প্রবন্ধ রচনা : ধূমপানের কুফল

Article Stats 📡 Page Views
Reading Effort
1,446 words | 9 mins to read
Total View
5.9K
Last Updated
27-Dec-2024 | 01:07 PM
Today View
0

↬ ধূমপানে বিষপান


ভূমিকা : বিশ্বের দেশে দেশে ধূমপায়ীদের সংখ্যা খুব বেড়ে গেছে। ধূমপান আমাদের দেশে সর্বদাই কুঅভ্যাস বলে নিন্দিত হলেও এখনও ধূমপায়ীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, আমাদের শরীরের অনেক রোগের মূলে রয়েছে ধূমপান। ধূমপানের কারণে অধূমপায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ট্রেনের কামরায়, বাসে বা কোন যাত্রী বিশ্রামাগারে ধূমপায়ীদের বিড়ি, সিগ্রেটের ধোঁয়া পরিবেশ হরহামেশাই দূষিত করে। ধূমপান না করলেও অধূমপায়ী শিশু, বৃদ্ধ, নারীসহ অনেকেই তামাকের তীব্র বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়। 

ধূমপানের কুঅভ্যাস : শৈশব কৈশোর কাল থেকেই ধূমপানের কুঅভ্যাস গড়ে ওঠে। এতে কোন উপকার নেই, শুধু ক্ষতি হয়। নানা কারণে শিশু-কিশোরদের মধ্যে ধূমপানের কুঅভ্যাস গড়ে ওঠে। শিশুরা খুব কৌতূহলী। তারা সব কিছুরই স্বাদ গ্রহণ করতে চায়। হাতের কাছে যা পায় তাই ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে উপভোগ করতে চায়। বড়দের দেখাদেখি ছোটরা ধূমপান করতে শেখে। নিছক খেয়ালের বশেও ধূমপান করে কেউ কেউ। নেশায় পরিণত হলে এ কু-অভ্যাস কেউ সহজে ছাড়তে পারে না। দুষ্ট বন্ধু ও ধূমপায়ীর সংসর্গে থাকলে ধূমপানের অভ্যাস গড়ে ওঠে। ছোটরা খুব অনুকরণ প্রিয়। তাই দর্শনীয় বিজ্ঞাপনে রঙিন নেশার ভাব-ভঙ্গি দেখে ছোটরা সিগ্রেট, পাইপ ইত্যাদি টানতে চায়। সিনেমায়, টিভি-পর্দায়, পত্রিকায়, রাস্তার বিজ্ঞাপন বোর্ডে তামাক কোম্পানিগুলো চমকপ্রদ ভাষায় ধূমপানের গুণ, ভাবভঙ্গি, ব্যক্তিত্বের মহিমা প্রচার করে। ছোটরা সহজেই এতে ধরা দেয়। বাড়িতে সিগ্রেট ও দিয়াশলাই সহজলভ্য হলে কেউ আর ফেরাতে পারে না তাদের। 

ধূমপানের ক্ষতিকর দিক : নানানজাতের তামাক দিয়ে প্রস্তুত হয় সিগ্রেট, বিড়ি ইত্যাদি। তামাকের সঙ্গে সুগন্ধি রাসায়নিক দ্রব্যও মেশানো হয়। কেউ কেউ হুক্কা, পাইপ ব্যবহার করে ধূমপান করে থাকে। যেভাবেই পান করুক ধূমপানের ফলে শরীরের ক্ষতি হবেই। তামাকে থাকে নিকোটিন নামক উগ্র বিষ। ধূমপানে তাই নিকোটিন বিষ গ্রহণ করা হয়। প্রতিটি সিগ্রেট বা বিড়িতে পাঁচ থেকে ছয় মিনিট আয়ু কমে যায়। ধূমপানে নানারূপ দুরারোগ্য ব্যাধি দেখা দেয়। কোন কোন ব্যাধি অতি দ্রুত মৃত্যু আনে। ধূমপানের ফলে সকলেরই নেশাগ্রস্ত ভাব সৃষ্টি হয়। মস্তিষ্ক হয় প্রায় অচল। এই অচলাবস্থার জন্য মস্তিষ্কে কোনো চিন্তা চালিত হয় না বা কোনো প্রশ্নের সঠিক মীমাংসা আসে না। তাৎক্ষণিক যা আগে তা খুবই হঠকারী সিদ্ধান্ত। দেহে-মনে, ব্যক্তিত্বে ও সারা জীবনে একজন ধূমপায়ী খুবই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অর্থহানির সঙ্গে ঘটে স্বাস্থ্যহানি, যার পরিণাম মৃত্যু। 

