ভাবসম্প্রসারণ : ধৈর্যের ন্যায় মহৎ গুণ আর নেই।

Article Stats 📡 Page Views
Reading Effort
644 words | 4 mins to read
Total View
568
Last Updated
5 days ago
Today View
0
ধৈর্যের ন্যায় মহৎ গুণ আর নেই।

মূলভাব : সহিষ্ণুতা মানব চরিত্রের একটি শ্রেষ্ঠ গুণ। ধৈর্য ধারণ করা না শিখলে কোনো মানুষই জীবনে সাফল্য লাভ করতে পারবে না। সহনশীল ব্যক্তিরাই জীবনে অধিক দিন টিকে থাকে।

সম্প্রসারিত ভাব : জীবনের চলার পথে বাধা-বিপত্তি প্রায় নৈমিত্তিক ঘটনা। চলার পথকে সুগম করতে হলে এসব বাধা-বিপত্তিকে ধৈর্য সহকারে অতিক্রম করতে হবে। অনেকে না বুঝে অন্যায় আচরণ করে থাকে। কিন্তু ধৈর্য ধরে সে আচরণ সহ্য করতে না পারলে কলহের সৃষ্টি হবে। কখনো বা তার রূপ হতে পারে ভয়ঙ্কর। বৃদ্ধার ফেলে রাখা পথের কাঁটা বার বার সরিয়ে মহানবি (স.) পথ চলতে পেরেছিলেন বলেই তাঁর ধৈর্যের মহিমা আজ প্রকাশিত হয়ে পড়েছে। সম্রাট নেপোলিয়ান কয়েকবার চেষ্টার পর ওয়াটার লু যুদ্ধে জয়লাভ করেছিলেন। ধৈর্য ধারণ ছাড়া কোনো মহৎ কাজই আজ পর্যন্ত সফল হয়নি। যে ছাত্র যত ধৈর্য ধরে পড়াশোনা করতে পারে, সে ছাত্রের ভবিষ্যৎ ততই উন্নত হবে। তাছাড়া দুঃখ-কষ্ট ও দারিদ্র্যের মাঝে বুক বেঁধে দাঁড়াতে না পারলে এগুলোকে জয় করা সম্ভব হবে না। অনেক আঘাত অপমান সহ্য করতে পেরেছিলেন বলেই অতিশয় নিম্ন বর্ণের হয়েও বি.আর. আম্বেদকর ভারত-বিখ্যাত হয়েছিলেন।

মন্তব্য : পৃথিবীতে অমরত্ব লাভ করতে হলে ধৈর্যের সাধনা করতে হবে। কোনো কাজে অধৈর্য হযে পড়লে সাফল্য অর্জন অসম্ভব হয়ে পড়বে। তাই সাফল্য অর্জনে ধৈর্যের মহৎ গুণ আত্মস্থ করা অত্যাবশ্যক।


ভাবসম্প্রসারণটি আবার সংগ্রহ করে দেওয়া হলো


মূলভাব : ধৈর্য মানুষের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গুণ। ধৈর্যশীল ব্যক্তি প্রতিকূল অবস্থায় বিচলিত না হয়ে স্থিরচিত্তে সমস্যার মোকাবিলা করতে পারে। জীবনে সফলতা অর্জনের জন্য মেধা, শ্রম ও যোগ্যতার পাশাপাশি ধৈর্যেরও প্রয়োজন অপরিসীম। ধৈর্য মানুষকে সহনশীল, সংযমী ও বিচক্ষণ করে তোলে। যে ব্যক্তি ধৈর্য ধারণ করতে পারে, সে জীবনের নানা বাধা-বিপত্তি অতিক্রম করে সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাতে সক্ষম হয়।

সম্প্রসারিত ভাব : মানুষের জীবন সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, সাফল্য-ব্যর্থতার সমন্বয়ে গঠিত। জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপেই নানা ধরনের বাধা ও প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়। এসব প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ধৈর্য হারিয়ে ফেললে মানুষ ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং নিজের ক্ষতি ডেকে আনে। অন্যদিকে ধৈর্যশীল ব্যক্তি ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি মোকাবিলা করে এবং শেষ পর্যন্ত সফল হয়। তাই ধৈর্যকে সকল মহৎ গুণের ভিত্তি বলা হয়।

মানবজীবনে ধৈর্যের গুরুত্ব অপরিসীম। পরিবার, সমাজ ও কর্মক্ষেত্রে শান্তি বজায় রাখতে ধৈর্যের বিকল্প নেই। অনেকে না বুঝে অন্যায় আচরণ বা কটু কথা বলে থাকে। সেসব কথায় উত্তেজিত হয়ে প্রতিক্রিয়া দেখালে বিবাদ ও অশান্তির সৃষ্টি হয়। কিন্তু ধৈর্যের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দিলে বিরোধ সহজেই মিটে যেতে পারে। একজন সহিষ্ণু মানুষ সমাজে সকলের শ্রদ্ধা অর্জন করে।

