বইয়ে খোঁজার সময় নাই
সব কিছু এখানেই পাই

সারমর্ম - (১০১ থেকে ১৫০)

সারমর্ম (১ থেকে ৫০)
সারমর্ম (৫১ থেকে ১০০)
সারমর্ম (১০১ থেকে ১৫০)
সারমর্ম (১৫১ থেকে ২০০)

  ১০১  
যেথায় থাকে সবার অধম দীনের হতে দীন
সেই খানে যে চরণ তোমার রাজে
সবার পিছে, সবার নীচে, সব হারাদের মাঝে।
যখন তোমায় প্রণাম করি আমি
প্রণাম আমার কোনখানে যায় থামি
তোমার চরণ যেথায় নামে অপমানের তলে
সবার পিছে, সবার নীচে, সবহারাদের মাঝে।
অহঙ্কার তো পায় না নাগাল যেথায় তুমি ফের
রক্তভূষণ দীনদরিদ্র সাজে
সবার পিছে, সবার নীচে, সবহারাদের মাঝে।
ধনে মানে যেথায় আছে ভরি
সেথায় আমার সঙ্গ আশা করি
সঙ্গী হয়ে আছে যেথায় সঙ্গীহীনের ঘরে
সেথায় তোমার হৃদয় নামে, না যে
সবার পিছে, সবার নীচে, সবহারাদের মাঝে।
সারমর্ম : বিধাতা নিরহংকার, অবহেলিত ও দীন-দুঃখীদের মাঝেই বিরাজ করেন। অহংকারী ও ঐশ্বর্যের মাঝে তাঁকে খুজে পাওয়া যায় না। সুতরাং প্রভুর সান্নিধ্য পেতে হলে আগে সর্বহারা দুঃখী মানুষদের এবং তাঁর সকল সৃষ্টিকে ভালবাসতে হবে।

  ১০২  
যে জাতি জীবনহারা অচল অসাড়
পদে পদে বাঁধে তারে জীর্ণ লোকাচার।
সর্বজন সর্বক্ষণ চলে সেই পথে
তৃণ গুল্ম সেথা নাহি জন্মে কোন মতে।
যে জাতি চলে না কভু, তারি পথ পরে
তন্ত্র-মন্ত্র-সংহিতায় চরণ না সরে।
সারমর্ম : গতিই জীবনের মূলকথা। স্রোতহীন নদী যেমন শৈবালের কারণে আরো মন্থর হয়ে যায় তেমনিভাবে গতিহীন জাতির হৃদয়ে নানা লোকাচার বাসা বাঁধে। এর ফলে সে জাতির উন্নতির পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। সুতরাং গতিময়তার মধ্যেই সভ্যতার উৎকর্ষ নিহিত।

  ১০৩  
রংহীন মিলহীন ভাষা এবং রাষ্ট্রে
বিভক্ত এ মানুষ দ্বন্দ্ব-সংঘাতে লিপ্ত
যুদ্ধ মারামারি হানাহানি সবই আছে জানি
তারপরও এগিয়ে যাচ্ছে মানুষ
এতো প্রগতির পদক্ষেপ সভ্যতার
পদচিহ্ন এঁকে দিচ্ছে সারা বিশ্বময়
ওরা বলছে আমরা মানুষ আছি এভাবে
জগত জুড়ে প্রীতির বন্ধন আর স্বভাবে।
সারমর্ম : ভাষা, বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য এবং জীবনাচারের দিক থেকে পৃথিবীর এক রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্র থেকে পৃথক। নানা কারণে একদেশ অন্য দেশের সাথে যুদ্ধ সংঘাতে লিপ্ত হচ্ছে। তা সত্ত্বেও এই মানুষই আবার সভ্যতাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। মানুষে মানুষে যে প্রীতির বন্ধন সেই বন্ধনই সভ্যতার উৎকর্ষের মূলমন্ত্র।

  ১০৪  
লক্ষ লক্ষ হা-ঘরে দুর্গত
ঘৃণ্য যম-দূত-সেনা এড়িয়ে সীমান্তপারে ছোটে,
পথে পথে অনশনে অন্তিম যন্ত্রণা রোগে ত্রাসে
সহস্রের অবসান, হন্তারক বারুদে বন্দুকে
মূর্ছিত-মৃতের দেহ বিদ্ধ করে, হত্যাব্যবসায়ী
বাংলাদেশ ধ্বংস-কাব্যে জানে না পৌঁছল জাহান্নামে
এ জন্মেই;
বাংলাদেশ অনন্ত অক্ষত মূর্তি জাগে।
সারমর্ম : বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এদেশের মানুষের ওপর নির্মম অত্যাচার চালিয়েছিল। সে অত্যাচার, নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে অনেকে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়। একদিকে নির্মম অত্যাচার অন্যদিকে অনাহার, রোগের যন্ত্রণায় মানুষের জীবন হয়ে পড়েছিল দুর্বিষহ। কষ্টসহিষ্ণু বাংলার এসব অগণিত মানুষের আত্মত্যাগেই বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করেছে।

  ১০৫  
শুধু গাফলতে, শুধু খেয়ালের ভুলে,
দরিয়া-অথই ভ্রান্তি নিয়াছি তুলে,
আমাদেরি ভুলে পানির কিনারে মুসাফির দল বসি
দেখেছে সভয়ে অস্ত গিয়াছে তাদের সেতারা, শশী।
সারমর্ম : নানা ভুল-ভ্রান্তি, দায়িত্ব-কর্তব্যে অবহেলার কারণে জাতীয় জীবন আজ সংকটাপূর্ণ। জাতীয় নেতৃত্বের ভুলের কারণে সমগ্র জাতির জীবনে নেমে এসেছে ঘোর অমানিশা। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন জাতীয় নেতৃত্বের সচেতন ভূমিকা।

  ১০৬  
শ্বেত, পীত, কালো করিয়া, সৃজিলে মানবে, সে তব সাধ।
আমরা যে কালো, তুমি ভালো জান, নহে তাহা অপরাধ।
তুমি বলো নাই। শুধু শ্বেত দ্বীপে
জোগাইবে আলো রবি-শশী-দীপে
সাদা র’বে সবাকার টুটি টিপে, এ নহে তব বিধান।
সন্তান তব করিতেছে আজ তোমার অসম্মান।
সারমর্ম : নানা বর্ণে সৃষ্টিকর্তা মানুষকে সৃষ্টি করলেও মর্যাদার দিক থেকে সবাই সমান। কিন্তু মানুষ নিজেদের স্বার্থে বর্ণবাদ নামক বিভেদের দেয়াল তৈরি করে স্রষ্টাকে অপমান করছে।

