My All Garbage

Shuchi Potro
সাধারণ জ্ঞান অ্যাসাইনমেন্ট-২০২১ বাংলা রচনা সমগ্র ভাবসম্প্রসারণ তালিকা অনুচ্ছেদ চিঠি-পত্র ও দরখাস্ত প্রতিবেদন প্রণয়ন সারাংশ সারমর্ম খুদে গল্প ব্যাকরণ Composition / Essay Paragraph Letter, Application & Email Dialogue List Completing Story Report Writing Graphs & Charts English Note / Grammar পুঞ্জ সংগ্রহ বই পোকা হ য ব র ল তথ্যকোষ পাঠ্যপুস্তক CV & Job Application বিজয় বাংলা টাইপিং My Study Note আমার কলম সাফল্যের পথে
About Contact Service Privacy Terms Disclaimer Earn Money


বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শিক্ষা সহায়ক ওয়েব সাইট

SSC 2021 : ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং : ১ম সপ্তাহ : অ্যাসাইনমেন্ট

অধ্যায় ০১
অর্থায়ন ও ব্যবসায় অর্থায়ন
অ্যাসাইনমেন্ট : আর্থিক ব্যবস্থাপকের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তাঁর অর্থায়ন ব্যবস্থাপনা বিষয়ক জ্ঞান সহায়ক-বিষয়টির যৌক্তিকতা নিরূপণ।

নমুনা সমাধান

আর্থিক ব্যবস্থাপকের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে তার অর্থায়ন ব্যবস্থাপনা বিষয়ক জ্ঞান সহায়ক - বিষয়টির যৌক্তিকতা নিরূপণ

অর্থায়নের ধারণা : অর্থায়ন মূলত অর্থ বা তহবিল ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করে থাকে। কোন উৎস হতে কী পরিমাণ, তটুকু তহবিল সগ্রহ করে, কোথায় কীভাবে বিনিয়ােগ করা হলে কারবারে সর্বোচ্চ মুনাফা হবে, অর্থায়ন সেই সংক্রান্ত পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করে। একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে মালামাল বা পণ্য ক্রয় বিক্রয় থেকে অর্থের আগমন ও নির্গমন হয়। কারবারের মালামাল প্রস্তুত ও ক্রয় করার জন্য বিভিন্ন ধরনের তহবিলের প্রয়ােজন হয়। উদাহরণ : মেশিন ক্রয় বাবদ খরচ, কাঁচামাল ক্রয় বাবদ খরচ, শ্রমিকদের মজুরি প্রদান ইত্যাদি অর্থায়নের উল্লেখযােগ্য কয়েকটি উদাহরণ। তহবিলের এই প্রয়ােজন অনুযায়ী পরিকল্পনামাফিক তহবিল সংগ্রহ করতে হয়, যেন উৎপাদনপ্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে। অর্থায়ন বলতে তহবিল সংগ্রহ ও ব্যবহার সংক্রান্ত এই প্রক্রিয়াগুলােকে বুঝায়। যেমন : আমার গ্রামে কোনো দর্জির দোকানে গেলে দেখতে পাই যে, একজন বা দুজন সেলাই মেশিনে কাপড় সেলাই করছে। আবার হয়তাে কেউ কাপড় কাটছে বা বােতাম সেলাই করছে ফলে একটি দর্জির দোকানের মালিককে তার এই কার্যপ্রক্রিয়া সঠিকভাবে চালিয়ে নেয়ার জন্য সেলাই মেশিন ক্রয়, সুতা, বােতাম, কঁচি ইত্যাদি প্রয়ােজনীয় পরিমাণে ক্রয় করতে হয়। ব্যবসার শুরুতে সাধারণত এসব ক্রয়ের জন্য প্রয়ােজনীয় তহবিল সে তার নিজস্ব মূলধন ব্যবহার করে নির্বাহ করে।

পরিশেষে বলা যায় যে, একটি অর্থায়ন ব্যবস্থাপনা হলাে এমন একটি প্রক্রিয়া যা কোন ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের আর্থিক তহবিলের সামগ্রিক কার্য প্রক্রিয়া ধাপ।