ধূমপানের অনিবার্য প্রতিক্রিয়া : যেভাবেই ধূমপান করা হোক, অনিবার্য বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেবেই। প্রফেসর ডা. নূরুল ইসলাম বলেন, “ধূমপানের কারণে আপাদমস্তক মানবদেহের প্রতিটি অঙ্গে কুফল দেখা দেয়। ধূমপানে অনেক বিচিত্র ধরনের রোগ হতে পারে।” ধূমপানের ফলে ফুসফুসের ক্ষতি হয় সবচেয়ে বেশি। ধূমপানের বিষক্রিয়া প্রথমে ফুসফুস ও পরে রক্তের সঙ্গে মিশে শরীরের নানা জায়গায় ছড়িয়ে যায়। ফলে দেখা দেয় যক্ষ্মা, ব্রংকাইটিস, দন্তক্ষয়, ক্ষুধা মান্দ্য, গ্যাস্টিক, আলসার, হৃদরোগ, মাথাঘোরা এমনকী মৃত্যু দূত ক্যান্সার। চোখের দৃষ্টি পর্যন্ত নষ্ট এবং ঠোঁট মুখ, দাঁত ইত্যাদির মারাত্মক ক্ষতি করে থাকে ধূমপান। ডা. নূরুল ইসলাম বলেন, “মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের অন্যতম প্রধান কারণ ধূমপান”। এ কুঅভ্যাস হৃৎপিণ্ডে রক্ত সঞ্চালনেও বাধা সৃষ্টি করে থাকে। 

প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা : ধূমপান যে বিষপান আর বিষপানের অর্থ যে মৃত্যু তা বুঝিয়ে দেয়া প্রয়োজন। সমাজে ধূমপানের বিরুদ্ধে সচেতন প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলা উচিত। আমাদের দেশে মহিলারা (ব্যতিক্রম বাদে) ধূমপান করেন না। মা, বোন, স্ত্রী হিসেবে ধূমপানের বিরুদ্ধে তাঁরা যোগ্য ভূমিকা পালন করতে পারেন। জাতীয় প্রচার মাধ্যমে ধূমপান বিরোধী প্রচার অব্যাহত রাখে, প্রকাশ্য বিজ্ঞাপন প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি এবং সিগ্রেটের গায়ে বিষপানের কথাটি লিখতে বাধ্য করা কর্তব্য। ধূমপানমুক্ত এলাকা গঠন ও ধূমপানহীন দিবস এবং ধূমপানহীন-সপ্তাহ পালন করা উচিত। ধূমপানের বদভ্যাস ছাড়ানোর জন্য প্রতিষেধখ আবিষ্কার করাও জরুরি। বড়রা ইচ্ছাশক্তি ও প্রতিজ্ঞা পূর্বক ধূমপান ত্যাগ করতে পারেন। নেশাগ্রস্ত ও ছোটদের কুঅভ্যাস ছাড়াবার ব্যবস্থা করতে হবে। 

এ বিষয়ে সরকারেরও করণীয় আছে। বাংলাদেশে সরকার ধূমপান বিরোধী আইন পাশ করেছে। এ আইনটি কঠোরভাবে প্রয়োগ করলে ধূমপায়ীর সংখ্যা কমবে। 

উপসংহার : মানুষের অসাধ্য কিছুই নেই। নেশামুক্ত হবার পরিবেশ ও উৎসাহ সৃষ্টি হলে ধূমপান কমতে, এমনকী দূরীভূত হতে পারে। ধূমপান মানে আত্মহত্যা এটা বুঝতে পারলে কেউ ধূমপান করবে না। জাতিকে ধূমপান মুক্ত করতে হলে প্রয়োজন সচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক দায়িত্ব বোধের জাগরণ।


