ব্যাকরণ : ভিন্নার্থক শব্দ অথবা শব্দ বা পদের ভিন্নার্থে প্রয়োগ

History 📡 Page Views
Published
24-Nov-2025 | 04:58:38 PM
Total View
56
Last Updated
25-Nov-2025 | 11:23:11 AM
Today View
0

ভিন্নার্থক শব্দ

শব্দ বা পদের ভিন্নার্থে প্রয়োগ


ভাষা ও শব্দ নিয়ে যারা গভীরভাবে পর্যালোচনা করেন তাঁরা লক্ষ করেন যে, ভাষাভাষী মানুষ একই শব্দ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রয়োগ বা ব্যবহার করছে। ব্যাকরণে এ ধরনের শব্দ ও এর প্রয়োগকে বিভিন্ন শব্দের ভিন্নার্থে প্রয়োগ বলে অভিহিত করা হয়।

এ ধরনের শব্দগুলোর অর্থ অভিধানে প্রদত্ত অর্থের সাথে সবসময় খাপ খায় না বা মেলে না। কেননা এ শব্দগুলো মূলত বাক্যে ব্যবহৃত হওয়ার সময় এর ভাব বদলে গিয়ে ভিন্ন ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে। এতে বাক্যের উৎকর্ষ বা অপকর্ষ দুই-ই প্রকাশ পায়।

বিভিন্নভাবে এ ধরনের পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়।

এখানে ‘কাজ’ শব্দটির উদাহরণ দেওয়া হলো--

কাজ (উদ্দেশ্য সিদ্ধি) : নিজের কাজ উদ্ধার হওয়ার পর তার আর দেখা নেই।
কাজ (কর্ম অর্থে) : শ্যামল ব্যাকরণের কাজটি যত দ্রুত সম্ভব শেষ কর।
কাজ (অকেজো অর্থে) : সফিকের কথা বাদ দাও, কাজের কাজ কিছু পারে না, শুধু লম্বা লম্বা কথা বলে।
কাজ (প্রয়োজনে সিদ্ধ হওয়া অর্থে) : বিসিএসের জন্য চাই জ্ঞান, শুধু সার্টিফিকেটের জোরে কাজ হবে না।
কাজ (সাহায্য অর্থে) : বইটি যত্ন করে রাখ একদিন কাজে লাগতেও পারে।

একটু মনোযোগ সহকারে লক্ষ করলে দেখা যাবে যে, ‘কাজ’ শব্দটি এখানে ভিন্ন ভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয়ে অর্থের বৈচিত্র্য এনেছে।

নিচে কতকগুলো শব্দ বা পদের ভিন্নার্থে প্রয়োগ দেওয়া হলো

অঙ্ক
অঙ্ক (সংখ্যা) : জলোচ্ছ্বাসে মৃতের সংখ্যা পাঁচ অঙ্কের ওপরে।
অঙ্ক (গণিত) : মেয়েটি অঙ্কে কাঁচা
অঙ্ক (নাট্যাংশ) : দ্বিতীয় অঙ্কের অভিনয় শেষ হলো।
অঙ্ক (কোল) : শিশু নিদ্রা যায় মাতৃঅঙ্কে।
অঙ্ক (রেখা ) : বইয়ে অঙ্ক এঁকো না, দেখতে ভালো লাগে না।

অন্তর
অন্তর (মন) : আমার অন্তরে বারবার পাঠায়েছে নিমন্ত্রণ তার।
অন্তর (অন্য) : মুক্তিযুদ্ধের সময় অনেকেই দেশান্তরে গিয়েছেন।
অন্তর (পার্থক্য, ব্যবধান) : দুদিন অন্তর অন্তর এসে তোমাকে দেখে যাব।
অন্তর (অবসান, শেষ) : শিশু তা অন্তরে হৈল যৌবন বিস্তার।

অর্থ
অর্থ (উদ্দেশ্য) : কী অর্থে বেঁচে থাকব তোমা বিহনে ।
অর্থ (টাকা) : দাওয়াত তো পেলাম হাতে তো অর্থ নেই।
অর্থ (সম্পদ) : অর্থবানের সাথে গরিবের টক্কর দেওয়া সাজে না।
অর্থ (মানে) : সে যে কী বলল তার কোনো অর্থ খুঁজে পেলাম না।
অর্থ (শাস্ত্রবিশেষ) : অর্থনীতি বুঝতে হলে অর্থশাস্ত্র ভালোভাবে পড়।