 ১০৭  
শৈশবে সদুপদেশ যাহার না রোচে,
জীবনে তাহার কভু মূর্খতা না ঘোচে।
চৈত্র মাসে চাষ দিয়া না বোনে বৈশাখে,
কবে সেই হৈমন্তিক ধান্য পেয়ে থাকে?
সময় ছাড়িয়া দিয়া করে পন্ড শ্রম,
ফল চাহে, সেও অতি নির্বোধ অধম।
খেয়াতরী চলে গেলে বসে থাকে তীরে।
কিসে পার হবে, তরী না আসিলে ফিরে?
সারমর্ম : জীবন গঠনের শ্রেষ্ঠ সময় হলো শৈশবকাল। এ সময় সদুপদেশ মেনে না চললে ভবিষ্যতে সাফল্য আসে না। সময়ের কাজ সময়ে করাও সফলতা অর্জনের অন্যতম চাবিকাঠি। সময়মত কোনো কাজ না করলে পরবর্তীতে অধিক পরিশ্রম করেও সে কাজে সাফল্য অর্জন করা যায়না।

  ১০৮  
সকাল বিকাল ইসটিশনে আসি,
চেয়ে চেয়ে দেখতে ভালবাসি।
ব্যস্ত হয়ে ওরা টিকেট কিনে,
ভাটির ট্রেনে কেউবা চড়ে, কেউবা উজান ট্রেনে।
সকাল বেলা কেউবা থাকে বসে,
কেউবা গাড়ি ফেল করে তার শেষ মিনিটের দোষে।
দিনরাত গড় গড় ঘড় ঘড়।
গাড়িভরা মানুষের ছোটে ঝড়।
ঘন ঘন গতি তার ঘুরবে
কভু পশ্চিমে কভু পুবে।
সারমর্ম : রেল স্টেশনে সব সময়ই মানুষের ভিড়। যাত্রীরা টিকিট কিনছে, ট্রেনে উঠছে, ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছে আবার কেউ একটুর জন্য ট্রেন মিস করছে, এসব রেল স্টেশনের চির পরিচিত দৃশ্য। এ দৃশ্যই কবির চোখে অত্যন্ত আকর্ষণীয় হয়ে ধরা দিয়েছে।

  ১০৯  
সবচেয়ে দুর্গম যে মানুষ আপন অন্তরালে
তার কোনো পরিমাপ নাই বাহিরের দেশে কালে
সে অন্তরময়।
অন্তর মিলালে পরে তার অন্তরের পরিচয়।
পাইনে সর্বত্র তার প্রবেশের দ্বার,
বাধা হয়ে আছে মোর বেড়াগুলি জীবনযাত্রার।
চাষী ক্ষেত্রে চালাইছে হাল,
তাঁতী বসে তাঁত বোনে, জেলে ফেলে জাল,
বহুদুর প্রসারিত এদের বিচিত্র কর্মভার
তারি পরে ভর দিয়ে চলিতেছে সমস্ত সংসার।
প্রতি ক্ষুদ্র অংশে তার সম্মানের চিরনির্বাসনে
সমাজের উচ্চ মঞ্চে বসেছি সংকীর্ণ বাতায়নে।
মাঝে মাঝে গেছি আমি ও পাড়ার প্রাঙ্গণের ধারে,
ভিতরে প্রবেশ করি সে শক্তি ছিল না একেবারে।
জীবনে জীবন যোগ করা
না হলে কৃত্রিম পণ্যে ব্যর্থ হয় গানের পসরা।
সারমর্ম : মানুষের মনকে বুঝতে হলে থাকতে হয় অনুভূতিশীল হৃদয়। যারা সমাজের উঁচু স্তরে বাস করে তারা সাধারণ মানুষের হৃদয়কে উপলব্ধি করতে পারে না। কিন্তু এই মানুষেরাই সমাজ সভ্যতার নিপুণ কারিগর। এই সাধারণ মানুষের সাথে যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমে কবির কাব্যরচনা সার্থকতা লাভ করে।

  ১১০  
সব সাধকের বড় সাধক আমার দেশের চাষা,
দেশ-মাতারই মুক্তিকামী দেশের সে যে আশা।
দধীচি কি তাহার চেয়ে সাধক ছিল বড়?
পুণ্য অত হবে না’ক সব করিলেও জড়।
মুক্তিকামী মহাসাধক, মুক্ত কর দেশ,
সবারই সে অন্ন যোগায়, নেইকো গর্ব লেশ।
ব্রত তাহার পরের হিত সুখ নাহি চায় নিজে
রৌদ্র-দাহে তপ্ত তনু শুকায় মেঘে ভিজে।
আমার দেশের মাটির ছেলে, করি নমস্কার,
তোমায় দেখে চূর্ণ হউক সকল অহংকার।
সারমর্ম : কৃষকরাই আমাদের দেশের প্রাণ। তাদের চেয়ে বড় সাধক আর কেউ নেই। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে কঠোর পরিশ্রম করে তারা আমাদের অন্নের যোগান দেয়। তাদের উদ্দেশ্য দেশ ও দশের কল্যাণসাধন। শ্রম, সাধনা, আর ত্যাগ-তিতিক্ষার মহান আদর্শকে ধারণ করে সকলের ঊর্ধ্বে তাদের অবস্থান।

  ১১১  
সব ঠাঁই মোর ঘর আছে, আমি
সেই ঘর মরি খুঁজিয়া
দেশে দেশে মোর দেশ আছে, আমি
সেই দেশ লব বুঝিয়া।
পরবাসী আমি যে দুয়ারে চাই
তার মাঝে মোর আছে যেই ঠাঁই,
কোথা দিয়া সেথা প্রবেশিতে পাই,
সন্ধান লব বুঝিয়া;
ঘরে ঘরে আছে পরম আত্মীয়,
তারে আমি ফিরি খুঁজিয়া।
সারমর্ম : বিশ্বমানবের চেতনা যার মধ্যে আছে তার কাছে কেবল নিজ দেশ নয় গোটা বিশ্বটাই যেন আপন। বিশ্বভ্রাতৃত্ববোধে উদ্দীপ্ত ব্যক্তির কাছে পৃথিবীর সব মানুষই আত্মার আত্মীয়, সব ঘরই তার আপন ঘর। তাই তাকে দেশে দেশে আত্মীয়ের সন্ধান করতে হয় না।

  ১১২  
সবারে বাসরে ভাল
নইলে মনের কালি মুছবে না রে।
আজ তোর যাহা ভাল
ফুলের মত দে সবারে।
করে তুই আপন আসন,
হারালি যা ছিল আপন,
এবার তোর ভরা আপন
বিলিয়ে দে তুই যারে তারে।
যারে তুই ভাবিস ফণী
তারো মাথায় আছে মণি
বাজা তোর প্রেমের বাঁশি
ভবের বনে ভয় বা কারে?
সবাই যে তোর মায়ের ছেলে
রাখবি কারে, কারে ফেলে?
একই নায়ে সকল ভায়ে
যেতে হবে রে ওপারে।
সারমর্ম : মনের ক্ষুদ্রতা দূর করতে হলে সব মানুষকে ভালোবাসতে হবে। মানুষ হিসেবে সবাই সমান। প্রেম দিয়ে ভালোবাসা দিয়ে মানুষের সাথে গড়ে তুলতে হবে মৈত্রীর বন্ধন। কোনো মানুষকে অবহেলা, অবজ্ঞা করা যাবে না।