একই প্রবন্ধ অন্য বই থেকেও সংগ্রহ করে আবার দেয়া হলো


ভূমিকা : আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান নতুন ধরনের অনেক রোগের মূলে, যেসব রোগের প্রকোপ বৃদ্ধিতে এবং রোগ নিরাময়ের অন্তরায় হিসেবে যে নেশাকে বিশেষভাবে দায়ী করছে তা হলো ধূমপান। ধূমপান আমাদের দেশে সর্বদাই কুঅভ্যাস বলে নিন্দিত হয়েছে। কিন্তু অধুনা বিজ্ঞাপনের কারসাজিতে ধূমপান বিশেষ ধরনের জীবনরীতির মর্যাদা হিসেবে প্রচারিত হওয়ায় তরুণ প্রজন্ম ব্যাপকভাবে ধূমপানে আসক্ত হয়ে পড়ছে। এ আসক্তি এমনই যে, খাবার না জুটলেও ধূমপানের নেশায় ধূমপায়ী পাগল হয়ে ওঠে।

ধূমপানের উপকরণ ও প্রকারভেদ : ধূমপানের মূল উপকরণ তামাক ও গাঁজা। তামাক পাতা শুকিয়ে কুচো করে তার সঙ্গে রাব বা ঝোলাগুড় মিশিয়ে এক ধরনের মণ্ড বানানো হয়। ঐ মণ্ড কল্কেতে সাজিয়ে তাতে আগুন লাগিয়ে হুঁকোর সাহায্যে ধূমপান করা হয়। আর তামাকের গুঁড়ো আরোও কিছু উপাদানের সঙ্গে মিশিয়ে বিড়ি বা সিগারেট তৈরি করা হয়। তাতে আগুন ধরিয়ে তার ধোঁয়া পান করা হয়। এই হলো ধূমপানের প্রক্রিয়া। ধূমপানের নানা কায়দা- তামাক, বিড়ি, সিগারেট, গাঁজা, চুরুট, পাইপ ইত্যাদি। সাম্প্রতিককালে হেরোইন, ব্রাউন শুগার জাতীয় ড্রাগও নেশাগ্রস্তরা ধূমপানের মতোই ব্যবহার করে।

সেকালের ধূমপান : ধূমপানের ইতিহাস বেশ প্রাচীন। মধ্যযুগে ভারতীয় উপমহাদেশে মোগল রাজদরবারে যে রাজকীয় মেজাজে আলবোলায় তামাক সেবন করা হতো তার সাক্ষ্য বহন করছে মোগল চিত্রকলা। দীর্ঘকাল ধরে সুগন্ধি তামাক সেবন ছিল নবাবি ঘরানার আভিজাত্যের প্রতীক। ইংরেজ আমলে রাজবাড়িতে ও জমিদার বাড়িতে মনিব ও হুজুরদের তামাক পরিবেশনের জন্যে হুঁকাবারদার ও মিলিমদার রাখা হতো। পরবর্তীকালে বাবু কালচারের অঙ্গ হয় তামাক সেবন। কালক্রমে সাধারণ্যে ছড়িয়ে পড়ে তামাকের নেশা। সে নেশার আধুনিক সংস্করণ বিড়ি, সিগারেট, পাইপ, চুরুট।

ধূমপানের সপক্ষে যুক্তি : ধূমপানের পক্ষে ধূমপায়ীরা অনেক যুক্তিই খাড়া করেন। আলস্য ও শ্রান্তি কাটাতে নাকি ধূমপান দারুণ কাজ করে। কাজে জোগায় নতুন উদ্যাম ও প্রাণশক্তি। সিগারেটে টান দিয়ে ভাবতে বসলে অনেক জটিল সমস্যার সমাধান নাকি চলে আসে মাথায়। ধোঁয়ার রিং বানাতে বানাতে চিন্তামগ্ন হওয়ার আমেজের নাকি কোনো তুলনাই হয় না। আর অবকাশের মুহূর্তকে মধুর আবেশে ভরিয়ে দিতে সিগারেটের নাকি জুড়ি নেই।