ইতিহাসে ধৈর্যের বহু উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রয়েছে। মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) অসংখ্য নির্যাতন ও অপমান ধৈর্যের সঙ্গে সহ্য করেছিলেন বলেই ইসলাম সারা বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বৃদ্ধার ফেলে রাখা কাঁটা বারবার সরিয়ে তিনি তাঁর মহান সহিষ্ণুতার পরিচয় দিয়েছিলেন। তেমনি হযরত আইয়ুব (আ.) কঠিন রোগ ও দুঃখ-কষ্টের মাঝেও অসীম ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছিলেন। তাঁর ধৈর্য আজও মানুষের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ।

বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী টমাস আলভা এডিসন বৈদ্যুতিক বাতি আবিষ্কারের আগে হাজারবার ব্যর্থ হয়েছিলেন। কিন্তু তিনি ধৈর্য হারাননি। অবশেষে তাঁর অধ্যবসায় ও ধৈর্যের ফলেই পৃথিবী বৈদ্যুতিক আলোর আশীর্বাদ পেয়েছে। একইভাবে সম্রাট নেপোলিয়ান বহু বাধা অতিক্রম করে যুদ্ধজয়ে সফল হয়েছিলেন। বহু অপমান ও সামাজিক বৈষম্য সহ্য করেও ড. বি. আর. আম্বেদকর শিক্ষার মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন এবং ভারতবর্ষে এক অনন্য ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছিলেন।

ছাত্রজীবনেও ধৈর্যের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। যে ছাত্র ধৈর্য ও মনোযোগ সহকারে নিয়মিত অধ্যয়ন করে, সে অবশ্যই ভালো ফলাফল অর্জন করতে পারে। পরীক্ষায় সাময়িক ব্যর্থতা দেখে হতাশ না হয়ে পুনরায় চেষ্টা চালিয়ে যাওয়াই সফলতার মূলমন্ত্র। কৃষক ধৈর্য ধরে ফসল ফলায়, জেলে ধৈর্য ধরে মাছ ধরার অপেক্ষা করে, তেমনি প্রত্যেক মানুষকেই জীবনে সফল হতে ধৈর্যের আশ্রয় নিতে হয়।

বর্তমান যুগে মানুষ অল্পতেই অধৈর্য হয়ে পড়ে। দ্রুত সফলতার আকাঙ্ক্ষা অনেককে অসৎ পথেও পরিচালিত করে। কিন্তু প্রকৃত সফলতা কখনো শর্টকাট পথে অর্জিত হয় না। ধৈর্য, অধ্যবসায় ও সততার মাধ্যমে অর্জিত সফলতাই স্থায়ী ও গৌরবময়। তাই ব্যক্তিজীবন, সামাজিক জীবন ও জাতীয় জীবনে ধৈর্যের চর্চা অত্যন্ত জরুরি।


মন্তব্য : ধৈর্য এমন একটি মহৎ গুণ, যা মানুষকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দেয়। ধৈর্যহীন ব্যক্তি কখনো বড় কোনো কাজে সফল হতে পারে না। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ধৈর্য, সহিষ্ণুতা ও আত্মসংযম মানুষকে সম্মান ও মর্যাদা এনে দেয়। তাই আমাদের সকলের উচিত ধৈর্যকে জীবনের অবিচ্ছেদ্য গুণ হিসেবে গ্রহণ করা এবং প্রতিটি কাজে ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের পরিচয় দেওয়া।

💎 উপরের লিখাগুলো ওয়ার্ড ফাইলে সেভ করুন!

মাত্র 10 টাকা Send Money করে অফলাইনে পড়ার জন্য বা প্রিন্ট করার জন্য উপরের লিখাগুলো Microsoft Word ফাইলে ডাউনলোড করুন।

Download (.docx)

Sribas Ch Das

Founder & Developer

HR & Admin Professional (১২+ বছর) ও কোচিং পরিচালক (১৪+ বছর)। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সহজ Study Content নিশ্চিত করতেই এই ব্লগ।

🏷️ Tag Related

⚡ Trending Posts

Facebook Messenger WhatsApp LinkedIn Copy Link

✅ The page link copied to clipboard!

Leave a Comment (Text or Voice)




Comments (0)

Old Taka Archive (ota.bd)

✓ ১০০% আসল নোটের নিশ্চয়তা