  ১১৩  
সবারে বাসিব ভালো, করিব না আত্মপর ভেদ
সংসারে গড়িব এক নতুন সমাজ।
মানুষের সাথে কভু মানুষের রবে না বিচ্ছেদ-
সর্বত্র মৈত্রীর ভাব করিবে বিরাজ।
দেশে দেশে যুগে যুগে কত যুদ্ধ কত না সংঘাত
মানুষে মানুষে হলো কত হানাহানি।
এবার মোদের পুণ্যে সমুদিবে প্রেমের প্রভাত
সোল্লাসে গাহিবে সবে সৌহার্দ্যরে বাণী।
সারমর্ম : মানুষে মানুষে দ্বন্দ্ব, বিচ্ছেদ, বিভেদের কারণেই যত যুদ্ধ, যত সংঘাত। পৃথিবীর প্রতিটি মানুষ যদি প্রেম-প্রীতি, ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হয় তবে যুদ্ধ হানাহানি, রক্তপাত সব বন্ধ হবে। গোটা পৃথিবীর মানুষ বিশ্বভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হলেই পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে।

  ১১৪  
সন্ধ্যার আলো লেগেছে নয়নে, স্পন্দিত প্রাণমন,
চলিতে দীঘির কিনারে কাঁপিছে জানু গিরি তৃণবন।
ঘুমের নিভৃতে নিঃশ্বাস পড়ে, হংস ফিরিছে ঘরে।
শাবকেরা তার ঘিরিয়া চলেছে, ডানা হতে জল ঝরে।
সহসা শুনিনু কর্ণ তুলিয়া হংস কহিছে ডাকি,
‘চক্ষুতে ধরা রেখেছে যে ধরি, আমারি মত সে পাখি,
মরাল সেজন মরণ রহিত রহে সে গগন পরে
পাখা ঝাড়িলে সে বৃষ্টি পড়ে গো, চাহিতে জ্যোৎ ঝরে।’
আগু বাড়ি যাই, শুনিবারে পাই- পদ্ম কহিছে সরে।
‘সৃজন পালন করে যে, আপনি আছে সে বৃন্ত ভরে।
আপনার ছাচে মোরে সে গড়েছে, ‘জগৎ’ যাহারে বলে
সে তো সেই মহাপদ্মের দলে হিমকণা টলটলে।’
সারমর্ম : প্রতিটি সৃষ্টিই নিজস্ব অনুভূতি দ্বারা স্রষ্টাকে কল্পনা করে থাকে। হাঁস ভাবে স্রষ্টাতার মতো পাখি, তিঁনি ঠোট দিয়ে পৃথিবীতে ধরে রাখেন। পদ্ম ভাবে স্রষ্টা তার মতো ফুল, এবং তাঁর পাপড়িতে বিশ্বজগতকে টলটলে হিমকণার মতো আটকে রাখেন। মূলত প্রত্যেকেই নিজস্ব ধারণায় স্রষ্টাকে মূল্যায়ন করে।

  ১১৫  
সন্ধ্যা যদি নামে পথে, চন্দ্র পূর্বাচল কোণে
না হয় উদয়,
তারকার পুঞ্জ যদি নিভে যায় প্রলয় জলদে
না করিব ভয়।
হিংস্র ঊর্মি ফণা তুলি, বিভীষিকা-মূর্তি ধরি যদি
গ্রাসিবারে আসে,
সে মৃত্যু লঙ্ঘিয়া যাব সিন্ধুপারে নবজীবনের
নবীন আশ্বাসে।
সারমর্ম : জীবনে অবিরত সংগ্রাম করে লক্ষ্যে পৌঁছতে হয়। নবজীবনের পথে আসে নানা প্রতিকূলতা। তবে যে প্রকৃত অর্থেই জীবনপিপাসু সে কখনো তার লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয় না। সকল বাধা অতিক্রম করে সে ঠিকই তার লক্ষ্যে পৌঁছে যায়।

  ১১৬  
সাগর পাড়ি দেব আমি নবীন সদাগর-
সাত সাগরে ভাসবে আমার সপ্ত মধুকর।
আমার ঘাটের সওদা নিয়ে যাবে দূরের ঘাটে,
চলবে আমার বেচাকেনা বিশ্ব জোড়া হাটে,
ময়ুরপঙ্খি বজরা আমার সাতখানা পাল তুলে
ঢেউয়ের দোলায় মরাল-সম চলবে দুলে দুলে।
সিন্ধু আমার বন্ধু হবে, রতন মানিক তার
আমার তরী বোঝাই দিতে আনবে উপহার।
দ্বীপে দ্বীপে আমার আশায় জাগবে বাতিঘর,
শুক্তি দিবে মুক্তা মালা, প্রবাল দেবে কর।
আমায় ঘিরে সিন্ধু শকুন করবে এসে ভিড়,
হাতছানিতে ডাকবে আমার নতুন দেশের তীর।
সারমর্ম : নবীন জীবনপথিক তার জীবন সাধনার ক্ষেত্রকে নিজ দেশেই সীমাবদ্ধ রাখে না। নিজ দেশকে উন্নত করার জন্য সে বিশ্বের সাথে স্বদেশের যোগাযোগ স্থাপন করে। প্রতিনিয়ত নিত্য নতুন কৌশলে সে দেশের জন্য ঐশ্বর্যের সন্ধান করে।

  ১১৭  
জানি না তোর ধন-রতন আছে কিনা রাণীর মতন
শুধু জানি আমার অঙ্গ জুড়ায় তোমার ছায়ায় এসে।
কোন বনেতে জানিনে ফুল গন্ধে এমন করে আকুল.
কোন গগনে উঠেরে চাঁদ এমন হাসি হেসে।
আঁখি মেলে তোমার আলো প্রথম আমার চোখ জুড়ালো,
ওই আলোতেই নয়ন রেখে মুদব নয়ন শেষে।
সারমর্ম : প্রতিটি মানুষের কাছেই তার জন্মভূমি অত্যন্ত প্রিয়। আমাদের জন্মভূমি বাংলাদেশের অপরূপ সৌন্দর্য, অসীম ঐশ্বর্য আমাদের চোখ জুড়ায়, মন ভোলায়। এই অপরূপ বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করে আমাদের জীবন ধন্য। তাই এদেশের মাটির স্নেহের স্পর্শেই আমরা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে চাই।

