ভাবসম্প্রসারণ : সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই

Article Stats 📡 Page Views
Reading Effort
1,072 words | 6 mins to read
Total View
51.8K
Last Updated
12-May-2026 | 08:33 PM
Today View
0
সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই

মূলভাব : আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। এজন্য মানুষের বিবেচনাবোধ গুরুত্বের সঙ্গে অনুধাবন করা দরকার।

সম্প্রসারিত ভাব : সবার ওপরে মানুষের মর্যাদা স্বীকার করতে হবে। মানুষকে সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে বিবেচনা করে তার গুরুত্ব অনুধাবন করা দরকার। এ গুরুত্বের প্রেক্ষিতেই সকল সংস্কার, বিভক্ত মতবাদ আর নীতি আদর্শের পার্থক্যের মাধ্যমে মানুষকে বিবেচনা না করে তার শ্রেষ্ঠ ও মর্যাদার আসন সম্পর্কে সন্দেহমুক্ত থাকা আবশ্যক।

জগতের সর্বত্র বিভিন্ন নীতি আদর্শ আর বিধিনিষেধের বেড়াজালে মানবজীবন জড়িয়ে আছে। মানুষের কার্যকলাপ বিবেচনা করে নানা রকম ভেদাভেদে মানুষের জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। এর ফলে উঁচু-নীচু, ধনী-দরিদ্র এসব পার্থক্য সৃষ্টি হয়েছে। সৃষ্টি হয়েছে বর্ণভেদ প্রথা। উন্নত বিশ্ব আর তৃতীয় বিশ্বের মধ্যে পার্থক্য অনেক। শক্তিশালী জাতি শক্তিহীনকে গ্রাস করতে চায়। সভ্যতা সংস্কৃতির আগ্রাসনও মানুষের জীবনকে বিশৃঙ্খল করে দিচ্ছে। এসব অবস্থার প্রেক্ষিতে নিগৃহীত হচ্ছে মানবতা। মানুষে মানুষে দ্বন্দ্ব বিরোধ ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে প্রাণ দিতে হয় মানুষকেই। আজকে সারাবিশ্বে মানুষের এ অবমাননা চরম আকার ধারণ করেছে। কিন্তু এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বিশ্বের মানুষ ক্রমাগতই সংকটে আবর্তিত হতে থাকবে। এ থেকে উদ্ধারের পথ বের করা আবশ্যক। সকল বিরোধ অবসানের লক্ষ্যে মানুষকে মানুষের যথার্থ মর্যাদা দান করতে হবে। মানুষকে ছোট বা হেয় বলে বিবেচনা করা যাবে না। একই স্রষ্টার সৃষ্টির মধ্যে কোন ব্যবধান খুঁজে বের করা অন্যায় বলে বিবেচনা করতে হয়। সকল মতবাদের ওপরে মানুষের মর্যাদা স্বীকার করতে হবে। মানুষের কল্যাণের জন্য সকল প্রচেষ্টা কাজে লাগাতে হবে। তাহলেই পৃথিবী মানুষের বসবাসের যোগ্য হয়ে থাকবে। মানবতা এবং মনুষ্যত্বকে মানুষ যদি সবার উপরে ঠাই দেয় তবে এ পৃথিবী সুন্দর হবে। মানুষের সব ধরনের বিভেদ ভুলে এ পৃথিবীকে সবার জন্য এক এবং অভিন্ন করে গড়ে তোলা উচিত।


এই ভাবসম্প্রসারণটি অন্য বই থেকেও সংগ্রহ করে দেয়া হলো


মানুষের কোনো জাতিভেদ নেই, মানুষের কোনো জাতিভেদ থাকতে পারে না। পৃথিবীর যে কোনো দেশের আদিবাসী হোক, মানুষের একমাত্র পরিচয় হলো -সে মানুষ। সে বাঙালি, ইংরেজ, ফরাসি, জার্মান, রাশিয়ান, চীনা, আমেরিকান যা -কিছুই হোক -সাদা, কালো -যে রঙেরই হোক তার গায়ের বর্ণ, তার সত্য পরিচয় হল -সে মানুষ।