কথা
কথা (অঙ্গীকার) : সে আমায় কথা দিয়েছে, আজ কিছু হতে চলেছে।
কথা (প্রসঙ্গ) : আজকাল সর্বত্রই বিশ্বশান্তির কথা আলোচিত হয়।
কথা (অনুরোধ) : আমার কথা শোন- তোমার ক্ষতি হবে না।
কথা (উপদেশ) : জীবনে তোমার উন্নতি করতে হলে পিতামাতা ও শিক্ষকদের কথা শুনবে।
কথা (বাক্য) : তার সাথে কথায় পেরে ওঠা মুশকিল।
কথা (গল্প) : দাদি তখন রাক্ষস-খোক্কশের কথা বলছিলেন।
কথা (অসদ্ভাব) : দুই ভাইয়ের মধ্যে কোনো কথা নেই।
কথা (বিস্ময়) : এমন কথা তো কোনো কালেও শুনিনি!
কথা (প্রতিশ্রুতি) : কথা দাও, আমাকে একা ফেলে যাবে না কোনো দিন।
কথা (তর্ক) : তোমার সাথে আর কথায় পেরে উঠলাম না।
কথা (পরামর্শ) : আপনার সাথে একটা জরুরি কথা আছে।

কাটা
কাটা (সময় অতিবাহিত হওয়া) : কোথা দিয়ে যে সময়টা কেটে গেল।
কাটা (বিপদ দূর হওয়া) : অবশেষে বিপদ কেটে গেছে।
কাটা (বিদূরিত হওয়া) : আকাশের মেঘ কেটে গেছে।
কাটা (লজ্জিত) : কথাটি শুনেই সে জিভ কেটে সরে গেল ।
কাটা (কর্তিত হওয়া) : ছেলেটি ছুরিতে হাত কেটে ফেলেছে।
কাটা (বেদনা) : কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দিও না।
কাটা (খনন করা) : পুকুর কাটলে পানির কষ্ট দূর হবে।
কাটা (সামঞ্জস্যচ্যুত হওয়া) : গানের তাল কেটে গেল যে।
কাটা (জানা) : লোকটি বেশ সাঁতার কাটতে পারে।
কাটা (বাজারের চলন) : বাজারে আমার বইখানির বেশ কাটতি ।

কাঁচা
কাঁচা (অনিপুণ) : রানা হাতের লেখায় কাঁচা।
কাঁচা (অপরিণত) : শ্যামলালের কাঁচা বয়স— রক্তের গরম তো থাকবেই।
কাঁচা (নির্বোধ) : সে এমন কাঁচা নয় যে, চাইলেই টাকা দিবে।
কাঁচা (শীতল বা অফুটন্ত) : কাঁচা পানিতে বাচ্চাদের গোসল করিও না।
কাঁচা (বিশেষরূপে দগ্ধ নয়) : তরকারিতে কাঁচা হলুদের গন্ধ লাগছে।
কাঁচা (আপোড়া) : আলম কাঁচা ইটের গাঁথুনিতে ঘর বেঁধেছে।
কাঁচা (ছোট ছেলেমেয়ে) : কচি-কাঁচার সংসারে দুধের খরচ একটু বেশি।
কাঁচা (ওজনে কম) : কাঁচা ওজনে মাল নিলে ঠকতে হয়।
কাঁচা (ঢিলা সেলাই) : কাঁচা সেলাই দিয়ে জামাটার সর্বনাশ করেছ।
কাঁচা (অগভীর) : কাঁচা ঘুম থেকে জেগে উঠেই শ্যামল কাঁদতে লাগল।
কাঁচা (বিশুদ্ধ) : সকালের কাঁচা রোদে ভিটামিন-ডি থাকে।
কাঁচা (অসিদ্ধ) : এ রকম কাঁচা তরকারি দিয়ে কি ভাত খাওয়া যায়?
কাঁচা (যা স্থায়ী নয়) : কাঁচা রংটা একবার ধোয়াতেই উঠে গেছে।
কাঁচা (মাটির তৈরি) : কাঁচা রাস্তায় বর্ষাকালে কাদা হয়।
কাঁচা (অপক্ক) : গাছের আমগুলো সব কাঁচা ।

