প্রবন্ধ রচনা : অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম

Article Stats 📡 Page Views
Reading Effort
1,514 words | 9 mins to read
Total View
7K
Last Updated
13-Dec-2025 | 01:31 PM
Today View
0

↬ ই লার্নিং

↬ অনলাইন স্কুল

↬ ডিজিটাল ক্লাস


ভূমিকা : পৃথিবীব্যাপী কখনো কখনো এমন ভয়াবহ সমস্যা সৃষ্টি হয় যাতে সারা পৃথিবীই প্রায় অচল হয়ে পড়ে। তখন মানুষকে নিজেদের সক্রিয়া অস্তিত্ব রক্ষার জন্য বিকল্প কিছু খুঁজে নিতে হয়। শিক্ষাক্ষেত্রেও পৃথিবীব্যাপী দিনে দিনে প্রযুক্তি বা এডুকেট-এর প্রসার ঘটে চলেছে। উদ্ভাবিত হচ্ছে নতুন কিছু ধারণা, নতুন কিছু কৌশল। এমনই একটি প্রাযুক্তিক কৌশল হলো অনলাইন শিক্ষা, যা স্থবির শিক্ষাক্ষেত্রকে প্রাণবন্ত করার জন্য বিশেষ ভূমিকা রাখতে সচেষ্ট রয়েছে। 

অনলাইন শিক্ষা কী : অনলাইন শিক্ষা হলো এমন একটি নমনীয় শিক্ষা কার্যক্রম যা ইন্টারনেট প্রযুক্তির মাধ্যমে ঘরে বসেই গ্রহণ করা যায়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অনলাইন লাইভ শিক্ষা কার্যক্রমই হলো অনলাইন স্কুল। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলমান যে ক্লাসগুলো ধারণকৃত থাকে সেখান থেকেও শিক্ষার্থীরা যার যখন যেটুকু দরকার তা সুযোগমতো গ্রহণ করতে পারে। 

অনলাইন শিক্ষার প্রেক্ষাপট : সাধারণভাবে যারা কর্মব্যস্ত সময় কাটান, চাকরি বা ব্যবসায় করেন তারা শিক্ষা, প্রশিক্ষণ বা বৃদ্ধির জন্য অনলাইন শিক্ষার প্রতি বেশি আগ্রহী। তাছাড়া দীর্ঘদিনের দেশীয় বা বৈশ্বিক সংকট থাকার কারণেও অনলাইন স্কুল কার্যক্রম গ্রহণ করা আবশ্যক হয়ে পড়ে। বিশেষ কোনো বিষয়ের প্রতি আগ্রহ থাকলেও অনলাইন স্কুল অত্যন্ত কার্যকর। ইংরেজি ভাষা, বিজ্ঞানের কোনো বিষয়, ব্যবসা, শিল্প, প্রযুক্তি, গণিত, ইতিহাস, সাহিত্য, হাতের কাজ, ফুল চাষ, পোশাক তৈরি, কুটির শিল্প, অটোমোবাইল, ইঞ্জিনিয়ারিং, ল্যাপটপ সার্ভিসিং, গাড়ি মেরামত, গ্রাফিক্স ইত্যাদি বিষয়ে অনলাইন শিক্ষা বেশকিছু বছর ধরে কার্যকর রয়েছে। ১৯৮৯ সালে প্রথম ইউনিভারিটি অন ফিনিকসের মাধ্যমে অনলাইন শিক্ষার যাত্রা শুরু। ২০০৮ সালে সালমান খানের 'খান অ্যাকাডেমি' অনলাইন শিক্ষার মাধ্যমকে ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে যায়। এরপর একে একে যুক্ত হয় ইউডেমি, টেড, এডেসক, কোর্সেরা প্রভৃতি। ২০১৫ সালে বাংলাদেশে গড়ে ওঠে ১০ মিনিট স্কুল। স্বাভাবিক বা নির্ধারিত কাজকর্মের ফাঁকে বা অবসরে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম গ্রহণের প্রবণতা আমাদের দেশেও এখন বেশ উৎসাহব্যঞ্জক।

