মার্চের দিনগুলি

খুদে গল্প : মহৎ কাজ

মহৎ কাজ শিরোনামে একটি খুদে গল্প রচনা করো।

মহৎ কাজ

অতুল ও রাতুল দুই বন্ধু। বিমানবন্দর রেলস্টেশনে তারা এসেছে চট্টগ্রামের টিকিট কাটতে। আগামী সপ্তাহে কক্সবাজার ঘুরতে যাবে তারা। কিন্তু কাউন্টারের পাশে একটি ছেলেকে কাঁদতে দেখে এগিয়ে যায় দুজন। রাতুল ছেলেটিকে নাম জিজ্ঞেস করে। কিন্তু ছেলেটি কোনো জবাব না দিয়ে কাঁদতেই থাকে। এবার অতুল ছেলেটির পরিচয় জিজ্ঞেস করে। কিন্তু ছেলেটি তাও কান্না করতে থাকে। কিছুক্ষণ দুজনেই থমকে দাঁড়ায় । অতুল রাতুলকে বলে-চল-চল, এখান থেকে চলে যাই। আমরা যে কাজে এসেছি তা শেষ করে চলে যাই। রাতুল বলে— একটু দাঁড়া বন্ধু। দেখি, ছেলেটি কেন কান্না করছে। দুজনে কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর ছেলেটিকে আবার প্রশ্ন করল। এবার ছেলেটি এক নিশ্বাসে বলল— আমি বাড়ি যাব, আমি বাবাকে হারিয়ে ফেলেছি। আমি বাড়ি যাব। অতুল ও রাতুল বুঝতে পারল ছেলেটি হয়তো বাবার সাথে ঘুরতে এসে হারিয়ে গেছে। রাতুল বলল— ‘তোমার কোনো ভয় নেই। কী নাম তোমার? তোমার বাবার নাম কী? বাড়ি কোথায়? ‘ছেলেটি কিছুই বলতে পারল না। সে শুধু নিজের নাম বলল— সাফোয়ান ইসলাম। রাতুল ও অতুল এবার মাহাচিন্তায় পড়ে যায়। সাফোয়ানকে নিয়ে কী করবে তারা কিছু বুঝতে পারছিল না। হঠাৎ অতুলের মাথায় এক বুদ্ধি আসে। সে রাতুলকে বলে— আচ্ছা স্টেশন মাস্টারকে বিষয়টি জানালে কেমন হয় । উনি হয়তো মাইকে ছেলেটির নাম ঘোষণা করলে কেউ আসতে পারে। রাতুলের এই আইডিয়াটা পছন্দ হয়। তারা দুজনে সাফোয়ানকে নিয়ে স্টেশন মাস্টারের কাছে যায়। এরপর স্টেশন মাস্টারকে বিষয়টি জানালে তিনি মাইকে সাফোয়ানের নাম ঘোষণা করেন। কিছুক্ষণ কেটে গেলেও কেউ আসে না। স্টেশন মাস্টার আবার নাম ঘোষণা করলেন। আবারও কেউ এলো না। এরকম চারবার নাম ঘোষণার পর একজন লোক এলো। এসে সাফোয়ানের বাবা বলে নিজেকে পরিচয় দিল। স্টেশন মাস্টার লোকটিকে যাচাইয়ের পর সাফোয়ানকে জিজ্ঞেস করল উনি কি তোমার বাবা? সাফোয়ান হ্যা সূচক মাথা নাড়ে। স্টেশন মাস্টার লোকটির কোলে সাফোয়ানকে তুলে দিতে দিতে বলে— 'রাতুল ও অতুল, তোমরা আজ খুব বড় একটি কাজ করেছো।
Post a Comment (0)
Previous Post Next Post