বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অবসর গ্রহণ উপলক্ষ্যে মানপত্র

তোমার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অবসর গ্রহণ উপলক্ষ্যে একটি মানপত্র / অভিনন্দনপত্র রচনা করো।

বা, রতনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন প্রবীণ শিক্ষকের অবসর গ্রহণ উপলক্ষ্যে একখানা মানপত্র রচনা করো।

বা, এস আই উচ্চ বিদ্যালয়, সিরাজগঞ্জ-এর প্রধান শিক্ষকের অবসর গ্রহণ উপলক্ষ্যে একটি মান পত্র রচনা করো।

বা, মনে করো, তুমি মোহাম্মদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তোমার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অবসর গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। তাঁর অবসর গ্রহণ উপলক্ষ্যে একখানা মানপত্র রচনা করো।

বা, মনে করো, তুমি সুমন / সমনা ডিডিকে উচ্চ বিদ্যালয়, সিলেট-এর শিক্ষার্থী। তোমার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের অবসর গ্রহণ উপলক্ষ্যে একখানা মানপত্র রচনা করো।


রতনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের পরম শ্রদ্ধেয় প্রধান শিক্ষক জনাব কাজী বজলুর রহমান-এর বিদায় উপলক্ষ্যে-

শ্রদ্ধার্ঘ্য

হে সুধী,
ডাকাতিয়া নদীবিধৌত হাজিগঞ্জের সজীব প্রকৃতি আজ বিমর্ষ, বেদনা- আপ্লুত। প্রিয়বিয়োগের করুণ আর্তিতে আমাদের হৃদয় আঙিনায় আজ কষ্টবোধের দারুণ প্লাবন। আপনার বিদায়ক্ষণ এতটা দুঃখাকুল হবে ভাবতে পারিনি।

হে শিক্ষাগুরু,
হৃদয়বীণায় আজ আপনার বিদায়ের করুণ সুর বাজছে। আমাদের সান্নিধ্য থেকে আজ আপনি দূরে চলে যাচ্ছেন- তাই অন্তর আমাদের গভীর বেদনায় মুহ্যমান। জন্মমৃত্যু যেমন সত্য, তেমনই গ্রহণের পরেই আসে বিসর্জনের বেদনাঘন মুহূর্ত। এটাই চিরন্তন, বিধির অলঙ্ঘনীয় বিধান। রবীন্দ্রনাথের ভাষায়-
এ অনন্ত চরাচরে স্বর্গমর্ত্য ছেয়ে
সব চেয়ে পুরাতন কথা, সব চেয়ে
গভীর ক্রন্দন ‘যেতে নাহি দিব’, হায়,
তবু যেতে দিতে হয়, তবু চলে যায়।
কিন্তু তাই বলে এত শীঘ্রই আপনি আমাদের ছেড়ে চলে যাবেন, তা কখনো কল্পনাও করিনি।

হে জ্ঞানতাপস,
আমাদের পরম সৌভাগ্য যে, আমরা আপনার মতো সুদক্ষ শিক্ষকের সান্নিধ্যে জ্ঞানার্জনের সুযোগ পেয়েছি। আপনার অবিচল ধৈর্য, স্নেহমাখা ব্যবহার ও মধুবর্ষী ভাষণের কথা জীবনে কখনো ভুলব না। আপনার এ সুদীর্ঘ শিক্ষকজীবনে অসংখ্য শিক্ষার্থীর মধ্যে জ্বেলে দিয়েছেন জ্ঞানের প্রদীপ, পথহারাকে দিয়েছেন পথের সন্ধান। আপনার প্রদত্ত জ্ঞান ও শিক্ষা নদীর জলধারার মতো আমাদের মন ও মানসকে করেছে সরস ও উর্বর।

হে সুন্দর পথের দিশারি,
আপনার এ বিদায়বেলায় আমাদের মানসপটে অসংখ্য স্মৃতিময় অতীত উজ্জ্বল। মনে পড়ে কত সময় আমাদের স্বভাবসুলভ চাপল্য ও আশোভন আচরণ দিয়ে আপনাকে কষ্ট দিয়েছি। আমাদের এ অন্যায়গুলোকে শিশুসুলভ চপলতা মনে করে আপনার অসীম ঔদার্য দ্বারা ক্ষমা করবেন। আমাদের আশীর্বাদ করবেন, আমরা যেন আমাদের ভবিষ্যৎ জীবনে স্বীয় কর্মের দ্বারা দেশ ও জাতির উন্নয়নে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রাখতে পারি। আমাদের হৃদয় মন্দিরের বেদীমূলে জ্ঞানের যে অম্লান দীপশিখা আপনি জ্বালিয়েছেন, তা যেন দিশারি হিসেবে সত্য ও সুন্দরের উদ্‌ঘাটনে আমাদের আজীবন দিকনির্দেশনা দেয়।

পরম করুণাময়ের কাছে একাগ্রচিত্তে প্রার্থনা করি, আপনার জীবন রোগমুক্ত, সুখী, সুন্দর ও দীর্ঘ হোক।

বিনীত
আপনার স্নেহধন্য

ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ
রতনপুর উচ্চ বিদ্যালয়
রতনপুর, কুমিল্লা

তারিখ : ১৫ই নভেম্বর, ২০২১

2 Comments

  1. এতো বড় কেনো পড়তে এমনে তে ভালো লাগে না

    ReplyDelete
Post a Comment
Previous Post Next Post