খুদে গল্প : সন্তানস্নেহ
| Article Stats | 📡 Page Views |
|---|---|
|
Reading Effort 381 words | 3 mins to read |
Total View 1.1K |
|
Last Updated 23-Dec-2025 | 10:59 AM |
Today View 0 |
'সন্তানস্নেহ' শিরোনামে একটি খুদে গল্প লেখ।
সন্তানস্নেহ
রাহেলা অন্যের বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ করে। দশ এগারো বছর বয়স তার। খুব ছোটবেলায় বাবা মারা গেছে। মায়ের আবার বিয়ে হয়েছে অন্য কোথাও। অন্যখানে বিয়ে করার আগে মা তাকে খুব আদর করত। ভালো ভালো খাবার, জামা কাপড় না দিতে পারলেও বুকের মধ্যে আগলে রাখত। কিন্তু এখন তার কেউই নেই, এতিম সে। তাই যে বাড়িতে সে কাজ করে সেই বাড়িটাকেই শেষ আশ্রয় মনে করে। বাড়ির সদস্য সংখ্যা সে সহ চারজন। তিনজন মানুষ হলে কী হবে, কাজ কম না। সে কাক-ডাকা ভোরে তাকে বিছানা ছেড়ে উঠতে হয়। বিছানা বলতে অবশ্য একটা ছেঁড়া কাঁথা আর একটা আধাআধি বালিশ। যাই হোক, তারপর থেকে শুরু হয় তার কাজের বহর। সাহেবের জন্য রুটি-সবজি, ম্যাডামের জন্য সালাদ স্যুপ আর তাদের সাত বছরের মেয়েটার জন্য দুধ হরলিক্স, সেমাই, নুডলস, ডিম যেটা খেতে পছন্দ করবে সেটা। এত কাজে কোনো উনিশ বিশ হওয়া যাবে না। রান্না করা, ঘর পরিষ্কার, কাপড় কাচা সব করতে হয় রাহেলাকেই। মায়ের কথা খুব মনে পড়ে তার, যদি মা থাকত তাহলে এতো সব কঠিন কাজ তাকে করতে হতো না। বাবার ওপর ভীষণ অভিমান হয় তার। কিন্তু এসব কথা মুখ ফুটে কখনো বলে না সে। খুব মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে হয় তাকে। কারণ কোনো ভুল হলেই মারধর। মাঝে মাঝে সাত বছরের ছোট মেয়েটার সাথে নিজের তুলনা করে। ভাবে, তার ভাগ্যটা যদি এই মেয়েটার মতো হতো! তবে সেও স্কুলে যেতে পারত, ভালো খাবার খেতে পেত, প্রত্যেক ঈদে বাহারি পোশাক আনা হতো তার জন্য। আরও আছে, বাবা মায়ের কাছে কত আদর পেত সে। এভাবেই রাহেলার দিন চলতে থাকে। একদিন সাহেব আর ম্যাডাম বাড়ি ফেরে কাঁদতে কাঁদতে। বলে এখুনি তাদের হাসপাতালে যেতে হবে, তাদের মেয়ে স্কুলের সিঁড়ি থেকে পড়ে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েছে। তার মাথা ফেটে রক্ত পড়ছে। রক্ত কিছুতেই বন্ধ হচ্ছে না। এরপর দুদিন রাহেলা বাড়ির মধ্যে একাই থাকে। জানতে পারে না কিছুই, কী হলো ছোট্ট মেয়েটার। দুদিন পর সাহেব আর ম্যাডাম ফিরে আসে তাদের মৃত মেয়েকে কোলে নিয়ে। সন্তানের শোকে তারা পাগলের মতো হয়ে যায়। সেই সময় গুলোতে রাহেলাই তাদের দেখাশুনা করতে থাকে। এক রাতে রাহেলা কাজ শেষ করে ঘুমিয়ে পড়েছে কিন্তু ঘরের লাইট বন্ধ করার কথা তার মনে নেই। তখন মহিলাটি রাহেলার ঘরে আসে লাইট বন্ধ করতে। লাইট বন্ধ করতে গিয়ে তার চোখ পড়ে রাহেলার দিকে। হঠাৎ তার বুকের মধ্যে হারানো মেয়ের কষ্টটা মোচড় দিয়ে ওঠে। রাহেলার মুখটাকে অবিকল তার মেয়ের মুখ বলে মনে হয়।
Leave a Comment (Text or Voice)
Comments (0)