মার্চের দিনগুলি

খুদে গল্প : শব্দদূষণ

'শব্দদূষণ' শিরোনামে একটি খুদে গল্প লেখ।

শব্দদূষণ

মাইকের তীব্র শব্দে রাশেদুল কান চেপে ধরে। মাইক বহনকারী সিএনজিটা চলে গেলেও কিছুক্ষণ কানের ভেতর বোঁ বোঁ করতে থাকে। এই সমস্যাটা বেশ কিছুদিন ধরে সে অনুভব করছে। রাশেদ এর কোনো কারণ ও সমাধান খুঁজে পায়নি। আর পাবেই বা কী করে? রাজধানীতে এসেছে প্রায় এক বছর হতে চলল। সেই আসা অবধি অসহনীয় শব্দ শুনছে চারদিকে। বিচিত্র সব শব্দের শহর এ ঢাকা। পথে চলতে গেলে বাস ট্রাকে হর্ণের তীব্র শব্দে কান পাতা দায়। এছাড়াও আছে বিল্ডিং তৈরির ইট ভাঙার মেশিনের নিকট শব্দ, ছাদ পেটানোর শব্দ, কলকারখানার মেশিনের শব্দ ইত্যাদি। উচ্চ স্বরে গানবাজনা তো এখন ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। প্রথমে রাশেদের ঘুরুতর কিছু মনে না হলেও অবস্থাদৃষ্টে তার মনে হচ্ছে কান দুটিই বুঝি শেষ পর্যন্ত নষ্ট হবে। সে ঢাকা শহরের একটা নামকরা শিশু বিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে হাঁটছিল অথচ সে লক্ষ করল শব্দ নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে কারও কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। এমন সময় ট্রাকের হর্নের বিকট শব্দে রাশেদুল কানের ভেতরে তীব্র ব্যথা অনুভব করে। মনে হয় কানে যেন গরম লোহার শলাকা ঢোকানো হচ্ছে। অসহনীয় যন্ত্রণায় সে ছটফট করতে করতে ফুটপাতের উপর জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়ে। দুজন সহৃদয় পথচারী তাকে ধরাধরী করে একটা সিনএনজিতে তুলে ঢাক মেডিকেল এনে ভর্তি করে। ডাক্তাররা কিছুতেই রোগ নির্ণয় করতে পারেন না। তাই প্রাথমিক চিকিৎসা করে তার জ্ঞান ফেরা পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। ইতোমধ্যে দুজন সাংবাদিক এসে হাজির হন। প্রায় ৯ ঘন্টা পর রাশেদুলের জ্ঞান ফিরে। প্রথমে সে কিছুই মনে করতে পারে না। বুঝতে পারে না। বলে, আমি কোথায়? এখানে এলাম কীভাবে? কর্তব্যরত চিকিৎসক বললেন, তুমি এখন হাসপাতালে। এখন বলো তো তোমার কী হয়েছিল? রাশেদুল দেখতে পায় সাংবাদিকরা তার ছবি তুলছে। তার সাথে কথা বলার চেষ্টা করছে। সে তখন অকারণে প্রচন্ড চিৎকার দিয়ে ওঠে। ডাক্তার বুঝতে পারেন না কেন সে চিৎকার দিচ্ছে। সাংবাদিকরা তার কাছে এসে তার এ অদ্ভুত আচরণের কারণ জানতে চান। প্রশ্ন করেন কেন তার এ চিৎকার। জবাবে রাশেদুল বলে- আমার এ চিৎকার সকল শব্দদূষণের বিরুদ্ধে। শব্দদূষণ সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে। যতদিন না এর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা না নেওয়া হচ্ছে ততদিন আমার চিৎকার চলবে।
Post a Comment (0)
Previous Post Next Post