প্রতিবেদন : নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণ ও প্রতিকার সম্বন্ধে

বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বৃদ্ধি সম্পর্কে পত্রিকায় প্রকাশের জন্য একটি প্রতিবেদন তৈরি করো।

অথবা, মনে করো, তুমি হীরক। ‘দৈনিক সমকাল’ পত্রিকা একজন প্রতিনিধি। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণ ও প্রতিকার সম্বন্ধে পত্রিকায় প্রকাশের জন্য একটি প্রতিবেদন লেখো।

অথবা, মনে করো, তোমার নাম বকুল। তুমি ‘দৈনিক যুগান্তর’ পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার। এখন দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ওপর পত্রিকায় প্রকাশের জন্য একটি প্রতিবেদন রচনা করো।

অথবা, ‘দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনজীবন বিপন্ন’ এই শিরোনামে পত্রিকায় প্রকাশের জন্য একটি প্রতিবেদন তৈরি করো।

অথবা, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণ ও প্রতিকার সম্বন্ধে একটি প্রতিবেদন রচনা করো।


দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি : জনজীবন বিপর্যস্ত


নিজস্ব সংবাদদাতা : রাজশাহী : ১৬ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ : সম্প্রতি একটা বিষয় আমাদের ভাবিয়ে তুলেছে চরমভাবে। তা হচ্ছে, দ্রব্যমূল্যের সীমাহীন ঊর্ধ্বগতি। এ অস্বাভাবিক ও আকস্মিক মূল্য বৃদ্ধির ফলে জনসাধারণের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। ফলে সমাজে নেমে এসেছে অপ্রত্যাশিত দুর্ভোগ। এর নেপথ্যের কারণ অনুসন্ধান করবেন অর্থনীতিবিদগণ। অভিজ্ঞ মহলের মতে, এ আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধির কারণ একাধিক। প্রথমত, এমন নৈরাজ্য এদেশে চিরন্তন যে, মুনাফালোভী মজুতদাররা প্রায়ই অধিক মুনাফা অর্জনের মানসিকতায় দ্রব্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। দ্বিতীয়ত, সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধি। দেশের একটি ক্ষুদ্রতম অংশ এরূপ ভাতা পেলেও অসুবিধার দায়ভার বহন করে সমাজের বৃহত্তম অংশ। লক্ষণীয় ব্যাপার এই যে, সরকার কর্তৃক মহার্ঘ ভাতা ঘোষণার পরক্ষণেই অজ্ঞাত কারণে বাজারে দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পেতে থাকে। সরকারি কর্মচারীগণ যে হারে মহার্ঘ ভাতা পেয়েছে, দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে তার চেয়ে অনেক বেশি। ফলত সরকারি কর্মচারীরাও সমস্যামুক্ত হতে পারেনি। তাই অবিলম্বে এ অনাকাঙ্ক্ষিত দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিকে জাতীয় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে এর প্রতিরোধকল্পে যথাযোগ্য ব্যবস্থা গ্রহণ একান্ত আবশ্যক।

মূল্যবৃদ্ধি এদেশে এটাই যে প্রথম, তা নয়। এদেশে এটি একটি অনিবার্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পৃথিবীর কোনো দেশেই দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিজনিত এমন নাজুক পরিস্থিতি সৃষ্টির ঘটনা বিরল। অন্য দেশে এমনটি ঘটলে বিক্ষোভ দানা বাঁধে, সরকারকে জবাবদিহি করতে হয় জনগণের কাছে। কিন্তু এদেশের সরলপ্রাণ মানুষ এরূপ কোনো ঘটনা নিয়ে বেশি মাতামাতি পছন্দ করে না। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, এ জাতীয় সমস্যা তারা এদেশে স্বতঃসিদ্ধ বলে ধরে নিয়েছে এবং জনগণ এটাও মনে করে যে, এ বিষয়ে তাদের কোনো দায় নেই।

