মার্চের দিনগুলি

রচনা : অনলাইন শপিং

↬ ঘরে বসে কেনাকাটা 
↬ অনলাইনে কেনাকাটা 
↬ শপিং যখন অনলাইনে 

ভূমিকা : তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রগতির এই যুগে দৈনন্দিন সব কাজেই লেগেছে পরিবর্তনের হাওয়া। এ পরিবর্তনের ঢেউ লেগেছে আমাদের বাজার ব্যবস্থায়ও। ব্যবসায়, বাণিজ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যাংকিংসহ সব ক্ষেত্রেই ইন্টারনেট প্রযুক্তি এসে কাজকে সহজ করে দিয়েছে। ইন্টারনেট ছাড়া এখন আমাদের জীবন প্রায় অচল। আর শপিং তথা কেনাকাটার ক্ষেত্রেও ইন্টারনেট পিছিয়ে নেই। এখন ঘরে বসে ইন্টারনেটের মাধ্যমে অনলাইনে আমরা প্রয়োজনীয় শপিং করতে পারি। আর এর ফলে আমাদের সময় ও পরিশ্রম দুটোই বেঁচে যায়। আগে আমাদের দেশে অনলাইন শপিং তেমন জনপ্রিয় না থাকলেও বর্তমানে যথেষ্ট জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে অনলাইন শপিং। বিশেষ করে তরুণ ও যুবসমাজের কাছে অনলাইনে শপিং করাটা অনেক আনন্দদায়ক এবং জনপ্রিয়। 

অনলাইন শপিং কী : অনলাইন শপিং হলো ইন্টারনেটের মাধ্যমে ঘরে বসে প্রয়োজনীয় জিনিস ক্রয় করা। যদিও এখনও অনেকে ভালো ভাবে জানেন না অনলাইন শপিং কী, কীভাবে অনলাইনে শপিং করা যায়। আবার অনেকের মনে অনলাইন শপিং নিয়ে রয়েছে নানা রকম ভুল ধারণা। আসলে আমরা যেমন বাজার বা মার্কেট থেকে বিভিন্ন পণ্য ক্রয় করে থাকি তেমনই অনলাইন বা ইন্টারনেটের মাধ্যমে কোনোকিছু কেনাকাটা করাকে অনলাইন শপিং বলা যায়। 

কেন অনলাইনে শপিং করব : তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে আমাদের ব্যস্ততা বেড়েছে হাজার গুণ এবং সেই সঙ্গে বেড়েছে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয়তা। ফলে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে প্রতিনিয়তই হিমশিম খেতে হয় আমাদের সবাইকেই। তাই আমাদের মূল্যবান সময় ও পরিশ্রম বাঁচানোর জন্য আমরা সহজেই অনলাইনে শপিং করতে পারি। সারা দিনের ব্যস্ততা এবং কর্মক্লান্ত মানুষের পক্ষে সবসময় বাজারে বা মার্কেটে গিয়ে কেনাকাটা করার মতো ধৈর্য ও সময় থাকে না। কিন্তু দরকারি জিনিসপত্রও কিনতে হবে। নিজের এবং প্রিয়জনের চাহিদাও মেটাতে হবে। এ সমস্যার সহজ সমাধান হলো অনলাইন শপিং। ঘরে বসে অনলাইনে অর্ডার করে দরকারি জিনিসপত্র পাওয়ার এ সুযোগ শুধু অনলাইন শপিং দ্বারাই সম্ভব। 

অনলাইনে শপিং করার নিয়ম : প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে চাইলে প্রথমেই নাম রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। প্রতিটি শপিং সাইটেই নিয়ম দেওয়া আছে। রেজিস্ট্রেশন করার পর নির্বাচিত পণ্যটি কেনার জন্য পণ্যের ছবির উপর ক্লিক করে নির্বাচিত সকল পণ্য একবারে অর্ডার করুন। যদি ইতোমধ্যেই এই সাইটে আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে থাকে তাহলে আপনার ইউজার নেইম ও পাসওয়ার্ড দিয়ে সাইনইন/লগইন করুন। আর নতুন ক্রেতা হলে সাইন আপ/রেজিস্ট্রেশন করে নতুন অ্যাকাউন্টের জন্য ইউজার নেইম ও পাসওয়ার্ড তৈরি করুন। তারপর ‘ডেলিভারি ও মূল্য পরিশোধ প্রক্রিয়া’ অংশে যে যে তথ্য চাওয়া হয় তা সঠিকভাবে প্রদান করুন। এরপর পরবর্তী ধাপে যেতে ‘পরবর্তী ধাপ’ বাটনে ক্লিক করুন। পরবর্তী ধাপে গিয়ে আপনার অর্ডারটির সার-সংক্ষেপ পুনরায় চেক করুন। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ‘কনফার্ম’ করুন। এভাবে কনফার্ম করার ২৪ ঘন্টার মধ্যে সাইটের নিজস্ব প্রতিনিধি ফোনে যোগাযোগ করবে এবং আপনার অর্ডারকৃত পণ্যটি ৩ থেকে ৫ দিনের মধ্যে আপনাকে বুঝিয়ে দেবে। উল্লেখ্য, প্রতিটি ই-কমার্স সাইট থেকে ক্রয় করার নিয়ম প্রায় একই রকম। 

