বইয়ে খোঁজার সময় নাই
সব কিছু এখানেই পাই

সারমর্ম - (১৫১ থেকে ২০০)

সারমর্ম (১ থেকে ৫০)
সারমর্ম (৫১ থেকে ১০০)
সারমর্ম (১০১ থেকে ১৫০)
সারমর্ম (১৫১ থেকে ২০০)

  ১৫১  
হউক সে মহাজ্ঞানী মহা ধনবান
অসীম ক্ষমতা তার অতুল সম্মান
হউক বিভব তার সম সিন্ধু জল
হউক প্রতিভা তার অক্ষুণ্ন উজ্জ্বল
হউক তাহার বাস রম্য হর্ম্য মাঝে
থাকুক সে মণিময় মহামূল্য সাজে
হউক তাহার রূপ চন্দ্রের উপম
হউক বীরেন্দ্র সেই যেন সে রোস্তম
শত দাস তার সেবুক চরণ
করুক স্তাবকদল স্তব সংকীর্তন।
কিন্তু যে সাধেনি কভু জন্মভূমি হিত
স্বজাতির সেবা যেবা করেনি কিঞ্চিৎ
জানাও সে নরাধমে জানাও সত্বর
অতীব ঘৃণিত সেই পাষণ্ড বর্বর।
সারমর্ম : ধন, মান, যশ, খ্যাতি, প্রতিপত্তি আর জ্ঞানের গৌরবে সমুজ্জ্বল হলেই তাকে মানুষ হিসেবে গণ্য করা যায় না-যদি তার মধ্যে দেশপ্রেম না থাকে। দেশপ্রেম ছাড়া মানুষ পাষণ্ড ও বর্বর হিসেবেই ঘৃণার পাত্র।

  ১৫২  
কতবার এল কত না দস্যু
কত না বার ঠগে ঠগে হল
আমাদের কত গ্রাম উজাড়
কত বুলবুলি খেল কত ধান
কত মা গাইল বর্গীর গান
তবু বেঁচে থাকে আমার প্রাণ
এ জনতার-
কৃষাণ, কুমোর, জেলে, মাঝি, তাঁতি আর কামার
আমার দেশের মাটিতে মানুষ তাদের প্রাণ
মূঢ় মৃত্যুর মুখে জাগে তাই কঠিন গান।
সারমর্ম : ঠগ, দস্যু আর বর্গীদের আক্রমণে আমাদের দেশের সম্পদ লুট হলেও ক্ষয় হয় নি জনতার জীবন শক্তি। শ্রমজীবী মানুষের শ্রমে আর ফসলে সৃষ্টি হয়েছে অমরত্বের বীরত্ব গাঁথা।

  ১৫৩  
বিশ্বজোড়া পাঠশালা মোর সবার আমি ছাত্র
নানাভাবে নতুন জিনিস শিখছি দিবারাত্র।
এই পৃথিবীর বিরাট খাতায়
পাঠ্য যে সব পাতায় পাতায়,
শিখছি যে সব কৌতূহলে সন্দেহ নাই মাত্র।
সারমর্ম : বিদ্যায়তনের মতোই বিশ্বের সবকিছু থেকে জ্ঞান আহরণ করা যায়। প্রকৃতিই হচ্ছে প্রকৃত দীক্ষা গুরু, প্রতিটি মানুষই তার ছাত্র।

  ১৫৪  
ধন্য আশা কুহকিনী! তোমার মায়ায়
অসার সংসার চক্র ঘোরে নিরবধি
দাঁড়াইতে স্থিরভাবে চলিত না, হায়
মন্ত্রবলে তুমি চক্র না ঘুরাতে যদি।
ভবিষ্যৎ অন্ধ মূঢ় মানবসকল
ঘুরিতেছে কর্মক্ষেত্রে বর্তুল-আকার
তব ইন্দ্রজালে মুগ্ধ, পেয়ে তব বল
যুঝিছে জীবন যুদ্ধে হায় অনিবার।
নাচায় পুতুল যেবা দক্ষ বাজিকরে
নাচাও তেমনি তুমি অর্বাচীন নরে।
সারমর্ম : আশারূপ ভেলাতেই ভবসংসার পাড়ি দেয় মানুষ। আশার ছলনায় পড়ে মানুষ পাগলের মতো চক্রাকারে সংসারের ঘূর্ণিপাকে আবর্তিত হচ্ছে। কিন্তু আশাই মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে ও জীবন যুদ্ধে জয়ী হওয়ার সাহস যোগায়। তার প্রণোদনাতেই মানব জীবন প্রবাহমান থাকে।

