৯ম শ্রেণি : বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : ৯ম সপ্তাহ : ২০২১
| Article Stats | 📡 Page Views |
|---|---|
|
Reading Effort 627 words | 4 mins to read |
Total View 2.7K |
|
Last Updated 20-Jul-2021 | 08:30 PM |
Today View 0 |
৯ম শ্রেণি : বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা : ৯ম সপ্তাহ
‘বিশ্বসভ্যতা বিকাশে গ্রিক ও রোমান সভ্যতার ভূমিকা’ -শীর্ষক একটি প্রতিবেদন রচনা কর। (২৫০-৩০০ শব্দ)
নমুনা সমাধান
গ্রিক সভ্যতা
সূচনা : ক্রীট দ্বীপ, গ্রিস উপদ্বীপের মূল ভূখণ্ড, এশিয়া মাইনরের পশ্চিম উপকূলে এবং ঈজিয়ান সাগরের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দ্বীপ নিয়ে গঠিত হয় প্রাচীন গ্রিক সভ্যতা। বলকান উপকূলের দক্ষিনাংশে অবস্থিত গ্রিক প্রায় ৫ হাজার বর্গমাইল ব্যাপী বিস্তৃত।
বিশ্বসভ্যতার বিকাশে গ্রিক সভ্যতার ভূমিকা :
গ্রিক দর্শন : পৃথিবী ব্যাপী সভ্যতার বিকাশে গ্রিক দর্শন ও সংস্কৃতির ভূমিকা অবিস্মরণীয়। দার্শনিক চিন্তার ক্ষেত্রে গ্রিসে অভূতপূর্ব উন্নতি হয়েছিল। সক্রেটিস ছিলেন এ দার্শনিকদের মধ্যে সবচেয়ে খ্যাতিমান। তার দর্শন শিক্ষার মূলবিষয় ছিল আদর্শ রাষ্ট্র ও সৎ নাগরিক গড়ে তোলা, অন্যায় শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। পরবর্তীতে তাঁর শিষ্য প্লেটো ও প্লেটোর শিষ্য এরিস্টটল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। গ্রীক দার্শনিকদের দর্শন, যুক্তি, ব্যাখ্যা জগতকে সমৃদ্ধশালী করে তোলে।এসকল দার্শনিকদের সফিস্ট বলা হয়।
গ্রিক সাহিত্য : হোমারিক যুগে গ্রিক সাহিত্যের চূড়ান্ত বিকাশ ঘটে। হোমারের 'ইলিয়ড' ও 'ওডিসি' মহাকাব্য তার অপূর্ব নিদর্শন। এতে গ্রিকদের বীরত্বের কাহিনী বর্ণিত রয়েছে। সাহিত্য ক্ষেত্রে চূড়ান্ত বিকাশ ঘটেছিল নাটক রচনায়। বিয়োগান্তক নাটক রচনায় গ্রিকরা বিশেষ পারদর্শী ছিলেন।
গ্রিক ইতিহাস : ইতিহাসের জনক ছিলেন গ্রিক ঐতিহাসিক হেরোডটাস। ইতিহাস শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ 'হিস্ট্রি' গ্রিক ভাষার শব্দ। তিনি মিশর, পারস্য, ইতালি ভ্রমণ করে ইতিহাসের বিভিন্ন উপাদান সংগ্রহ করেন। থুকিডাইডেস ছিলেন বিজ্ঞানসম্মত ইতিহাসের জনক।
গ্রিক বিজ্ঞান : গ্রিকরা প্রথম বিজ্ঞানিচর্চার সূত্রপাত করে খ্রিষ্টপূর্ব ৬০০অব্দে। পৃথিবীর মানচিত্র প্রথম অঙ্কন করেন গ্রিক বিজ্ঞানীরা। সেসময় ইতিহাস গবেষণায় পলিবিয়ায়, জ্যোতির্বিদ্যায় এরিস্টটল ও হিপারকাস, বিখ্যাত গণিতবিদ পিথাগোরাস, ইউক্লিড, চিকিৎসা বিজ্ঞানী হিপোক্রেটস প্রমুখ মনীষীগণ খ্যাতি অর্জন করছিলেন।
গ্রিক ভাস্কর্য : গ্রিক ভাস্কর্য পৃথিবীর শিল্পকলার ইতিহাসে এক স্বর্ণযুগ জন্ম দিয়েছিল। সে যুগের বিখ্যাত শিল্পী ছিলেন মাইরন, ফিদিয়াস, প্রাকসিটেলেস। স্থাপত্যের সুন্দর সুন্দর নিদর্শন গ্রিসের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে আছে। পার্থনেন মন্দির বা দেবী এথেনার মন্দির স্থাপত্য কীর্তির অন্যতম নিদর্শন।