অনলাইন শপিংয়ে কী কী জিনিস পাওয়া যায় : আমাদের দৈনন্দিন বাজারে যেসব জিনিস পাওয়া যায় অনলাইন শপিংয়েও সেসব জিনিস সহজেই কেনা যায়। বরং বাজারে বিভিন্ন দোকান ঘুরে বিভিন্ন জিনিস কিনতে হয়। কিন্তু অনলাইন শপিংয়ে সব জিনিসই এক জায়গায় এক ক্লিকেই পাওয়া যাবে। এখানে ঘোরাঘুরির ঝামেলা নেই, নেই হাড়ভাঙা পরিশ্রমও। সহজে ও স্বচ্ছন্দে ঘরে বসে প্রয়োজনীয় সবকিছুই কেনা যায় অনলাইনে। 

পণ্য কিনলে কীভাবে হাতে পাওয়া যাবে : অনলাইন শপিংয়ে দুভাবে ক্রয়কৃত পণ্য পাওয়া যাবে। যদি ঢাকার মধ্যে ডেলিভারি নিতে চান তাহলে হোম ডেলিভারির মাধ্যমে পেতে পারেন। আর ঢাকার বাইরে ডেলিভারি পেতে হলে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পাওয়া যাবে। তবে ডেলিভারি সার্ভিস চার্জ ক্রেতাকেই বহন করতে হবে। তবে চার্জ খুব একটা বেশি নয়। 

অনলাইন শপিংয়ে মূল্য পরিশোধের নিয়ম : অনলাইন শপিংয়ের ক্ষেত্রে ক্রয়কৃত পণ্যের মূল্য পরিশোধ করার জন্য ক্রেতা তার ইচ্ছেমতো নিজের ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড, মোবাইল ব্যাংকিং অথবা ক্যাশ অন ডেলিভারির যেকোনো একটি পদ্ধতি বেছে নিতে পারেন। একই সঙ্গে প্রায়ই ডিসকাউন্টসহ র‍্যাফেল ড্র, একটা কিনলে একটা ফ্রি, নির্দিষ্ট করে মূল্যছাড়ও এখন স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে অনলাইন শপিংয়ে। তবে অনেক অনলাইন শপ আছে যেখানে আগাম মূল্য পরিশোধ করতে হয়। অর্থাৎ পণ্য পছন্দ করে অর্ডার করার সঙ্গে সঙ্গে মূল্যও পরিশোধ করতে হয়। 

দরাদরি করে কেনার ক্ষেত্রে অনলাইন শপিং : আমাদের দেশের অনেক ক্রেতা আছেন যারা বাজারে গিয়ে দরদাম করে জিনিস কিনতে পছন্দ করেন। তারা দরাদরি করে পণ্য কিনে জিতে থাকেন বলে মনে করেন। দামাদামি করার এ সুযোগ অনলাইন শপিংয়ে নেই। এখানে পণ্যের দাম নির্ধারিত থাকে। ফলে দরাদরির কোনো সুযোগ বা ঝামেলা নেই। মাঝেমধ্যে কোনো কোনো পণ্যের দাম বাজারদরের চেয়ে একটু বেশি থাকলেও অধিকাংশ পণ্যের দাম বাজারদরের চেয়ে কমই থাকে। কারণ তারা পাইকারি দরে বেশি পণ্য কিনে সীমিত লাভে অধিক ক্রেতার কাছে একটু কম দামেই বিক্রি করতে পারে। তাই দামাদামির ঝামেলামুক্ত নির্ধারিত সঠিক মূল্যে অনলাইনে শপিং করা যায়। 

