বইয়ে খোঁজার সময় নাই, সব কিছু এখানেই পাই

বরেণ্য মুক্তিযোদ্ধার সংবর্ধনা উপলক্ষ্যে একটি মানপত্র।

বরেণ্য মুক্তিযোদ্ধার সংবর্ধনা উপলক্ষ্যে একটি মানপত্র রচনা করো।


দেশবরেণ্য মুক্তিযোদ্ধা আবুল বরকতের ফুলবাড়িয়ায় আগমন উপলক্ষ্যে-

শ্রদ্ধাঞ্জলি

হে অতন্দ্র প্রহরী,
মুক্তিযোদ্ধার দেশ ও জাতির অতন্দ্র প্রহরী। তুমি কেবল তাদের একজনই নও, নেতৃস্থানীয় একজন। দেশকে শত্রুমুক্ত করার জন্য তুমি নিজের জীবনকে তুচ্ছজ্ঞান করে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিলে। প্রাণপণ লড়াই করে ১৬ই ডিসেম্বর ছিনিয়ে এনেছিলে স্বাধীনতা। তোমাদের মতো বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্যই জাতি বিজয় দেখেছে, বিশ্বের মানচিত্রে স্থান করে নিয়েছে বাংলাদেশ। আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন ভূখণ্ড, একটি পতাকা। তোমার মতো একজন মুক্তিযোদ্ধার প্রত্যন্ত এক জনপদ ফুলবাড়িয়ায় আগমনে আমরা যারপরনাই আনন্দিত ও গর্বিত। তোমাকে আমাদের অভিনন্দন। সাদরে বরণ করে নিলাম তোমাকে। তুমি আমাদের হৃদয়নিঃসৃত শ্রদ্ধাঞ্জলি গ্রহণ করে ধন্য করো।

হে সাহসী যোদ্ধা,
সময়ের সাহসী সন্তান তুমি। তুমি যখন তরুণ্যের ঝলমলে রোদ্দুরে দাঁড়িয়ে, তখনই বেজে উঠেছিল স্বাধীনতা যুদ্ধের দামামা। সাহসী পুরুষ হয়ে জ্বলে উঠেছিলে তুমি, অস্ত্রহাতে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলে। তোমার দু চোখে ছিল স্বপ্ন- দেশ স্বাধীন হবে, দেশকে নিজের হাতে গড়ার সুযোগ আসবে, জাতি হবে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত। তোমার স্বপ্ন আজ সফল হয়েছে। স্বাধীনতা যুদ্ধে তোমার গৌরবময় অংশগ্রহণ এবং দেশকে শত্রুমুক্ত করার জন্য তুমি যে অফুরন্ত প্রাণশক্তি ঢেলে দিয়েছিলে, সেজন্য তোমাকে অভিনন্দন। তোমার গৌরবগাথা এদেশের মানুষকে সবসময় অনুপ্রাণিত করবে।

হে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান,
মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। দেশ ও জাতি কোনোদিনই তাদের ঋণ পরিশোধ করতে পারবে না। মুক্তিযুদ্ধে তোমার রণদক্ষতা এবং শত্রুনিধনের নব নব কৌশল আমাদের বিজয়কে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল অনেক দূর। সত্যিকার অর্থেই তুমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। আমরা তোমার জন্য গৌরববোধ করি। তোমাকে জাতির পক্ষ থেকে জানাই কৃতজ্ঞতা।

হে লড়াকু সৈনিক,
তুমি দেশ ও জাতির সূর্যসন্তান। তুমি আমাদের লড়াই করতে শিখিয়েছ, দেশ ও জাতির জন্য নিজের জীবনকে তুচ্ছজ্ঞান করতে শিখিয়েছ। মুক্তিযুদ্ধে তুমি প্রস্তুত ছিলে নিজের রক্ত ঢেলে দিয়ে দেশ ও জাতিকে শত্রুমুক্ত করতে। যুদ্ধ করতে করতে অনেকবার মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েও পিছু হটনি তুমি। সাহসে-বীরত্বে-গৌরবে জাতির উজ্জ্বল পুরুষদের একজন তুমি। তোমাকে অভিনন্দন জানাবার ভাষা আমাদের জানা নেই। তুমি আমাদের সালাম, সশ্রদ্ধ অভিনন্দন গ্রহণ করো।

হে স্বজন,
তুমি আমাদের চিরকালের স্বজন। তোমাকে বরণ করে নেওয়ার জন্য আড়ম্বরপূর্ণ কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন আমরা করিনি। খুবই সাদাসিধে এক অনুষ্ঠান। এ অনুষ্ঠান আড়ম্বরপূর্ণ না হলেও এতে প্রাণের উত্তাপ আছে। তুমি আমাদের হৃদয়ের উষ্ণতা প্রহণ করো।

সবশেষে, কামনা করি তোমার স্বাস্থ্যোজ্জ্বল আয়ুষ্কাল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হোক। অনেক অনেক দিন বেঁচে থাকো তুমি। জাতি চিরকাল তোমাকে স্মরণ করবে, মুক্তিযুদ্ধে তোমার অবদান চিরঅম্লান, অক্ষয় হয়ে থাকবে, এ কামনা করি।

তোমারই গুণমুগ্ধ

ফুলবাড়িয়া উপজেলাবাসী
ফুলবাড়িয়া, ময়মনসিংহ

তারিখ : ১৮ই এপ্রিল ২০২১

No comments