  ১১৮  
স্বাধীনতা স্পর্শমণি সবাই ভালবাসে,
সুখের আলো জ্বলে বুকে দুঃখের ছায়া নাশে।
স্বাধীনতা সোনার কাঠি খোদার সুধা দান,
স্পর্শে তাহার নেচে উঠে শূন্য দেহে প্রাণ।
মনুষ্যত্বের বান ডেকে যায় যাহার হৃদয়তলে,
বুক ফুলিয়ে দাঁড়ায় ভীরু স্বাধীনতার বলে।
সারমর্ম : স্বাধীনতা প্রতিটি মানুষের কাছেই আকাঙ্ক্ষার বস্তু। স্বাধীনতার স্পর্শমণি মানুষের জীবন থেকে দুঃখ দূর করে তাকে সুখের সুধা দান করে, জীবনকে করে তোলে আনন্দময়। স্বাধীনতাই মানুষের মনুষ্যত্ববোধকে জাগিয়ে তোলে। স্বাধীনতার বলেই ভীরু মানুষ বীরের মর্যাদা লাভ করে।

  ১১৯  
সিন্ধুতীরে খেলে শিশু বালি নিয়ে খেলা,
রচি গৃহ হাসি মুখে ফিরে সন্ধ্যাবেলা।
জননীর অঙ্কোপরে প্রাতে ফিরে আসি,
হেরে- তার গৃহখানি কোথা গেছে ভাসি।
আবার গাড়িতে বসে- সেই তার খেলা,
ভাঙা আর গড়া নিয়ে কাটে তার বেলা।
এই সে খেলা- হায়, এর আছে কিছু মানে?
যে জন খেলায় খেলে- সেই বুঝি জানে।
সারমর্ম : ভাঙা আর গড়ার খেলা পৃথিবীর সর্বত্রই লক্ষণীয়, তবে এই খেলার রহস্য মানুষের কাছে অজ্ঞাত। পরম করুণাময় সৃষ্টিকর্তা প্রতিনিয়ত ভাঙা-গড়ার এই খেলা খেলছেন। কেবল তিনিই জানেন এই খেলার মানে।

  ১২০  
সৃজন লীলার প্রথম হতে প্রভু
ভাঙাগড়া চলছে অনুক্ষণ,
পাখি জনম, শাখি জনম হতে,
রাখছ কথা, শুনছ নিবেদন।
আজ কি হঠাৎ নিষ্ঠুর তুমি হবে?
কান্না শুনে নীরব হয়ে রবে?
এমন কভু হয় না, তোমার ভবে
মনে-মনে বলছে আমার মন।
সারমর্ম : সৃষ্টিজগতের শুরু থেকেই ভাঙা গড়ার খেলা চলে আসছে। স্রষ্টা তার সৃষ্ট ছোট-বড় সবার আবেদন, নিবেদন, প্রার্থনায় সাড়া দিয়ে থাকেন। দয়াময় প্রভু কাউকেই হতাশ করেন না।

  ১২১  
সৃষ্টির কথা ভাবে যারা আগে সংহারে করে ভয়,
যুগে যুগে সংহারের আঘাতে তাদের হয়েছে লয়।
কাঠ না পুড়ায়ে আগুন জ্বালাবে বলে কোন অজ্ঞান?
বনস্পতি ছায়া পাবে বীজ নাহি দিলে তার প্রাণ?
তলোয়ার রেখে খাপে এরা, ঘোড়া রাখিয়া আস্তাবলে
রণজয়ী হবে দন্তবিহীন বৈদান্তিকী ছলে!
প্রাণ-প্রবাহের প্রবল বন্যা বেয়ে খরস্রোতা নদী
ভেঙ্গেছে দুকূল; সাথে সাথে ফুল ফুটায়েছে নিরবধি।
জলীধর মহা-তৃষ্ণা জাগিয়েছে যে বিপুল নদীস্রোতে
সে কি দেখে, তাঁর স্রোতে কে ডুবিল, কে মরিল তার পথে?
মানে না বারণ, ভরা যৌবন শক্তি-প্রবাহ ধায়
আনন্দ তার মরণ-ছন্দে কূলে কূলে উথলায়।
সারমর্ম : জীবন ও প্রকৃতিতে ধ্বংস ও সৃষ্টির খেলা প্রতিনিয়ত চলমান। অন্ধকারকে, পুরাতনকে ভাঙতে না পারলে নতুনের পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। তাই নবতর জীবন আস্বাদনের জন্য কুসংস্কার, ভ্রান্তির প্রাচীর ভেঙে ফেলে নবজীবনের পথে যাত্রা করতে হবে।

  ১২২  
হউক সে মহাজ্ঞানী মহাধনবান,
অসীম ক্ষমতা তার অতুল সম্মান,
হউক বিভব তার সম সিন্ধু জল,
হউক প্রতিভার তার অক্ষুন্ন উজ্জ্বল।
হউক তার বাস রম্যহর্ম্য মাঝে,
থাকুক সে মণিময় মহামূল্য সাজে।
কিন্তু সে সাধে কি কভু জন্মভূমি হিত,
স্বজাতির সেবা যেবা করেনি কিঞ্চিৎ।
জানাও সে নরাধমে জানাও সত্বর,
অতীব ঘৃণিত সে পাষন্ড বর্বর।
সারমর্ম : ধন, জ্ঞান, ক্ষমতার অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও যে কোনোদিন দেশ, জাতির কথা চিন্তা করেনি সে সকলের কাছেই ঘৃণিত। অনেক কিছু থাকার পরও দেশের মানুষের কাছে সে অমানুষ বলেই বিবেচিত হয়। তাই সকলেরই উচিত নিজ সাধ্য অনুযায়ী দেশ ও জাতির কল্যাণের জন্য কাজ করা।

  ১২৩  
হায় হায় জনমিয়া যদি না ফুটালে
একটি কুসুম নয়ন কিরণে
একটি জীবনব্যথা যদি না জুড়ালে
বুকভরা প্রেম ঢেলে বিফল জীবনে
আপনারে রাখিলে ব্যর্থ জীবন-সাধনা
জনম বিশ্বের তবে পরার্থে কামনা।
সারমর্ম : পরের কল্যাণ সাধনের মধ্য দিয়েই মানুষের জীবন সার্থক হয়ে ওঠে। মানুষ কেবল নিজের স্বার্থ রক্ষার জন্যই পৃথিবীতে আসেনি। তাই অন্যের দুঃখ দূর করতে না পারলে মানব জীবন ব্যর্থ।

  ১২৪  
হায় ঋষি-দরবেশ,
বুকের মানকে বুকে ধরে তুমি খোঁজ তারে দেশ-দেশ?
সৃষ্টি রয়েছে তোমা পানে চেয়ে তুমি আছ চোখ বুঁজে,
স্রষ্টারে খোঁজ-আপনারে তুমি আপনি ফিরিছ খুঁজে।
ইচ্ছা-অন্ধ ! আখি খোলো, দেখ দর্পণে নিজ কায়া,
দেখিবে, তোমারি সব অবয়বে পড়েছে তাঁহার ছায়া।
শিহরি উঠো না, শাস্ত্রবিদদের করো নাক বীর ভয়-
তাহারা খোদার খোদ প্রাইভেট সেক্রেটারী’ তা নয়!
সকলের মাঝে প্রকাশ তাঁহার, সকলের মাঝে তিনি!
আমারে দেখিয়া আমার অদেখা জন্মদাতারে চিনি!
সারমর্ম : স্রষ্টা তাঁর সষ্টির মাঝেই বিরাজমান। মানুষ দেশে দেশে যে স্রষ্টাকে খুঁজছে তা তার নিজের মধ্যে এবং সকল জীবের মধ্যে রয়েছেন। সকলের মাঝেই তিনি প্রকাশিত। তাই সকল জীবকে ভালোবাসতে হবে, তবেই স্রষ্টাকে পাওয়া যাবে।

