ভাবসম্প্রসারণ : সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত / জ্ঞানশক্তি অর্জনিই শিক্ষার উদ্দেশ্য
| History | 📡 Page Views |
|---|---|
|
Published 09-Aug-2018 | 08:52 PM |
Total View 86.5K |
|
Last Updated 03-Jun-2025 | 06:03 AM |
Today View 12 |
সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত
অথবা,
জ্ঞানশক্তি অর্জনিই শিক্ষার উদ্দেশ্য
মূলভাব : শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় সুশিক্ষিত হলেই তাকে শিক্ষিত বলা যাবে না। সুশিক্ষিত হতে হলে তার মধ্যে সৃজনশীল অনুভূতি থাকা প্রয়োজন।
সম্প্রসারিত ভাব : শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে মানুষ শিক্ষিত হয়ে উঠে। মানব জীবন সুগঠন ও সুন্দর বিকাশের জন্য শিক্ষা একটি অপরিহার্য বিষয়। শিক্ষা ব্যবস্থার অবকাঠামোর ভিতর দিয়ে শিক্ষা অর্জনের রীতি প্রচলিত রয়েছে। আর এ শিক্ষা অর্জন করেই শিক্ষিত মানুষ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকে। প্রাতিষ্ঠানিক উপায়ে শিক্ষা অর্জিত হলেও শিক্ষার সীমা সেখানে শেষ হয়ে যায় না। শিক্ষার পূর্ণতার দিকে অগ্রসর হতে হলে মানুষকে নিজস্ব প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হয়। স্বশিক্ষা বা নিজে নিজে শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হয় বেশি জ্ঞানের জন্য।
শিক্ষা লাভের জন্য বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ধাপে ধাপে এগিয়ে শিক্ষার্থীরা সেসব প্রতিষ্ঠান থেকে ডিগ্রি অর্জন করে এবং শিক্ষিত হিসেবে পরিচিত হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একটা সীমাবদ্ধতা আছে। নির্দিষ্ট ডিগ্রি প্রধানের মধ্যেই তার দায়িত্ব শেষ হয়। কিন্তু শিক্ষার পরিধি অনেক বড়। সেই বিশাল পরিধির বিষয়কে কোন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যায় না। জ্ঞানের রাজ্য অসীম এবং তা বাঁধাধরা পাঠ্যসূচির মাধ্যমে আয়ত্ব করা চলে না। সে জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বের হয়ে লোক শিক্ষিত নামে পরিচিত হয়। কিন্তু জ্ঞান রাজ্যে বিচরণ করে ব্যাপক শিক্ষা অর্জন করা যায় তা প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থায় সম্ভব নয়। শিক্ষিত লোককে আরও বেশি শিক্ষার জন্য জ্ঞানের রাজ্যে মুক্তভাবে বিচরণ করতে হয়। নিজের উদ্যেগে শিক্ষা অর্জন করে শিক্ষিত ব্যক্তি আরও বেশি শিক্ষিত হয়ে ওঠে। বলা হয়ে থাকে, ‘বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়ার পরই প্রকৃত শিক্ষা আরম্ভ হয়।’ যথার্থ জ্ঞান অর্জনের জন্য নিজের চেষ্টায় জ্ঞানের রাজ্যে বিচরণ করতে হয়। সুশিক্ষার জন্য নিজের উদ্যেগের প্রয়োজন। স্বশিক্ষার মাধ্যমে সুশিক্ষিত হয়ে ওটা সম্ভব। সে জন্য সারা জীবন ধরে মানুষের জ্ঞান সাধনা চলে। নিজের চেষ্টা-চেতনা এবং অনুশীলনের দ্বারা স্ব-শিক্ষা অর্জন করা সম্ভব। এটা কোন প্রতিষ্ঠান থেকে অর্জন করা যায় না। এভাবে যারা শিক্ষা অর্জন করে তারাই কেবল প্রকৃত শিক্ষিত।
এই ভাবসম্প্রসারণটি অন্য বই থেকেও সংগ্রহ করে দেয়া হলো