শিক্ষাক্ষেত্রে করোনার প্রভাব : শিক্ষাক্ষেত্রে করোনার প্রভাব নিঃসন্দেহে নেতিবাচক। সাত/আট মাস ধরে সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। ফলে ওলটপালট হয়ে গেছে পুরো শিক্ষা ক্যালেন্ডার, বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে শিক্ষা কার্যক্রম। ইতোমধ্যে অনেক শিক্ষার্থীর মধ্যে আচরণগত পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। করোনা ভাইরাসে নিজে বা পরিবারের কারও আক্রান্ত হওয়ার ভয়, পড়াশোনা ও পরিক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তা, খেলাধুলা বন্ধ হওয়া, বন্ধুদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ না হওয়ায় অস্থিরতা এখন নৈমিত্তিক ভাবনার বিষয়। এসব কারণে কারও কারও মধ্যে দেখা যাচ্ছে তীব্র মন খারাপ, বিরক্তি আর ক্রোধের প্রকাশ। এর প্রভাব পড়ছে পরিবারে ও সমাজে। শিক্ষক-কর্মচারী এমনকি অভিভাবকদের পিঠও দেওয়ালে ঠেকে গেছে। তারা না পারছেন সংসারের খরচ চালাতে না পারছেন ছেলে-মেয়েদের সংকট মোচন করতে। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং তাদের ভবিষ্যতের প্রশ্নে শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিরা রীতিমতো দ্বন্দ্বের মধ্যে আছেন। 

ইউনেস্কোর প্রেস রিলিজ : ইউনেছো এক প্রেস রিলিজে জানিয়েছে যে, কোভিড ১৯-এর পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় বিশ্বের ১৯৫টি দেশের ১.৫ বিলিয়ন শিক্ষার্থী পড়াশুনা থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এই সংস্থাটি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জন্য যে গাইডলাইন প্রকাশ করেছে তাতে দূরশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এতে গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে ডিজিটাল টুল ব্যবহার করে শিক্ষককে ক্লাস নিতে হবে এবং টিভি অথবা অন্য কোনো মাধ্যমে তা সম্প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। 

অনলাইন শিক্ষার গুরুত্ব : প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থা কোভিড ১৯-এর কারণে মারাত্মক স্থবির অবস্থায় রয়েছে। শিক্ষার্থী, শিক্ষক-কর্মচারী, অভিভাবক, শিক্ষা-গবেষক ও শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির এই দীর্ঘ সময়ের স্থবিরতা এবং এর মারাত্মক প্রভাব নিয়ে চিন্তিত এবং উদ্বিগ্ন। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য অনলাইন স্কুল কার্যক্রমের বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় যুক্ত রাখতে এবং তাদের মানসিক সাপোর্টের জন্য অনলাইন ক্লাসই হতে পারে একমাত্র কার্যকর পদ্ধতি। 

পৃথিবীর দেশে দেশে অনলাইন শিক্ষা : বিশ্বের ধনী-গরিব প্রায় প্রতিটি দেশই মাইক্রোসফট, ফেসবুক, জুম, জিএসএমএ, গুগল, কোর্সেরার মতো মাধ্যমগুলো ব্যবহার করে কোভিড-১৯ সময়কালে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের ঘরে রাখতে, লেখাপড়ায় সম্পৃক্ত করতে তথা মানসিক সস্তি ফিরিয়ে আনতে অনলাইন স্কুল কার্যক্রম সময়ের পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হবে। এই ব্যাপারে সবাই আশাবাদী। এই বিষয়ে কয়েকটি দেশের উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। ইথিওপিয়া সরকারিভাবে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ই-টেক্সট বুক বিতরণ করেছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ প্যালেস্টাইন সরকারিভাবে ই-লার্নিং পোর্টালের মাধ্যমে বিষয় ও শ্রেণীভিত্তিক বিভিন্ন ধরনের শিক্ষা উপকরণ শিক্ষার্থীদের দিয়েছে। আফগানিস্তান টেলিভিশন ও ইউটিউবে শিক্ষা চ্যানেলের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম চালু রেখেছে। উন্নত ধনী দেশগুলো করোনা সংক্রমণ একটি নির্ধারিত মাত্রায় কমার সঙ্গে সঙ্গে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চালু করেছে এবং অব্যাহত রেখেছে। ইউরোপ-আমেরিকা ছাড়াও অনেক উন্নত দেশে এখন এটি জনপ্রিয় মাধ্যম। 