  ১২৫  
হাস্য শুধু আমার সখা! অশ্রু আমার কেহই নয়?
হাস্য করে অর্ধজীবন করেছি তো অপচয়।
চলে যারে সুখের রাজ্য, দুঃখের রাজ্য নেমে আয়,
গলা ধরে কাঁদতে শিখি গভীর সমবেদনায়।
সুখের সঙ্গ ছেড়ে করি দুঃখের সঙ্গে বসবাস,
ইহাই আমার ব্রত হউক, ইহাই আমার অভিলাষ।
যেথায় ক্লান্তি, যেথায় ব্যাধি, যন্ত্রণা ও অশ্রুজল,
ওরে তোরা হাতটি ধরে আমায় সেথায় নিয়ে চল।
পরের দুঃখে কাঁদতে শেখা- তাহাই শুধু চরম নয়,
মহৎ দেখে কাঁদতে জানা- তবেই কাঁদা ধন্য হয়।
সারমর্ম : সুখ নয়, দুঃখ-কান্নাই জীবনের চরম সত্য, কেননা বেশিরভাগ মানুষের জীবনই দুঃখময়। সেইসব দুখী মানুষের ব্যথার ভাগী হওয়া, তাদের দুঃখ দূর করার চেষ্টাই হওয়া উচিত জীবনের প্রকৃত লক্ষ্য। মহৎ ব্যক্তিরা দুখীর দুঃখে সমব্যথী হন, তাদের দুঃখ-যন্ত্রণা দূর করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করেন। তাই মহৎ ব্যক্তিদের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।

  ১২৬  
“হে কবি, নীরব কেন ফাগুন যে এসেছে ধরায়,
বসন্তে বরিয়া তুমি লবে না কি তব বন্দনায়?”
কহিল সে স্নিগ্ধ আঁখি তুলি-
“দক্ষিণ দুয়ার গেছে খুলি?
বাতাবি নেবুর ফুল ফুটেছে কি? ফুটেছে কি আমের মুকুল?
দখিনা সমীর তার গন্ধে গন্ধে হয়েছে কি অধীর আকুল?”
সারমর্ম : প্রকৃতিতে বসন্ত এলেও কবি হৃদয় বসন্তের সৌন্দর্যকে বরণ করে নিচ্ছে না। কোনো এক গভীর বেদনার কারণে কবি বসন্তের আগমনে উদাসীন। মানুষের হৃদয়ের গভীরে কোনো গোপন দুঃখবোধ থাকলে বাইরের সৌন্দর্য আনন্দ তার কাছে অর্থহীন হয়ে যায়।

  ১২৭  
হে বঙ্গ, ভান্ডরে তব বিবিধ রতন-
তা সবে, (অবোধ আমি!) অবহেলা করি,
পর-ধন-লোভে মত্ত, করিনু ভ্রমণ
পরদেশে, ভিক্ষাবৃত্তি কুক্ষণে আচরি।
পালিলাম আজ্ঞা সুখে; পাইলাম কালে
মাতৃভাষা-রূপ খনি, পূর্ণ মণিজালে।
সারমর্ম : নিজ মাতৃভাষাকে অবজ্ঞা করে যারা অন্য ভাষায় সাহিত্য চর্চা করে বিখ্যাত হতে চান তারা কখনোই সফল হতে পারেন না। মাতৃভাষার মতো এত ঐশ্বর্য অন্য কোনো ভাষায় নেই। এ সত্যকে উপলব্ধি করে কবি বাংলা ভাষায় সাহিত্য চর্চায় নিমগ্ন হলেন।

  ১২৮  
হে মহাজীবন, আর এ কাব্য নয়-
এবার কঠিন কঠোর গদ্যে আনো
পদ-লালিত্য ঝংকার মুছে যাক,
গদ্যের কড়া হাতুড়িকে আজ হানো।
প্রয়োজন নেই কবিতার স্নিগ্ধতা-
কবিতা তোমায় দিলাম আজকে ছুটি,
ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়-
পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি।
সারমর্ম : কাব্যের স্নিগ্ধতা নয়, গদ্যের কঠোরতাই জীবন সংগ্রামে প্রয়োজন। বঞ্চিত, নিপীড়িত শ্রেণির মানুষের জীবনে তাই আজ গদ্যের কঠোরতাই কাম্য। ক্ষুধা আর দারিদ্র্য যাদের জীবনে নিত্যসঙ্গী তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং বঞ্চনার অবসান ঘটানোই কবির প্রত্যাশা।

  ১২৯  
হে চির-দীপ্ত, সুপ্তি ভাঙাও
জাগার গানে,
তোমার শিখাটি উঠুক জ্বলিয়া
সবার প্রাণে।
ছায়া ফেলিয়াছে প্রলয়ের নিশা,
আঁধারে ধরণী হারায়েছে দিশা
তুমি দাও বুকে অমৃতের তৃষা
আলোর ধ্যানে।
ধ্বংস-তিলক আঁকে চক্রীরা
বিশ্ব-ভালে;
হৃদয়-ধর্ম বাঁধা পড়ি ফাঁদে
স্বার্থ-জালে,
মৃত্যু জ্বালিছে জীবন-মশাল,
চমকিছে মেঘে খর তরবার,
বাজুক তোমার মন্ত্র ভয়াল
বজ্র-তানে।
সারমর্ম : মানবসমাজের সর্বত্রই আজ দুষ্ট লোকের দৌরাত্ম্য। তারা নিজেদের স্বার্থে মানুষের শান্তিকে বিনষ্ট করে জীবনকে করে তুলেছে দুর্বিষহ। এ পরিস্থিতিতে এমন নেতৃত্বের প্রয়োজন যিনি তার আলোয় সকলকে আলোকিত করবেন। তার নেতৃত্বেই মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে সত্যকে প্রতিষ্ঠা করবে।
  ১৩০  
হে মহামানব, একবার এসো ফিরে
শুধু একবার চোখ মেলো এই গ্রাম-নগরের ভিড়ে,
এখানে মৃত্যু হানা দেয় বার বার,
লোকচক্ষুর আড়ালে এখানে জমেছে অন্ধকার।
এই যে আকাশ, দিগন্ত মাঠ, স্বপ্নে সবুজ মাটি
নীরবে মৃত্যু গেড়েছে এখানে ঘাঁটি,
কোথাও নেইকো পার
মারী ও মড়ক, মন্বন্তর, ঘন ঘন বন্যার
আঘাতে আঘাতে ছিন্নভিন্ন ভাঙা নৌকার পাল,
এখানে চরম দুঃখে কেটেছে সর্বনাশের খাল,
ভাঙা ঘর, ফাঁকা ভিটাতে জমেছে নির্জনতার কালো,
হে মহামানব, এখানে শুকনো পাতায় আগুন জ্বালো।
সারমর্ম : গ্রামের মানুষের জীবন দুঃখ-দুর্দশায় পরিপূর্ণ। মহামারী, প্রাকৃতিক দুর্যোগে তাদের জীবন বিপর্যস্ত। তাই কবি এমন এক মহামানবের প্রত্যাশা করছেন যিনি এই সকল গ্রামের অসহায় মানুষদের দুঃখ-দুর্দশা দূর করবেন।

