ভাবসম্প্রসারণ : জীবে প্রেম করে যেই জন / সেই জন সেবিছে ঈশ্বর।

History 📡 Page Views
Published
14-Nov-2017 | 03:41 PM
Total View
83K
Last Updated
26-Feb-2026 | 03:19 PM
Today View
0
জীবে প্রেম করে যেই জন
সেই জন সেবিছে ঈশ্বর।

মূলভাব : জীবের আত্মারূপে স্রষ্টা জীবের মধ্যে অবস্থান করেন। তাই জীবের সেবা করলেই স্রষ্টার সেবা করা হয়। বস্তুত জীবের প্রতি আন্তরিক না হয়ে স্রষ্টার নৈকট্য লাভ করা যায় না। সৃষ্টিকে ভালোবাসার মাধ্যমেই কেবল স্রষ্টার সান্নিধ্য লাভ করা যায়।

সম্প্রসারিত ভাব : মহাবিশ্বে যা কিছু রয়েছে সবই স্রষ্টার সৃষ্টি। সমস্ত জীবজগৎ তিনিই সৃষ্টি করেছেন পরম যত্নে, যেমন পরম ভালোবাসায় সৃষ্টি করেছেন মানুষ। তাঁর মহাশক্তির ক্ষুদ্রাংশ শক্তি জীবজগতের প্রত্যেকের মধ্যে বিরাজমান। অর্থাৎ জীবজগতের সবকিছুর মধ্যেই তাঁর শক্তির উপস্থিতি রয়েছে। কাজেই জীবের প্রতি দয়া পদর্শন করা আমাদের প্রত্যেকেরই কর্তব্য। কেননা জীবসেবা করলেই প্রকারান্তরে স্রষ্টার সেবা করা হয়। জীবের প্রতি যত্নবান হলে বা জীবকে ভালোবাসলে সৃষ্টিকর্তার প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন করা হয়। এ জন্যেই স্বমী বিবেকানন্দ বলেছেন-
“জীবে প্রেম করে যেই
জন সেই জন সেবিছে ঈশ্বর।”

সংসারের সবকিছুর স্পর্শে থেকেই ঈশ্বরের আরাধনা করা যায়। লোকচক্ষুর অন্তরালে ধ্যানমগ্ন হলেই সৃষ্টিকর্তার সান্নিধ্য লাভ করা যায় না। আবার নির্জনে আরাধনা করলেই ঈশ্বর লাভে পূর্ণতা আসে না। স্রষ্টা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন মানবীয় গুণাবলি দিয়ে, জ্ঞান ও বিবেক বুদ্ধি দিয়ে। যে কারণে জীবজগতের মধ্যে মানুষ সেরা। কোজেই সেরা হিসেবে মানুষের প্রতি যেমন মানুষের দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে, তেমনি প্রতিটি জীবের প্রতিও রয়েছে সমান দায়িত্ব ও কর্তব্য। জীবে সেবা না করে শুধু ঈশ্বর সেবায় মগ্ন হলে প্রকৃতপক্ষে ঈশ্বরের সন্তুষ্টি লাভ করা যায় না। জীব জগৎ নিধনে ব্যাপৃত হলে একসময় মনুষ্যজীবনও বিপন্ন হয়ে পড়ে। এজন্য বৌদ্ধধর্মে বলা হয়েছে “জীবহত্যা মহাপাপ”। কথাটা বর্তমান পৃথিবীতে অধিকতর প্রণিধানযোগ্য। উদ্ভিদ ও জীবজগৎ ধ্বংস করার ফলে পার্থিব পরিবেশ বিপন্ন হয়ে পড়েছে। আর তার প্রায়শ্চিত্ত করতে হচ্ছে মানুষকেই। অর্থাৎ সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে মানুষের উপর। জীবন ক্রমশ দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। মানুষ তার মনবতাবোধের সক্রিয়তায় অসাম্য, বিভেদ, লোভ, হিংসা দূর করার পরিবর্তে নিজেই হয়ে উঠছে লোভী, স্বার্থপর, হিংস্র। তাই জীবকে অবজ্ঞা ও অবহেলা করলে, জীবের প্রতি অমানবিক হলে ঈশ্বরকেই অবজ্ঞা করা হয়- এই বোধ আমাদেরকে লালন ও পালন করতে হবে। আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসতে হবে জীবসেবায়, জীবকে ভালোবাসায়।

মন্তব্য : স্রষ্টার সৃষ্টি অর্থাৎ জীবজগৎকে প্রেমের দৃষ্টিতে দেখলে, তাদের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করলে ঈশ্বরের সন্তুষ্টি ও সান্নিধ্য নিশ্চিত হয়। ঈশ্বরের সৃষ্টি জীবের প্রতি মমতার মাধ্যমে ঈশ্বরের মহিমা অনুভব করা সম্ভব। তাই জীবজগতের ধ্বংসের পরিবর্তে তাদের প্রতি যথার্থ যত্নবান হওয়া একান্ত প্রয়োজন।


