বইয়ে খোঁজার সময় নাই
সব কিছু এখানেই পাই

সাধারণ জ্ঞান : সংবিধান সংশোধনীসমূহ ও বিষয়বস্তু (প্রথম থেকে চতুর্থ সংশোধনী)

প্রথম সংশোধনী

উত্থাপনকারী – মনোরঞ্জন ধর
উত্থাপন – ১২ জুলাই ’৭৩
গৃহীত – ১৫ জুলাই ’৭৩
রাষ্ট্রপতির অনুমোধন – ১৭ জুলাই ’৭৩

বিষয়বস্তু :
  • ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে আটককৃত পাকিস্তানী যুদ্ধ অপরাধীদের বিচারের জন্য সরকারকে উপযুক্ত ক্ষমতা প্রদান করা হয়।
  • এ লক্ষ্যে সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদের সাথে ৪৭(ক) অনুচ্ছেদ যোগ করা হয় এবং ৪৭(ক) অনুচ্ছেদ সংযোজনের মাধ্যমে যুদ্ধ অপরাধীদের আইনের আশ্রয়, প্রকাশ বিচার এবং সুপ্রীম কোর্টে মামলা দায়ের করার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়।

দ্বিতীয় সংশোধনী

উত্থাপনকারী – মনোরঞ্জন ধর
উত্থাপন – ১৮ সেপ্টেম্বর ’৭৩
গৃহীত – ২০ সেপ্টেম্বর ’৭৩
রাষ্ট্রপতির অনুমোদন – ২২ সেপ্টেম্বর ’৭৩

বিষয়বস্তু :
  • এ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা বাড়ানো হয় এবং ’৭২ সালের সংবিধানের গণতান্ত্রিক চরিত্র খর্ব করা হয়।
  • এ সংশোধনীতে নির্বাহী বিভাগকে নিবর্তনমূলক আটক আইনের ক্ষমতানুসারে যে কোন ব্যক্তিকে ৬ মাস বিনা বিচারে আটক রাখার সাংবিধানিক অধিকার প্রদান করা হয়। এর মাধ্যমে সংবিধানের ‘মৌলিক অধিকার চরিত্র’ খর্ব করা হয়েছে।
  • এছাড়া ‘জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করার আইনের মাধ্যমে সংবিধানের ১৪১-খ অনুচ্ছেদে ঘোষিত মৌলিক অধিকারসমূহ ক্ষুন্ন করার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং জরুরি আইন বলবৎ থাকাকালীন সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের মৌলিক অধিকার ক্ষুন্নের মামলার অধিকার রহিত করা হয়েছে।

তৃতীয় সংশোধনী

উত্থাপনকারী – মনোরঞ্জন ধর
উত্থাপন – ২১ নভেম্বর ’৭৪
গৃহীত – ২৩ নভেম্বর ’৭৪
রাষ্ট্রপতির অনুমোদন – ২৭ নভেম্বর ’৭৪

বিষয়বস্তু :
  • এ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৬ মে ’৭৪ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত “দিল্লী চুক্তি”-র বৈধতা দেয়া হয়েছে।
  • এ সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশকে দহগ্রাম ও আঙ্গরপোতা এবং ভারতকে বেরুবাড়ী হস্তান্তর এবং ২৫ বছর মেয়াদী ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী চুক্তির সাংবিধানিক বৈধতা প্রদান করা হয়েছে।

চতুর্থ সংশোধনী

উত্থাপনকারী – মনোরঞ্জন ধর
উত্থাপন – ২৫ জানুয়ারি ’৭৫
গৃহীত – ২৫ জানুয়ারি ’৭৫
রাষ্ট্রপতির অনুমোদন – ২৫ জানুয়ারি ’৭৫

এটি ছিল এদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মত এক দিনে একটি বিল পাস হওয়ার ঘটনা।

বিষয়বস্তু :
  • রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকারের প্রবর্তন।
  • উপরাষ্ট্রপতির পদ সৃষ্টি।
  • মন্ত্রিপরিষদকে রাষ্ট্রপতির আজ্ঞাবহ কর্মচারীতে রূপান্তর।
  • জাতীয় সংসদের গুরুত্ব হ্রাস।
  • আদালত কর্তৃক মৌলিক অধিকার সংরক্ষণ ক্ষমতা হরণ।
  • রাষ্ট্রে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু।
  • রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের আয়ুষ্কাল বৃদ্ধি।
চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৭২ সালের সংবিধানে চার মূলনীতির অন্যতম ‘গণতন্ত্র’ তিরোহিত হয় এবং এর মাধ্যমে সংবিধানের যথেচ্চা ব্যবহার শুরু হয়।

No comments