My All Garbage

Shuchi Potro
সাধারণ জ্ঞান বাংলা ব্যাকরণ বাংলা রচনা সমগ্র ভাবসম্প্রসারণ তালিকা অনুচ্ছেদ চিঠি-পত্র ও দরখাস্ত প্রতিবেদন প্রণয়ন অভিজ্ঞতা বর্ণনা সারাংশ সারমর্ম খুদে গল্প ভাষণ লিখন দিনলিপি সংলাপ অ্যাসাইনমেন্ট-২০২১ English Grammar Composition / Essay Paragraph Letter, Application & Email Dialogue List Completing Story Report Writing Graphs & Charts পুঞ্জ সংগ্রহ বই পোকা হ য ব র ল তথ্যকোষ পাঠ্যপুস্তক CV & Job Application My Study Note আমার কলম সাফল্যের পথে
About Contact Service Privacy Terms Disclaimer Earn Money


বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শিক্ষা সহায়ক ওয়েবসাইট

ব্যাকরণ : সরকারি কাজে প্রমিত বাংলা ব্যবহারের নিয়ম - ৩

সরকারি কাজে প্রমিত বাংলা ব্যবহারের নিয়ম
পর্ব - ৩ 

কোলন/কোলন-ড্যাশ/বিসর্গ (:/___:/ঃ) 
বাক্যের পূর্ববর্তী অংশের ব্যাখ্যা কিংবা উদাহরণ উপস্থাপনের আগে কোলন ব্যবহার করা হয়। যেমন—

নিম্নলিখিত গাছগুলো কাঠের ভালো উৎস :
সেগুন, মেহগনি, কাঁঠাল

কোলন-ড্যাশের ব্যবহার বর্তমানে নেই। কোলন (:) হিসেবে বিসর্গ চিহ্ন (ঃ) ব্যবহার করা সমীচীন নয়। কোলন-এর আগে ১টি ‘স্পেস’ ব্যবহৃত হবে। কোলনের পরেও একই লাইনে আরও টেক্সট থাকলে কোলনটির পরে একটি স্পেস দিতে হবে। 

অন্যদিকে, বিসর্গ বস্তুত একটি বর্ণ; এটি কোনও যতিচিহ্ন নয়। সাধারণত শব্দের মাঝখানে বিসর্গ বসে। যেমন— দুঃখ, দুঃশাসন, পুনঃপুন ইত্যাদি। শব্দের শেষে বিসর্গের ব্যবহার নেই। যেমন—প্রধানত (‘প্ৰধানতঃ’ ভুল), অংশত (‘অংশতঃ’ ভুল)।

ঙ,  ং
সন্ধিসাধিত তৎসম শব্দে পূর্বপদের ‘ম্’ স্থানে '' হবে। যেমন—সংগীত (সম্ + গীত), ভয়ংকর (ভয়ম্ + কর), সংগত (সম্ + গত)। সন্ধি না হলে 'ঙ'-এর সঙ্গে পরবর্তী বর্ণ যুক্তভাবে বসবে। যেমন—অঙ্ক ('অংক' নয়), প্রত্যঙ্গ, সঙ্গ ইত্যাদি। অ-তৎসম শব্দে উচ্চারণ হলপ্ত হলে শব্দের শেষে ও মধ্যে ব্যবহৃত হবে। যেমন— রং, ঢং, গাং, বাংলা ইত্যাদি। তবে উচ্চারণে -এর সঙ্গে স্বর থাকলে ও ব্যবহৃত হবে।যেমন—রঙের, ঢঙের, গাঙের, বাঙালি।

ঙ্গ
অ-তৎসম বা সংস্কৃতজাত শব্দে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে 'শ'-এর পরিবর্তে 'ও' লেখা হয়, তবে তৎসম শব্দে ‘ঙ্গ’-ই লেখা হয়। যেমন— অঙ্গুলি (‘অঙুলি’ নয়), আঙুল (‘আঙ্গুল’ নয়)। আবার ‘রঙ্গমঞ্চ' ('রঙমঞ্চ' নয়), 'রঞ্জন' ('রঙন' নয়), 'অঙ্গন' (কিন্তু ‘আঙিনা', 'আঙ্গিনা’ নয়), ‘রঙ্গ’ (কৌতুক, আনন্দ ইত্যাদি অর্থে) ইত্যাদি যে-কোনও রীতিতেই অভিন্ন। পুরোনো ‘ঙ্গ' রূপও এখন আর না লেখাই সমীচীন। আরও কিছু উদাহরণ: লাঙল, কাঙাল, ধাঙর, মাছরাঙা, বাঙালি, চাঙর, রঙিলা, রঙিন, রাঙা ইত্যাদি। তবে স্থাননামের ও অন্য যে-কোনও নামের বানান অপরিবর্তিত থাকবে। যেমন—রাঙ্গামাটি।

চন্দ্রবিন্দু (ঁ)
যে-বর্ণের সঙ্গে চন্দ্রবিন্দু উচ্চারিত হবে, সেই বর্ণের সঙ্গে যুক্ত স্বরচিহ্নের উপরে চন্দ্রবিন্দু বসবে। যেমন—চাঁদ, হাঁস।

