ভাবসম্প্রসারণ : সমাজকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত করার প্রধান হাতিয়ার হচ্ছে শিক্ষা। / শিক্ষাই শক্তি, শিক্ষাই মুক্তি।
| Article Stats | 📡 Page Views |
|---|---|
|
Reading Effort 824 words | 5 mins to read |
Total View 561 |
|
Last Updated 12-May-2026 | 08:29 PM |
Today View 0 |
সমাজকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত করার প্রধান হাতিয়ার হচ্ছে শিক্ষা।
শিক্ষাই শক্তি, শিক্ষাই মুক্তি।
মূলভাব : শিক্ষা মানবজাতির জন্য এক মহার্ঘ্য বিষয়। এটা ব্যতীত মানুষের মনুষ্যত্ব কখনওই বিকশিত হয় না। এজন্যই সর্বত্র শিক্ষাকেই অত্যন্ত আবশ্যকীয় বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এমনকি আমাদের ধর্মেও এর প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব বিবেচনা করে একে সকল নারী-পুরুষের জন্য ফরয করা হয়েছে।
সম্প্রসারিত ভাব : বস্তুত, শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা এবং উপকারিতা এত ব্যাপক যে, এর গুণ বলে শেষ করা যাবে না। প্রাচীনকাল থেকেই দেখা গেছে, যে জাতি শিক্ষাদীক্ষায় উন্নত, সে জাতির জ্ঞান-বিজ্ঞান, শৌর্য-বীর্য ও প্রভাব প্রতিপত্তি তত বেশি। প্রাচীন গ্রিক জাতি তাদের শিক্ষাদীক্ষার জন্যই আজো আমাদের প্রাতঃস্মরণীয় হয়ে আছেন। আর আজকের পৃথিবীর এ যে প্রগতি ও প্রাচুর্য, তার মূলেও রয়েছে শিক্ষার বিস্তৃত প্রভাব। প্রকৃত প্রস্তাবে শিক্ষার বহুমুখী প্রভাব আমাদের জীবনে বিদ্যমান এবং আমাদের জীবনযাপনে সুষ্ঠু শিক্ষা ছাড়া আমরা কোনভাবে উন্নত জীবন অর্জন করতে পারবো না। বিশেষত বর্তমানে বিশ্বের প্রধান সমস্যা ক্ষুধা ও দারিদ্র্য। আমরা যদি এ সবের কারণ যদ্ঘাটন করতে যাই, তাহলে দেখব এর মূলে রয়েছে অশিক্ষা বা শিক্ষার অভাব। কারণ, শিক্ষা বা জ্ঞানচর্চা আমাদের বিভিন্ন সমস্যার যথার্থ সমাধানের পথের সন্ধান দেয়। বিভিন্ন সমস্যার মোকাবিলার কৌশল অর্জনে সাহায্য করে। আমরা যদি ইতিহাসের দিকে লক্ষ্য করি, তাহলে দেখব, মানুষ যখনই বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে, তখন সে তার অর্জিত শিক্ষা বা জ্ঞান দ্বারা এর সমাধানের কৌশল উদ্ভাবন করেছে। আর এভাবেই মানুষ পৃথিবীকে একটি সুন্দর আবাসভূমি হিসেবে নির্মাণের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আজও বহুলাংশে মানুষ ক্ষুধা ও দারিদ্র্য দ্বারা পীড়িত। কিন্তু পৃথিবীর সবাই বা সব জাতি এ সমস্যা দ্বারা পীড়িত নয়। এর কারণও শিক্ষা। আমরা দেখছি, উন্নত বা সুশিক্ষিত জাতিরা আর এখন ক্ষুধা ও দারিদ্র্য দ্বারা পীড়িত নয়। বরং তারা তাদের শিক্ষার দ্বারা অর্জিত জ্ঞান ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে এ সমস্যা মোকাবিলার শক্তি ও সামর্থ্য অর্জন করেছে। আর যেসব জাতি সুশিক্ষিত নয় বা শিক্ষার হার যথেষ্ট কম তারাই ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছে।
অতএব, কথাটা নির্দ্বিধায় বলা যায়, শিক্ষা আবশ্যম্ভাবীরূপে সমাজ থেকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্য দূরীকরণের কার্যকর উপায়। কেননা, শিক্ষার দ্বারা মানুষ এ সমস্যা উত্তরণের শক্তি অর্জন করে এবং শিক্ষার দ্বারাই কেবল মানুষ এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারে।
ভাবসম্প্রসারণটি আবার সংগ্রহ করে দেওয়া হলো
মূলভাব : শিক্ষা মানুষের জীবনের মৌলিক অধিকার এবং সভ্যতার মূল চালিকাশক্তি। শিক্ষার মাধ্যমেই মানুষ জ্ঞান, দক্ষতা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ অর্জন করে। একজন শিক্ষিত মানুষ নিজের জীবনকে যেমন সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারে, তেমনি সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়। তাই ক্ষুধা, দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণে শিক্ষাকেই সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সম্প্রসারিত ভাব : পৃথিবীর ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, যে জাতি যত বেশি শিক্ষিত, সে জাতি তত বেশি উন্নত, সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী। শিক্ষা মানুষের চিন্তাশক্তিকে বিকশিত করে এবং তাকে আত্মনির্ভরশীল হতে সাহায্য করে। অশিক্ষিত মানুষ সাধারণত কুসংস্কার, অজ্ঞতা ও দারিদ্র্যের বেড়াজালে আবদ্ধ থাকে। পক্ষান্তরে, শিক্ষিত মানুষ আধুনিক জ্ঞান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়। তাই বলা হয়— “শিক্ষাই শক্তি, শিক্ষাই মুক্তি”।
বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর মধ্যে ক্ষুধা ও দারিদ্র্য অন্যতম। বিশ্বের বহু মানুষ এখনও খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা ও বাসস্থানের মতো মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থ। এ সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণ হলো অশিক্ষা। কারণ, শিক্ষা না থাকলে মানুষ দক্ষতা অর্জন করতে পারে না, কর্মসংস্থানের সুযোগ পায় না এবং উন্নত জীবনযাপনের পথও খুঁজে পায় না। একজন অশিক্ষিত কৃষক আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে জানেন না বলে কম ফলন পান, কিন্তু শিক্ষিত কৃষক উন্নত বীজ, সেচব্যবস্থা ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে অধিক উৎপাদন করতে পারেন। ফলে তার আয় বাড়ে এবং দারিদ্র্য দূর হয়।
উদাহরণ হিসেবে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরের কথা বলা যায়। একসময় এসব দেশ অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে ছিল। কিন্তু তারা শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে জনগণকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করেছে। ফলস্বরূপ, আজ তারা বিশ্বের উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়া যুদ্ধবিধ্বস্ত অবস্থা থেকে শুধুমাত্র শিক্ষার প্রসারের মাধ্যমে শিল্পোন্নত দেশে পরিণত হয়েছে। অপরদিকে, যেসব দেশে শিক্ষার হার কম, সেসব দেশে দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও সামাজিক অপরাধের হার তুলনামূলক বেশি।
শিক্ষা শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নই নয়, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শিক্ষিত মানুষ স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা, পরিবার পরিকল্পনা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও মানবাধিকারের বিষয়ে সচেতন হয়। এর ফলে সমাজে রোগব্যাধি, অপরাধ ও বৈষম্য কমে আসে। নারীদের শিক্ষিত করা গেলে পুরো পরিবার শিক্ষার আলো পায় এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মও উন্নত জীবন লাভ করে। তাই বলা হয়, “একজন নারী শিক্ষিত হলে একটি জাতি শিক্ষিত হয়।”
বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। সরকার বর্তমানে বিনামূল্যে বই বিতরণ, উপবৃত্তি প্রদান, কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে শিক্ষার হার বৃদ্ধির চেষ্টা করছে। এর ফলে অনেক দরিদ্র পরিবার শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে এবং কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দারিদ্র্যমুক্ত জীবনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কারিগরি ও প্রযুক্তিগত শিক্ষা যুবসমাজকে দক্ষ করে তুলছে, যা দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছে।
প্রকৃতপক্ষে, শিক্ষা মানুষের অন্তর্নিহিত শক্তিকে জাগ্রত করে এবং তাকে আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন মানুষে পরিণত করে। শিক্ষা মানুষকে শুধু অর্থ উপার্জনের পথই দেখায় না, বরং ন্যায়-অন্যায় বিচার করার ক্ষমতাও প্রদান করে। তাই ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও সামাজিক পশ্চাৎপদতা দূর করে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও উন্নত সমাজ গঠনের জন্য শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।
উপসংহার : শিক্ষা ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নের মূল ভিত্তি। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সমাজ গঠনে শিক্ষার ভূমিকা অপরিসীম। তাই আমাদের সকলের উচিত শিক্ষার প্রসারে এগিয়ে আসা এবং প্রতিটি শিশুর জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা। কেননা শিক্ষিত জাতিই পারে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও মানবিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে।
Leave a Comment (Text or Voice)
Comments (0)