয়ে বসা/বসার পর আর নড়াচড়া না করা) – ওখানে চুপ করে গ্যাঁট হয়ে বসো।

 ঘ 
ঘরভেদী বিভীষণ (যে গৃহবিবাদ বাধায়) – আজিজ, ওর জন্য তুমি তো ওকালতি করছ, কিন্তু জানো তরু একজন ঘরভেদী বিভীষণ।

ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়া (বিপদ কাটিয়ে যাওয়া) – ছাত্রটির জেল হওয়ার কথা কিন্তু মহানুভব জজ সাহেব তাকে মুক্তি দেয়ায় শিক্ষকদের ঘাম দিয়ে জ্বর ছাড়লো।

ঘোড়ার ডিম (অলীক পদার্থ) – লোকটা যেমন হাড় কিপটে, তার কাছে যাচ্ছে টাকা ধার করতে, ঘোড়ার ডিম পাবে।

ঘোড়ার ঘাস কাটা (বাজে কর্ম করা) – মনে রেখ, স্কুলে তোমরা পড়াশুনা করতে এসেছ, ঘোড়ার ঘাস কাটতে আসনি।

ঘটিরাম (অপদার্থ) – রিলিফের বদৌলতে কত ঘটিরাম অজস্র টাকা উপার্জন করেছে সে কথা সবারই জানা।

ঘরের ঢেঁকি কুমির (অপদার্থ ষণ্ডা মার্কা) – ওতো একটা ঘরের ঢেঁকি কুমির, কোনো কর্ম নেই, খায় দায় আর ঘুমায়।

ঘা খাওয়া (দুঃখ পাওয়া) – বৃদ্ধা জীবনে অনেক ঘা খেয়ে শেষে মারা গেলেন।

ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস খাওয়া (ওপরওয়ালাকে ডিঙিয়ে স্বার্থ হাসিল করা) – অফিসের বড় সাহেবের হাতে দরখাস্ত দিয়ে পাঠাও, ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস খাওয়ার চেষ্টা করা।

ঘোড়া দেখে খোঁড়া হওয়া (শ্রমসাধ্য কার্যে সাহায্যকারী পেলে অলস হওয়া) – ওহে শরীফ, দপ্তরে নতুন লোক নিয়োগ হয়েছে বলে ঘোড়া দেখে তোমার খোঁড়া হওয়া চলবে না।

ঘু ঘু চড়ানো (সর্বনাশ সাধন) – ব্যাটা, তুই যদি খাজনা না দিস, তবে ঘু ঘু চড়াবো তোর বাড়িতে।

ঘুম কাতুরে (ঘুমোতে ভালোবাসে/যে অত্যধিক ঘুমোয়) – সে এতই ঘুম কাতুরে যে শ্রেণিকক্ষের মধ্যে মাঝে মাঝে ঘুমিয়ে পড়ে।

বর্ণ অনুসারে পরবর্তী গুলো পাওয়ার জন্য নিচে ক্লিক করুন -
 -  -  -  -  -  -  -  - খ - গ - ঘ - - -  -  -  -  -  -  -  -  -  -  -  -  -  -  -  -  -  -  -  -  -  - 

No comments