  ১৩১  
হে দারিদ্র্য, তুমি মোরে করেছ মহান!
তুমি মোরে দানিয়াছ খ্রিষ্টের সম্মান
কণ্টক মুকুট শোভা, দিয়াছ তাপস,
অসংকোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহস;
উদ্ধত উলঙ্গ দৃষ্টি, বাণী ক্ষুরধার,
বীণা মোর শাপে তব হল তরবার।
দুঃসহ দাহনে তব হে দর্প তাপস,
অম্লান স্বর্গেরে মোর করিলে বিরস,
অকালে শুকালে মোর রূপ রস প্রাণ।
শীর্ণ করপুট ভরি সুন্দরের দান
যতবার নিতে যাই হে বুভুক্ষু, তুমি
অগ্রে আসি, কর পান। শূন্য মরুভূমি
হেরি মম কল্পলোক।
সারমর্ম : দারিদ্র্য নিষ্ঠুর হলেও তা মানবজীবনকে মহিমান্বিত করে তোলে। দারিদ্র্য মানুষের ভয়, লজ্জা, সংকোচ দূর করে স্পষ্টভাষী ও সাহসী করে তোলে। দারিদ্র্যের অভিশাপে জীবনের সৌন্দর্য বিনষ্ট হয় এবং স্বপ্ন মরুভূমিতে রুপান্তরিত হয়।

  ১৩২  
হে মোর দুর্ভাগা দেশ, যাদের করেছ অপমান,
অপমান হতে হবে তাদের সবার সমান।
মানুষের অধিকারে বঞ্চিত করেছ যারে
সম্মুখে দাঁড়ায়ে রেখে তবু কোলে দাও নাই স্থান,
অপমান হতে হবে তাদের সবার সমান।
মানুষের পরশেরে প্রতিদিন ঠেকাইয়া দূরে
ঘৃণা করিয়াছ তুমি মানুষের প্রাণের ঠাকুরে।
বিধাতার রুদ্র রোষে দুর্ভিক্ষের দ্বারে বসে
ভাগ করে খেতে হবে সকলের সাথে অন্নপান।
অপমানে হতে হবে তাদের সবার সমান।
সারমর্ম : এ পৃথিবীতে মর্যাদার দিক থেকে সকল মানুষই সমান। কিন্তু যারা গরীব, দুঃখী মানুষদেরকে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করে তারা মূলত সৃষ্টিকর্তাকেই অপমান করে। সৃষ্টিকর্তার বিচারে একদিন তাদেরকেও অবহেলিত ও বঞ্চিতদের কাতারে দাঁড়াবে হবে।

  ১৩৩  
হোক, তবু বসন্তের প্রতি কেন এই তব তীব্র বিমুখতা?”
কহিলাম, “উপেক্ষায় ঋতুরাজে কেন কবি দাও তুমি ব্যথা?”
কহিল সে কাছে সরে আসি-
“কুহেলি উত্তরী তলে মাঘের সন্ন্যাসী-
গিয়াছে চলিয়া ধীর পুষ্পশূন্য দিগন্তের পথে
রিক্ত হস্তে! তাহারেই পড়ে মনে, ভুলিতে পারি না কোন মতে।”
সারমর্ম : কবি তাঁর অতীতের বেদনায় ভারাক্রান্ত হয়ে বর্তমানের প্রতি উদাসীন। তিনি কিছুতেই তাঁর অতীতকে ভুলতে পারছেন না। তাই বসন্তের আগমনে কবিমনে আনন্দের শিহরণ জাগেনি, বসন্তের প্রতি যেন তাঁর তীব্র বিমুখতা।

  ১৩৪  
তোমারি ক্রোড়েতে মোর পিতামহগণ
নিদ্রিত আছেন সুখে জীবনলীলা-শেষে
তাদেরও শণিত অস্থি সকলি এখন
তোমারি দেহের সঙ্গে গিয়েছে মা মিশে
তোমার ধূলিতে গড়া এ দেহ আমার
তোমার ধূলিতে কালে মিলাবে আবার
সারমর্ম : জন্ম আর মৃত্যু এইতো জগতের লীলা। প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম এই মাটিতেই সমাহিত হয়। আবার এই মাটি থেকে থেকেই আমাদের এই দেহ গড়ে ওঠে। এই ভূমিতেই আমাদের জন্ম এই ভূমিতেই আমাদের দেহাবসান হয়।

  ১৩৫  
তরুতলে বসে পান্থ শ্রান্তি করে দূর
ফল আস্বাদনে পায় আনন্দ প্রচুর।
বিদায়ের কালে হাতে ডাল ভেঙে লয়,
তরু তবু অকাতরে কিছু নাহি কয়।
দুর্লভ মানবজন্ম পেয়েছ যখন
তরুর আদর্শ কর জীবনে গ্রহণ।
পরার্থে আপন সুখ দিয়ে বিসর্জন,
তুমিও হও গো ধন্য তরুর মতন।
সারমর্ম : তরুলতা-গাছপালাকে আমরা কত কষ্টই না দিই। কিন্তু তারা কখনো কোনো প্রতিবাদ করে না। তারা নিঃস্বার্থভাবে আমাদের ফলমূল ও ছায়া দিয়ে যায়। আমরা বেঁচে আছি তরুলতার করুণায়। অথচ আমরা তাদের কতই না কষ্ট দিই। আমাদের উচিত তাদের মত নিজেকে বিসর্জন দিয়ে অপরের কল্যাণ করা।

  ১৩৬  
ক্ষীণ বনলতা এক অতি ক্ষুদ্রকায়,
বিশাল বটের তলে ভূমিতে লুটায়।
বট বলে, ‘ছায়াময় বাহু প্রসারিয়া
আশ্রয় দিয়াছি তোমারে করুণা করিয়া,
নতুবা তপন-তাপে শুষ্ক হত দেহ।’
লতা বলে, ‘ফিরে লহ অযাচিত স্নেহ
তোমার করুণা মম হইয়াছে কাল,
রৌদ্র বিনা হয়ে আছি বিশীর্ণ কঙ্কাল।’
সারমর্ম : স্বার্থপর মানুষরা অন্যকে কিছু দিয়ে মনে করে অনেক কিছু দিয়ে দিয়েছে। প্রকৃত পক্ষে তার এই দান গ্রহীতার ক্ষতিরই কারণ।

