বিদ্যালয়ে খ্যাতিমান কবির শুভাগমন উপলক্ষ্যে সম্মাননাপত্র।

তোমার বিদ্যালয়ে একজন খ্যাতিমান কবির শুভাগমন উপলক্ষ্যে একখানা সম্মাননাপত্র রচনা করো।


ইব্রাহিমপুর ঈশ্বরচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে বাংলা ভাষার বিশিষ্ট কবি নির্মলেন্দু গুণ-এর শুভাগমন উপলক্ষ্যে-

শ্রদ্ধাঞ্জলি

হে বরেণ্য কবি,
বাংলা ভাষার ও বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের কবি তুমি। মানুষ আর প্রকৃতির রূপ-রং-রসে তোমার কবিচিত্ত উদ্বেলিত বলেই আমরা জানি। তোমার পদার্পণে আমাদের চিত্তেও রূপ-রং-রসের বর্ণময় দোলা লেগেছে। প্রকৃতি যেন আজ তার ধ্যানমগ্নতাকে এ বিদ্যালয়ের দিকে নিবিষ্ট করেছে তোমাকে কেন্দ্র করেই। আজ আমরা গর্বিত তোমাকে পেয়ে। প্রকৃতি যেন আজ তার ধ্যানমগ্নতাকে এ বিদ্যালয়ের দিকে নিবিষ্ট করেছে তোমাকে কেন্দ্র করেই। আজ আমরা গর্বিত তোমাকে পেয়ে। আজ আমরা তোমাকে সানন্দচিত্তে বরণ করে নিতে পেরে নিজেদেরকে সার্থক মনে করছি। এ বিদ্যালয় তোমার পদার্পণে একটা ঐতিহাসিক মুহূর্তের অংশ হয়ে পড়ল। এ বিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে এ আমাদের গৌরব, এ আমাদের অহংকার। তুমি আমাদের প্রাণোচ্ছল আবেগের ঝরনাধারায় স্নাত হয়ে আমাদেরকে ধন্য করেছ। আমাদের প্রাণপ্রিয় এ বিদ্যালয়ে তোমাকে আমাদের মাঝে স্বাগত জানাচ্ছি।

হে সৌন্দর্যপিপাসু,
তুমি কবি। সৌন্দর্যের চিরন্তন রূপে অবগাহন করাই তোমার ধর্ম। পরম সত্যকে সৌন্দর্যের মহিমায় আবিষ্কার করে তুমি তোমার কবিতার অবয়বে তাকে ছড়িয়ে দাও। আমরা সেখান থেকে সৌন্দর্যচ্ছটা গ্রহণ করে নিজেদের আত্মার জগৎকে আলোকিত করার অনুপ্রেরণা লাভ করি। তুমি আমাদের অস্তিত্বকে নিরবচ্ছিন্নভাবে সৌন্দর্যের প্রবহমানতায় যুক্ত করছ। তুমি আমাদের কৃতজ্ঞচিত্তের ভালোবাসা গ্রহণ করো।

হে মানবতাবাদী কবি,
সৌন্দর্য তোমার আত্মাকে করেছে উদ্বোধিত আর মানবতা তোমার চৈতন্য দিয়েছে শাণিত করে। তোমার কবিতাতে তাই সৌন্দর্যের জয় ঘোষিত হয়েছে বহুবার। তুমি আজ নিপীড়িত মানুষের কাছে মুক্তিদাতা কবি, সংগ্রামী চৈতন্যের বারিধারায় তোমার কবিতা এদেশের মানুষ মুক্তির বাতাবরণে বেঁচে থাকার নির্দেশনা দিচ্ছে। তুমি নিপীড়িত মানুষের শুভকামনায় ধন্য কবি। তুমি আমাদের ভবিষ্যৎ পথচলার আলোকবর্তিকা।

হে নিসর্গের কবি,
তুমি আবহমান বাংলার চিরায়ত নিসর্গ বাঙালির চিরন্তন সংস্কৃতিগাথার অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাঙালির জীবনদর্শন, মনস্তাত্ত্বিক কাঠামো নিসর্গকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। তোমার কবিতায় বাঙালির জীবনদর্শন আর মনস্তত্ত্ব নৈসর্গিক উপাদানে প্রস্ফুটিত হয়ে উঠেছে। বাঙালি তাই তোমার কবিতাতে খুঁজে পেয়েছে তার বিমূর্ত চেতনার চিত্রকল্প। তুমি আমাদের বাঙালি সত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে পড়েছ এভাবে। আজ আমাদের মাঝে তোমাকে পেয়ে আমরা প্রত্যক্ষভাবে উপলব্ধি করছি আমাদের নৈসর্গিক অস্তিত্বের কাব্যিক সৌন্দর্যকে। তাই তোমাকে পেয়ে আমরা ধন্য।

হে আশাবাদী কবি,
তোমার ব্যক্তিমানস আর কবিমানস এ দুইয়ে মিলে আশার দিগন্তে তৈরি করেছে জীবনের জয়গান। আমরা তোমার সে জয়গানের মন্ত্রমুগ্ধ ভক্ত। আমরা তোমার আগমনের প্রতীক্ষায় থাকব। তোমার সাহচর্যে থেকে আমরা লাভ করতে চাই জীবনের অপার আনন্দ। তুমি নিত্যনতুন কবিতার মোহ সৃষ্টি করে জীবনের বহুমুখী অধ্যায় রাঙায়িত করবে, আর আমরা সে রঙে নিজেদেরকে সাজাব প্রতিনিয়ত- এ আমাদের একান্ত প্রত্যাশা।

তোমার দীর্ঘায়ু কামনা করছি। তুমি তোমার কর্মসাধনায় অমরত্ব লাভ করো, স্রষ্টার কাছে এ প্রার্থনা করছি।

তোমার গুণমুগ্ধ

ইব্রাহিমপুর ঈশ্বরচন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীবৃন্দ
ইব্রাহিমপুর, মানিকগঞ্জ

তারিখ : ৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২১
Post a Comment (0)
Previous Post Next Post