এই ভাবসম্প্রসারণটি অন্য বই থেকেও সংগ্রহ করে দেয়া হলো


স্রষ্টার সৃষ্টির মধ্যে মনুষই সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। বিভিন্ন সমাজের মানুষ বিভিন্নভাবে স্রষ্টার আরাধনা করিয়া থাকে। আরাধনার পদ্ধতিতে মহাব্যবধান দেখা যায়। কিন্তু ইহার উদ্দেশ্য এক ও অভিন্ন এবং তাহা হইতেছে সৃষ্টিকর্তার সন্তষ্টি বিধান। পৃথিবীতে বিভিন্ন যুগে বিভিন্ন মনিষীর আবির্ভাব হইয়াছে। বিভিন্ন ধর্মের অবতারণা হইয়াছে এবং আরাধনার বিভিন্ন প্রকৃতি ও পদ্ধতি অনুসরণ করা হইয়াছে। স্রষ্টাকে পাওয়ার বা স্রষ্টার সন্তুষ্টি বিধানই সবার একমাত্র উদ্দেশ্য। এতদৃসত্ত্বেও সাধারণ মানুষের পক্ষে স্রষ্টার প্রকৃত অস্তিত্ব আবিষ্কার সম্ভব হয়। কারণ নিরাকার, অক্ষয়, অব্যয় সৃষ্টিকর্তা চিরদিন আমাদের সংস্পর্শের বাহিরে, তাই আমরা নানাভাবে নানা জায়গায় তাহার সন্ধানে ঘুরিয়া বেড়াই সম্পূর্ণ অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়া।

পৃথিবীর মধ্যযুগের সকল মনীষী ও ধর্মগুরু এই বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করেন যেই, স্রষ্টার সান্নিধ্য লাভের জন্য দেশ দেশান্তরে যাওয়ার প্রয়োজন নাই। স্রষ্টার অস্তিত্ব প্রতিটি সৃষ্ট জীবের মধ্যেই নিহিত রহিয়াছে। সুতরাং সৃষ্টির সেবায় যিনি নিজকে সম্পূর্ণরূপে উৎসর্গ করিতে পারেন, তিনিই স্রষ্টার নৈকট্য লাভে সক্ষম হন। যে ব্যক্তি প্রতিনিয়ত আর্তক্লিষ্ট ও নিপীড়িত মানবতার সেবায় নিজেকে বিলাইয়া দিতে সক্ষম হইয়াছেন, তিনিই প্রকৃতপক্ষে স্রষ্টার সর্বশ্রেষ্ঠ উপাসক ও সাধক। সেই কারণে বলা হইয়া থাকে-
He prayeth best who loveth best,
All things both great and small.


Sribas Chandra Das

Sribas Ch Das

Founder & Developer

HR & Admin Professional (১২+ বছর) ও কোচিং পরিচালক (১৪+ বছর)। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সহজ Study Content নিশ্চিত করতেই এই ব্লগ।

🏷️ Tag Related

⚡ Trending Posts

Facebook Messenger WhatsApp LinkedIn Copy Link

✅ The page link copied to clipboard!

Leave a Comment (Text or Voice)




Comments (2)

Guest 28-Mar-2020 | 05:01:36 AM

Good

Guest 03-Feb-2020 | 08:57:30 PM

Shudu bodho dorme jib hotta mohapap na sob dormei jib hotta moha pap.

SSC রুটিন
২০২৬
আর মাত্র ৩৯ দিন বাকি
বাংলা-১ম পত্র
২১ এপ্রিল ২০২৬ | মঙ্গলবার
আর মাত্র ৪১ দিন বাকি
বাংলা-২য় পত্র
২৩ এপ্রিল ২০২৬ | বৃহস্পতিবার
আর মাত্র ৪৪ দিন বাকি
ইংরেজি-১ম পত্র
২৬ এপ্রিল ২০২৬ | রবিবার
আর মাত্র ৪৬ দিন বাকি
ইংরেজি-২য় পত্র
২৮ এপ্রিল ২০২৬ | মঙ্গলবার
আর মাত্র ৪৮ দিন বাকি
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
৩০ এপ্রিল ২০২৬ | বৃহস্পতিবার
আর মাত্র ৫১ দিন বাকি
গণিত
০৩ মে ২০২৬ | রবিবার
আর মাত্র ৫৩ দিন বাকি
বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়
০৫ মে ২০২৬ | মঙ্গলবার
আর মাত্র ৫৫ দিন বাকি
ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা
০৭ মে ২০২৬ | বৃহস্পতিবার
আর মাত্র ৫৮ দিন বাকি
পদার্থবিজ্ঞান / ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা / ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং
১০ মে ২০২৬ | রবিবার
আর মাত্র ৫৯ দিন বাকি
ভূগোল ও পরিবেশ
১১ মে ২০২৬ | সোমবার
আর মাত্র ৬০ দিন বাকি
কৃষি / গার্হস্থ্য / অন্যান্য
১২ মে ২০২৬ | মঙ্গলবার
আর মাত্র ৬১ দিন বাকি
হিসাববিজ্ঞান
১৩ মে ২০২৬ | বুধবার
আর মাত্র ৬২ দিন বাকি
রসায়ন / পৌরনীতি / ব্যবসায় উদ্যোগ
১৪ মে ২০২৬ | বৃহস্পতিবার
আর মাত্র ৬৫ দিন বাকি
উচ্চতর গণিত / বিজ্ঞান
১৭ মে ২০২৬ | রবিবার
আর মাত্র ৬৮ দিন বাকি
জীববিজ্ঞান / অর্থনীতি
২০ মে ২০২৬ | বুধবার