  ১৩৭  
ক্ষমা যেথা ক্ষীণ দুর্বলতা
হে রুদ্র, নিষ্ঠুর যেন হতে পারি তথা
তোমার আদেশে। যেন রসনায় মম
সত্যবাক্য ঝলি ওঠে খরখড়া সম
তোমার ইঙ্গিতে। যেন রাখি তব মান
তোমার বিচারাসনে লয়ে নিজ স্থান।
অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে
তব ঘৃণা যেন তারে তৃণ সম দহে।
সারমর্ম : বিচারকের আসনে অধিষ্ঠিত হয়ে ক্ষমা প্রদর্শন দুর্বলতারই বহিঃপ্রকাশ। সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার স্বার্থে অন্যায়কারী ও অন্যায়ের প্রশ্রয়দাতা উভয়কেই কঠোর হাতে শাস্তি প্রদান করতে হয়।

  ১৩৮  
এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান
জীর্ণ পৃথিবীতে ব্যর্থ, মৃত আর ধ্বংস্তূপ-পিঠে।
চলে যেতে হবে আমাদের।
চলে যাব তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ
প্রাণপণে পৃথিবীর সরাবো জঞ্জাল,
এ বিশ্বকে এ শিশুর বাসযোগ্য করে যাবো আমি
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গিকার।
সারমর্ম : জীবনের আবর্তনে পৌঢ়ত্বের বিদায় অনিবার্য তবু যৌবনের অভিষেকের জন্য পৃথিবীকে বাসযোগ্য করে তোলার দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে। জীবন বিনাশী জঞ্জাল সরানোর দায় আমাদের।

  ১৩৯  
সারমর্ম : সৌন্দর্য উপভোগের জন্য প্রয়োজন মানসিক প্রস্তুতির; অর্থ ও সময় ব্যয়ই নিয়ামক নয়। চোখ মেলে দেখতে পারলে ঘরের কাছেই পাওয়া যায় পরিচিত সৌন্দর্যের অফুরান উৎস।

  ১৪০  
একদা ছিল না জুতা চরণ যুগলে
দহিল হৃদয় মম সেই ক্ষোভানলে।
ধীরে ধীরে চুপি চুপি দুঃখাকুল মনে
গেলাম ভজনালয়ে ভজন কারণে।
দেখি সেথা এক জন পদ নাহি তার
অমনি জুতার খেদ ঘুচিল আমার।
পরের দুঃখের কথা করিলে চিন্তন
আপনার মনে দুঃখ থাকে কতক্ষণ।
সারমর্ম : ভোগসর্বস্ব মানুষ শুধু নিজের চিন্তায় মশগুল থাকে। মানুষ হিসেবে জুতার কষ্ট অমূলক মনে হয় যখন অপরের পা না থাকাকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়।

  ১৪১  
স্বাধীনতা স্পর্শমণি সবাই ভালবাসে
সুখের আলো জ্বালে বুকে, দুঃখের ছায়া নাশে।
স্বাধীনতা সোনার কাঠি, খোদার সুধা দান
স্পর্শে তাহার নেচে উঠে শূন্য দেহে প্রাণ।
মনুষ্যত্বের বান ডেকে যায়, পশুর হৃদয়তলে
বুক ফুলায়ে দাঁড়ায় ভীরু স্বাধীনতার বলে।
দর্পভরে পদানত উচ্চ করে শির,
শক্তিহীনেও স্বাধীনতা আখ্যাদানে বীর।
সারমর্ম : স্বাধীনতা এমনই এক পরশ পাথর যার ছোঁয়াতে ভীরু কাপুরুষ-মৃতপ্রায় মানুষেরাও আত্মশক্তিতে বলিয়ান হয়ে ওঠে। সুখের সন্ধান মেলে আর মনুষ্যত্বের জয়গানে সার্থক হয় জন্ম। তাই এটি মানুষের পরম আকাঙ্ক্ষার ধন।

  ১৪২  
আসিতেছে শুভ দিন-
দিনে দিনে বহু বাড়িয়াছে দেনা শুধিতে হইবে ঋণ!
হাতুড়ি শাবল গাইতি চালায়ে ভাঙিল যারা পাহাড়
পাহাড়-কাটা সে পথের দুপাশে পড়িয়া যাদের হাড়
তোমারে সেবিতে হইল যাহারা মজুর, মুটে ও কুলি
তোমারে সেবিতে যারা পবিত্র আঙ্গে লাগাল ধুলি
তারাই মানুষ, তারাই দেবতা, গাহি তাহাদেরি গান
তাদেরি ব্যথিত বক্ষে পা ফেলে আসে নব উত্থান।
সারমর্ম : শ্রমই সভ্যতাকে অগ্রসর করেছে। অথচ সভ্যতাদর্পী মানুষ সেই শ্রমজীবীদের রক্ত-ঘামকে অবজ্ঞা করেছে নিষ্ঠুরভাবে। দিন বদলের সংগ্রামে দেবতুল্য সেই শ্রমিক শ্রেণির জীবনের জয়গানই সূচিত হবে।

  ১৪৩  
বসুমতি, কেন তুমি এতই কৃপণা?
কত খোঁড়াখুঁড়ি করে পাই শস্য কণা।
দিতে যদি হয় দে মা, প্রসন্ন সহাস-
কেন এ মাথার ঘাম পায়েতে বহাস?
বিনা চাষে শস্য দিলে কি তাহাতে ক্ষতি?
শুনিয়া ঈষৎ হাসি কন বসুমতি,
আমার গৌরব তাহে সামান্যই বাড়ে,
তোমার গৌরব তাহে একেবারে ছাড়ে।
সারমর্ম : অনুগ্রহের দান অপেক্ষা কষ্টার্জিত ফসল মানুষের গৌরবকে বৃদ্ধি করে। পরিশ্রম করেই মানুষের জীবনকে সুখময় এবং মনুষ্যত্বের মর্যাদাকে রক্ষা করতে হয়।

  ১৪৪  
শৈশবে সদুপদেশ যাহার না রোচে,
জীবনে তাহার কভু মূর্খতা না ঘোচে।
চৈত্র মাসে চাষ দিয়া না বোনে বৈশাখে
কবে সেই হৈমন্তিক ধান্য পেয়ে থাকে?
সময় ছাড়িয়া দিয়া করে পণ্ডশ্রম,
ফল কহে সেও অতি নির্বোধ অধম।
খেয়াতরী চলে গেলে বসে থাকে তীরে,
কিসে পার হবে তারা না আসিলে ফিরে॥
সারমর্ম : জীবনে সার্থকতা অর্জন করতে হলে শৈশব থেকেই সততা, নিয়মানুবর্তিতা ও সময়ের সদ্ব্যবহার করতে শিখতে হয়। আলস্যে জীবন কাটালে ফল প্রাপ্তির সম্ভাবনা থাকে না। যথা সময়ে কাজ না করলে হতাশাই সম্বল হয়।