খাওয়া
খাওয়া (তিরস্কার) : সে ধমক খেয়ে চলে গেল।
খাওয়া (ঘুষ) : টাকা খেয়ে ভুঁড়িটা বেশ মোটা করেছ।
খাওয়া (ঋণ স্বীকার) : আমি তার নুন খেয়েছি, তাই গুণ গাই।
খাওয়া (দিব্যি দেওয়া) : মাথা খাস- এমন কাজ করিস না।
খাওয়া (বেড়ান) : গফুর সাহেব সবার সঙ্গে হাওয়া খেতে বের হলেন।
খাওয়া (মানিয়ে চলা) : বড় বউ সবার সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলে।
খাওয়া (খাওয়া কষ্ট পাওয়া) : লোকটা খাবি খাচ্ছে- এবার পটল তুলবে।
খাওয়া (খাদ্য খাওয়া) : আমি বেশ ভালো খেয়েছি।
খাওয়া (সেবন করা) : হাওয়া খেলে পেট ভরে না।
খাওয়া (উপকার পাওয়া) : নিমক খেলে মনে রাখতে হয়।
খাওয়া (লাভ হওয়া) : পেটে খেলে পিঠে সয় ।
খাওয়া (সহ্য করা) : জীবনের পথে অনেক মার খেতে হয়।
খাওয়া (বাধা পাওয়া) : কাজের শুরুতেই আরিফ ধাক্কা খেল।
খাওয়া (ধুঁকে ধুঁকে চলা) : সংসারে সে খাবি খেতে খেতেই দিন কাটাল।

গা
গা (গ্রাহ্য করা) : গরিব বলে সে আমার কথা গা করছে না।
গা (আত্মগোপন করা) : খুনের আসামি গা ঢাকা দিয়েছে।
গা (গাত্রোত্থান করা) : গা তুলে কাজে লেগে যাও দেখি।
গা (ভয় পাওয়া) : নির্জন পথে আমার গা কাঁটা দিয়ে উঠল।
গা (নিশ্চিন্ত মনে) : পরীক্ষা শেষে এবার গায়ে ফুঁ দিয়ে বেড়াও।
গা (মন লাগানো) : গা করে কাজ কর বাপু।
গা (অল্প জ্বর) : আমার গা গরম হয়েছে।
গা (শান্তি পাওয়া) : তাড়িনী মরেছে ওপাড়ার গা জুড়িয়েছে।
গা (অসুস্থতা বোধ করা) : আজ সকাল থেকে আমার গা ভারী ভারী লাগছে।

গুণ
গুণ (ধর্ম, স্বভাব) : দ্রব্যটির গুণগত মান অটুট রয়েছে ।
গুণ (দড়ি) : গুণ টেনে মাঝি নৌকা নিয়ে যায়।
গুণ (নৈপুণ্য, দক্ষতা) : করিম বক্সের আছে মানুষের মন জয় করার বিশেষ গুণ।
গুণ (জাদু) : ছেলেকে আমার গুণ করা হয়েছে।
গুণ (ফলদায়ক ক্ষমতা) : লতাপাতার গুণে সে মৃত্যুর হাত থেকে ফিরে এসেছে।
গুণ (পূরণ) : চারকে তিন দিয়ে গুণ করলে বারো হয়।
গুণ (দোষ) : “অমন গুণের বালাই নিয়ে মরি।”
গুণ (উপকার) : সত্য বলার গুণ বহুবিধ।

চাল
চাল (খাদ্যশস্য) : যৌথ সংসারে চাল কিনতেই সব ফুরিয়ে যায়।
চাল (ফন্দি) : তোমার চাল বুঝবে এমন বুদ্ধি কার।
চাল (ঘরের চাল) : ঝড়বৃষ্টির দিন আসার আগেই চাল সারাতে হবে।
চাল (ব্যবহার) : রোকনের চালচলন আর আগের মতো নেই।
চাল (আশ্রয়) চাল নেই চুলো নেই মুখে বড় বড় কথা।