অনলাইন শপিংয়ের আরও কিছু সুবিধা : আজকাল অনলাইন শপিংয়ের ক্ষেত্রে আফটার সেলস সার্ভিস, আফটার সেলস পিকআপ সুবিধা, ডেমোন্সট্রেশন সুবিধাও পাওয়া যায়। এছাড়া একই পণ্যের বিভিন্ন ছবি, বিভিন্ন মান ও রং নানাভাবে দেখার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে ২৪ ঘণ্টা শপিংয়ের সুবিধা। তাছাড়া কোনো ক্রেতা চাইলে ফোন করে বা ই-মেইলেও পণ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন। পণ্যের বিস্তারিত বর্ণনা, ব্যবহারবিধিসহ বিভিন্ন টেকনিক্যাল সাপোর্টও এখন অনলাইন শপিং সেন্টারগুলো দিয়ে থাকে। সুতরাং ক্রেতারা তাদের ইচ্ছেমতো যখন তখন শপিং করতে পারেন অনলাইনে। 

অনলাইন শপিংয়ের লেনদেনের ক্ষেত্রে কিছু সতকর্তা : দেশ যত ডিজিটাল হচ্ছে ততই বেড়ে যাচ্ছে সাইবার ক্রাইমের মতো অপরাধ। এজন্য অনলাইন শপিংয়ের লেনদেনের সময় সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত। কারণ ভুল সাইট বা লোভনীয় অফার দেখে মানুষ প্রায়শই প্রতারণার শিকার হয়। এক্ষেত্রে অনলাইন শপিং এবং পেমেন্ট করার সময় কিছু সতর্কতা আবশ্যক। যেমন : 

১. ডিজিটাল পেমেন্ট করার সময় কখনই সাইবার ক্যাফে বা ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবহার করা উচিত না। এক্ষেত্রে নিজস্ব ইন্টারনেট ব্যবহার করা উচিত। 
২. কোনো পেমেন্ট করার আগে অবশ্যই দেখে নিতে হবে সেই গেটওয়েটি সরকার কর্তৃক অনুমোদিত কিনা। 
৩. কোনো ওয়েবসাইট থেকে পণ্য কেনার সময় ওয়েবসাইটটির URL দেখে নেওয়া উচিত। শুরুতেই https আছে এমন ওয়েবসাইট থেকে পণ্য কিনুন। 
৪. অবশ্যই ক্রেতা তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে OTP পরিসেবা সক্রিয় রাখবেন। অনেক সময় তাড়াতাড়ি পেমেন্ট করার জন্য OTP বন্ধ করে রাখা হয়। 
৫. কয়েক মাস পর পর নিজের নেট ব্যাংকিংয়ের পাসওয়ার্ড বদল করা উচিত এবং মনে রাখবেন পাসওয়ার্ড যেন নিজের নামের সঙ্গে মিলে না যায়।
৬. অনলাইনে লেনদেন করার সময় কার্ড ডিটেলস সেভ করতে বলা হয় যাতে পরবর্তী সময়ে আর ডিটেলস দিতে না হয়; কিন্তু কার্ড ডিটেলস সেভ করা উচিত নয়। 
৭. ক্রেতার ফোনে বা মেইলে কোনো পুরস্কার জেতার মেসেজ এলে এবং কোনো তথ্য জানতে চাইলে তা এড়িয়ে যাওয়া উচিত। মনে রাখবেন বিনা পরিশ্রমে এ পৃথিবীতে কিছুই পাওয়া যায় না। 

অনলাইন শপিংয়ে কর্মসংস্থান : তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণীরা অনলাইন শপিংয়ের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে। নিজেদের সৃজনশীল দক্ষতা দিয়ে স্ব-স্ব ক্ষেত্রে স্বাবলম্বী বা স্বনির্ভর হয়ে উঠছে। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশের এবং নিজের উন্নয়ন ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে অনলাইন শপিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। 

উপসংহার : অনলাইন শপিংয়ে রয়েছে একই সঙ্গে হাজারো পণ্যের সমাহার। ইন্টারনেটের মাধ্যমে অনলাইনে অর্ডার দিলে ঘরে বসেই ক্যাশ অন ডেলিভারির মাধ্যমে পছন্দের পণ্য পাওয়া যায়। যানজট ঠেলে বাজারে ঘুরে ঘুরে হয়রানির শিকার হয়ে শপিংয়ের চেয়ে এখন অনেক বেশি সুবিধা রয়েছে অনলাইন শপিংয়ে। শ্রম, সময়, অর্থ ইত্যাদিরও রয়েছে সাশ্রয়ী সুবিধা। ফলে অনলাইন শপিং দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে আমাদের বাংলাদেশে।


আরো দেখুন :
Post a Comment (0)
Previous Post Next Post