বইয়ে খোঁজার সময় নাই
সব কিছু এখানেই পাই

রচনা : রেডিও

↬ জাতীয় জীবনে রেডিও-এর ভূমিকা


ভূমিকা : প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানের অন্যতম এক সৃষ্টি রেডিও। রেডিও মানুষের পরম বন্ধু। গ্রামীণ মানুষের জীবনে রেডিও এখনো নিত্যসঙ্গী ও চিত্তবিনোদনের মাধ্যম। গণমাধ্যম তথা প্রচার মাধ্যম হিসেবে রেডিও-এর গুরুত্ব আজ পৃথিবীর সকল দেশে স্বীকৃতি লাভ করেছে। রেডিও-এর কল্যাণে আজ আমরা ঘরে বসেই পৃথিবীর যেকোনো দূরবর্তী অঞ্চলের খবরা-খবর শুনতে পারছি। এ কারণে রেডিওর গুরুত্ব অনস্বীকার্য।

ইতিবৃত্ত : রেডিও যন্ত্রের মূল প্রাণ হলো শব্দ-তরঙ্গ ভেসে বেড়ায় বায়ুমণ্ডলের ইথারের সাহায্যে। বিদ্যুৎ তরঙ্গের মধ্য দিয়ে ইথারের ভাসমান শব্দ-তরঙ্গকে ধরে রাখা এবং তাকে সঞ্চারিত করে দেওয়ার পরিকল্পনা থেকেই মানুষ আবিষ্কার করেছে রেডিও।

আলোর গতি প্রতি সেকেন্দে এক লক্ষ ছিয়াশি হাজার বর্গমাইল। অধ্যাপক ম্যাকস্ওয়েল আবিষ্কার করলেন, বিদ্যুৎ তরঙ্গও একই গতিতে প্রবাহিত হয়। এরপর জার্মান বৈজ্ঞানিক হার্ভজ প্রমাণ করলেন, আলোক ও বিদ্যুতের গতিতে মূলত কোনো পার্থক্য নেই। ফরাসি বৈজ্ঞানিক ব্রালি বিদ্যুৎ তরঙ্গ ধারার একটা যন্ত্র আবিষ্কার করলেন। এ সময় বৈজ্ঞানিক মার্কনি মনে মনে ভাবলেন, এ বিদ্যুৎ তরঙ্গ দিয়ে সংবাদ আদান-প্রদান করা যেতে পারে। এই সময় পাফভ নামক একজন রুশ বৈজ্ঞানিক জাহাজের উঁচু মাস্তুলে তার টাঙ্গিয়ে বিদ্যুৎ তরঙ্গকে ধরার একটা কৌশল বের করলেন। মার্কনি এ নতুন উদ্ভাবিত যন্ত্র দিয়ে বিদ্যুৎ তরঙ্গকে দূরে ছড়িয়ে দিতে চাইলেন। মার্কনি হার্ভজের যন্ত্রে বিদ্যুৎ তরঙ্গের সৃষ্টি করে পাফভের উদ্ভাবিত উপায় অনুযায়ী উঁচু মাস্তুলে তার টাঙ্গিয়ে বিদ্যুৎ তরঙ্গকে দূরে ছড়িয়ে দিতে লাগলেন। এ তরঙ্গ ব্রালির যন্ত্র দিয়ে রেডিও তরঙ্গ ধরবার ব্যবস্থা হলো। মার্কনির অক্লান্ত প্রচেষ্টায় ইথারের শব্দ-তরঙ্গকে বিদ্যুতের মাধ্যমে গ্রাহক ও প্রেরক যন্ত্রের দ্বারা ধরে রাখা ও সঞ্চার করে দেওয়ার অভিনব কৌশল সৃষ্টি হলো রেডিও। আমাদের দেশের বরেণ্য বৈজ্ঞানিক জগদীশচন্দ্র বসুও রেডিও আবিষ্কারের পূর্বে এ নিয়ে সফল গবেষণা করেছিলেন। সুতরাং বলা যায়, রেডিও আজ আমাদের কাছে অলীক কোনো বস্তু নয়।

জাতীয় জীবনে রেডিওর গুরুত্ব : জাতীয় জীবনে রেডিওর গুরুত্ব অনস্বীকার্য। শুধু সংবাদ শ্রবণ বা সঙ্গীত উপভোগের কাজেই এটি আজ ব্যবহৃত হয় না। এর সাহায্যে শিক্ষা দান, রোগীর পরিচর্যা, কলকারখানা পরিচালনা, জলযান এবং শূন্যযান পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ প্রভৃতিও সম্ভবপর হয়েছে। সুদূর শূন্যলোকেও আবিষ্কারের জন্য, চন্দ্রলোকের তথ্য জানবার জন্য যে সকল বিশেষ ধরনের শূন্যযান ঊর্ধ্বলোকে নিক্ষিপ্ত হচ্ছে সেগুলো রেডিও-এর সাহায্যে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। আবার ঐ সকল শূন্যযান হতে যে সকল তথ্য আমরা পাচ্ছি সেগুলোও রেডিও-এর সাহায্যেই পৃথিবীতে এসে পৌঁছে।

উপসংহার : রেডিও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচার যন্ত্র। সৃষ্টিকর্তার রাজ্যে কত গভীর রহস্য লুকিয়ে আছে এবং চেষ্টা ও সাধনার দ্বারা মানুষ যে তা কীভাবে উদ্ঘাটন করতে ও নিজের প্রয়েঅজনে প্রয়োগ করতে পারে, তা ‘রেডিও’ যন্ত্রটির দিকে তাকালে সহজেই বুঝা যায়।

No comments