৬ষ্ঠ শ্রেণি : অ্যাসাইনমেন্ট : হিন্দু ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা : ১ম সপ্তাহ : ২০২১
| Article Stats | 📡 Page Views |
|---|---|
|
Reading Effort 543 words | 4 mins to read |
Total View 596 |
|
Last Updated 10-May-2021 | 08:06 AM |
Today View 0 |
৬ষ্ঠ শ্রেণি এ্যাসাইনমেন্ট : হিন্দু ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা : সপ্তাহ ১
হিন্দুধর্মে স্রষ্টা বা সৃষ্টিকর্তাকে ঈশ্বর নামে অভিহিত করা হয়। ঈশ্বরের অনেক নাম যেমন ব্রহ্ম, ভগবান, পরমাত্মা ইত্যাদি। আবার, পরমত্মা যখন জীবের মধ্যে আত্মারূপে অবস্থান করেন তখন তাকে আত্মা বা জীবাত্মা বলে। জীবাত্মা ও পরমাত্মারই অংশ। মানুষ মহাবিশ্ব এবং মহাবিশ্বের সবকিছুই হচ্ছে সৃষ্টি। এ সকল সৃষ্টির যিনি স্রষ্টা বা সৃষ্টি কর্তা তার নাম ঈশ্বর। ঈশ্বরকে কেউ দেখতে পায় না। তার কোন আকার নেই, তিনি নিরাকার। কিন্তু তার সৃষ্টির আকার আছে। তার সৃষ্টির মধ্যেই আমরা তাকে অনুভব করি। তাকে তার সৃষ্টির যে কোনো আকৃতিতে অর্থাৎ সাকার রূপে উপলব্ধি করা যায়। প্রকৃতির প্রতিটি উপাদানের মধ্যে ঐক্য এবং পারস্পরিক সম্পর্কের মূলেই রয়েছেন তিনি। স্রষ্টার সৃষ্টির প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার মাধ্যমে আমরা তাকে উপলব্ধি করতে পারি।
এ প্রসঙ্গে স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন,
“বহুরূপে সম্মুখে তোমার ছাড়ি কোথা খুঁজিছ ঈশ্বর
অর্থাৎ জীবরে মধ্যেই ঈশ্বর বিরাজ করেন। তাই ঈশ্বরকে বাইরে খোঁজার প্রয়োজন হয় না এবং জীবকে সেবা করলেই ঈশ্বরের সেবা করা হয়। জীবে প্রেম করার মাধ্যমে ঈশ্বরের সেবা করা যায় তা সম্পর্কে দারিদ্র ব্রাহ্মণের জীবসেবা নামক চমৎকার একটি উপাখ্যান রয়েছে। নিচে তা বর্ণনা করা হলো কুরক্ষেত্র উপমহাদেশে একটি পবিত্র স্থান। কুরুক্ষেত্রকে ধর্মক্ষেত্রও বলা হয়। সেই কুরুক্ষেত্রে এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ ছিলেন। স্ত্রী, এক ছেলে ও ছেলের বউকে নিয়ে তার ছোট সংসার। কিন্তু সংসার ছোট হলে কি হবে! কোনোদিন তাদের খাবার জুটত, কোনোদিন আধপেটা থাকতে হতো। কোনোদিন একেবারেই না খেয়ে থাকতে হতো। কারণ ব্রাহ্মণ ধর্ম সাধনা ও বিদ্যা অর্জনে সময় কাটাতেন। উঞ্ছবৃত্তি করে খাবার সংগ্রহ করতেন। উঞ্ছবৃত্তি হচ্ছে জমির ধান কেটে নেওয়ার পর জমিতে যা দুই এক ছড়া থাকে, তা কুড়িয়ে নিয়ে তা দিয়ে খিদে মিটানো।
একদিনের কথা। ব্রাহ্মণ কোনো খাবার জোটাতে পারছেন না। খুবই খিদে পেয়েছে স্ত্রী, ছেলে ও ছেলের বউ না খেয়ে আছে। পরে অতিকষ্টে কিছু যব সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। ব্রাহ্মণপত্মী সেই যব দিয়ে ছাতু বানালেন। তারপর সেই ছাতু চারভাগে ভাগ করলেন। চারজনে খাবেন।
ব্রাহ্মণ খেতে বসবেন। এমন সময় সেখানে এলেন আরেক দরিদ্র ব্রাহ্মণ। তিনি জানালেন, আমি দূর্ভিক্ষে আক্রান্ত হয়েছি। অর্ধাহারে, অনাহারে দিন কাটাচ্ছি। এখন আমি ক্ষুধার্ত। ব্রাহ্মণ অতিথি ব্রাহ্মণকে হাতমুখ জল দিলেন। বসার আসন দিলেন। পানীয় জল দিলেন। ক্লান্তি দূর হলো অতিথির তারপর প্রাহ্মণ নিজের ভাগের ছাতু অতিথিকে পরিবেশন করলেন। অতিথি ব্রাহ্মণ বললেন-অতি অল্পতে পেট ভরে! ব্রাহ্মণপত্মী তাঁর নিজের ভাগের ছাতুও দিয়ে দিলেন। এভাবে অতিথি ব্রাহ্মণের খিদে মেটাতে ব্রাহ্মণের পুত্রও তার ভাগের ছাতু অতিথিকে দিয়ে দিলেন। তবু খিদে মিটলো না অতিথি ব্রাহ্মণের!
“তোমাদের পরীক্ষা করতে এসেছিলাম” - বলেলেন ধর্মদেব।
উল্লেখিত উপাখ্যান হতে জীবসেবার এই আদর্শ আমরা যেন মনে প্রাণে ধারণ করি। সকল জীবের মধ্যেই স্রষ্টার অস্তিত্ব রয়েছে। তিনি সকল জীব সৃষ্টি করেছেন এবং জীবদেহেই তিনি অবস্থান করেন। তাই আমরা প্রতিটি জীবকেই ঈশ্বর জ্ঞানে পূজা করি। স্রষ্টার এই সৃষ্টির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমেই আমরা ঈশ্বরের অস্তিত্ব উপলব্ধি করি। তাইতো বলা হয়ে থাকে –
“যত্র জীবঃ, তত্র শিবঃ”
অর্থাৎ যেখানে জীব, সেখানেই শিব। তাই আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত সকল সৃষ্টির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং ভালোবাসা ও সম্মান করা। সুতরাং জীব সেবাও ধর্ম। তাই আমরা জীবসেবার মধ্য দিয়ে ঈশ্বরের সেবা করব। আমরা দরিদ্রের সেবা করব এবং সেগুলোর পরিচর্যা করব। এভাবে আমরা জীবকে ঈশ্বর জ্ঞানে সেবা করব। এতে জীবের মঙ্গল হবে। জীবসেবা করলে নিজেরা শান্তি পাব, ঈশ্বরও সন্তুষ্ট হবেন।
আরো দেখুন :
২য় সপ্তাহের নমুনা সমাধান :
১ম সপ্তাহের অন্যান্য বিষয়ের নমুনা সমাধান :
Leave a Comment (Text or Voice)
Comments (0)