ভাবসম্প্রসারণ : ধৈর্যের ন্যায় মহৎ গুণ আর নেই।
| Article Stats | 📡 Page Views |
|---|---|
|
Reading Effort 644 words | 4 mins to read |
Total View 568 |
|
Last Updated 5 days ago |
Today View 0 |
সম্প্রসারিত ভাব : মানুষের জীবন সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না, সাফল্য-ব্যর্থতার সমন্বয়ে গঠিত। জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপেই নানা ধরনের বাধা ও প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হয়। এসব প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ধৈর্য হারিয়ে ফেললে মানুষ ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং নিজের ক্ষতি ডেকে আনে। অন্যদিকে ধৈর্যশীল ব্যক্তি ঠান্ডা মাথায় পরিস্থিতি মোকাবিলা করে এবং শেষ পর্যন্ত সফল হয়। তাই ধৈর্যকে সকল মহৎ গুণের ভিত্তি বলা হয়।
মানবজীবনে ধৈর্যের গুরুত্ব অপরিসীম। পরিবার, সমাজ ও কর্মক্ষেত্রে শান্তি বজায় রাখতে ধৈর্যের বিকল্প নেই। অনেকে না বুঝে অন্যায় আচরণ বা কটু কথা বলে থাকে। সেসব কথায় উত্তেজিত হয়ে প্রতিক্রিয়া দেখালে বিবাদ ও অশান্তির সৃষ্টি হয়। কিন্তু ধৈর্যের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দিলে বিরোধ সহজেই মিটে যেতে পারে। একজন সহিষ্ণু মানুষ সমাজে সকলের শ্রদ্ধা অর্জন করে।
ইতিহাসে ধৈর্যের বহু উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রয়েছে। মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) অসংখ্য নির্যাতন ও অপমান ধৈর্যের সঙ্গে সহ্য করেছিলেন বলেই ইসলাম সারা বিশ্বে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বৃদ্ধার ফেলে রাখা কাঁটা বারবার সরিয়ে তিনি তাঁর মহান সহিষ্ণুতার পরিচয় দিয়েছিলেন। তেমনি হযরত আইয়ুব (আ.) কঠিন রোগ ও দুঃখ-কষ্টের মাঝেও অসীম ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছিলেন। তাঁর ধৈর্য আজও মানুষের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ।
বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী টমাস আলভা এডিসন বৈদ্যুতিক বাতি আবিষ্কারের আগে হাজারবার ব্যর্থ হয়েছিলেন। কিন্তু তিনি ধৈর্য হারাননি। অবশেষে তাঁর অধ্যবসায় ও ধৈর্যের ফলেই পৃথিবী বৈদ্যুতিক আলোর আশীর্বাদ পেয়েছে। একইভাবে সম্রাট নেপোলিয়ান বহু বাধা অতিক্রম করে যুদ্ধজয়ে সফল হয়েছিলেন। বহু অপমান ও সামাজিক বৈষম্য সহ্য করেও ড. বি. আর. আম্বেদকর শিক্ষার মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন এবং ভারতবর্ষে এক অনন্য ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছিলেন।
ছাত্রজীবনেও ধৈর্যের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। যে ছাত্র ধৈর্য ও মনোযোগ সহকারে নিয়মিত অধ্যয়ন করে, সে অবশ্যই ভালো ফলাফল অর্জন করতে পারে। পরীক্ষায় সাময়িক ব্যর্থতা দেখে হতাশ না হয়ে পুনরায় চেষ্টা চালিয়ে যাওয়াই সফলতার মূলমন্ত্র। কৃষক ধৈর্য ধরে ফসল ফলায়, জেলে ধৈর্য ধরে মাছ ধরার অপেক্ষা করে, তেমনি প্রত্যেক মানুষকেই জীবনে সফল হতে ধৈর্যের আশ্রয় নিতে হয়।
বর্তমান যুগে মানুষ অল্পতেই অধৈর্য হয়ে পড়ে। দ্রুত সফলতার আকাঙ্ক্ষা অনেককে অসৎ পথেও পরিচালিত করে। কিন্তু প্রকৃত সফলতা কখনো শর্টকাট পথে অর্জিত হয় না। ধৈর্য, অধ্যবসায় ও সততার মাধ্যমে অর্জিত সফলতাই স্থায়ী ও গৌরবময়। তাই ব্যক্তিজীবন, সামাজিক জীবন ও জাতীয় জীবনে ধৈর্যের চর্চা অত্যন্ত জরুরি।
Leave a Comment (Text or Voice)
Comments (0)