ড্যাশ (—)
ড্যাশ একটি যতিচিহ্ন এবং এটি অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ। অনেক সময় ড্যাশ, কমা, সেমিকোলন, কোলন একই উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়। আবার একটি বাক্যের মাঝখানে একটি ব্যাখ্যাসূচক খণ্ডবাক্য থাকলে সেই খণ্ডবাক্যের দুইদিকে ড্যাশ বসে। যেমন—‘নদীমাতৃক বাংলাদেশ—নদীবিধৌত দেশ বলে এই নাম— পৃথিবীর অন্যতম উর্বর অঞ্চল।' ড্যাশের দুইদিকে কোনও ‘স্পেস’ থাকবে না।

ণ, ন
তৎসম শব্দে ণ-এর ব্যবহার ণত্ব বিধান ণত্ব বিধান দ্রষ্টব্য) দ্বারা সুনির্দিষ্ট। দেশি ও বিদেশি শব্দে ণ-এর ব্যবহার নেই।

ত/ ৎ
তৎসম শব্দের 'ৎ' অক্ষুণ্ণ থাকবে। যেমন— আত্মসাৎ, তৎক্ষণাৎ বিদ্যুৎ। শব্দশেষের 'ৎ'-এর পর ‘-এ’, ‘-এর’ ইত্যাদি স্বরযুক্ত বিভক্তি থাকলে ‘ৎ’ ‘ত’-এ রূপান্তরিত হবে। যেমন—বিদ্যুতের।

তৈরি/তৈরী
‘তৈরী’ বানানটি বর্তমানে বর্জন করা হয়েছে। ‘প্রস্তুত’ এবং ‘প্রস্তুত করা’ উভয় অর্থেই ‘তৈরি’ শব্দটি ব্যবহৃত হবে। যেমন—‘জামাটা রেশমের তৈরি।' 'কামার লোহা দিয়ে হাতিয়ার তৈরি

দাঁড়ি (া)
বিবৃতিমূলক বাক্যের শেষে দাঁড়ি (।) বসে। এরকম বাক্যে প্রশ্ন বা বিস্ময়ভাব থাকলেও দাঁড়ি বসবে। যেমন : 
  • আসাদ জানতে চাচ্ছে এখন কয়টা বাজে।
  • এভাবে আর কতদিন চলবে কে জানে।
  • এই দুনিয়ায় যে কতরকম মানুষ আছে, মায়ের মুখে গল্প শুনে সেটা বুঝলাম।

 দু–, দূ–
সংস্কৃত 'দুঃ' উপসর্গটি দুঃখ, নিষেধ, অভাব, দুষ্ট, মন্দ, কঠিন ইত্যাদি নেতিবাচক অর্থগত ব্যঞ্জনা দেয়। যেমন—দুর্ভিক্ষ, দুর্জন, দুর্দিন, দুঃসাধ্য, দুরূহ ইত্যাদি। তাই এই শব্দগুলোতে ‘দু’ (উ-কার যুক্ত) ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে কোনও শব্দে ‘দূর’ থাকলে তা স্বাভাবিকভাবেই ‘দৃ’ (ঊ কার যুক্ত) দিয়ে লেখা হয়। যেমন—দূরত্ব দূরীকরণ, দূরীভূত ইত্যাদি। 'দুই' অর্থে ‘দু' ব্যবহৃত হয়, যেমন—দুকথা, দুকূল ইত্যাদি।

দু'টাকা/দুটাকা, পাঁচশ'/পাঁচশ
দাপ্তরিক ও আনুষ্ঠানিক ব্যবহারে পূর্ণরূপ ‘দুই টাকা’, ‘পাঁচশত টাকা’, ‘ছয়টা বাজে’ লেখা সমীচীন। সেক্ষেত্রে দুটি শব্দকে আলাদাভাবে লিখতে হবে। ‘দুটাকা’ লেখার প্রয়োজন হলে তা একসঙ্গে লিখতে হবে। কোনও ঊর্ধ্বকমার প্রয়োজন নেই। একইভাবে ‘পাঁচশ’, ‘ছদিন’, ‘ছটা বাজে’ লেখা চলবে। তবে দাপ্তরিক এবং অন্য যে কোনও আনুষ্ঠানিক ব্যবহারে ‘ছদিন’, ‘ছটা’ ইত্যাদির পরিবর্তে এগুলোর পূর্ণরূপ ‘ছয় দিন’, ‘ছয়টা’ ব্যবহার করতে হবে।

না, –নি, নাই, নেই, নই, নয়
‘–নি’ ছাড়া আর সবগুলোই স্বতন্ত্রভাবে লেখা হয়। যেমন—‘কাজল কথা বলে না’, ‘কাজল কথা বলে নাই’ (‘নাই’ আঞ্চলিক ও সাধু রূপে ব্যবহৃত হয়, চলিত ও প্রমিত রূপে নয়), ‘কাজল কথা বলেনি’, ‘কাজল ঘরে বসে নেই,’ ‘আমি কাজল নই’, ‘কাজল আমার মতো নয়’।

No comments