কারবারি অর্থায়নের গুরুত্ব : আজকালকার দিনের প্রতিযােগিতামূলক মুক্তবাজার ব্যবস্থায় মুনাফা অর্জনের জন্য প্রতিটি সরকারি, বেসরকারি, আন্তর্জাতিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলােকে গুরুত্বের সাথে পূর্ব-পরিকল্পনামাফিক অর্থায়ন করতে হয়। নিচে কারবারি অর্থায়নের গুরুত্ব তুলে ধরা হলো:

১. ব্যবসায়িক মূলধন-সংকট : বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ বলে আর্থিক সংকট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলাের জন্য একটি নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। এই সংকটের জন্য কারবার প্রতিষ্ঠান সুচারুরূপে পরিচালনা করা একটি কঠিন কাজ। উদাহরণসরূপ বলা যায় যে, একটি প্রতিষ্ঠানের কাচামাল কেনা। প্রয়ােজন কিন্ত অর্থসংকটের জন্য সে যদি যথাসময়ে উপযুক্ত পরিমাণে কাচামাল কিনতে অপারগ হয়, তাহলে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদনপ্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। 

২. অনগ্রসর ব্যাংক ব্যবস্থা : অনেক সময় ব্যাংক ঋণের বিপরীতে যে সম্পত্তি বন্ধক রাখতে হয়, তার অপ্রতুলতার কারণে ব্যাংক ঋণ উপযুক্ত সময়ে ও যথার্থ পরিমাণে পাওয়া যায় না ফলে ব্যবসায়ীদের এ অর্থসংকট হতে উদ্ভুত সমস্যা মােকাবিলা করার জন্য খুবই পরিকল্পিতভাবে অর্থের সংস্থান করতে হয় এবং সঠিক বিনিয়ােগ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে অর্থের লাভজনক ব্যবহার করার প্রয়ােজন হয়। 

৩. স্বল্পশিক্ষিত উদ্যোক্তা : বাংলাদেশের বেশির ভাগ ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তারা স্বল্পশিক্ষিত বলে তারা একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে অর্থায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। এতে করে অনেক লাভজনক প্রতিষ্ঠান উপযুক্ত আর্থিক পরিকল্পনার অভাবে আর্থিক সংকটে সুষ্ঠুভাবে চলতে পারে না এবং অবশেষে লাভের বদলে ক্ষতির সম্মুখীন হয়।

৪. উৎপাদনমুখী বিনিয়ােগ ও জাতীয় আয় : একটি সফল বিনিয়ােগ জাতীয় আয় বৃদ্ধিতে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখে। অর্থায়নবিষয়ক জ্ঞানের প্রয়ােগে একজন ব্যবসায়ী বিনিয়ােগের বিভিন্ন প্রকল্পগুলাের মধ্যে ভবিষ্যৎ আয় - ব্যয়ের সম্ভাব্যতা বিশ্লেষণ করে সবচেয়ে লাভজনক প্রকল্পটি বেছে নিতে পারে। এই ধরনের লাভজনক বিনিয়ােগ কারবার জন্য যেমন অর্থবহ, তেমনি সারা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্যও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। পরিশেষে বলা যায় যে, উপরােক্ত বিষয়গুলাে কারবারি অর্থায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আর্থিক ব্যবস্থাপকের কার্যাবলি : 
(১) আয় সিদ্ধান্ত বা অর্থায়ন সিদ্ধান্ত : আয় সিদ্ধান্ত বলতে মূলত তহবিল সংগ্রহের প্রক্রিয়াকে বুঝায়। অর্থায়ন সিদ্ধান্তের আওতায় তহবিল সংগ্রহের ভিন্ন উৎস নির্বাচন এবং এসব উৎসের সুবিধা-অসুবিধা বিশ্লেষণ করে অর্থায়ন-সংক্রান্ত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। সাধারণত চলতি ব্যয় নির্বাহের জন্য স্বল্পমেয়াদি উৎস থেকে আর স্থায়ী ব্যয় নির্বাহের জন্য দীর্ঘমেয়াদি উৎস থেকে অর্থ সগ্রহ করা হয়। সাধারণত ব্যবসায় তহবিল সংগ্রহে মালিকপক্ষের নিজস্ব পুঁজি ও বিভিন্ন উত্স থেকে ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে ব্যবসায় তহবিল সংগ্রহ করা হয়। এছাড়া বড় কোম্পানিগুলাে শেয়ার বিক্রয়ের মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করতে পারে। এই শেয়ার হােল্ডাররাই কোম্পানির মালিক। কোনাে প্রতিষ্ঠান ঋণের মাধ্যমে তহবিলের যে অংশ সংগ্রহ করে, তার জন্য প্রতিষ্ঠানটির ঋণের দায় বৃদ্ধি পায়, আবার মালিকপক্ষ হতে সংগৃহীত মূলধনের পরিমাণের উপর ভিত্তি করে মালিকপক্ষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। ফলে সঠিক অর্থায়ন সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই একটি প্রতিষ্ঠান ঋণের দায় ও মালিকানা-স্বত্বের মধ্যে লাভজনক ভারসাম্য সৃষ্টিতে সফল হয়। 

উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে, আমার এলাকায় ইমরান নামে একজন মুদির দোকানি তার ব্যবসায়ের অর্থায়ন সংগ্রহ করতে চায়। তার দোকানের প্রয়ােজনীয় জিনিসপত্র, মালামাল ক্রয়ের জন্য যে খরচে অর্থ সংগ্রহ করতে হবে, তাই হলাে আয় সিদ্ধান্ত না অর্থায়ন সিদ্ধান্ত।

তাই বলা যায় যে, একটি বাসায় প্রতিষ্ঠানের জন্য কতটুকু পরিমাণ অর্থের প্রয়ােজন তা শুধুমাত্রই আয় সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই জানা সম্ভব হয়। অর্থায়নের সুষ্ঠ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারলেই ব্যবসায়ের সফলতা অর্জন সম্ভব হয়।

(২) ব্যয় সিদ্ধান্ত বা বিনিয়ােগ সিদ্ধান্ত : একজন দর্জি দোকানের সেলাই মেশিন ক্রয়-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত একটি বিনিয়ােগ সিদ্ধান্ত। মুদি দোকানের আসবাবপত্র, রেফ্রিজারেটর এ -সংক্রান্ত একটি বিনিয়ােগ সিদ্ধান্ত। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য উৎপাদনমুখী মেশিন ক্রয়, কারখানা নির্মাণের খরচও এই জাতীয় সিদ্ধান্ত। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রত্যাশিত আগমন-নির্গমনের একটি পরিকল্পনা করতে হয়। যেমন : প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের মেশিন ক্রয় সংক্রান্ত সিদ্ধান্তটি গৃহীত হয়। যদি মেশিন দ্বারা প্রস্তুতকৃত পণ্যসামীর বিক্রয় পূর্বের তুলনায় বৃদ্ধি পায়, এতে করে যদি মুনাফা ও নগদ প্রবাহ বৃদ্ধি পায় এবং সর্বমােট নগদ প্রবাহ যদি মেশিনের ক্রয় মূল্য থেকে বেশি হয়।

অর্থাৎ, মেশিনটি যদি আগামী দশ বছর ব্যবহার করা যাবে মনে হয়, তাহলে মেশিনের নিয়ােগ সিদ্ধান্তটির জন্য আগা দশ বছরে মালামাল বিক্রয় থেকে যে অর্থের আগমন দশ বছরে দশ বছরের বিক্রয়লব্ধ নগদ প্রবাহ বের করা সম্ভব। নগদ প্রবাহ হতে মুনাফার পরিমাণ নির্ণয়ের জন্য বিক্রয়লব্ধ অর্থ থেকে উৎপাদন ও অন্যান্য খরচ বাদ দিয়ে নগদ প্রবাহ নির্ধারণ করতে হয়। ভবিষ্যতের পণ্য বিক্রয়ের পরিমাণ ও পণ্যের মূল্য নির্ধারণ একটি দুরূপ কাজ বলে বিনিয়ােগ সিদ্ধান্তটি প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।

