বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শিক্ষা সহায়ক ওয়েব সাইট

ব্যাকরণ : তৎপুরুষ সমাস

তৎপুরুষ সমাস

পূর্বপদের দ্বিতীয়াদি (২য় হতে ৭ম) বিভক্তি লোপ পেয়ে যে সমাস হয় এবং যেখানে পরপদের অর্থ প্রধানরূপে প্রতীয়মান হয় তাকে তৎপুরুষ সমাস বলে।

তৎপুরুষ সমাস প্রধানত ছয় প্রকার।যথা: দ্বিতীয়া হতে সপ্তমী তৎপুরুষ। তবে এগুলো ছাড়াও কতিপয় তৎপুরুষ সমাস আছে।যেমন: নঞ্ তৎপুরুষ, উপপদ তৎপুরুষ, অলুক তৎপুরুষ এবং প্রাদি তৎপুরুষ ইত্যাদি।

নঞ্ তৎপুরুষ সমাস কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

পরপদের প্রাধান্য রেখে নঞ্ অব্যয় (ন, না, নাই, নেই, নয় ইত্যাদি) পূর্বে বসে যে তৎপুরুষ সমাস হয়। যেমন:
অক্ষত = ন (নয়) ক্ষত

অবিশ্বাস্য = নয় বিশ্বাস্য

বেআইনি = বে (নয়) আইনি

অপর্যাপ্ত = নয় পর্যাপ্ত

অনতিবৃহৎ = ন অতিবৃহৎ

অমিল = ন মিল

অনভিজ্ঞ = ন অভিজ্ঞ

অনাচার = ন আচার

অসহযোগ = ন সহযোগ

অকেজো = ন কেজো

অনশন = ন অশন

অনুন্নত = ন উন্নত

অসুখ = ন সুখ

অকাতর = না কাতর

অনাদর = ন আদর

নাতিদীর্ঘ = ন অতি দীর্ঘ

অভাব = ন ভাব

অকাল/আকাল = ন কাল

অসুর = ন সুর

অবিশ্বাস = ন বিশ্বাস

বেহুঁশ = নাই হুঁশ

নিখরচা = নাই খরচা

অনাসৃষ্টি = নাই সৃষ্টি

নামঞ্জুর = নয় মঞ্জুর

গরমিল = নাই মিল

নিখুঁত = নাই খুঁত

গরহাজির = নয় হাজির

অসময় = ন সময়

অলৌকিক = ন লৌকিক

অকেশা = ন কেশা / কেশী

আগাছা = ন (মন্দ অর্থে) গাছ

বেসরকারি = ন (নয়) সরকারি

অভাঙা = নয় ভাঙা

বেরসিক = নয় রসিক

অনেক = নয় এক

নাতিখর্ব = ন অতি খর্ব

উপপদ তৎপুরুষ সমাস কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

উপপদের সাথে কৃদন্ত পদের যে সমাস হয়, তাকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে।এ সমাসে পূর্বপদ সাধারণত বিশেষ্য হয়ে থাকে। উদাহরণ:
প্রিয়ংবদা = প্রিয়ম্ বলে যে (নারী)

মনোহারিণী = মন হরণ করে যে (নারী)