ভাব-সম্প্রসারণ : প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা এবং বাস্তব জীবনের প্রেক্ষাপটে প্রকৃতি থেকে অর্জিত শিক্ষা-এ দুয়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। কারণ সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শেষ হয়ে যায়, কিন্তু শিক্ষার কোনো সীমা বা পরিসীমা নেই। শিক্ষার পূর্ণতার দিকে অগ্রসর হতে হলে মানুষকে নিজস্ব প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। এবং সুশিক্ষিত হওয়ার জন্যে স্বশিক্ষা বা নিজে নিজে শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। কেননা শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হল জ্ঞানশক্তি অর্জন করা।
শিক্ষা সম্পূর্ণভাবেই অর্জনসাপেক্ষ। শিক্ষালাভের জন্যে বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ধাপে ধাপে এগিয়ে শিক্ষার্থীগণ যেসব প্রতিষ্ঠান থেকে ডিগ্রি অর্জন করে এবং শিক্ষিত হিসেবে পরিচিত হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একটা সীমাবদ্ধতা আছে। নির্দিষ্ট ডিগ্রি প্রদানের মধ্যেই তার দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মধ্য দিয়ে জ্ঞানের পূর্ণতা আসে না। জ্ঞানকে আত্মস্থ করার জন্যে আত্মপ্রয়াসের কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষার পরিধি অনেক বড়। ‘দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত শিক্ষালাভের সময়।’ তাই যথেষ্ট জ্ঞান অনুশীলন ব্যতীত কেউ সুশিক্ষিত হতে পারে না। আমাদের সমাজে এমন অনেকেই রয়েছেন যাঁদের উচ্চতর ডিগ্রি আছে, কিন্তু দেশ ও জাতির কল্যাণে তারা কিছুই করতে পারেন নি। তাদের প্রাতিষ্ঠানিক উচ্চতর ডিগ্রি থাকলেও তাঁরা স্বশিক্ষায় সুশিক্ষিত না হওয়ায় তাদের মধ্যে কখনোই মুক্তচিন্তার বহিপ্রকাশ ঘটে নি, যা দিয়ে তাঁরা দেশ ও দশের উপকার করতে পারে। পক্ষান্তরে, অনেক স্বশিক্ষিত ব্যক্তি প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি ছাড়াও দেশ ও জাতি তথা বিশ্বমাববের কল্যাণের জন্যে অনেক কিছু করে গেছেন। দৃষ্টান্তস্বরূপ- সক্রেটিস, এরিস্টটল, প্লেটো, নিউটন, গ্যালিলিও, কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নজরুল ইসলাম প্রমুখের নাম উল্লেখ করা যেতে পারে। তাঁরা স্ব-শিক্ষায় সুশিক্ষিত ছিলেন বলেই মরেও অমর হয়ে আছেন। সুশিক্ষিত লোকের মন মুক্তবুদ্ধির আলোকে উদ্ভাসিত হয়, তিনি বিজ্ঞানমনস্ক যুক্তিবাদী দৃষ্টিভঙ্গির অধিকারী হন। পরিশীলিত রুচিবোধে তিনি হন উদার ও বিনম্র। সব মিলিয়ে সুশিক্ষিত মানুষ নিঃসন্দেহে হন আলোকিত মানুষ। তাই একটি দেশ ও জাতির সার্বিক উন্নতিকল্পে স্বশিক্ষিত ও সুশিক্ষিত লোকের কোনো বিকল্প নেই।
প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শেষে যথার্থ জ্ঞানার্জনের জন্যে জ্ঞানের রাজ্যে বিচরণ করতে হয়। সুশিক্ষার জন্যে নিজের উদ্যোগের প্রয়োজন হয়। একমাত্র স্বশিক্ষার মাধ্যমেই সুশিক্ষিত হয়ে ওঠা সম্ভব। সেজন্যে সারা জীবন ধরে মানুষের জ্ঞানসাধনা চলে।
Leave a Comment (Text or Voice)
Comments (10)
ভেরি নাইস
Thanks for help
nice
Thanks
Thank you
Amar bitorko competiton e ata help korbe,thanks
This will help me in my exam.
হেল্পফুল ব্রো। ধন্যবাদ।
It's helpful
With your help I am getting good marks in the exams. Keep it up.