ভাবসম্প্রসারণ : চন্দ্র কহে, বিশ্বে আলো দিয়েছি ছড়ায়ে, / কলঙ্ক যা আছে তাহা আছে মোর গায়ে।
| Article Stats | 📡 Page Views |
|---|---|
|
Reading Effort 476 words | 3 mins to read |
Total View 7.2K |
|
Last Updated 22-Apr-2026 | 09:13 PM |
Today View 0 |
চন্দ্র কহে, বিশ্বে আলো দিয়েছি ছড়ায়ে,
কলঙ্ক যা আছে তাহা আছে মোর গায়ে।
মহৎ যাঁরা, পরহিতব্রতী যাঁরা, তাঁরা নিজেকে বিলিয়ে দেন জগৎ ও জগৎবাসীর কল্যাণে। তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনের দুঃখ, যন্ত্রণা, নিন্দা ও কালিমা যদি কিছু থাকে তবে তা তাঁরা একাকী বহন করেন, সর্বদা সচেষ্ট থাকেন সেই বিষ যেন অন্যকে স্পর্শ না করে। সমস্ত বিষজ্বালা সয়ে তাঁরা বিশ্বমানবকে দান করেন হিরন্ময় আলো। সে আলোতে মানুষের জীবন হয় আলোকিত।
আকাশের চাঁদ যেমন তার কলঙ্ককে যথাসম্ভব ঢেকে রেখে স্নিগ্ধ জ্যোৎস্নার শুভ্রতা চড়িয়ে ঘুচিয়ে দেয় পৃথিবীর মালিন্যের অন্ধকার, মহামনীষীদের জীবনও তেমনি। তাঁরা ব্যক্তিগত জীবনে হয়তো অপরিসীম দুঃখ-ক্লেশ ভোগ করেন, অসম্মান ও লাঞ্ছনা সহ্য করেন, স্থলন ও ত্রুটিতে জড়িয়ে যান। কিন্তু তার বিন্দুমাত্রও তাঁরা অন্যকে স্পর্শ করতে দেন না। তাঁরা অপরিসীম গুণাবলি দিয়ে সেসব দুঃখ-ক্লেশ আড়াল করেন। অপরিসীম মমতা ও আন্তরিকতা দিয়ে অন্যের দুঃখ মোচনে ব্রতী হন, দুঃস্থ মানবতার জন্যে নিজের স্বস্তি বিলিয়ে দেন, অন্যের বিপদে জীবনের ঝুঁকি নিতে দ্বিধা করেন না, জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে অজ্ঞানতার অন্ধকার দূর করেন, মহৎ সাধনায় অনুপ্রাণিত করেন বিশ্বজনকে। হৃদয়ের বিশালতা দিয়ে এঁরা জয় করেন সকল সংকীর্ণতা, ক্ষুদ্রতা ও মালিন্যকে। মানব সভ্যতার ইতিহাসে হজরত মুহম্মদ (স.), শ্রীকৃষ্ণ, বুদ্ধদেব, যিশু খ্রিস্ট, চৈতন্যদেব প্রমুখ ধর্মবেত্তাদের ভূমিকা এমনি। কেবল এই সব মহামনীষীই নন, শিল্পী, সাহিত্যিক, বিজ্ঞানী, দার্শনিক, রাষ্ট্রনায়করাও বিশ্বজনের অন্তরকে আলোময় করে মানব সভ্যতার নিত্য নব উত্তরণে মহৎ অবদান রেখে আসছেন। এঁদের অনেকে জীবনে অপরিসীম দুঃখ দহনে জর্জরিত হয়েছেন। কিন্তু দুঃখজয়ী চেতনা দিয়ে তাঁরা শিল্প-সাহিত্য-বিজ্ঞানের নব নব সৃষ্টির সাহায্যে মানুষের জীবনে ছড়িয়েছেন আনন্দ ও আলো। তাঁদের অবদানেই পৃথিবী এগিয়ে চলেছে আলোর পথে।
এই ভাবসম্প্রসারণটি অন্য বই থেকেও সংগ্রহ করে দেয়া হলো
চাঁদ যেমন তার আলো দিয়ে পৃথিবীকে আলোকিত করে, তেমনি মহৎ ব্যক্তিগণ মানবসেবায় নিজেদের উৎসর্গ করেন। তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনের দুঃখ-যন্ত্রণা, নিন্দা, কালিমা যদি কিছু থাকে তবে তা তাঁরা নীরবে নিঃশব্দে বহন করেন। আর বিশ্বমানবের তরে বিলিয়ে দেন হিরন্ময় আলো।
পৃথিবীর এক বিস্ময়কর উপগ্রহ চাঁদ। চাঁদের বুকে যেমন রয়েছে উপচেপরা আলোর প্লাবন, তেমনি রয়েছে কালো কলো দাগ, যা চাঁদের কলঙ্ক নামে পরিচিত। কিন্তু চাঁদ তার কলঙ্ককে ঢেকে রেখে নিঃস্বার্থভাবে পৃথিবীতে আলো বিলিয়ে দেয়। আর সে আলোয় আলোকিত হয় গোটা পৃথিবী, সৌন্দর্যে উদ্ভাসিত হয় চারদিক। চাঁদের এ উজাড় করা আলোর প্লাবন যেন ত্যাগেরই মহান শিক্ষা, আর চাঁদ যেন সে ত্যাগেরই মূর্ত প্রতীক। চাঁদের সাথে পৃথিবীর মহৎ ব্যক্তিগণের তুলনা করা যায়। চাঁদের আলোর ন্যায় তাঁরা তাদের গুণমাধুর্যে বিমোহিত করেন বিশ্ববাসীকে। তাঁরা উদারচিত্তে অপরের হিত সাধনে ব্রত থাকেন –সবার মাঝে জ্ঞানের আলো বিলিয়ে দিয়ে দূর করেন অজ্ঞানতার অন্ধকার, অপরিসীম মায়া-মমতা দিয়ে অন্যের দুঃখ মোচন করেন, হৃদয়ের বিশালতা দিয়ে জয় করেন সংকীর্ণতা, ক্ষুদ্রতা ও মালিন্যকে। আর এ পরহিত সাধনেই তাঁরা প্রকৃত সুখ খুঁজে পান। হযরত মুহম্মদ (স), যিশুখ্রিস্ট, বুদ্ধদেব, শ্রীকৃষ্ণ প্রমুখ ধর্মবেত্তাগণ জীবনে অনেক দুঃখ-কষ্ট সয়ে মানবের মঙ্গল কামনায় নিজেদের জীবন উৎসর্গ করে দিয়েছেন।
মহৎ ব্যক্তিদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে সকলেরই নিঃস্বার্থভাবে মানব সেবায় আত্মনিয়োগ করা উচিত।
শিক্ষণীয় দিক:
- নিজের ব্যক্তিগত দুঃখ বা ত্রুটিকে বড় করে না দেখে অন্যের কল্যাণে কাজ করাই মহত্ত্বের পরিচয়।
- মহৎ ব্যক্তিরা ত্যাগের মাধ্যমেই পৃথিবীতে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেন।
- পরোপকার এবং নিঃস্বার্থ সেবা মানুষের জীবনের কালিমা ঘুচিয়ে তাকে অমর করে তোলে।
Leave a Comment (Text or Voice)
Comments (0)