ধূমপান ও শারীরিক প্রতিক্রিয়া : ধূমপানের সপক্ষে যতই যুক্তি খাড়া করা হোক, এই কথা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না যে ধূমপানের প্রতিক্রিয়া এক অর্থে বিষপানের চেয়েও মারাত্মক। কারণ, বিষক্রিয়ায় মানুষের মৃত্যু ঘটে দ্রুত কিন্তু ধূমপানে মানুষ ধুঁকে ধুঁকে মরে। ধূমপানে ফুসফুসের ক্ষতি হয়, কারণ বিষ-মিশ্রিত ধোঁয়া সরাসরি ফুসফুসে গিয়ে ফুসফুসকে পীড়িত করে। সিগারেটের ধোঁয়া ফুসফুসের ক্যান্সারের মুখ্য কারণ। ধূমপান কাশি, হাঁপানি ইত্যাদি বক্ষব্যাধি এবং রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। শরীরের স্নায়ু ব্যবস্থাকে দুর্বল ও অবশ করে এবং এর ফলে শরীরে নানা জটিল রোগের উপসর্গ সৃষ্টি হয়। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা মনে করেন, ধূমপান ফুসফুসের ক্যান্সার ছাড়াও ল্যারিংস-এর ক্যান্সার, মুখের ক্যান্সার, খাদ্যনালীর ক্যান্সার, মূত্রথলির ক্যান্সার, অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায। ধূমপানের কারণে প্রতি বছর সোয়া লাখেরও বেশি লোক হৃদযন্ত্রের রক্তনালী সংক্রান্ত হৃদরোগে মারা যায়। ধূমপায়ীদের পেপটিক আলসার সহজে নিরাময় হয় না। ধূমপায়ী মহিলাদের মধ্যে মৃত ও কম ওজনের শিশু জন্মদানের ঘটনা তুলনামূলকভাবে বেশি। অনেক সময় ধূমপায়ী মহিলাদের গর্ভজাত শিশুরা নানারকম ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারে।

ধূমপান ও আর্থিক অপচয় : আমাদের দেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে যেখানে ব্যাপক সংখ্যক লোকের দু’বেলা আহার জোটে না সেখানে ধূমপান খাতে শত শত কোটি টাকা ব্যয় সামাজিক স্বার্থের প্রতিকূল। ধূমপান খাতে অপচয় অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে সংকটের সৃষ্টি করে। যিনি নিয়মিত সিগারেট পান করেন তার এই খাতে মাসিক অপচয় হয় কয়েকশ থেকে কয়েক হাজার টাকা। এই অপচয় না হলে তা পরিবারের স্বাচ্ছন্দ্য সৃষ্টিতে বা কল্যাণমুখী কাজে ব্যয় করা সম্ভব হয়। সিগারেটপায়ীর অসুস্থতার খাতেও কম অর্থ খরচ হয় না।