জলচর = জলে চরে যা

সর্বহারা = সব হারিয়েছে যারা

জলদ = জল দেয় যে / যা

পুথিপোড়া = পুথি পড়ে যে

মনমরা = মন মরেছে যে

প্রভাকর = প্রভা করে যে

সত্যবাদী = সত্য বলে যে

সর্বনাশা = সর্বনাশ করে যে

ধামাধরা = ধামা ধরে যে

ছা–পোষা = ছা– পোষে যে

মাছিমারা = মাছি মারে যে

পকেটমার = পকেট মারে যে

টনকনাড়া = টনক নড়ে যাতে

পাচাটা = পা চাটে যে

বাজিকর = বাজি করে যে

অর্থকরী = অর্থ করা যায় যা দ্বারা

বিকভাঙা = বুক ভাঙে যাতে

ভারবাহী = ভার বহন করে যা

স্বর্ণকার = স্বর্ণ করে যে

হালুইকর = হালুই করে যে

কুম্ভকার = কুম্ভ করে যে

একান্নবর্তী = একান্নে (এক অন্নে) বর্তে যে

পৃহস্থ = গৃহে থাকে যে

অলুক তৎপুরুষ সমাস কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

যে তৎপুরুষ সমাসে পূর্বপদে বিভক্তি লোপ পায় না। তৎপুরুষ সমাসের যতগুলি শ্রেণি আছে, অলুক তৎপুরুষ সমাস তার সবরকম শ্রেণিরই হতে পারে। যেমন:
ঘোড়ার–ডিম = ঘোড়ার ডিম

খসে পড়া = খসে পড়া

ছাঁচে ঢালা = ছাঁচে ঢালা

আইনের প্যাঁচ = আইনের প্যাঁচ

ভাগের–মা = ভাগের মা

সোনার তরী = সোনার তীর

হাতের পাঁচ = হাতের পাঁচ

সাপের – পা = সাপের পা

মনের – মানুষ = মনের মানুষ

কলের গান = কলের গান

হাতে – কাটা = হাতে কাটা

ঘিয়ে ভাজা = ঘিয়ে ভাজা

চোখের – বালি = চোখের বালি

কলুরবলদ = কলুর বলদ

চোখের – দেখা = চোখের দেখা

গানের – আসর = গানের আসর

অন্তেবাসী = অন্তে বাসী যে

তেলেভাজা = তেলে ভাজা যা

প্রাদী তৎপুরুষ কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

যে তৎপুরুষ সমাসের পূর্বপদে উপসর্গ থাকে, সে সমাসকে প্রাদী তৎপুরুষ বলে। যেমন:
প্রভাত = প্রকৃষ্টরূপে ভাত

প্রমনা = প্রকৃষ্ট মন যার

দ্বিতীয়া তৎপুরুষ / কর্ম তৎপুরুষ সমাস কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

পূর্বপদের দ্বিতীয়া বিভক্তি (কে, রে) ইত্যাদি লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তাকে দ্বিতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে। উদাহরণ:
রথচালন = রথকে চালন

শরনিক্ষেপ = শরকে নিক্ষেপ

পুত্রলাভ = পুত্রকে লাভ

আমকুড়ানো = আমকে কুড়ানো

দেশভঙ্গ = দেশকে ভঙ্গ

পৃষ্ঠপ্রদর্শন = পৃষ্ঠকে প্রদর্শন

জলসেচন = জলকে সেচন

চিরসুখী = চিরকাল ব্যাপিয়া সুখী

দুঃখাতীত = দুঃখকে অতীত

ব্যক্তিগত = ব্যক্তিকে গত

বিপদাপন্ন = বিপদকে আপন্ন

শরণাগত = শরণকে গত

বয়ঃপ্রাপ্ত = বয়ঃকে প্রাপ্ত

পরলোকগত = পরলোকে গত

দুঃখপ্রাপ্ত = দুঃখকে প্রাপ্ত

ক্ষণস্থায়ী = ক্ষণকাল ব্যাপিয়া স্থায়ী

সংখ্যাতীত = সংখ্যাকে অতীত

চরণাশ্রিত = চরণকে আশ্রিত

চিরশত্রু = চির দিন ধরে শত্রু

নিত্যধারা = নিত্যকাল ব্যাপিয়া ধারা

অর্ধমৃত = অর্ধ রূপে মৃত

দ্রুতগামী = দ্রুত যথা তথা গামী

চিরসুন্দর = চিরকাল ব্যাপিয়া সুন্দর

বেগসংবরণ = বেগকে সংবরণ

স্বর্গপ্রাপ্ত = স্বর্গকে প্রাপ্ত

তৃতীয়া তৎপুরুষ বা করণ তৎপুরুষ সমাস কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