(৩) অন্যান্য সিদ্ধান্ত : আয় সিদ্ধান্ত বা অর্থায়ন সিদ্ধান্ত ও ব্যয় সিদ্ধান্ত বা বিনিয়ােগ সিদ্ধান্ত আর্থিক ব্যবস্থাপকের জন্য আরাে কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হয়, যেমন :
 
ক) কী পরিমাণে কাঁচামাল ক্রয় বা প্রতিষ্ঠানের জন্য উপযােগী এবং সেই অর্থ কোথা থেকে সংগ্রহ করা যাবে- এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তকে চলতি বিনিয়ােগ সিদ্ধান্ত বলে। 

খ) দৈনন্দিন প্রয়ােজন নির্বাহ করার জন্য কী পরিমাণ নগদ অর্থ রাখা উচিত, সেটাও একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। 

গ) যেসব উৎস থেকে তহবিল সংগ্রহ করা হয়েছে, তাদের প্রাপ্য প্রদান করা আরেকটি সিদ্ধান্ত। ব্যাংক ঋণ ও অন্যান্য ঋণ যেমন - বন্ড, ডিবেঞ্চার ইত্যাদির মাধ্যমে তহবিল সংগৃহীত হলে যথাসময়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ সুদ প্রদান করার সিদ্ধান্ত আর্থিক ব্যবস্থাপকের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। 

একইভাবে শেয়ার বিক্রয়ের মাধ্যমে সংগৃহীত তহবিলের ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত হারে মুনাফা অর্জন ও লভ্যাংশ বন্টন ও আর্থিক ব্যবস্থাপকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।



অধ্যায় ০৩
অর্থের সময় মূল্য
অ্যাসাইনমেন্ট : বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণে অর্থের ভবিষ্যৎ মূল্যের ভূমিকা নিরূপণ।

নমুনা সমাধান

বিনিয়ােগ সিদ্ধান্ত গ্রহণে অর্থের ভবিষ্যৎ মূল্যের ভূমিকা নিরূপণ

অর্থের সময় মূল্যের ধারণা : ফিন্যান্সের দৃষ্টিতে সময়ের সাথে সাথে অর্থের মূল্য পরিবর্তিত হয় অর্থাৎ এখনকার ১০০ টাকা আর পাঁচ বছর পরের ১০০ টাকা সমান মূল্য বহন করে না, এখনকার ১০০ টাকা অধিকতর মূল্যবান। এটাই অর্থের সময়মূল্য ধারণা। অর্থের সময়মূল্যের মূল কারণ সুদের হার।

মনে করি, আমি আমার বন্ধুর কাছে ১০০ টাকা পাই, এমতাবস্থায় সে বলল ১০০ টাকা এখন না পরিশােধ করে ১ বছর পর পরিশােধ করবে। অর্থের সময়মূল্য বলে যে এখনকার ১০০ টাকা আর এক বছর পরের ১০০ টাকা সমান মূল্য বহন করে না।

ধরা যাক, সুদের হার শতকরা ১০ ভাগ অর্থাৎ আমি যদি সােনালী ব্যাংকে এখন ১০০ টাকা জমা রাখি, তবে আগামী বছর ব্যাংক আমাকে ১১০ টাকা দেবে। সুতরাং এখনকার ১০০ টাকা এবং আগামী বছরের ১১০ টাকা অর্থের সময়মূল্য অনুযায়ী সমান মূল্য বহন করে।

অর্থের ভবিষ্যৎ মূল্য ও চক্রবৃদ্ধিকরণ প্রক্রিয়া :

