ব্যাকরণ : বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম - ১

Article Stats 💤 Page Views
Reading Effort
494 words | 3 mins to read
Total View
621
Last Updated
14-Dec-2022 | 02:10 PM
Today View
0
বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম
পর্ব — ১ 

বাংলা একাডেমির প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম বা সূত্রগুলো আলোচনা করো। 
উত্তর : বাংলা একাডেমির "প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম" অনুসরণ করে বাংলা বানানের নিয়ম নিচে দেওয়া হলো— 

তৎসম শব্দ 
১. তৎসম অর্থাৎ বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত অবিকৃত সংস্কৃত শব্দের বানান যথাযথ ও অপরিবর্তিত থাকবে। কারণ এসব শব্দের বানান ও ব্যাকরণগত প্রকরণ ও পদ্ধতি নির্দিষ্ট রয়েছে। তবে এ বানানরীতিতে যেসব ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম প্রস্তাবিত হয়েছে, তা অনুসৃত হবে। 

২. যেসব তৎসম শব্দের ই, ঈ বা উ, ঊ উভয় শুদ্ধ সেসব শব্দে কেবল ই বা উ এবং তার কারচিহ্ন (ি বা ু) ব্যবহৃত হবে। যেমন : কিংবদন্তি, চিৎকার, ধমনি, ধূলি, পঞ্জি, পদবি, ভঙ্গি, সরণি, সূচিপত্র, উর্ণা, উষা। 

৩. রেফ–এর পর ব্যঞ্জনবর্ণের দ্বিত্ব হবে না। যেমন : অর্জন, অর্থ, অর্ধ, কর্তন, কর্ম, কার্য, মূর্ছা, কার্তিক, সূর্য।

৪. ক, খ, গ, ঘ পরে থাকলে পদের অন্তস্থিত ম্ স্থানে অনুস্বার (ং) লেখা যাবে। যেমন : অহংকার, ভয়ংকর, সংগীত, শুভংকর, সংকোচন, সংগতি, সংঘাত, সংকল্প, সংখ্যা। বিকল্পে ঙ্ লেখা যাবে। ক্ষ–এর পূর্বে সর্বত্র ঙ হবে। যেমন : আকাঙ্ক্ষা। 

অতৎসম অর্থাৎ তদ্ভব, দেশি, বিদেশি, মিশ্র শব্দ 
১. ই, ঈ, উ, ঊ 
ক. সকল অতৎসম অর্থাৎ তদ্ভব, দেশি, বিদেশি, মিশ্র শব্দে কেবল ই এবং উ এবং এদের কারচিহ্ন (ি বা ু) ব্যবহৃত হবে। এমনকি স্ত্রীবাচক ও জাতিবাচক ইত্যাদি শব্দের ক্ষেত্রেও এ নিয়ম প্রযোজ্য৷ যেমন : বাড়ি, গাড়ি, শাড়ি, ভারি, তরকারি, দাবি, হাতি, আরবি, ফারসি, বাঙালি, ইংরেজি, জাপানি, রেশমি, পশমি, আসামি, কুমির, নানি, দাদি, মামি, চাচি, বুড়ি, নিচে, নিচু, মুলো, পুজো, হিন্দি, ইরানি, উনিশ, ঊনচল্লিশ। 
তবে কোনো স্ত্রীবাচক শব্দের শেষে ঈ–কার দেওয়া যেতে পারে। যেমন : রানী, পরী, গাভী।

খ. বিশেষণ বাচক–আলি প্রত্যয়যুক্ত শব্দে ই–কার হবে। যেমন : বর্ণালি, রূপালি, সোনালি, মিতালি, হেঁয়ালি, খেয়ালি। তবে নামবাচক বিশেষ্যের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ঘটতে পারে।

গ. সর্বনাম পদরূপে এবং বিশেষণ ও ক্রিয়া বিশেষণে পদরূপে কী শব্দটি ঈ–কার দিয়ে লেখা যাবে। যেমন : কী বলেছ? কী খেলে? কী আর বলব? কী করে যাব? এটা কী বই? কী আনন্দ? 

ঘ. অব্যয় পদরূপে কি শব্দটি ই–কার দিয়ে লেখা হবে। যেমন : সেও কি যাবে? তুমি কি গিয়েছিলে? কি বাংলা কি ইংরেজি উভয় ভাষায় তিনি পারদর্শী। 

ঙ. পদাশ্রিত নির্দেশক টি–তে ই–কার হবে। যেমন : মেয়েটি, বইটি, লোকটি। 

২. ক্ষ 
ক্ষীর, ক্ষুর ও ক্ষেত শব্দ খির, খুর ও খেত না লিখে সংস্কৃত মূল অনুসরণে ক্ষীর, ক্ষুর ও ক্ষেত–ই লেখা হবে। তবে অতৎসম শব্দ খুদ, খুদে, খুর, খেপা, খিদে ইত্যাদি লেখা হবে। 

৩. মূর্ধন্য ণ, দন্ত্য ন 
ক. তৎসম শব্দের বানানে ণ, ন–য়ের নিয়ম ও শুদ্ধতা রক্ষা করতে হবে। 

খ. তদ্ভব, দেশি, বিদেশি, মিশ্র কোনো শব্দের বানানে ণত্ব বিধি মানা হবে না অর্থাৎ ণ ব্যবহার করা যাবে না। যেমন : অঘ্রান, কাঁকন, কান, কোরান, ইরান, গুনতি, গোনা, ঝরনা, ধরন, পরান, সোনা, হর্ন, আয়রন, কেরানি, ট্রেনিং, বার্নার, সাইরেন, বার্নিশ, ড্রেন, পরন, মোহরানা। 

গ. তৎসম শব্দে ট, ঠ, ড, ঢ–য়ের পূর্বে যুক্তব্যঞ্জনে ণ হয়। যেমন ; কণ্টক, লুণ্ঠন, দণ্ড, প্রচণ্ড। 
কিন্তু তৎসম ছাড়া অন্য সব শব্দের ক্ষেত্রে ট, ঠ, ড, ঢ–এর আগেও যুক্তব্যঞ্জনে কেবল ন হবে। যেমন : পেন্টাগন, লন্ডন, টেন্ডার।

💎 উপরের লিখাগুলো ওয়ার্ড ফাইলে সেভ করুন!

মাত্র 10 টাকা Send Money করে অফলাইনে পড়ার জন্য বা প্রিন্ট করার জন্য উপরের লিখাগুলো Microsoft Word ফাইলে ডাউনলোড করুন।

Download (.docx)

Sribas Ch Das

Founder & Developer

HR & Admin Professional (১২+ বছর) ও কোচিং পরিচালক (১৪+ বছর)। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সহজ Study Content নিশ্চিত করতেই এই ব্লগ।

🏷️ Tag Related

⚡ Trending Posts

Facebook Messenger WhatsApp LinkedIn Copy Link

✅ The page link copied to clipboard!

Leave a Comment (Text or Voice)




Comments (0)

Old Taka Archive (ota.bd)

✓ ১০০% আসল নোটের নিশ্চয়তা