My All Garbage

Shuchi Potro
সাধারণ জ্ঞান বাংলা ব্যাকরণ বাংলা রচনা সমগ্র ভাবসম্প্রসারণ তালিকা অনুচ্ছেদ চিঠি-পত্র ও দরখাস্ত প্রতিবেদন প্রণয়ন অভিজ্ঞতা বর্ণনা সারাংশ সারমর্ম খুদে গল্প ভাষণ লিখন দিনলিপি সংলাপ অ্যাসাইনমেন্ট-২০২১ English Grammar Composition / Essay Paragraph Letter, Application & Email Dialogue List Completing Story Report Writing Graphs & Charts পুঞ্জ সংগ্রহ বই পোকা হ য ব র ল তথ্যকোষ পাঠ্যপুস্তক CV & Job Application My Study Note আমার কলম সাফল্যের পথে
About Contact Service Privacy Terms Disclaimer Earn Money


বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শিক্ষা সহায়ক ওয়েবসাইট
HSC Preparation 2022

খুদে গল্প : একতাই বল

''একতাই বল'' শিরোনাম একটি খুদে গল্প রচনা করো।

একতাই বল

“রিমি আজও তুই ঠিকমতো ভাত খাসনি”— বলেই মা বাইরে বেরিয়ে এলো। ততক্ষণে আমি কলেজ বাসে উঠে গিয়েছি। হাত নাড়িয়ে মাঝে বিদায় জানাচ্ছি। আর মা রাগ মেশানো হাসিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। বাসে বসে বন্ধুদের সঙ্গে গল্প শুরু হলো। সারাদিনে কে করব সেসব প্ল্যান। মাধবী ওর নতুন ডায়েরিটা আমাদের দেখাল। বেশ অভিনব ডায়েরি; তালা দেওয়া যায় তাতে। আমরা সবাই সেটা নিয়ে নানারকম মজা করতে লাগলাম। লিজা নতুন একটা নোটবুক কিনেছে– এইচপি ব্যান্ডের। সেটা নিয়েও বেশ খানিকক্ষণ কথা হলো। আসলে কলেজ বাসই আমাদের সকল গল্পের কেন্দ্রবিন্দু। সারাদিন সবাই পড়াশোনা নিয়ে এত ব্যস্ত থাকি যে, কারো সঙ্গে কারো তেমন কোনো কথাই হয় না। মাঝে ৪৫ মিনিটের একটা ব্রেক থাকে। তখন সবাই হালকা খাবার-দাবার সেরে নিই। এ সময় আবার একটু আড্ডা হয়। আজ ব্রেকের সময় বিন্দুকে খুব উদাসভাবে বসে থাকতে দেখলাম। ভাবলাম, হয়তো বাড়ির কেউ ওকে কিছু বলেছে তাই মন খারাপ করে বসে আছে। দ্বিতীয় দিন আবার একই জায়গায় ওকে মন খারাপ করে বসে থাকতে দেখলাম। কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম ব্যাপার কী? কিন্তু ও তেমন কিছু না বলেই উঠে গেল। রাতে পড়ার টেবিলে বসে চিন্তা করছি বিন্দুর কথা। পড়াশোনায় ও খুবই ভালো, তেমনি ভালো আচরণ। কলেজের শিক্ষকরাও ওকে খুব স্নেহ করেন। তাহলে কী হলো ওর? পরদিন দেখি আবার ওভাবে বসে আছে। এবার আমরা কয়েকজন মিলে ওর সমস্যা জানতে চাইলাম। আমাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলল বিন্দু। তারপর যা বলল তাতে আমার রাগে শরীর কাঁপতে থাকল। বিন্দুর বাড়ি কলেজের কাছে হওয়ায় ও প্রতিদিন হেঁটেই যাতায়াত করে। কিছুদিন থেকে নাকি কলেজের সামনে বেশ কিছু বখাটে ছেলে ওকে ইভটিজিং করছে। বাড়িতে ও বলেছিল কিন্তু উল্টো ওকেই কথা শুনতে হয়েছে। আমরা সবাই সবটা শুনলাম,তারপর ওকে আজ ছুটির পর গেটের বাইরে যেতে নিষেধ করলাম। এর মধ্যে আমরা বসে একটা প্ল্যান করলাম। আর সবাইকে থাকতে বললাম। কারণ সংঘবদ্ধ না হলে প্ল্যানটি সফল করা সম্ভব নয়। ছুটি শেষ হতেই বিন্দুকে আমাদের প্ল্যানটি বললাম। প্রথমে ও ভয় পাচ্ছিল কিন্তু অনেককে দেখে সাহস পেল। পরিকল্পনামাফিক কলেজ গেট থেকে বেরিয়ে এগিয়ে গেল ও। বখাটেগুলোও ওকে দেখে এগিয়ে এলো। ঠিক এ সময়ে আমরা প্রত্যেকে মুখে রুমাল বেঁধে বখাটেগুলোর দিকে ঢিল ছুঁড়তে লাগলাম। ঢিল গিয়ে কারও মাথায়, কারও মুখে, কারও চোখে লাগলো। মারাত্মক আহত অবস্থায় বখাটেগুলো কোনোরকমে পালিয়ে প্রাণ বাঁচালো। রাস্তার দুপাশের মানুষজন আমাদের এ কাণ্ড দেখে অবাক হয়ে তাকিয়েছিল। কলেজের শিক্ষকরাও বেরিয়ে এসেছিলেন ততক্ষণে। তারপর পুরো ঘটনাটি শুনে তারা বাহবা দিয়েছিলেন আমাদের। আর আমরা সবাই মিলে বলেছিলাম হিপ! হিপ! হুররে...

No comments