প্রতিরোধের উপায় : ধূমপানের অভ্যাস ছাড়া তেমন কোনা কঠিন কাজ নয়। অনেক জটিল রোগে আক্রান্ত রোগী ডাক্তারের পরামর্শে ধূমপান ছেড়ে দিতে সক্ষম হন। সুতরাং সচেতন ইচ্ছা থাকলে ধূমপান ছাড়া সম্ভব। ধূমপান নিবারণের ক্ষেত্রে পশ্চিমের দেশগুলোতে নানা পদক্ষেপ গৃহীত হওয়ায় ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের দেশে সে ধরনের উদ্যোগ-আয়োজন সবেমাত্র শুরু হয়েছে। আমাদের দেশেও ধূমপান প্রতিরোধ ও নিবারণে শিক্ষা ও সচেতনতা সৃষ্টি করেই অগ্রসর হতে হবে। সেজন্যে সরকারি উদ্যোগ যেমন দরকার তেমনি দরকার ব্যাপক বেসরকারি তৎপরতা। এজন্যে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো নেওয়া যেতে পারে :
  • সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে সভা, সমিতি, সেমিনার ও রেডিও-টিভিতে ধূমপানের ক্ষতিকর দিক ব্যাপকভাবে তুলে ধরা;
  • হাটে-বাজারে, যানবাহনে, পত্র-পত্রিকায়, বেতার-টেলিভিশনে ধূমপানের যে-কোনো বিজ্ঞাপনকে নিষিদ্ধ করা। কারণ, বিজ্ঞাপনী প্রচারণায় সিগারেটসেবীদের জীবন-যাপনের এমন লোভনীয় ধাঁচ তুলে ধরা হয় যা উঠতি প্রজন্মের দর্শকদের খুবই অনুকরণীয় বলে মনে হয়;
  • সিনেমা, থিয়েটার, টেলিভিশনে প্রদর্শিত চলচ্চিত্রের অভিনয়াংশে ধূমপানের দৃশ্য সচেতনভাবে বর্জন করা, কারণ, এসব দেখেই ছোটরা তা অন্ধভাবে অনুকরণ করে;
  • শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধূমপানবিরোধী সচেতনতা সৃষ্টির জন্যে শিক্ষাক্রমের কোনো-না-কোনো পর্যায়ে ধূমপানের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে পাঠদানের ব্যবস্থা করা;
  • ধূমপানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উৎপাদন খাতে ব্যাপক কঠোরতা আরোপ;
  • বয়স্কদের দেখাদেখি ছোট ছেলেমেয়েরা যেন অনুকরণ প্রবণতা থেকে ধূমপানে আসক্ত না হয় সেজন্যে সামাজিক অবকাঠামো গড়ে তুলে এ সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা;
  • সমাজের শিক্ষিত সম্প্রদায় বিশেষ করে শিক্ষক ও চিকিৎসকদের ধূমপানবিরোধী আন্দোলনে সম্পৃক্তকরণ;
  • সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে কাউকে ধূমপানে আপ্যায়িত না করা এবং ধূমপানের অপকারিতা সম্পর্কে অবহিতকরণ এবং এই অভ্যাস ত্যাগ করায় উদ্বুদ্ধকরণ;
  • অফিসে, যানবাহনে, সিনেমা হলে, জনসভায় এবং সব ধরনের লোকসমাবেশে ধূমপান নিষিদ্ধকরণ;
  • সমাজের বিভিন্ন স্তরে ধূমপানবিরোধী সংগঠন গড়ে তোলা ইত্যাদি।
উপসংহার : ধূমপান সুদীর্ঘকাল ধরে গড়ে ওঠা এক ব্যাপক নেশা। সিগারেট ও তামাক-সামগ্রী উৎপাদন, বিজ্ঞাপন ও বিপণন আইন করে নিষিদ্ধ করে এই অভ্যাস রাতারাতি বন্ধ করা যাবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। কারণ, এই নেশার উৎপাদন শিল্প, বিজ্ঞাপন ও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হাজার হাজার পরিবারের রুটি-রুজি। সরকারের এক বিরাট রাজস্ব আয়ও আসে এ থেকে। তাই রাতারাতি না হলেও আইনের ক্রমিক কঠোরতা আরোপ করে এবং পাশাপাশি ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি করে এই নেশাকে আমাদের সীমিত ও নির্মূল করতে হবে। সুস্থ সবল জাতি গঠনে ধূমপান পরিহারের কোনো বিকল্প নেই।

💎 উপরের লিখাগুলো ওয়ার্ড ফাইলে সেভ করুন!

মাত্র 10 টাকা Send Money করে অফলাইনে পড়ার জন্য বা প্রিন্ট করার জন্য উপরের লিখাগুলো .doc ফাইলে ডাউনলোড করুন।

Download (.doc)

Sribas Ch Das

Founder & Developer

HR & Admin Professional (১২+ বছর) ও কোচিং পরিচালক (১৪+ বছর)। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সহজ Study Content নিশ্চিত করতেই এই ব্লগ।

🏷️ Tag Related

⚡ Trending Posts

Facebook Messenger WhatsApp LinkedIn Copy Link

✅ The page link copied to clipboard!

Leave a Comment (Text or Voice)




Comments (1)

Guest 15-Jun-2023 | 04:00:56 PM

The first type language is not good but the second is so beautiful.....I like it