চোখ
চোখ (দৃষ্টি) : তোর চোখ ভালো, তুই চশমা পরেছিস কেন?
চোখ (হিংসা প্রকাশ) : তার সম্পত্তি দেখে তোমার চোখ টাটায় কেন?
চোখ (সতর্ক পাহারা) : ছোট বাচ্চাদের চোখে চোখে রাখতে হয়।
চোখ (নজর দেওয়া) : কেন তুমি বারবার খাবারের দিকে চোখ দিচ্ছ।
চোখ (রোগবিশেষ) : চোখ ওঠায় সে খুব কষ্ট পাচ্ছে।
চোখ (ইশারা দেওয়া) : চোখ টিপে মনের ভাব প্রকাশ করা যায়।
চোখ (ভয় দেখানো) : কর্তার চোখ রাঙানিতে এখন কেউ আর ভয় পায় না।
চোখ (জ্ঞানলাভ করা) : ঊষার ক্ষণেও চোখ ফোটেনি, বুঝবে কেমনে?
চোখ (শত্রু) : আমি তোমার চোখের বালি হয়ে থাকতে চাই না।
চোখ (লজ্জা) : চোখের পর্দা না থাকলে অন্যায় করা যায়।

জল
জাল (মাছ ধরার উপকরণ) : কারেন্ট জাল মৎস্য সম্পদের হুমকিস্বরূপ।
জাল (ফাঁদ) : তোমার জালে যে ধরা পড়েছে তার নিস্তার নেই।
জাল (কৃত্রিম/নকল) : দেশে বর্তমানে জাল টাকার ছড়াছড়ি।
জাল (সমূহ) : বাক্যজালে জড়িয়ে বলতে আসা কথাই বলা হলো না।

ধর্ম
ধর্ম (বিভিন্ন সম্প্রদায়ের শাস্ত্রনির্দিষ্ট বিধিবিধান) : বাংলাদেশে ইসলাম ধর্মের অনুসারীরা সংখ্যাগরিষ্ঠ।
ধর্ম (সদাচার, পুণ্যকর্ম) : ক্ষমা মনুষ্যত্বের শ্রেষ্ঠ ধর্ম।
ধর্ম (স্বভাব) : পোড়ানোই আগুনের ধর্ম।
ধর্ম (মনুষ্যত্ব) : তার ধর্মজ্ঞান বিন্দুমাত্র নেই।
ধর্ম (বিশ্ববিধাতা) : দোহাই ধর্মের এমন কাজ করো না।

নাক
নাক (নির্ভাবনা) : এভাবে নাকে তেল দিয়ে ঘুমালে হাঁড়ি শিকেয় উঠবে।
নাক (শাস্তি) : ওকে নাকে দড়ি দিয়ে নাজেহাল করে ছাড়ব।
নাক (শব্দ) : ওর নাক ডাকার শব্দে আমি চমকে উঠলাম।
নাক (অবজ্ঞা প্রকাশ) : হাতের লেখা দেখেই লোকটা নাক সিটকালো।
নাক (প্যান প্যান করা) : তোর নাকি কান্না আমার ভালো লাগে না।
নাক (দ্রুত খাওয়া) : নাকেমুখে গুঁজে ছুট দাও- ট্রেনের সময় হয়েছে।
নাক (ক্ষতি স্বীকার) : নিজের নাক কেটে অপরের যাত্রা ভঙ্গ করা ঠিক নয়।
নাক (বাধ্য) : কৃতী গৃহিণীরা কর্তার নাকে রশি দিয়ে সংসার চালান।
নাক (দোষ স্বীকার) : নাকে খত দিয়ে রহিম এবার রক্ষা পেল।
নাক (অনধিকার চর্চা) : সব ব্যাপারে নাক গলানো উচিত নয়।
নাক (নিরুদ্বেগ অবস্থা) : ভালো পরীক্ষা দিয়ে সাথী নাকে তেল দিয়ে ঘুমায়।
নাক (সাজা বা প্রায়শ্চিত্ত) : কি বলিস ফের হপ্তা, তৌবা নাক খপ্তা।

পত্র
পত্র (পাতা) : পত্রপল্লবে ছেয়ে গেছে তোমার সে গাছ।
পত্র (চিঠি) : নিয়মিত পত্র দিও।
পত্র (দলিল) : বুদ্ধিমানেরা জমির কাগজপত্র না দেখে জমি কেনে না।
পত্র (দ্রব্যাদি) : আসবাবপত্র বলতে তেমন কিছুই আমার নেই।
পত্র (কাগজপত্র) : কাগজপত্র সব গোছগাছ রেখো, এসেই স্বাক্ষর করব।