  ১৫৫  
ক্ষুদ্র এই তৃণদল ব্রহ্মাণ্ডের মাঝে
সরল মাহাত্ম্য লয়ে সহজে বিরাজে
পূরবের না সূর্য, নিশীথের শশী
তৃণটি তাদেরি সাথে একাসনে বসি।
আমার এ গান এও জগতের গানে
মিশে যায় নিখিলের মর্ম মাঝখানে
শ্রাবণের ধারাপাত, বনের মর্মর
সকলের মাঝে তার আপনার ঘর।
কিন্তু হে বিলাসী, তব ঐশ্বর্যের ভার
ক্ষুদ্র রুদ্ধ দ্বারে শুধু একাকী তোমার।
নাহি পড়ে সূর্যালোক, নাহি চাহে চাঁদ
নাহি তাহে নিখিলের নিত্য আশীর্বাদ।
সম্মুখে দাঁড়ালে মৃত্যু মুহূর্তেই হায়
পাংশুপাণ্ডু শীর্ণ ম্লান মিথ্যা হয়ে যায়।
সারমর্ম : ছোট্ট তৃণলতা বিশ্ব প্রকৃতির মাঝে নিজেকে একাকার করে নিতে পারে। কবির গান প্রকৃতির সুরে একই তারে বাজে। কিন্তু বিলাসীর সম্পদ মোহ শুধু তার একক ভোগের, মৃত্যু এলে তা অর্থহীন হয়ে দাঁড়ায়।

  ১৫৬  
বসুমতি কেন তুমি এতই কৃপণা?
কত খোঁড়া খুঁড়ি করে পাই শষ্য কণা।
দিতে যদি হয় দে মা প্রসন্ন সহাস
কেন এ মাথার ঘাম পায়েতে বহাস?
বিনা চাষে শষ্য দিলে কী তাহাতে ক্ষতি?
মুনিয়া ঈষৎ হাসি, কন বসুমতি-
আমার গৌরব তাতে সামান্যই বাড়ে
তোমার গৌরব তাতে একবারে ছাড়ে।
সারমর্ম : বিনা পরিশ্রমে কিছু অর্জনের মধ্যে কোনো গৌরব নেই। কষ্ট করে, গায়ের ঘাম ফেলে যা অর্জন করা হয় তাতেই প্রকৃত গৌরব বিরাজ করে।

  ১৫৭  
মহামৈত্রীর বরদ-তীর্থে পূর্ণ ভারতপুরে পূজার ঘন্টা মিশিছে হরযে নামাজের সুরে সুরে
সন্ন্যাসী আর পীর
মিলে গেছে হেথা, মিশে গেছে হেথা মসজিদ , মন্দির। রুমের চেয়েও ভারত তোমার আপন, - তোমার প্রাণ।
-হেথায় তোমার ধর্ম অর্থ, -হেথায় তোমার ত্রাণ;
হেথায় তোমার আসন ভাইগে হেথায় তোমার আশা
যুগ যুগ ধরি এ ধুলি তলে বাঁধিয়াছ তুমি বাসা,
এ ভরতভূমি নহেকো তোমার, নহেকো আমার একা
হেথায় পড়েছে হিন্দুর ছাপ,-মুসলমানের রেখা;
কাফের যবন টুটিয়ে গিয়াছে,- ছুটিয় গিয়াছে ঘৃণা,
মোসলেম বিনা ভারত বিফল, - বিফল হিন্দু বিনা।
সারমর্ম : জাতপাতের বিভেদ করা ঠিক নয়। এই সভ্যতা তৈরিতে কোনো একটি নির্দিষ্ট জাতের একক অবদান নেই। সকল জাত, সকল ধর্মের মানুষের ত্যাগ ও পরিশ্রমেই এই মানব সভ্যতার সৃষ্টি। তাই জাতিতে জাতিতে বিভেদ করা উচিৎ নয়।

  ১৫৮  
মিছা মণি মুক্তা হেম,          স্বদেশের প্রিয় প্রেম.
তার চেয়ে রত্ন নাই আর
সুধাকারে কত সুধা,          দুর করে তৃষ্ণা ক্ষুধা,
স্বদেশের শুভ সমাচার।
ভ্রাতৃভাব ভাবি মনে,          দেখ দেশবাসী গণে,
প্রেমপূর্ণ নয়ন মেলিয়া।
কাতরুপ স্নেহ করি,          দেশের কুকুর ধরি,
বিদেশের ঠাকুর ফেলিয়া:
সারমর্ম : দেশের জল-বায়ুতে যে কত মায়া তা বুঝা যায় দেশ থেকে বিদেশে পা রাখার পরই। বিদেশে যদি দেশের অবহেলিত মানুষও চোখে পড়ে তবে তাঁকে খুব আপন মনে হয়। বুকে টেনে নিতে ইচ্ছা করে। এটাই দেশের প্রতি ভালোবাসা।

সারমর্ম (১ থেকে ৫০)
সারমর্ম (৫১ থেকে ১০০)
সারমর্ম (১০১ থেকে ১৫০)
সারমর্ম (১৫১ থেকে ২০০)

No comments