বর্তমান মূল্য জানা থাকলে ১ নং সূত্র ব্যবহার করে ভবিষ্যৎ মূল্য বের করা যায়।

সূত্র : ১ - ভবিষ্যৎ মূল্য (FV) = বর্তমান মূল্য (১+সুদের হার)বাৎসরিক মেয়াদ

এখানে, FV হচ্ছে, Future Value

বর্তমানের ১০০ টাকার ১ বছর পরের ভবিষ্যৎ মূল্য হবে
  ১০০(১+০.১০)
=১০০ $\times$ ১.১০
=১১০ টাকা

বর্তমানের ১০০ টাকার ২ বছর পরের ভবিষ্যৎমূল্য হবে
  ১০০(১+০.১০)
=১০০ $\times$ ১.২১
=১২১ টাকা

ভবিষ্যৎ মূল্য নির্ধারণের জন্য উপরিউক্ত উদাহরণে যে প্রক্রিয়াটি ব্যবহৃত হয়েছে, তাকে বলা হয় চক্রবৃদ্ধিকরণ পদ্ধতি। এখানে লক্ষণীয় যে এক বছর পরে ১১০ টাকা ভবিষ্যৎ মূল্যের মধ্যে আসল ১০০ টাকা ও সুদ ১০ % হারে ১০ টাকা।

একই ভাবে দ্বিতীয় বছর আরও ১০ টাকা সুদ হলে দ্বিতীয় বছরে ভবিষ্যৎ মূল্য হওয়া উচিত ১২০ টাকা কিন্তু দ্বিতীয় বছরের ভবিষ্যৎ মূল্য হয়েছে ১২১ টাকা। এর কারণ দ্বিতীয় বছরের শুরুতে আসল ধরা হয় ১১০ টাকা এবং তাতে করে দ্বিতীয় বছরে ১০% হারে সুদ হয় ১১ টাকা।

এভাবে প্রথম বছরের সুদাসলকে দ্বিতীয় বছরের আসল ধরে তার উপর দ্বিতীয় বছরের সুদ ধার্য করার প্রক্রিয়াকে বলা হয় চক্রবৃদ্ধিকরণ পদ্ধতি। চক্রবৃদ্ধিকরণ পদ্ধতিতে প্রতিবছর সুদাসলের উপর সুদ ধার্য করে ভবিষ্যৎ মূল্য নির্ধারণ করা হয়। অর্থাৎ সুদ আসলের উপর যে সুদ প্রদান করা হয় তাকে চক্রবৃদ্ধি সুদ বলা হয়। কিন্তু সরল সুদের ক্ষেত্রে

কেবল আসলের উপর সুদ গণনা করা হয়। বার্ষিক চক্রবৃদ্ধিকরণ ও বছরে একাধিক চক্রবৃদ্ধিকরণ করে অর্থের ভবিষ্যৎ মূল্য নির্ণয় : কখনাে কখনাে বছরে একাধিকবার চক্রবৃদ্ধি হতে পারে। যেমন : ব্যাংকে টাকা রাখলে মাসিক ভিত্তিতে

চক্রবৃদ্ধি হয়। অর্থাৎ বছরে ১২ বার চক্রবৃদ্ধি হয়। সেক্ষেত্রে সূত্রটিতে দুটি পরিবর্তন করতে হবে। বছরে যদি বারবার চক্রবৃদ্ধি হয়, তাহলে প্রথমত সুদের হারকে ১২ দিয়ে ভাগ করতে হবে এবং দ্বিতীয়ত মেয়াদকেও ১২ দিয়ে গুণ করতে হবে। একটি উদাহরণের মাধ্যমে সূত্রটির প্রয়ােগ দেখানাে হলাে

উদাহরণ :  যদি তুমি ১০ % চক্রবৃদ্ধি সুদে ১০০ টাকা ব্যাংকে জমা রাখ এবং তুমি জানাে বছরে ১২ বা:র চক্রবৃদ্ধি হবে, তবে বছর পর তুমি কত টাকা পাবে?

সূত্র ৩ : $FV=PV\left(১+\frac im\right)^{\left(n\times m\right)}$

এখানে, বর্তমান মূল্য $(PV) = ১০০$ টাকা
সুদের হার $(i) = ১০%$
বছরে ক্রবৃদ্ধির সংখ্যা $(m)=১২$
বছরের সংখ্যা $(n) = ১$ বছর।
ভবিষ্যৎ মূল্য $(FV) =$ কত?