বাংলাদেশে অনলাইন স্কুলের যাত্রা : সময়ের জনপ্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বলতে এখন অনলাইন স্কুলকেই বোঝায়। ইন্টারনেটের সহজলভ্যতায় অনলাইন স্কুলের প্রতি ক্রমশ শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে। বাংলাদেশে অনলাইন স্কুলের যাত্রা শুরু হয়েছে '১০ মিনিট স্কুল'-এর মাধ্যমে। ২০১৫ সালে গড়ে ওঠে '১০ মিনিট স্কুল'। ফেসবুকের লাইভ ফিচার ব্যবহার করে ২০১৬ সালের জুন থেকে এই প্রতিষ্ঠানটি লাইভ ক্লাসের আয়োজন করে আসছে। এর পর ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে রেপটো এডুকেশন সেন্টার, ই-শিখন.কম, স্টাডিপ্রেস, ই-স্কুল, এডুকার্নিভাল, এডুকেশন পিডি অব বাংলাদেশ, রেপটো এডুকেশন সেন্টার ইত্যাদি। এসব প্রতিষ্ঠান নিয়মিত অ্যাকাডেমিক ক্লাস ছাড়াও অন্যান্য নানা বিষয়ে লাইভ ক্লাস নিয়ে থাকে। এসব প্লাটফর্মে ছাত্র-শিক্ষক সবাই সবাইকে দেখতে পায়, শুনতে পায়, প্রশ্ন করে এবং উত্তরও পেয়ে যায়। এর ফলে অনলাইন স্কুলগুলো এখন শিক্ষার্থীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। এর একটি বড় সুবিধা হলো স্মার্টফোনের মাধ্যমে যেকোনো স্থান থেকে এই শিক্ষা গ্রহণ করা যায়।

বাংলাদেশে অনলাইন স্কুলের যাত্রা : সময়ের জনপ্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বলতে এখন অনলাইন স্কুলকেই বোঝায়। ইন্টারনেটের সহজলভ্যতায় অনলাইন স্কুলের প্রতি ক্রমশ শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে। বাংলাদেশে অনলাইন স্কুলের যাত্রা শুরু হয়েছে '১০ মিনিট স্কুল'-এর মাধ্যমে। ২০১৫ সালে গড়ে ওঠে '১০ মিনিট স্কুল'। ফেসবুকের লাইভ ফিচার ব্যবহার করে ২০১৬ সালের জুন থেকে এই প্রতিষ্ঠানটি লাইভ ক্লাসের আয়োজন করে আসছে। এর পর ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে রেপটো এডুকেশন সেন্টার, ই-শিখন.কম, স্টাডিপ্লেস, ই-স্কুল, এডুকার্নিভাল, এডুকেশন পিডি অব বাংলাদেশ, রেপটো এডুকেশন সেন্টার ইত্যাদি। এসব প্রতিষ্ঠান নিয়মিত অ্যাকাডেমিক ক্লাস ছাড়াও অন্যান্য নানা বিষয়ে লাইভ ক্লাস নিয়ে থাকে। এসব প্লাটফর্মে ছাত্র-শিক্ষক সবাই সবাইকে দেখতে পায়, শুনতে পায়, প্রশ্ন করে এবং উত্তরও পেয়ে যায়। এর ফলে অনলাইন স্কুলগুলো এখন শিক্ষার্থীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ও আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। এর একটি বড় সুবিধা হলো স্মার্টফোনের মাধ্যমে যেকোনো স্থান থেকে এই শিক্ষা গ্রহণ করা যায়। 

