ভাবসম্প্রসারণ : যৌতুক প্রথা এক সামাজিক ব্যাধি
| Article Stats | 📡 Page Views |
|---|---|
|
Reading Effort 360 words | 2 mins to read |
Total View 5.7K |
|
Last Updated 11-May-2026 | 07:06 PM |
Today View 0 |
যৌতুক প্রথা এক সামাজিক ব্যাধি
মূলভাব : সমাজে প্রচলিত প্রথাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট হচ্ছে যৌতুক প্রথা। এটা ভয়ানক ব্যাধির মত সমাজের মানুষকে পচন ধরিয়ে মধ্যযুগীয় বর্বরতাকে উন্মোচিত করে। নারীর মানবিক সত্তাকে অবমূল্যায়িত করে মানব সভ্যতাকে অন্ধকারে ঠেলে দেয়। তারা ভুলে যায়-
সম্প্রসারিত ভাব : মানব সভ্যতা বিকাশে নারী-পুরুষের সমান অবদান রয়েছে। পুরুষের পক্ষে নারীর সাহায্য ছাড়া কোন কিছুই করা সম্ভব নয়। কিন্তু তারপরও আমরা মধ্যযুগীয় বর্বর চিন্তা থেকে মুক্ত হতে পরি না। যে নারী ছাড়া আমাদের ঘর গেরস্থালীর সমস্ত কিছু অচল হয়ে পড়ে। বিপদে দিশেহারা হয়ে পড়ি। সেই নারীকে আমরা আজো পশুর মত কেনা-বেচা করি। দাম্পত্য সম্পর্কের মত এমন একটা মধুর সম্পর্ক স্থাপন করতে গিয়ে আমরা অর্থ-বৃত্ত চেয়ে বেসি রাঘব-বোয়ালের মত। কন্যাদায়গ্রস্ত পিতার টুটি চেপে ধরে কেড়ে নিয়ে আসি যতদূর সম্ভব। বিয়ের নামে প্রচলিত এ কেনা-বেচার প্রথাকেই বলা হয় পণপ্রথা বা যৌতুক প্রথা। যার বলি হচ্ছে আমাদের সমাজের অধিকাংশ নারী। যৌতুকের দায়বদ্ধতা এড়ানো ভিটেমাটি বিক্রি করতে হয় দরিদ্র পিতাকে। যৌতুক প্রদানের ব্যর্থতায় সংসার ভাঙ্গে নব বধূর। মধুর স্বপ্ন বিষিয়ে উঠে জীবনের শুরুতেই অত্যাচারিত হয়ে আত্ম-বিসর্জনের পথও বেছে নিতে হয় অনেককে। পত্রিকা খুললেই যার প্রমাণ আমাদের দেশে দৈনিক আর দশটা সাধারণ সংবাদের মতোই পাওয়া যায়। কবে কে, কোথায়, কিভাবে এ ভয়ানক ব্যাধিরূপী সামাজিক প্রথা সৃষ্টি করেছিল যা আমাদের দেশ, জাতি, সমাজ আজ সভ্যতার চরম শিখরে এসেও পরিত্যাগ করতে পারেনি। সত্যিই এ বড় লজ্জার ব্যাপার। মানুষ যেমন ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে তা ক্রমেই বেড়ে চলে, তার হাত থেকে কোনক্রমেই পরিত্রাণ লাভ করা যায় না, যৌতুক নামক ভয়ানক এ সামাজিক ব্যাধি থেকেও তেমনি আমরা কেউই রেহাই পাচ্ছি না। একবার যেমন নিজে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি, তেমনি অন্যকে অত্যাচারিত করছি। আসলে এ সামাজিক ব্যাধিটি আমাদের মানসিকতায়ও পচন ধরিয়েছে। এর থেকে আমাদের বেরিয়ে আসা উচিত। তা না হলে মানবতার অপমানের পাপ থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে না। এ জন্য প্রয়োজন সর্বাগ্রে আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন এবং বৃহত্তর সামাজিক আন্দোলন। বিশেষ করে নারীদেরকে সচেতন করে তোলা।
নারীর মূল্যবোধ জাগ্রত করা, তাদেরকে স্বাবলম্বী করে তোলা এবং অধিকার সচেতন করে তোলার মাধ্যমেই এ ব্যাধির চিকিৎসা করতে হবে। তা না হলে এর কালো থাবা থেকে আমরা কেউই মুক্তি পাব না। কারণ এটা সত্যিই এক ভয়ানক ব্যাধি।
Leave a Comment (Text or Voice)
Comments (1)
ভাইয়া এটা এত বড় দিতে হয়??