পূর্বপদের তৃতীয়া বিভক্তি (দ্বারা, দিয়ে, কর্তৃক) ইত্যাদি লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তাকে তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস বলে। উদাহরণ:
স্বর্ণমন্ডিত = স্বর্ণ দ্বারা মন্ডিত

জ্ঞানশূন্য = জ্ঞান দ্বারা শূন্য

সমবেদনাভরা = সমবেদনা নিয়ে ভরা

স্বভাবসিদ্ধ = স্বভাব দ্বারা সিদ্ধ

ন্যায়সঙ্গত = ন্যায় দ্বারা সঙ্গত

মনগড়া = মন দিয়ে গড়া

বাগদত্তা = বাগ দিয়ে দত্তা

বিদ্যাহীন = বিদ্যা দ্বারা হীন

একোন = এক দ্বারা উন

মাতৃহীন = মাতৃ দ্বারা হীন

মধুমাখা = মধু দ্বারা মাখা

ধনাঢ্য = ধন দ্বারা আঢ্য

শ্রমলব্ধ = শ্রম দ্বারা লব্ধ

ছায়াশীতল = ছায়া দ্বারা শীতল

রবাহৃত = রব দ্বারা আহৃত

বজ্রাহত = বজ্র দ্বারা আহত

অস্ত্রোপাচার = অস্ত্র দ্বারা উপচার

পদদলিত = পদ দ্বারা দলিত

জনমগ্ন = জল দ্বারা মগ্ন

বিজ্ঞানসম্মত = বিজ্ঞান দ্বারা সম্মত

ঢেঁকিছাটা = ঢেঁকি দ্বারা ছাঁটা

রক্তাক্ত = রক্ত দ্বারা অক্ত

চতুর্থী তৎপুরুষ বা সম্প্রদান বা নিমিত্ত তৎপুরুষ সমাস কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

পূর্বপদের চতুর্থী বিভক্তি (কে, জন্য, নিমিত্ত) ইত্যাদি লোপ পেয়ে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে চতুর্থী তৎপুরুষ সমাস বলে। উদাহরণ:
দেবদত্ত = দেবকে দত্ত

গুরুভক্তি = গুরুকে ভক্তি

বিয়েপাগলা = বিয়ের জন্য (নিমিত্তে) পাগলা

আরামকেদারা = আরামের জন্য কেদারা

শিশুবিভাগ = শিশুদের জন্য বিভাগ

বসতবাটি = বসতের নিমিত্তে বাটি

মরাকান্না = মরেছে জন্য কান্না

চোষকাগজ = চুষবার জন্য কাগজ

তপোবন = তপের নিমিত্ত বন

সেচনকলস = সেচনের নিমিত্ত কলস

মাথারকাঁটা = মাথার (চুলের) জন্য কাঁটা

পাঠশালা = পাঠের জন্য শালা

পঞ্চমী তৎপুরুষ বা অপাদান তৎপুরুষ সমাস কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

পূর্বপদে পঞ্চমী বিভক্তি (হতে, থেকে, চেয়ে) ইত্যাদি লোপ পেয়ে যে সমাস গঠিত হয়, তাকে পঞ্চমী তৎপুরুষ সমাস বলে। উদাহরণ:
মুখভ্রষ্ট = মুখ থেকে ভ্রষ্ট