সূত্রে মান বসিয়ে,
$FV=১০০\left(১+\frac {০.১০}{১২}\right)^{\left(১\times ১২\right)}=১১০.৪৬$ টাকা

ধারণা : যদি তুমি আজকে ১০০ টাকা ব্যাংকে জমা রাখ তাহলে ১ বছর পরে তুমি $১১০.৪৬$ টাকা পাবে। অর্থাৎ তুমি $১১০.৪৬-১০০=১০.৪৬$ টাকা বেশি পাবে।

কোন ব্যাংকে কত টাকা জমা রাখলে তিনি লাভবান হবে এ বিষয়ে পরামর্শ : 

যদি কোন ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান দুইটি ব্যাংকে টাকা জমা রাখেন তখন তার ভবিষ্যৎ প্রাপ্তি কোন ব্যাংকের প্রদানকৃত অর্থের পরিমাণ অধিক বেশি, সে ব্যাংকে টাকা জমা রাখা যৌক্তিক হবে বলে গণ্য করা হয়। 

ধরা যাক,
$X$ ব্যাংকে ৯% চক্রবৃদ্ধি মুনাফা ৬ লক্ষ টাকার ৫ বছরে ভবিষ্যৎ মুনাফা

     $FV=PV\left(১+i\right)^n$

এখানে,
বর্তমান মূল্য $(PV)=$ ৬,০০,০০০ টাকা
সুদের হার $(i) =$ ৯%
বছরের সংখ্যা $(n)=৫$ বছর
ভবিষ্যৎ মূল্য $(FV) =$ ?

সুতরাং
    $৬,০০,০০০\left(১+০.০৯\right)^৫$
বা, $৬,০০,০০০\left(১.০৯\right)^৫$
বা, $৬,০০,০০০ \times ১.৪৫$
বা, ৯,২৪,০০০ টাকা

আবার ধরা যাক,
$Y$ ব্যাংকে ৯% সাপ্তাহিক চক্রবৃদ্ধি মুনাফা ৬ লক্ষ টাকার ৫ বছরে ভবিষ্যৎ মুনাফা

     $FV=PV\left(১+\frac iw\right)^{n\times w}$

এখানে,
বর্তমান মূল্য $(PV)=$ ৬,০০,০০০ টাকা
সুদের হার $(i) =$ ৯%
সপ্তাহের চক্রবৃদ্ধি সংখ্যা $(w)=$৫২
বছরের সংখ্যা $(n)=৫$ বছর
ভবিষ্যৎ মূল্য $(FV) =$ ?

সুতরাং
   $FV=৬,০০,০০০\left(১+\frac{০.০৯}{৫২}\right)^{৫\times৫২}$
বা, $FV=৬,০০,০০০\left(১+\frac{০.০৯}{৫২}\right)^{২৬০}$
বা, $FV=৬,০০,০০০\left(১+০.০০১৭৩০৭৭\right)^{২৬০}$
বা, $FV=৬,০০,০০০\left(১.০০১৭৩০৭৭\right)^{২৬০}$
বা, $FV=৬,০০,০০০\times ১.৫৬৭৭$
বা, ৯,৪০,৬২১ টাকা (প্রায়)

এখানে, $X$ ব্যাংকের হিসেব অনুসারে ৫ বছর পরে ৬ লক্ষ টাকার ভবিষ্যৎ মূল্য ৯,২৪,০০০ টাকা এবং $Y$ ব্যাংকের হিসেব অনুসারে ৫ বছর পরে ৬ লক্ষ টাকার ভবিষ্যৎ মূল্য ৯,৪০,৬২১ টাকা।

সুতরাং দেখা যাচ্ছ যে, লােকটি $Y$ ব্যাংকে টাকা রাখলে বেশি লাভবান হবে। তাই আমি তাকে $Y$ ব্যাংকে টাকা রাখার পরামর্শ দিবাে।

No comments