  ১৪৫  
সবারে বাসিব ভাল, করিব না আত্মপর ভেদ
সংসারে গড়িব এক নতুন সমাজ।
মানুষের সাথে কভু মানুষের রবে না বিচ্ছেদ-
সর্বত্র মৈত্রীরভাব করিবে বিরাজ।
দেশে দেশে যুগে যুগে কত যুদ্ধ কত না সংঘাত
মানুষে মানুষে হল কত হানাহানি।
এবার মোদের পুণ্যের সমুদিবে প্রেমের প্রভাত
সোল্লাসে গাহিবে সবে সৌহার্দ্যরে বাণী।
সারমর্ম : আপন-পর ভেদাভেদ ঘুচিয়ে ভালোবাসার বন্ধনে বাধতে হবে সবাইকে। মৈত্রী আর সৌহাদ্যের বাণী ছড়িয়ে দিতে হবে সবখানে। তবেই সম্ভব যুদ্ধ সংঘাত- হানাহানির বিপরীতে এক নতুন সমাজ গড়ে তোলা।

  ১৪৬  
নিন্দুকেরে বাসি আমি সবার চেয়ে ভালো,
যুগ জনমের বন্ধু আমার আঁধার ঘরের আলো।
সবাই মোরে ছাড়তে পারে বন্ধু যারা আছে,
নিন্দুক সে ছায়ার মত থাকবে পাছে পাছে।
বিশ্বজনে নিঃস্ব করে, পবিত্রতা আনে,
সাধক জনে নিস্তারিতে তার মত কে জানে?
বিনামূল্যে ময়লা ধুয়ে করে পরিষ্কার,
বিশ্ব মাঝে এমন দয়াল মিলবে কোথা আর?
নিন্দুক সে বেঁচে থাকুক বিশ্ব-হিতের তরে,
আমার আশা পূর্ণ হবে তাহার কৃপা ভরে।
সারমর্ম : নিন্দুক তার অজান্তেই বিশ্ব মঙ্গলের জন্য কাজ করে যায়। স্বভাবসুলভ সমালোচনায় সে অন্যের ত্রুটি সংশোধনের সহায়তা করে। এতে মানুষের উপকারই হয়।

  ১৪৭  
আমরা চলিব পশ্চাতে ফেলি পচা অতীত
গিরি-গুহা ছাড়ি খোলা প্রান্তরে গাহিব গীত
সৃজিব জগৎ বিচিত্রতর, বীর্যবান
তাজা জীবন্ত সে সব সৃষ্টি শ্রম-মহান
চলমান বেগে প্রাণ উচ্ছল।
রে সব যুগের স্রষ্টাদল
জোর-কদম চল্ রে চল্।
সারমর্ম : তারুণ্যের বিপ্লবস্পৃহা স্থানু নয়, চলমান। পচা অতীতকে পিছনে ফেলে যারা অগ্রসর হয় বিচিত্র সৃষ্টি সুখের উল্লাসে, উচ্ছল প্রাণে তারা মুক্ত প্রাণের গান করে তারাই যুগ স্রষ্টা।

  ১৪৮  
চাব না পশ্চাতে মোরা, মানিব না বন্ধন ক্রন্দন
হেরিব না দিক-
গণিব না দিনক্ষণ, করিব না বিতর্ক বিচার-
উদ্দাম পথিক।
মুহূর্তে করিব পান মৃত্যুর ফেনিল উন্মত্ততা
উপকণ্ঠ ভরি-
ক্ষিন্ন শীর্ণ জীবনের শত লক্ষ ধিক্কার লাঞ্ছনা
উৎসজৃন করি।
সারমর্ম : অতীতমুখীতা মানুষের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করে। তাই অতীতের সকল মায়া কাটিয়ে লক্ষ্য স্থির করতে হবে। মৃত্যুকে তুচ্ছ জ্ঞান করে কূটতর্ক ও লাঞ্ছনার ভয়কে উপেক্ষা করে জীবন সংগ্রামে অগ্রসর হতে হবে আমাদের।

  ১৪৯  
আমরা সিঁড়ি
তোমরা আমাদের মাড়িয়ে
প্রতিদিন অনেক উঁচুতে উঠে যাও,
তারপর ফিরেও তাকাও না পিছনের দিকে
তোমাদের পদধূলিধন্য আমাদের বুক
পদাঘাতে ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায় প্রতিদিন।
তোমরাও তা জানো
তাই কার্পেটে মুড়ে রাখতে চাও আমাদের বুকের ক্ষত
ঢেকে রাখতে চাও তোমাদের অত্যাচারের চিহ্নকে
আর চেপে রাখতে চাও পৃথিবীর কাছে
তোমাদের গর্বোদ্ধত, অত্যাচারী পদধ্বনি।
তবু আমরা জানি
চিরকাল আর পৃথিবীর কাছে
চাপা থাকবে না
আমাদের দেহে তোমাদের এই পদাঘাত।
আর সম্রাটের হুমায়ুনের মতো
একদিন তোমাদেরও হতে পারে পদস্খলন॥
সারমর্ম : শ্রেণি বিভক্ত সমাজে নিম্ন শ্রেণির মানুষকে শোষণ করেই নিজেদের সমৃদ্ধির পথ পাড়ি দেয় শোষক শ্রেণি। বিনিময়ে উপেক্ষা আর নির্যার্তনের চিহ্ন বুকে নিয়ে দিন কাটাতে হয় শ্রমজীবী মানুষকে। শ্রমজীবীর ক্ষত চিহ্নকে লুকিয়ে রাখার যত চেষ্টাই করুক না কেন ইতিহাসের আমোঘ নিয়মে শোষকের পরাজয় অনিবার্য।

  ১৫০  
নদী আর কালগতি একই সমান
অস্থির প্রবাহে করে উভয়ে প্রয়াণ।
ধীরে ধীরে গমনে গত হয়
কিবা ধনে, কিবা স্তবনে ক্ষণেক না রয়।
উভয়েই গত হলে আর নাহি ফিরে
দুস্তর সাগর শেষে গ্রাসে উভয়েরে।
বিফলে বহে না নদী যথা নদী ভরা
নানা শস্য শিরোরত্নে হাস্যময়ী ধরা।
কিন্তু কাল, সদাত্মা ক্ষেত্রে শোভাকর
উপেক্ষায় রেখে যায় মরুর।
সারমর্ম : সময় ও নদীর স্রোত বহমান। প্রতি পদক্ষেপে সে শুধু গতই হয়, ফিরে আর আসে না। যাওয়ার পথে পৃথিবীকে শস্যসম্ভারে পরিপূর্ণ করে তোলে সে অবহেলায় সময় নষ্ট হলে মানুষের জীবন হয়ে ওঠে মরুময়।

সারমর্ম (১ থেকে ৫০)
সারমর্ম (৫১ থেকে ১০০)
সারমর্ম (১০১ থেকে ১৫০)
সারমর্ম (১৫১ থেকে ২০০)

No comments