সৃষ্টিকর্তার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হল মানুষ। তাঁর সৃষ্টিতে নেই কোনো ভেদাভেদ, নেই কোনো ভেদ-বৈষম্যের পার্থক্যরেখা। কিন্তু মানুষ রচনা করেছে মানুষে মানুষে কৃত্রিম জাতি, সৃষ্টি করেছে ঘৃণ্য জাতিভেদ। ভেদবুদ্ধি -প্রণোদিত স্বার্থপর মানুষ সৃষ্টি করেছে মানুষে বিভেদের দুর্ভেদ্য প্রাচীর; এবং জগতের যত দ্বন্দ্ব-সংঘাত, যত কলঙ্কময় রক্তপাত, তার মূলে আছে এই অবাঞ্ছিত মানসিক ভেদ-বৈষম্য। পৃথিবীতে মানুষে মানুষে এই সংঘাত ও রক্তপাতের শুরু অতি প্রাচীনকাল থেকেই। ভৌগোলিক সীমাবেষ্টনীর মধ্যে ভূমিষ্ঠ মানবগোষ্ঠী ক্রমে অপর স্থানের মানবগোষ্ঠীকে ঘৃণা করতে শিখেছে। ফলে গঠিত হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন জাতি ও রাষ্ট্রের। কিন্তু ক্রমেই রাষ্ট্রীয় ভেদ-বিদ্বেষ এবং ধর্মীয় সীমা-পার্থক্য মুছে ফেলে মানুষ তার শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ করেছে। সভ্যতার শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত মানুষ এই প্রকৃতির উপর ক্রমেই আধিপত্য বিস্তার করেছে। গড়ে তুলেছে গ্রাম, নগরসভ্যতা। সে তার জ্ঞান-বুদ্ধি দিয়ে অণু থেকে অট্টালিকা, সাগর থেকে মহাসাগর পর্যন্ত জয় করে নিয়েছে। মানুষের আরাম-আয়েসের জন্যে উদ্ভাবন করেছে নানা প্রয়োজনীয় সামগ্রী। সভ্যতাকে টিকিয়ে রাখার জন্যে সে সৃষ্টি করেছে শিল্প, সাহিত্য, বিজ্ঞান, দর্শন। এভাবে আদি থেকে বর্তমান পর্যন্ত মানুষ তার শ্রেষ্ঠত্বের পরিচয় দিয়েছে। প্রমাণ করেছে সবার উপরে মানুষ সত্য, তার উপরে কেউ নেই।


এই ভাবসম্প্রসারণটি অন্য বই থেকেও সংগ্রহ করে দেয়া হলো


মূলভাব : মানুষ সৃষ্টিকর্তার সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। মানবতার চেয়ে বড় কোনো পরিচয় নেই। ধর্ম, বর্ণ, জাতি, ধনী-গরিব কিংবা দেশভেদে মানুষের মধ্যে পার্থক্য থাকলেও সবার আগে তার পরিচয় সে একজন মানুষ। তাই সকল বিভেদ ভুলে মানুষের মর্যাদা ও মানবতাকে সর্বোচ্চ স্থান দিতে হবে।

সম্প্রসারিত ভাব : “সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই” — এই চিরন্তন বাণী মানবতার সর্বোচ্চ মর্যাদার কথা ঘোষণা করে। পৃথিবীতে মানুষ নানা ধর্ম, বর্ণ, ভাষা ও সংস্কৃতিতে বিভক্ত হলেও মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে সবাই সমান। একজন মানুষের প্রকৃত পরিচয় তার মানবতা, তার মনুষ্যত্ব এবং তার নৈতিক গুণাবলি। মানুষ হিসেবে মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সহানুভূতি, দয়া ও সম্মান প্রদর্শন করাই মানবধর্মের মূল শিক্ষা।

সৃষ্টিকর্তা মানুষকে জ্ঞান, বিবেক ও বিচারবুদ্ধি দিয়ে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জীব হিসেবে সৃষ্টি করেছেন। মানুষের মধ্যেই রয়েছে চিন্তা করার ক্ষমতা, সৃষ্টিশীলতা এবং অন্যের কল্যাণে কাজ করার মানসিকতা। কিন্তু দুঃখজনকভাবে মানুষই আবার মানুষে মানুষে ভেদাভেদ সৃষ্টি করেছে। ধর্মীয় সংকীর্ণতা, বর্ণবাদ, জাতিগত বিভাজন, ধনী-গরিবের পার্থক্য এবং ক্ষমতার অহংকার সমাজে অশান্তি ও বৈষম্যের জন্ম দিয়েছে। এর ফলে পৃথিবীর বহু স্থানে যুদ্ধ, সংঘাত, নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে।

ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, বর্ণবাদের কারণে আফ্রিকার কালো মানুষদের দীর্ঘদিন অবহেলা ও নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকায় একসময় শ্বেতাঙ্গ ও কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যে ভয়াবহ বৈষম্য ছিল। কিন্তু মহান নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা মানবতার পক্ষে দাঁড়িয়ে সেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন। তাঁর প্রচেষ্টায় বর্ণবৈষম্যের অবসান ঘটে এবং মানুষে মানুষে সমতার ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয়। একইভাবে মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র আমেরিকায় কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করেছেন। এসব উদাহরণ প্রমাণ করে, মানুষকে মানুষ হিসেবে মর্যাদা দেওয়াই সভ্যতার মূল ভিত্তি।

বর্তমান বিশ্বেও আমরা নানা ধরনের বিভেদের শিকার হচ্ছি। কোথাও ধর্মের নামে সহিংসতা, কোথাও জাতিগত নিপীড়ন, আবার কোথাও অর্থনৈতিক বৈষম্যের কারণে মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে। উন্নত ও অনুন্নত দেশের মধ্যে পার্থক্যও অনেক ক্ষেত্রে মানবিক বৈষম্যের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অথচ পৃথিবীর সব মানুষ একই স্রষ্টার সৃষ্টি এবং সবার রক্তের রং একই। তাই মানুষে মানুষে ঘৃণা নয়, বরং ভালোবাসা ও সহমর্মিতা প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।

