৭ম শ্রেণি : অ্যাসাইনমেন্ট : বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় : ২য় সপ্তাহ : ২০২১
| History | 📡 Page Views |
|---|---|
|
Published 20-Mar-2021 | 07:48 AM |
Total View 731 |
|
Last Updated 10-Jun-2022 | 03:23 PM |
Today View 0 |
৭ম শ্রেণি এ্যাসাইনমেন্ট : বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় : সপ্তাহ ২
এ্যাসাইনমেন্ট বা নির্ধারিত কাজের ক্রম :
অ্যাসাইনমেন্ট বা নির্ধারিত কাজ - ১
পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত পাঠ নম্বর ও বিষয়বস্তু:
ভাষা আন্দোলনের ঘটনাবলি ধারাবাহিকভাবে লেখ। তোমাদের বিদ্যালয়ে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস কীভাবে পালন করা হয়েছিল তার একটি পর্যাক্রমিক বর্ণনা দাও।
ভাষা আন্দোলনের ঘটনাবলি ধারাবাহিকভাবে লেখ। তোমাদের বিদ্যালয়ে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস কীভাবে পালন করা হয়েছিল তার একটি পর্যাক্রমিক বর্ণনা দাও।
এ্যাসাইনমেন্ট বা নির্ধারিত কাজ
এই নির্ধারিত কাজটি করার সময় নিম্ন লিখিত বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হবে-১. ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত ভাষা আন্দোলন সংগঠনের সঠিক ঘটনাবলি তুলে ধরবে।
২. স্ব স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠান পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরবে।
৭ম শ্রেণির ২য় সাপ্তাহের অ্যাসাইনমেন্ট-এর বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় প্রশ্ন দেয়া হলো :
নমুনা সমাধান
১. ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত ভাষা আন্দোলন সংগঠনের সঠিক ঘটনাবলি তুলে ধরবে।
উত্তর :
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান স্বাধীনতার পর বাঙ্গালির উপর নেমে আসে নির্মম নির্যাতন। দ্বি-জাতি তত্ত্বের প্রবক্তা আলী জিন্নাহ সকল ধর্ম, সংস্কৃতি ভেদাভেদ না করে এক পাকিস্তান গড়তে চেয়েছিলেন। কিন্তু প্রথম ঐক্যসূত্র তৈরি করতে দিয়ে ইসলাম ও উর্দু ভাষার উপর জোড় দেয় এমনকি বাংলা সাহিত্যে ও আঘাত আসে।
১৯৪৮ সালের কার্জন হলে-ছাত্র শিক্ষক সমাবেশে আরী জিন্নাহ ঘোষণা দেয় উর্দু হবে পাকিস্তানের একমাত্র মাতৃভাষা। যেহেতু বাঙালি পূর্ব পাকিস্তান হিসেবে পাকিস্তানের অংশ ছিল তাই বাঙালি ছাত্ররা ফেটে পরে প্রতিবাদ জানিয়ে।
১৯৪৮ সালের ১১ই মার্চ সারাদেশে ধর্মঘট ডাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান বাংলা ভাষার দাবিতে। সে কারণে তাকে সহ আরো অনেক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়। ভাষা আন্দোলনের শেষ অবধি বঙ্গবন্ধু কারা বন্ধী ছিল। অন্যদিকে ছাত্র জনতা তাদের আন্দোলন থামিয়ে রাখেনি। পুলিশ ও নির্বিচারে দমন পীড়ন চালিয়ে যায়। এরপর থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধর্মঘট পালন করা হয়।
১৯৫২ সালে ছাত্ররা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে গণ পরিষদ ঘেরাও করে। সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে, ২০ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ছাত্র জনতা মিছিল বের করে।
পুলিশ তা ঠেকাতে লাঠি চার্জ ও কাঁদান গ্যাস ছুঁড়ে। তাতেও রুখতে পারেনি তাদের। একের পর এক আহত অতঃপর নিহত হয় রফিক, জব্বার, বরকত সহ অনেকে। যে স্থানে ভাষা শহীদেরা প্রাণ দিয়েছিল সে স্থানে ঢাকা মেডিকেলের ছাত্ররা শহীদ মিনার স্থাপন করে রাতারাতি। ১৯৬৩ সালে সে স্থানে বড় করে শহীদ মিনার করা হয়। বঙ্গালি বুকের রক্ত বিফলে যায় নি। তারা বাধ্য হয় বাংলাকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করতে। ১৯৫৬ সালের পাকিস্থানের প্রথম সংবিধানে বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করতে বাধ্য হয়।
২. স্ব স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনুষ্ঠান পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরবে।
উত্তর :
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদ্যাপন উপলক্ষে কাজেম আলী স্কুল এন্ড কলেজে ২১শে ফেব্রুয়ারি ২০২১ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন বাংলা বিভাগের শিক্ষক জনাব রণজির কুমার সেন। তাঁরই নির্দেশনায় সব ধরনের কর্মসূচি প্রণয়ন করা হয়।
ভোর হতে না হতেই বিদ্যালয়ের শহীদমিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলির মাধ্যমে দিনব্যাপী অনুষ্ঠান আরম্ভ হয়। ভোর থেকেই বিভিন্ন স্থান থেকে ছাত্রছাত্রী ফুল হাতে খালি পায়ে এসেছিল শহীদমিনারে ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানানোর উদ্দেশ্যে। শিক্ষকদের নেতৃত্বে শহীদ মিনারের সামনে সকল ছাত্রছাত্রী সমবেত কণ্ঠে উচ্চারণ করেছিল একুশের সেই অমর গান- ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি।’
পুষ্পাঞ্জলি নিবেদনের পর সকাল ৯ টায় শুরু হয়েছিল আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আবৃত্তি, স্বরচিত কবিতা প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শহীদমিনারের সামনে আমগাছের নিচে ঘাসের গালিচায় আয়োজন করা হয়েছিল এ অনুষ্ঠান। প্রথমে প্রখ্যাত কবি-সাহিত্যিকদের আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা সংক্রান্ত কবিতা আবৃত্তি করেছিল ছাত্রছাত্রীরা। পরে স্বরচিত কবিতা পাঠে অংশ নেন চাত্রছাত্রীসহ শিক্ষকবৃন্দ। কবিতা পাঠ ও আবৃত্তি শেষে শুরু হয় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এ অনুষ্ঠানের মূল উপজীব্য ছিল জন্মভূমি ও মা-মাটির গান।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পর সবশেষে ছিল আলোচনা সভা। প্রধান শিক্ষকের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন কয়েকজন শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রী। সবার বক্তব্য ছিল মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার ওপর।
অত্যন্ত ভাবগম্ভীর পরিবেশে উদ্যাপিত আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানমালায় ছাত্রছাত্রীরা আগ্রহ সহকারে অংশগ্রহণ করেছি। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস নতুন প্রজন্মের কাছে প্রেরণার উৎস হিসেবে ধরা দিয়েছিল এই অনুষ্ঠান।
আরো দেখুন :
৩য় সপ্তাহের নমুনা সমাধান :
২য় সপ্তাহের অন্যান্য বিষয়ের নমুনা সমাধান :

Leave a Comment (Text or Voice)
Comments (0)