অ্যাসাইনমেন্ট-২০২১ বাংলা রচনা সমগ্র ভাবসম্প্রসারণ তালিকা অনুচ্ছেদ চিঠি / দরখাস্ত প্রতিবেদন প্রণয়ন সারাংশ সারমর্ম ব্যাকরণ Composition / Essay Paragraph Letter, Application & Email Dialogue List Completing Story Report Writing Graphs & Charts English Note / Grammar পুঞ্জ সংগ্রহ সাধারণ জ্ঞান কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স বই পোকা হ য ব র ল তথ্যকোষ পাঠ্যপুস্তক CV & Job Application বিজয় বাংলা টাইপিং My Study Note আমার কলম সাফল্যের পথে এই সাইট থেকে আয় করুন


বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শিক্ষা সহায়ক ওয়েব সাইট

ভাবসম্প্রসারণ : বিশ্বের যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর / অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর

বিশ্বের যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর

মানবসভ্যতার ইতিহাস বলে, আধিকাল থেকে আজকের যে সভ্যতা তাতে নারী-পুরুষের সমান অবদান রয়েছে। নারী-পুরুষের সম্মিলিত কর্মপ্রচেষ্টায় সভ্যতা সূচিত হয়েছে। সভ্যতা বিনির্মাণে কারো অবদানই কম নয়।

নারী এবং পুরুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সৃষ্টি হয়েছে সমাজ ব্যবস্থা। সুতরাং সমাজে নারী এবং পুরুষের অবদান সমভাবে বিদ্যমান। এ পৃথিবীতে নর এবং নারী একে অপরের পরিপূরক সত্তা। মহান স্রষ্টা বিশ্বের আদি মানব হযরত আদম (আ.) এবং মানবী বিবি হাওয়া (আ.)-এর আবাসস্থল হিসেবে পৃথিবী সৃষ্টি করেছিলেন। পরবর্তীকালে আদম এবং হাওয়ার অবদানেই এ জগতে মানুষের আবাদ হয়েছে। বর্তমান বিশ্বে নারীরাও পুরুষের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। নারীরা পুরুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সমাজের বিভিন্ন অঙ্গনে তাদের উপর আরোপিত দায়িত্ব পালন করছে। তাই নারীদের কর্মস্থল শুধু রান্নাঘরে সীমাবদ্ধ নয় বরং পরিব্যাপ্ত সমাজের সকল অঙ্গনে। কথায় আছে “যে শকটের এক চক্র বড় এবং এক চক্র ছোট হয় সে শকট অধিক দূর অগ্রসর হতে পারে না; সে কেবল একই স্থানে ঘুরতে থাকবে।” অর্থাৎ, যেখানে পুরুষ জাতিকে প্রাধান্য এবং নারী জাতিকে অবহেলা করা হবে সেখানে জাতির কোনো উন্নতি বা পরিবর্তন হবে না। তাইতো কবি বলেছেন,
“কোন কালে একা হয় নি কো জয়ী
পুরুষের তরবারি
শক্তি দিয়েছে প্রেরণা দিয়েছে
বিজয় লক্ষ্মী নারী।”
                                                               --- নারী : কাজী নজরুল ইসলাম

ইসলাম ধর্মে শিক্ষার সম অধিকার সম্পর্কে বলা আছে, “প্রত্যেক নর-নারীর বিদ্যা অর্জন করা ফরজ”। অন্ধকার যুগে নারীদের কোনো মর্যাদা দেওয়া হতো না। সে যুগে নারীরা দাসী ছিল এবং ন্যায্য অধিকার হতে তাদের বঞ্চিত করে রাখত, যা সময়ের বিবর্তনের মাধ্যমে পরিবর্তণ হয়। এখন সারাবিশ্বে পুরুষের পাশাপাশি নারীকেও কঠিন কর্তব্য পালন করতে হয়। সর্বক্ষেত্রে তারা দক্ষতার ছাপ রাখছে। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, মায়ের কাছে সন্তান যে শিক্ষা লাভ করে তাই পরবর্তী জীবনে তার চরিত্র গঠনে বিশেষভাবে সাহয্য করে থাকে। সেজন্য মায়ের নিকট হতে শেখা উপযুক্ত শিক্ষার গুরুত্ব ও অবদান অপরিসীম। এছাড়া সংসারে সুখ-সমৃদ্ধি ও উন্নতির ক্ষেত্রে নারীদের ভূমিকার কোনো বিকল্প নেই। কথায় আছে, ”সংসার সুখের হয় রমণীর গুণে”

নারী ও পুরুষের সম্মিলিত কর্মপ্রচেষ্টায় সৃষ্ট এ সমাজের উন্নতি এবং প্রগতির জন্য পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও সমান অংশীদার। তাই যাবতীয় উন্নয়মূলক কার্যে নারীদের সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।


