খুদে গল্প : প্রতিবন্ধী শিশু
| Article Stats | 📡 Page Views |
|---|---|
|
Reading Effort 531 words | 3 mins to read |
Total View 7.2K |
|
Last Updated 23-Dec-2025 | 10:53 AM |
Today View 1 |
‘প্রতিবন্ধী শিশু’ শিরোনামে একটি খুদে গল্প রচনা কর।
প্রতিবন্ধী শিশু
কমল শারীরিক প্রতিবন্ধী। ওর কোমর পর্যন্ত অংশে কোনো খুঁত নেই। পা ঢেকে চেয়ারে
বা বিছানায় বসে থাকা অবস্থায় দেখলে কেউ বুঝতেই পারবে না ওর পা দুটো
বাঁকা, বিকলাঙ্গ। জন্মের সময়ই এই প্রতিবন্ধিকতা নিয়ে জন্মেছে। বিকলাঙ্গ শিশু
জন্মদানের অপরাধে কমলের বাবা ওর মাকে তাড়িয়ে দিয়েছে। ওর মা এখন অন্যের বাড়িতে
বুয়ার কাজ করে, ওকে নিয়ে বস্তিতে থাকে। কমল প্রতিবন্ধি স্কুলে পড়ে। মহল্লার
মোড়ের দোকানদার সেকান্দার আলী কমলের বুদ্ধিদীপ্ত চোখ দেখে মুগ্ধ হয়ে কমলের মাকে
বলেছিল- "কমলা, তোর পুলাডারে স্কুলে দে, অয় লেখাপড়া করুক। প্রতিবন্ধীদের চাকরি
-বাকরির সুবিধা আছে। সরকার প্রতিবন্ধীগোর লাইগ্যা অনেক সুযোগ সুবিধা দিতাছে।
টেলিভিশনে তা প্রায়ই দেহাই।" কমলা ছেলেকে নিয়ে স্বপ্ন দেখে। সেকান্দার চাচার
কথামতো কমলকে স্কুলে ভর্তি করে। সেখানে কমলের মতোই শিশুরা পড়ে। শিক্ষকরাও খুব
ভালো ব্যবহার করে, প্রতিবন্ধি বলে শিশুদের ঘৃণা করে না। অল্পদিনের মধ্যে কমল
সবার পরিচিত হয়ে উঠে ছবি এঁকে। ভাষা আন্দোলনের মিছিলের ছবি, বঙ্গবন্ধু শেখ
মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণের ছবি, মুক্তিযোদ্ধাদের জয় উল্লাসের ছবি, শহীদ মিনার, স্মৃতিসৌধ প্রভৃতি আঁকে কমল। কমলের ছবি স্কুলের দেয়ালে দেয়ালে। রঙের এমন
নিখুঁত ব্যবহার সে করে, দেখে খ্যাতিমান আঁকিয়েরাও অবাক না হয়ে পারেন না। কমলের
ছবি আঁকা দেখতে পারে না বলে কষ্ট পায় পুষ্পিতা। পুষ্পিতা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী।
সবসময় কালো চশমা পড়ে থাকে। ও সব শুনে শুনে মুখস্ত করে। সাদা কাগজের উপর দিয়ে
আঙুল সরিয়ে নেয় আর মুখস্ত করা কবিতা আবৃত্তি করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেয়। ওদের
গানের শিক্ষক স্বস্তিকা পোদ্দার সবাইকে জাতীয় সংগীত শিখিয়েছেন। পুষ্পিতা দৃষ্টি
প্রতিবন্ধী হয়েও হারমোনিয়াম বাজিয়ে জাতীয় সংগীত গাইতে পারে। কমল, পুষ্পিতা একে
অন্যের কাজে সাহায্য করে। কমলের মা কমলা ছেলেকে আর বোঝা মনে করে না। ছেলের আঁকা
ছবি বাঁধাই করে বাসা বাড়িতে বিক্রির জন্য নিয়ে যায়। শৌখিন লোকেরা উপযুক্ত দাম
দিয়ে সেগুলো কিনে নেয়।
একই খুদে গল্প আবার সংগ্রহ করে দেওয়া হলো
স্কুল থেকে বাসায় ফিরে নয়ন স্কুল ব্যাগটি বিছানায় ফেলেই জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়াল। দূর আকাশে উড়ে যাচ্ছে একটি খয়েরি রঙের পাখি। উদাস হয়ে সে সেদিকে তাকিয়ে থাকে। পাশের রাস্তায় তার বয়সী কয়েকটি ছেলেকে সে হেঁটে যেতে দেখে। হঠাৎ দুচোখ বেয়ে তার অশ্রু গড়িয়ে পড়ে। মনে মনে সে ভাবে- ঐ যে ছেলেগুলো দ্রুত পা ফেলে হেঁটে যাচ্ছে কিন্তু আমি ওদের মতো হাঁটতে পারি না কেন? আমার একটি পা এত বাঁকানো কেন?
হঠাৎ পিঠে সে একটি হাতের স্পর্শ অনুভব করে। তার মা এসে পিঠে হাত দিয়ে নরম স্বরে বলেন- বাবা নয়ন, তোমার কি মন খারাপ?
নয়ন মায়ের বুকে মাথা গুঁজে ফুঁপিয়ে বলে— মা, স্কুলের কেউ আমার সাথে মিশতে চায় না। সবাই আমাকে দেখে হাসাহাসি করে। কিন্তু কেন মা?
মা তাকে স্বান্ত্বনা দিয়ে বলেন— সব ঠিক হয়ে যাবে বাবা। তুমি মন খারাপ করো না। তুমি ভালো করে পড়াশোনা করো। এরপর যখন তুমি ক্লাসের প্রথম হবে তখন সবাই তোমার বন্ধু হতে চাইবে। ওরা তাদের ভুল বুঝতে পারবে।
নয়ন ক্লান্ত স্বরে বলে, কিন্তু মা আমি কি আমার এই শারীরিক অবস্থা নিয়ে ভালো রেজাল্ট করতে পারব?
অবশ্যই পারবে বাবা। তুমি তো অনেক মেধাবী। তুমি একটু চেষ্টা করলেই পারবে।— মা প্রত্যয়ী স্বরে বলেন।
এরপর থেকে নয়ন নিয়মিত পড়াশোনায় মনোযোগী হয়ে ওঠে। স্কুলে ওর আচরণ ও ফলাফলে সবাই বিস্মিত হয়। স্কুলের ফাইনাল পরীক্ষায় নয়ন প্রথম স্থান অধিকার করলে শিক্ষক ও সহপাঠীরা তাকে শুভেচ্ছা জানায়। কয়েকজন সহপাঠী এসে তাদের পূর্বের আচরণের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। নয়নের মুখে তখন বিজয়ের হাসি ফুটে ওঠে।
Leave a Comment (Text or Voice)
Comments (0)