মানবতার সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। কোনো দুর্ঘটনা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা মহামারির সময় আমরা দেখতে পাই, মানুষ ধর্ম-বর্ণ ভুলে একে অপরকে সাহায্য করে। করোনা মহামারির সময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ একে অপরের সহযোগিতায় এগিয়ে এসেছিল। চিকিৎসক, নার্স, স্বেচ্ছাসেবক ও সাধারণ মানুষ নিজেদের জীবন বিপন্ন করে অসুস্থ মানুষের সেবা করেছেন। এ ঘটনাগুলো প্রমাণ করে, মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় সে মানুষ।

আমাদের সমাজে এখনও ধনী-গরিব, শিক্ষিত-অশিক্ষিত কিংবা জাতিগত পরিচয়ের কারণে মানুষকে ছোট করে দেখা হয়। এটি অত্যন্ত অন্যায় ও অমানবিক। একজন রিকশাচালক, শ্রমিক বা কৃষকও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের শ্রম ছাড়া সভ্যতা অচল হয়ে পড়বে। তাই প্রতিটি মানুষের কাজ ও অবদানকে সম্মান করা উচিত। ইসলামসহ পৃথিবীর প্রায় সব ধর্মই মানুষের মর্যাদা রক্ষার শিক্ষা দিয়েছে। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বিদায় হজের ভাষণে ঘোষণা করেছিলেন যে, কোনো আরবের উপর অনারবের কিংবা কোনো শ্বেতাঙ্গের উপর কৃষ্ণাঙ্গের শ্রেষ্ঠত্ব নেই; শ্রেষ্ঠত্বের একমাত্র মানদণ্ড হলো তাকওয়া ও সৎকর্ম।

সাহিত্য, সংস্কৃতি ও দর্শনেও মানবতার জয়গান গাওয়া হয়েছে। কাজী নজরুল ইসলাম সাম্য ও মানবতার কবি হিসেবে মানুষের সমঅধিকারের কথা বলেছেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মানুষে মানুষে ভেদাভেদ ভুলে বিশ্বমানবতার শিক্ষা দিয়েছেন। তাঁদের রচনায় মানুষের মর্যাদা ও ভালোবাসার গুরুত্ব বিশেষভাবে ফুটে উঠেছে।

প্রকৃতপক্ষে, মানুষ যদি মানবতাকে সর্বোচ্চ স্থান দেয়, তবে পৃথিবীতে হিংসা, বিদ্বেষ ও বৈষম্য অনেকাংশে কমে যাবে। ধর্ম, বর্ণ, ভাষা কিংবা জাতিগত পরিচয় মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার জন্য নয়; বরং পারস্পরিক পরিচয় ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধির জন্য। তাই আমাদের উচিত সকল মানুষকে সমান চোখে দেখা এবং মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হওয়া।

উপসংহার : “সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই” — এই বাণী মানবতার চিরন্তন আহ্বান। মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সম্মান ও সহমর্মিতা ছাড়া কখনও শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। তাই সকল বিভেদ ভুলে মানবতাকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়ে একটি সুন্দর, সাম্যপূর্ণ ও মানবিক পৃথিবী গড়ে তোলাই আমাদের প্রধান দায়িত্ব।

💎 উপরের লিখাগুলো ওয়ার্ড ফাইলে সেভ করুন!

মাত্র 10 টাকা Send Money করে অফলাইনে পড়ার জন্য বা প্রিন্ট করার জন্য উপরের লিখাগুলো Microsoft Word ফাইলে ডাউনলোড করুন।

Download (.doc)

Sribas Ch Das

Founder & Developer

HR & Admin Professional (১২+ বছর) ও কোচিং পরিচালক (১৪+ বছর)। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সহজ Study Content নিশ্চিত করতেই এই ব্লগ।

🏷️ Tag Related

⚡ Trending Posts

Facebook Messenger WhatsApp LinkedIn Copy Link

✅ The page link copied to clipboard!

Leave a Comment (Text or Voice)




Comments (9)

Guest 10-Nov-2023 | 02:27:06 PM

Onek proyojon chilo ae ta

Guest 18-Oct-2023 | 05:36:33 AM

Thanks

Guest 03-May-2019 | 01:54:39 PM

Second line a 'গুরুত্ব' বানান ভুল।😐😐😐।

Guest 01-May-2019 | 04:05:37 PM

Ektu simple bhashaye likhle shubidhe hoto
Otherwise it is good

Guest 01-Apr-2019 | 02:58:12 PM

n sir but search er bebosta korle onek valo hooto student der jonne

Guest 31-Mar-2019 | 03:18:43 PM

Thanks for making such a beautiful sire.. .. ..

Guest 29-Jan-2019 | 06:17:33 PM

Sei

Guest 25-Sep-2018 | 01:52:13 PM

Ami aita onk din dhore khujchilam . Obsheshe paoa gelo. Tnx ato sundor akta vab somprosaron dawar jonno .

Guest 14-Sep-2018 | 01:02:32 PM

Thanks for making such a wonderful site like this. I am very happy for finding my bubsamprasans.

Old Taka Archive (ota.bd)

✓ ১০০% আসল নোটের নিশ্চয়তা