পড়া
পড়া (অনাদায়ী থাকা) : সিদ্দিক মিয়ার অনেক টাকা দোকানে বাকি পড়েছে।
পড়া (দেখা) : মনিবের অপকর্মটি বিলকিসের চোখে পড়েনি।
পড়া (শান্ত হওয়া) : অনেক অনুরোধের পর শাহানার রাগ পড়ল।
পড়া (আকৃষ্ট হওয়া) : ফুলের বাগানে শাবানার চোখ পড়েছে।
পড়া (স্মরণ করা) : ছেলেবেলার কথা মনে পড়ে।
পড়া (আয়ত্তে আসা) : পড়েছি মোগলের হাতে খানা খেতে হবে একসাথে।
পড়া (অযাচিত) : রীনা গায়ে পড়ে ঝগড়া করে বলে শফিকের দুঃখের সীমা নেই।
পড়া (পাঠ করা) বই পড়লে অনেক কিছু জানা যায়।

পা
পা (অঙ্গ) : পা ভেঙে ঘরে বসে আছি দুবছর ।
পা (এগিয়ে যাওয়া) পা বাড়িয়ে দিয়েছি এখন থামতে পারব না।
পা (তুচ্ছ জ্ঞান) : হাতের লক্ষ্মীকে পায়ে ঠেলে এখন হাহাকার করছি।
পা (ক্ষমা চাওয়া) : বাঁচতে চাও তো বাবা-মায়ের পায়ে পড়।
পা (তোষামোদ) : পায়ে তেল দিয়ে বড় হওয়া যায় না।
পা (দ্রুতবেগে) : আমার সাথে যেতে হলে পা চালিয়ে হাঁটতে হবে।

পাকা
পাকা (নিপুণ) : এটি পাকা হাতের কাজ।
পাকা (অভিজ্ঞ) : এ কাজ করে করে সে পাকা হয়ে গেছে।
পাকা (ইটের তৈরি) : পাকা ঘরে বাস কর, গরিবের কষ্ট তুমি কী বুঝবে?
পাকা (চূড়ান্ত) : তার মেয়ের বিয়ের কথা পাকা হয়ে গেছে।
পাকা (খাঁটি) : পাকা সোনার দাম দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে।
পাকা (বখাটে) : অল্প বয়সেই ছেলেটি পেকে গেছে।
পাকা (পক্ব) : আমগুলো পেকে গেছে।
পাকা (সাদা) : চুল পাকলেই বুদ্ধি হয় না।
পাকা (শক্ত) : পাকা হাড়ে সব হয়।
পাকা (স্থায়ী) : শাড়িটির রং পাকা।
পাকা (ওজন) : পাকা ওজনের মাল কিনলে ঠকতে হয় না।
পাকা (মূল বা প্রধান) : জয়দেব সরকার জমিদারের কাছারিতে পাকা খাতা লিখত।

বড়
বড় (বৃহৎ) : বড় দালানে বাস করে গরিবের কষ্ট বোঝা যায় না।
বড় (দীর্ঘ) : বড় রাস্তার পাশে আমাদের বাড়ি।
বড় (প্রশস্ত) : বড় ঘরে অনেক লোক বসেছে।
বড় (উচ্চৈঃম্বর) : চোরের মায়ের বড় গলা।
বড় (সম্ভ্ৰান্ত) : বড় বংশে জন্মালেই মানুষ বড় হয় না।
বড় (জ্যেষ্ঠ) : তিনি আমার বড় ভাই।
বড় (বৃদ্ধি পাওয়া) : দেশে অরাজকতা বড় হয়ে উঠেছে।
বড় (উদার) : বড় মন না হলে মানুষ হওয়া যায় না।

ভালো
ভালো (শুভাশুভ) : সংসারে ভালো-মন্দ বেছে চলতে হয়।
ভালো (সুখবর) : লিলির পরীক্ষা পাসের সংবাদ শুনে আমার খুব ভালো লাগল।
ভালো (পুণ্য) : ভালো কাজে তার মন আছে।
ভালো (মঙ্গল) : আল্লাহ তোমার ভালো করুন।
ভালো (হিত বাক্য) : ভালো কথা সবারই ভালো লাগে।
ভালো (সুস্থ) : দোয়া করি তুমি ভালো থেকো৷
ভালো (সৎ) : বড় সাহেব একজন ভালো লোক।