দেশপলাতক = দেশ থেকে পলাতক

সত্যভ্রষ্ট = সত্য হতে ভ্রষ্ট

আগাগোড়া = আগা হতে গোড়া

প্রাণপ্রিয় = প্রাণ হতে প্রিয়

লোকভয় = লোক হতে ভয়

জেলমুক্ত = জেল থেকে মুক্ত

ঋণমুক্ত = ঋণ থেকে মুক্ত

পদচ্যুত = পদ থেকে চ্যুত

ভদ্রেতর = ভদ্র হতে ইতর

বিলাতফেরত = বিলাত হতে ফেরত

স্কুলপালানো = স্কুল হতে পালানো

বন্ধনমুক্ত = বন্ধন হতে মুক্ত

স্বর্গভ্রষ্ট = স্বর্গ হতে ভ্রষ্ট

রোগমুক্ত = রোগ হতে মুক্ত

দলছুট = দল থেকে ছুট

সর্বশ্রেষ্ঠ = সর্ব হতে শ্রেষ্ঠ

স্নাতকোত্তর = স্নাতক থেকে উত্তর

ধর্মভ্রষ্ট = ধর্ম হতে ভ্রষ্ট

ষষ্ঠী তৎপুরুষ / সম্বন্ধ তৎপুরুষ সমাস কাকে বলে? উদাহরণ দাও।

পূর্বপদের ষষ্ঠী বিভক্তি (র,এর) লোপ পেয়ে যে সমাস হয় তাকে ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস বলে। উদাহরণ:
শ্বশুরবাড়ী = শ্বশুরের বাড়ী

বৃহস্পতি = বৃহতের পতি

চাবাগান = চায়ের বাগান

কবিগুরু = কবিদের গুরু

পূর্বাহ্ন = অহ্নের পূর্বভাগ

ছাগদুগ্ধ = ছাগীর দু্গ্ধ

বনস্পতি = বনের পতি

ক্রেড়পত্র = ক্রোড়ের পত্র

কার্যালয় = কার্যের আলয়

গণতন্ত্র = গণের তন্ত্র

বনমধ্যে = বনের মধ্যে

তৎপতি = তার প্রতি

জনকন্ঠ = জনের কন্ঠ

রাজকন্যা = রাজার কন্যা

রাজপথ = পথের রাজা

বিদ্যাসাগর = বিদ্যার সাগর

প্রাণবধ = প্রাণের বধ

বজ্রসম = বজ্রের সম

কার্যক্ষতি = কার্যের ক্ষতি

ভুজবল = ভুজের বল

ভারার্পণ = ভারের অর্পণ

জীবনসঞ্চার = জীবনের সঞ্চার

সন্ধ্যাপ্রদীপ = সন্ধ্যার প্রদীপ

সুখময় = সুখের ময়

হাতঘড়ি = হাতের ঘড়ি

খেয়াঘাট = খেয়ার ঘাট

মনোযোগ = মনের যোগ

পৌরসভা = পৌরদের সভা

কলাভবন = কলাদের ভবন

বিশ্বভারতী = বিশ্বের ভারতী (বিদ্যা)

সপ্তমী তৎপুরুষ বা অধিকরণ তৎপুরুষ সমাস কাকে বলে, উদাহরণ দাও?

পূর্বপদের সপ্তমী বিভক্তি (এ, য়, তে) ইত্যাদি লোপ পেয়ে যে সমাস হয়, তাকে সপ্তমী তৎপুরুষ সমাস বলে। উদাহরণ:
দিবানিদ্রা = দিবায় নিদ্রা

রথারোহণ = রথে আহরণ

কোটরস্থিত = কোটরে স্থিত

গাছপাকা = গাছে পাকা

দানবীর = দানে বীর

পুথিগত = পুথিতে গত

শ্রুতপূর্ব = পূর্বে শ্রুত

সংখ্যালঘিষ্ঠ = সংখ্যায় লঘিষ্ঠ

তালকানা = তালে কানা

সত্যাগ্রহ = সত্যে আগ্রহ

ভূতপূর্ব = পূর্বে ভূত

অশ্রুতপূর্ব = পূর্বে অশ্রুত

অদৃষ্টপূর্ব = পূর্বে অদৃষ্ট

জনমগ্ন = জলে মগ্ন

অকালপক্ব = অকালে পক্ক

মাথাব্যথা = মাথায় ব্যথা

কর্মনিপুণ = কর্মে নিপুণ

বাকপটু = বাকে পটু

রাতকানা = রাতে কানা

আজিবুল হাসান
৮ এপ্রিল, ২০২১

Related Links

No comments