এই ভাবসম্প্রসারণটি অন্য বই থেকেও সংগ্রহ করে দেয়া হলো


মূলভাব : নারী ও পুরুষের যৌথ প্রচেষ্টাতেই এ পৃথিবী সুন্দর হয়েছে। বিশ্বসভ্যতা বিনির্মাণের ক্ষেত্রে এরা সমান অবদান বহন করে চলেছে।

সম্প্রসারিত ভাব : নারী এবং পুরুষ সমান মর্যাদার অধিকারী। কারো অস্তিত্বকে খাটো করে দেখার কোনো অবকাশ নেই। সৃষ্টির আদি থেকেই নারী ও পুরুষ সমান দক্ষতা নিয়ে মানব সভ্যতাকে গড়ে তুলেছে। পৃথিবীর যাবতীয় মহান সৃষ্টি ও কল্যাণকর কাজে পুরুষের পাশাপাশি নারীও রেখেছে অশেষ অবদান। নারী ও পুরুষ; একই বৃন্তে যেন দুটি ফুল। একটি ছাড়া আরেকটি অচল। তাদের মধ্যে যে সম্পর্ক তা স্বর্গীয় সুষমায় পরিপূর্ণ। তাই একে অপরকে অবজ্ঞা করা আত্মত্যাগেরই নামান্তর। নারীপুরুষের পাস্পরিক সহযোগিতা এবং সহমর্মিতা জীবনীশক্তিকে বাড়িয়ে দেয়। যার ফলে দেহে ও মনে জেগে ওঠে প্রাণ। আর সেই অফুরন্ত প্রাণশক্তিতে এ পৃথিবী ফুলে-ফলে হয়ে উঠেছে সুশোভিত। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীকে অনেক সময় অক্ষম বিবেচনা করা হয়। ধর্মান্ধতার শিকার হয়ে অনেকেই কোনো কোনো পুরুষ নারীকে রেখে দেয় লোকচক্ষুর অন্তরালে। অসূর্যস্পশ্যা রমণী দেখে না নতুন সূর্যোদয়। আত্মমর্যাদাহীন দাসীর মতো তারা জীবনযাপন করে। শুধু বঞ্চনা আর এক বুক হাহুতাশ নিয়ে তারা ধুকে ধুকে নিঃশেষ হয়ে যায়। এ অবস্থা সত্যি অমানবিক, দৈহিক ভিন্নতা, কর্মক্ষেত্রের ভিন্নতা, কর্মযোগ্যতার ভিন্নতা ও রুচির ভিন্নতা থাকলেও মর্যাদার দিক থেকে তারা সমান। পুরুষের কাজকে নারী যেমন সম্মানের চোখে দেখে থাকে তেমনি পুরুষেরও উচিত নারীর কাজকে সম্মানের চোখে দেখা। নারীকে অযোগ্য অকর্মণ্য ভেবে দূরে সরিয়ে রাখা ঠিক নয়। পরিবার, সমাজ ও জাতি গঠনের ক্ষেত্রে নারীরাও পুরুষদের মতো অবদান রাখতে পারে। তাই পুরুষের উচিত নারীকে এক্ষেত্রে সুযোগ করে দেয়া। অর্ধেক অচল দেহ নিয়ে যেমন সম্মুখে অগ্রসর হওয়া যায় না তেমনই নারীকে স্থবির করে উন্নয়নের স্বপ্ন দেখা সম্ভব নয়। উন্নত দেশগুলোতে নারী-পুরুষ পাশাপাশি কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু আমাদের এদিক থেকে এখনো অনেক অনগ্রসর। অশিক্ষা, কুসংস্কার এবং ধর্মীয় গোড়ামি এদেশের নারী সমাজের পায়ে এখনো শিকল পরিয়ে রেখেছে। এ অবস্থার পরিবর্তন প্রয়োজন। সকল আগল খুলে এদেশের নারীকেও আজ পুরুষের পাশে এসে দাঁড়াতে হবে। পুরুষের মতো জাতি গঠনমূলক কাজে অংশ নিতে হবে। তবেই জাতীয় উন্নয়ন সম্ভব।

সন্তব্য : এ পৃথিবীতে নারী ও পুরুষ সমান মর্যাদার অধিকারী। বিশ্ব-সভ্যতায় পুরুষের যতটুকু অবদান, নারীরও ঠিক ততটুকু অবদান রয়েছে। আজকের নারী-পুরুষকে এ সত্যটি উপলব্ধি করতে হবে এবং নারীকে পুরুষের পাশে সমান তালে দায়িত্ব পালন করে যেতে হবে। তাহলে সুশীল সমাজ গঠন সম্ভব।

6 comments:


Show Comments