একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যাওয়ার অভিজ্ঞতা
| Article Stats | 📡 Page Views |
|---|---|
|
Reading Effort 257 words | 2 mins to read |
Total View 2.3K |
|
Last Updated 25-Mar-2023 | 08:24 AM |
Today View 1 |
একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যাওয়ার অভিজ্ঞতা বর্ণনা কর।
ঢাকার জন্মেছি, বড় হচ্ছি এখানেই। কলেজে পড়ছি। একুশে ফেব্রুয়ারিতে স্কুলে কলেজের
শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছি। অথচ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার
কেমন তা আজও দেখা হয়নি। ব্যাপারটা সাংঘাতিক বেমানান ও লজ্জার। নিজেকে নিজের কাছে
অপরাধী মনে হচ্ছে। আমার বাবা মাও কাছে থেকে দেখেননি শহীদ মিনার। সুতারাং স্থির
হলো, এবারের ফেব্রুয়ারিতে শহীদ মিনার যাবো আমরা। মধ্যরাতের আগেই রওয়ানা হলাম। যখন
কাছাকাছি পৌঁছালাম, তখন শুনলাম মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী
ভাষাশহীদদের উদ্দ্যেশে পুষ্পস্তবক অর্পণ করছেন। প্রভাতফেরির মিছিলের বাইরেও অনেক
লোক দাঁড়িয়ে আছে। মনে হয় দলীয় উধর্বতন নেতৃবৃন্দ। সামনের রাস্তাগুলোতে সুদৃশ্য
আলপনা আঁকা। এরপর রাজনৈতিক দল, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার নেতৃবৃন্দ পুষ্পস্তবক
অর্পণ করবেন। মাইকে বাজছে-
'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি /আমি কি
ভুলিতে পারি।’
আমরা উদীচীর ব্যানারে এসেছি। শহীদ মিনারের মূল স্তম্ভের পেছনে লাল
বৃত্তে আলো পড়ে চমৎকার দেখাচ্ছে। নিচে বেশ কিছুটা প্রশস্ত জায়গা। এরপর রক্ত লাল
সোপান ধাপে ধাপে উঠে গেছে মূল বেদি পর্যন্ত। মিনার অঙ্গনে বিশাল আলপনা। সোপানের
নিচের ধাপগুলোতেই ফুল রাখা হচ্ছে। এবার আমাদের পালা। স্তবক বা ফুল বেদিতে
শ্রদ্ধার সঙ্গে রেখে বাম দিক দিয়ে বেরিয়ে যেতে হচ্ছে। এখানেই ভিড়। মাঝে মাঝে
সামান্য ঠেলাঠেলি হচ্ছে। কিন্তু পুলিশ আর সেচ্ছাসেবকরা খুব সতর্ক। মা বাবা আর আমি
প্রায় একসঙ্গে পুষ্পার্ঘ্য দিয়ে একটু দাঁড়ালাম। তারপর ধীরে ধীরে বেরিয়ে এলাম।
মাইকে বাজছে দেশাত্মবোধক গান, ফেব্রুয়ারির গান, ভাষার গান। ধারাবর্ণনার ফাঁকে
ফাঁকে উপস্থাপক একুশে ফেব্রুয়ারির তাৎপর্য তুলে ধরছেন। তাতে একুশের ভাবগাম্ভীর্য
সঞ্চারিত হচ্ছে প্রাণে প্রাণে। দেশি-বিদেশি বাংলা ভাষার অনুরাগী মানুষের স্রোত
আসছে যাচ্ছে সুশৃঙ্খল পরিবেশ। খুব ভালো লাগল, নিজেকে ধন্য মনে হলো।
Leave a Comment (Text or Voice)
Comments (0)