করোনাকালে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম : প্রাণঘাতী করোনার মরণ ছোবলে বাংলাদেশও ভয়াবহভাবে আক্রান্ত। এই অবস্থায় বন্ধ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমের বিকল্প হিসেবে সরকার প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় শান্তি শিক্ষা চলমান রাখার জন্য সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে নানা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আইসিটি ডিভিশনের এটুআই প্রোগ্রামের কারিগরি সহায়তায় টেরিস্টেরিয়াল চ্যানেল ‘সংসদ টিভি’র মাধানে ক্লাস সম্প্রচার শুরু করেছে। ঘরবন্দি সময়টাতে পড়াশুনার পাশাপাশি শিক্ষা, সংস্কৃতি, শিল্প-সাহিত্য সম্পর্কে উদ্বুদ্ধ করার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় চালু করেছে কিশোর বাতায়ন কার্যক্রম। এছাড়াও ইউটিউবে অনলাইন ক্লাস, ফেসবুকে লাইভ ক্লাসও শুরু হয়েছে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনলাইনে কার্যক্রম শুরু করেছে। গুগল ক্লাসরুম কিংবা অন্যান্য কোলাবোরেশন সফটওয়্যারের মাধ্যমে শিক্ষকরা একাধিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে ইন্টার‍্যাকটিভ ক্লাস নিচ্ছেন। বেশকিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হোয়াটসঅ্যাপ বা মেসেঞ্জার গ্রুপ খুলে শিক্ষার্থীদের যুক্ত করেছে। কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, রাজধানীর বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শহর ও শহরতলির কিছু মূল অনলাইন প্রযুক্তি ব্যবহার করে ক্লাস ও পরীক্ষা নিচ্ছে। শিক্ষাখাতের ক্ষতি পুষিয়ে ওঠার জন্য সরকারের চেষ্টার কমতি নেই। শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক পর্যায়ে যথাযথ বিশ্লেষণ, গবেষণা ও পরামর্শ করে পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করছে সরকার। 

অনলাইন শিক্ষার সুবিধা : বিশ্বের যেকোনো স্থান থেকে অনলাইন ক্লাসে অংশ নেওয়া যায়। স্কুল বা কলেজে যেতে হয় না বলে যাতায়াতের সময় ও অর্থ দুটোই বাঁচে। ক্লাস লেকচার এক মিনিটেই কপি করে যার যার কম্পিউটার, মোবাইল, প্রোফাইলে সেভ করে রাখা যায়, তাই নোট করার কোনো ঝামেলা নেই। এ্যাকাডেমিক ক্লাসে একটি দিন উপস্থিত হতে না পারলে ওই দিনের লেকচার পরে আবার বোঝার সুযোগ থাকে না। কিন্তু অনলাইন ক্লাসের লেকচার ছাত্রছাত্রীর নির্দিষ্ট পেজে সুরক্ষিত থাকে। অনলাইন ক্লাসে নির্ধারিত পাঠের টিউটোরিয়াল ভিডিও আপলোড করেও বোঝানো যায়। ক্লাসরুমের তুলনায় অনলাইনে শিক্ষার সময় শিক্ষার্থীরা অনেক বেশি মনোযোগী থাকে। 