রোমান সভ্যতা
ইতালির টাইবার নদীর উৎসমুখ থেকে প্রায় বারো-তেরো মাইল দূরে সাতটি পর্বত শ্রেণির উপর রোম অবস্থিত। রোমকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা এই বিশাল সাম্রাজ্য ও সভ্যতা রোমান বা রোমীয় সভ্যতা নামে পরিচিত। রোমান সভ্যতা প্রায় ৬০০ বছর স্থায়ি হয়েছিল।
বিশ্বসভ্যতার বিকাশে রোমান সভ্যতার ভূমিকা :
রোমান সংস্কৃতি : রোম শিল্প, সাহিত্য, দর্শন, স্থাপত্য সর্বক্ষেত্রে গ্রিকদের দ্বারা প্রভাবিত ছিল। তারা এইসব বিষয়ে গ্রিকদের অনুসরণ ও অনুকরণ করেছে। তবে সামরিক সংগঠন, শাসন পরিচালনা, আইন ও প্রকৌশল বিদ্যায় তারা গ্রিক ও অন্যান্য জাতির উপর শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিল। এক্ষেত্রে আধুনিক বিশ্ব রোমানদের কাছে ব্যাপক ঋণী।
রোমান শিক্ষা ও সাহিত্য : রোমান সময়ে শিক্ষা বলতে বুঝাতো খেলাধুলা ও বীরদের স্মৃতি কথা বর্ণনা করা। যেহেতু যুদ্ধ বিগ্রহের মাধ্যমে রোমের যাত্রা শুরু হয়েছিল তাই তাদের সবকিছু যুদ্ধকেন্দ্রীক ছিল।তবে উচ্চশিক্ষিত রোমানরা গ্রিক সাহিত্যকে লাতিন ভাষায় অনুবাদ করার দক্ষতা অর্জন করে। রোমান যুগে সাহিত্যের চর্চার ব্যাপক প্রসার ঘটে। সে যুগে সাহিত্যে অবদানের জন্য বিখ্যাত সাহিত্যিক ও নাট্যকার মলিয়ে প্লুটাস ও টেরেন্সের বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য। তারা মিলনান্তক নাটক রচনায় কৃতিত্ব অর্জন করেছিল। তবে রোমান সাহিত্যের প্রসার দেখা যায় অগাস্টাস সিজারের আমলে। হোরাস, ভার্জিল, ওভিদ, লিভি এ যুগের অন্যতম কবি। বিখ্যাত ঐতিহাসিক ট্যাসিটাস এ যুগে জন্মে ছিলেন।
রোমান ধর্ম : এক্ষেত্রেও রোমানরা গ্রিকদের দ্বারা প্রভাবিত ছিল। তাদের অন্যতম প্রধান দেবতা জুপিটার। রোমীয় দেবমন্দিরের পুরোহিতরা যাবতীয় ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। কিন্তু অগাস্টাস সিজারের সময় সম্রাটকে ঈশ্বর মনে করে পূজা করার রীতি চালু হয়। ঐ সময়ে যীশু খ্রিষ্টের জন্ম হয়। পরবর্তী ঘটনাক্রমে খ্রিস্টান ধর্মকে রোমান সরকারি ধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়।
রোমান দর্শন : রোমে স্টোইকবাদী দর্শন যথেষ্ট জনপ্রিয় ছিল। খ্রিষ্টপূর্ব ১৪০ অব্দে রোডস দ্বীপের প্যানেটিয়াস এই মতবাদ প্রথম রোমে প্রচার করেন।
রোমানা আইন : বিশ্বসভ্যতার ইতিহাসে রোমানদের সর্বশ্রেষ্ঠ ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান হচ্ছে আইনব্যবস্থা। খ্রিষ্টপূর্ব ৫ম শতাব্দীতে রোমান দেউয়ানি (সিভিল) ও ফৌজদারি (ক্রিমিনাল) আইন সংকলিত হয়। এই আইনগুলো জনগণের সুবিধার্থে ১২টি ব্রোঞ্জ পাতে সর্বপ্রথম খোদাই করে খ্রিষ্টপূর্ব ৫৪০ অব্দে রাজপথে প্রকাশ্যে ঝুলিয়ে রাখা হতো।রোমীয় আইনের দৃষ্টিতে সকল মানুষ সমান।
আরো দেখুন :
১০ম সপ্তাহের নমুনা সমাধান :
৯ম সপ্তাহের নমুনা সমাধান :
৯ম শ্রেণি : বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা
Leave a Comment (Text or Voice)
Comments (0)