মাথা
মাথা (প্রধান) : মোল্লারা এ গ্রামের মাথা।
মাথা (হতাশ হওয়া) : কথাটা শুনে তিনি মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়লেন।
মাথা (দিব্যি) : মাথা খাও, সেখানে যেও না।
মাথা (বুদ্ধি) : ছেলেটির অঙ্কে মাথা আছে।
মাথা (সর্বনাশ) : আদর দিয়ে ছেলেটির মাথা খেও না।
মাথা (ঝোঁক) : রাগের মাথায় কী বলেছি সেটিই বড় করে দেখলে।
মাথা (অধীনতা) : দেহে প্রাণ থাকতে কারও কাছে মাথা নোয়াব না।
মাথা (মিলন) : চৌরাস্তার মাথায় লোকটি বসে আছে।
মাথা (কেশ) : গোসলের পর মাথা আঁচড়াতে হয়।
মাথা (বৃদ্ধ/অভিজ্ঞ) : তিন মাথা যাঁর বুদ্ধি নেবে তাঁর।
মাথা (কঠিন শ্রম) : সৎপথে উপার্জন করতে হলে মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হয়।
মাথা (ক্রোধ) : অত মাথা গরম করো না।
মাথা (বুদ্ধির পরিচালনা) : কত মাথা খাটিয়ে তবে এ বুদ্ধি বের করেছি।
মাথা (প্রণাম) : ও আমার দেশের মাটি তোমার পরে ঠেকাই মাথা।
মাথা (শীর্ষ) : কলাগাছের মাথায় চাঁদের আলো চিকচিক করছে।

মুখ
মুখ (প্রত্যঙ্গ) : আমরা মুখ দিয়ে কথা বলি
মুখ (ভাষা) : মুখে মধু, অন্তরে বিষ।
মুখ (দিক) : সে পশ্চিম মুখে হন হন করে চলে গেল।
মুখ (কথা) : তার মুখে কোনো রস নেই।
মুখ (গম্ভীর) : তার মুখ খোলানো দায়।
মুখ (শাস্তি) : ফের যদি কথা বলবি মুখ থেঁতলিয়ে দিব।
মুখ (তিরস্কার) : ছেলেটিকে অমন করে মুখ করাটা ঠিক হয়নি।
মুখ (সংযত হওয়া) : মুখ সামলে কথা বল।
মুখ (ক্রোধ) : অমন মুখ ঝাঁঝিয়ে কথা বলো না।
মুখ (সুনাম) : পরীক্ষায় পাস করে সে সকলের মুখ রেখেছে।

সন্ধি
সন্ধি (বর্ণের মিলন) : দুই বর্ণের পরস্পর মিলনের নাম সন্ধি।
সন্ধি (অঙ্গের মিলন) : সন্ধি স্থানে ফোড়া হওয়ায় লোকটি কষ্ট পাচ্ছে।
সন্ধি (ঐক্য স্থাপন) : দুই রাজায় সন্ধি হয়েছে আর যুদ্ধ হবে না।
সন্ধি (সংযোগ/যোগাযোগ) : তার সাথে সন্ধি রেখ— আখের গোছাতে পারবে।

হাত
হাত (দক্ষতা) : ছেলেটি পকেট মেরে হাত পাকিয়েছে।
হাত (খ্যাতি) : তার মতো হাতযশ আর কারও নেই।
হাত (মালসহ) : চোরটি হাতেনাতে ধরা পড়ল৷
হাত (অনুতাপ) : সস্তায় জিনিসটা নিলে না এখন হাত কামড়িয়ে লাভ কী?
হাত (পকেট খরচ) : তাকে কিছু হাত খরচ দাও।
হাত (কৌশল) : হাত চালাকিতে তাসের খেলায় সে মুগ্ধ করেছিল।
হাত (অধিকার) : বিশ্বাস কর এ ব্যাপারে আমার কোনো হাত নেই।
হাত (কৃপণ) : তার হাত দিয়ে তরল পদার্থও গলে না।
হাত (চৌর্যবৃত্তি) : লোকটির হাতটানের অভ্যাস আছে।
হাত (ঘনিষ্ঠতা) : মন্টু ভাই এমপি সাহেবের ডান হাত।
হাত (প্রত্যঙ্গ) : আমরা হাত দিয়ে ভাত খাই।
হাত (আরম্ভ করা) : কালাম যে কাজেই হাত দেয় তাতেই সে সফল হয়।
Facebook Messenger WhatsApp LinkedIn Copy Link

✅ The page link copied to clipboard!

Leave a Comment (Text or Voice)




Comments (0)