অনলাইন শিক্ষার অসুবিধা : করোনা মহামারীর দুঃসময়ে অনলাইন শিক্ষা যেমন অপরিহার্য, তেমনই এই শিক্ষার সমস্যাও বেশ প্রকট। যাদের ল্যাপটপ, কম্পিউটার, মোবাইল, ইন্টারনেট সুবিধা নেই তারা অনলাইন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অনলাইন ক্লাসের বড় সমস্যা হলো অনেক শিক্ষার্থীর স্মার্টফোন নেই। স্মার্টফোন থাকলেও অনলাইন ক্লাস করার জন্য যে পরিমাণ ডেটার প্রয়োজন সেই মূল্যের রিচার্জ করা অনেকের পক্ষেই সম্ভব নয়। তাছাড়া রয়েছে নেটওয়ার্কের সমস্যা। বহু জায়গায় ইন্টারনেটের সংযোগ তেমন থাকে না, খুব ওঠানামা করে। স্মার্টফোন ব্যবহারেও অনেক শিক্ষার্থী-শিক্ষক-অভিভাবকের তেমন দক্ষতা নেই। স্মার্টফোনের ডিজিটাল স্ক্রিনের প্রতি নির্ভরতা বাড়ার কারণে অনেকেরই সমস্যা হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী ক্লাশ বা হোমওয়ার্ক করার নামে গেম খেলছে, চ্যাট করছে। অনেক শিক্ষার্থী স্কুল সাইটে লগ-ইন করতে হিমশিম খাচ্ছে, দীর্ঘ সময় লাগছে। গ্রাম এলাকায় অনেক বাড়িতেই টিভি সেট নেই। অনেক সময় বিদ্যুৎ থাকে না। ফলে টেলিভিশনের মাধ্যমে শিক্ষাদান কর্মসূচিও তেমন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। আবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফিসহ অন্যান্য ফি বা খরচ দেওয়ার সামর্থ্য এখন অনিকেরই নেই। সবচেয়ে বড় কথা, এই মহামারীর সময়ে অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখে সুখে থাকাই যখন বড় মানের তখন এসব ব্যয়বহুল খরচ জোগাড় করা সত্যিই অসম্ভব। 

অসুবিধা বা সমস্যা দূরীকরণের উপায় : 
১. প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি ও ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন করে সমযোপযোগী করে গড়ে তোলা। 

২. বেসরকারি / ননএমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিয়মিত পরিশোধের ব্যবস্থা করা। 

৩. শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি, সেমিস্টার ফি মওকুফ করা বা কমানোর ব্যবস্থা করা। 

৪. পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীদের বিনা পয়সায় ইন্টারনেট ব্যবহার করার সুযোগ নিশ্চিত করা। 

৫. এ ক্ষেত্রে সরকারি ব্যবস্থাপনায় স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ইন্টারনেট সার্ভিস প্রভাইডারদের সঙ্গে এই সংক্রান্ত চুক্তি সম্পাদন করা। 

৬. যারাই একেবারেই অসচ্ছল তাদের প্রয়োজনমতো অ্যান্ড্রয়েড স্মার্ট মোবাইল ফোন সেট সরবরাহ করা।

উপসংহার : দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছেড়ে বাড়িতে বসে থাকা শিক্ষার্থী ও অভিভাবক উভয়ের পক্ষেই কঠিন। শিক্ষার্থীরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে যাওয়ার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। কিন্তু করোনা মহামারীর কারণে সেটি সম্ভব হচ্ছে না। তাই বিকল্প ব্যবস্থায় অর্থাৎ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই অনলাইন ক্লাস ও পরীক্ষার সুবিধা গ্রহণ করে স্বচ্ছন্দে লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারবে। তাছাড়া অনলাইন স্কুল পরিচালিত বিভিন্ন বিষয়ের ক্লাস থেকেও শিক্ষার্থীরা সুবিধা নিতে পারবে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের দুশ্চিন্তা কমবে, সময়ও ভালো কাটবে এবং নিশ্চিন্ত হবেন অভিভাবকরাও। এভাবেই কর্মচঞ্চল হয়ে উঠবে তাদের জীবন।


💎 উপরের লিখাগুলো ওয়ার্ড ফাইলে সেভ করুন!

মাত্র 10 টাকা Send Money করে অফলাইনে পড়ার জন্য বা প্রিন্ট করার জন্য উপরের লিখাগুলো .doc ফাইলে ডাউনলোড করুন।

Download (.doc)

Sribas Ch Das

Founder & Developer

HR & Admin Professional (১২+ বছর) ও কোচিং পরিচালক (১৪+ বছর)। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সহজ Study Content নিশ্চিত করতেই এই ব্লগ।

🏷️ Tag Related

⚡ Trending Posts

Facebook Messenger WhatsApp LinkedIn Copy Link

✅ The page link copied to clipboard!

Leave a Comment (Text or Voice)




Comments (0)