এ রকম পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস হলেও দুর্নীতিবাজ কর্মচারী ও মুনাফাখোর ব্যবসায়ীদের পোয়াবারো। এছাড়াও আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের টাকার অবমূল্যায়ন হচ্ছে বারবার। আমাদের উৎপাদিত পণ্য বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না। এসব ঘটনায় কেউ কেউ রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ফায়দা লুটে নিচ্ছে। দেশের বৃহত্তম জনগোষ্ঠীকে এমন অমানবিক সমস্যাপীড়িত করে যারা নিজেদের সুখ-সম্পদ আহরণের চেষ্টায় মত্ত, তারা দেশের শত্রু, জনগণের শত্রু। এসব অসৎ ও দুর্নীতিবাজ লোকদের উৎখাত এখন সময়েরই দাবি। এ বিষয়ে সরকারি-বেসরকারি অভিজ্ঞ মহলের মনোযোগ দেয়া খুবই জরুরি বলে মনে করে সাধারণ জনগণ।


একই প্রতিবেদন আরেকবার সংগ্রহ করে দেওয়া হলো


একটি জাতীয় দৈনিকের স্থানীয় সাংবাদিক হিসেবে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও এর প্রতিরোধের উপায় সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন রচনা করো।


দ্রব্যমূল্য এখন পাগলা ঘোড়া


শান্তনু চৌধুরী : সাভার : বর্তমানে আমাদের জীবনে বহুবিধ সমস্যার অন্যতম দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি। নিত্যব্যবহার্য দ্রব্যের প্রতিনিয়ত দাম বাড়তে থাকায় কিছু মুনাফা শিকারি ও বিত্তশালী বাদ দিলে অবশিষ্ট জনসাধারণের জীবনযাত্রা হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। সম্প্রতি নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণহীন ঊর্ধ্বগতির ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ দুঃখ-দৈন্যে দিশেহারা।

পণ্যদ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধির ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে খেতে-খামারে, কল-কারখানায় খেটে খাওয়া শ্রমজীবী, নির্দিষ্ট আয়ের চাকরিজীবী ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। তারা দিন দিন গরিব থেকে আরও গরিব হচ্ছে। অপরপক্ষে বড় বড় ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের কালো টাকার পাহাড় জমছে। এ আর্থিক বৈষম্য সামাজজীবনে আনছে অশান্তি। দারিদ্র্য ও অভাব অনটনে পড়ে শ্রমিক ও চাকরিজীবী মানুষ বেশি বেতন ও ভাতার দাবিতে হচ্ছে সোচ্চার। দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত ও জীবনসংগ্রামে পর্যুদস্ত মানুষ অসামাজিক কাজ কর্মে লিপ্ত হচ্ছে। ফলে সমাজে অশান্তি ও উচ্ছৃঙ্খলতা বাড়ছে। 

আজ তাই সময় এসেছে এ দুঃসহ অবস্থার প্রতিকারে সক্রিয় প্রয়াস চালানোর এজন্যে সর্বাগ্রে যেমন সরকারের প্রয়াস-প্রচেষ্টার প্রয়োজন, তেমনই দরকার পণ্যসামগ্রীর চাহিদা ও যোগানের সমতা রক্ষা। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে তাল রেখে ভোগ্যপণ্যের উৎপাদন অক্ষুণ্ণ রাখতেই হবে। ভোগ্যপণ্যের উৎপাদন হ্রাস পেলে মূল্যস্তরকে বেঁধে রাখা হবে অসম্ভব। মুনাফা শিকারি ব্যবসায়ী ও উৎপাদনকারী আইনের ফাঁক ফোকরে বা সরকারি ঔদাসিন্যে, বাজেট কর প্রস্তাবেফ সুযোগ অথবা যোগানের অপ্রতুলতা হেতু ঘাটতি তৈরি করে যাতে মুনাফা লুটতে না পারে তা দেখতে হবে। কালো টাকার উদ্ধার করতে হবে। পণ্য উৎপাদনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন নোট ছাপাতে হবে সতর্কতা অবলম্বন করে, যাতে মুদ্রস্ফীতি পণ্যমূল্য বৃদ্ধির কারণ না হয়ে দাঁড়ায়। ঘাটতি বাজেটের ক্ষতিকর দিকটি আমাদের সকলের জন্যে প্রযোজ্য। সরকার এ ব্যাপারে যথাযোগ্য উদ্যোগ গ্রহণ করবে-এটিই সকলের প্রত্যাশা।

16 Comments

Post a Comment
Previous Post Next Post