বইয়ে খোঁজার সময় নাই
সব কিছু এখানেই পাই
Install "My All Garbage" App to SAVE content in your mobile

রচনা : হেমন্তকালীন একটি সন্ধ্যা

ভূমিকা : দিন আর রাত্রির মিলন কালটাকেই বলা হয় সন্ধ্যা। ধীরে ধীরে দিনের আলো লুপ্ত হয়ে যায়, অন্ধকার ঘনিয়ে আসে। ঠিক কখন দিন শেষ হল আর কখন রাত্রি শুরু হল, তা নিশ্চয় বলা কঠিন; কিন্তু এটা নিশ্চিত যে, সন্ধ্যা দিনও নয়, রাতও নয়। এ দুয়ের একটি তেকে আর একটিতে উত্তীর্ণ হবার ক্রান্তিকাল। 

বর্ণনা : ঠিক স্পষ্ট করে চিহ্নিত করা যায় না বলেই বোধ হয় সন্ধ্যাা বড় রহস্যময় বলে মনে হয় আমাদের কাছে। আর সেজন্যই বোধ হয় এত আকর্ষণ সন্ধ্যায়। দিনের কর্মব্যস্ততা শেষ হলে সন্ধ্যার আবির্ভাব, নাকি সন্ধ্যাাই কর্মবহুল দিনের যবনিকা টেনে দেয়, কে বলবে? ধীর পদক্ষেপে তখন ঘরের দিকে ফিরে কর্মবহুল মানুষ ও পাখির ঝাঁক। চারদিকটা দেখতে দেখতে রঙ বদলায়। গাছের মাথায় পরিপূর্ণ মহিমায় বিলিয়মান রবি-রশ্মি এক অপরূপ সৌন্দর্যালোক সৃষ্টি করে। তা দেখে মনের মধ্যে গুন্ গুন্ করে উঠে, মাথার উপর দিয়ে উড়ে যায় পাখিরা, ওরা নিড়ে ফিরছে। সেই যে ‘স্বপ্ন’ কমিতায় রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, 
“কুলায় প্রত্যায়নী সন্ধ্যার পাখার মতো” 

সে উপমাটির সার্থকতা এই মুহূর্তেই বোঝা যায়। আমার চার পাশের মানুষজনের ব্যস্ততা দেখে সন্ধ্যার এই চমৎকার সময়টিকে উপভোগ করার দিকে কারও দৃষ্টি নেই। যন্ত্রযুগের মহিমায় আরও যন্ত্র হয়ে গেছি আমরা। 

এখন আঁধার হয়ে এসেছে চরদিকে, কিন্তু যন্ত্র চলছে। কি পূর্ণিমা, কি অমাবস্যা, রাস্তার আলো ঠিকই জ্বলবে। আর তা যদি নাও জ্বলে কোনদিন তবুও সাইন বোর্ডের নিয়ন বাতির আলো আর দোকানের চোখ ধাঁধানো আলোর সমারোহে রাত দিন হয়ে উঠেছে
“পাষাণকায়া হায়রে রাজধানী!” 

যে পথে চাঁদের আলো নেই, সে পথে লোকজন খুব কাছ থেকে না দেখলে ভাল করে চেনা যায় না। সন্ধ্যার অবকাশে আমি একা, আমি স্বতন্ত্র, আম স্বয়ংসম্পূর্ণ। এই উপলব্ধি কখনও নিঃসঙ্গতার বেদনা ছড়ায়, কখনও মর্যাদাবোধ আনে, কখনও নিজকে যেন ফিরে পাই নিজের কাছে। দিন বা রাত্রির তুলনায় সন্ধ্যার আয়ু খুব ক্ষীণ। সন্ধ্যা কখনো অবসরের সময় হয়ে পড়ে কর্মজীবনের ও একটুকু সাথী হয়ে পড়ে আশ্রয়, তবু সন্ধ্যাা নীরব সে দিনের সাথে রাতের মিলন ঘটিয়ে দেয়। 

মানসিক অবস্থা : আমাদের মত ছোটখাট লোকেরা যখন নিজেদের অস্তিত্ব নিয়ে বিড়ম্বিত হয়ে পড়ি, তখন মনে হয় সন্ধ্যার মত আমার ক্ষণিক জীবন দিয়ে ইতিহাসের একটা ধারাবাহিকতা রক্ষা করি। আমাদের মত অজ্ঞাত, অখ্যাত লোকেরাই মানব জীবনের গ্রন্থি রচনা করেছেন। 

দেখতে পাচ্ছি সন্ধ্যার প্রভাবে অনেক আবোল-তাবোল ভাবছি। লোকে চন্দ্রগ্রস্ত হয় নাকি? চারদিকে লোকের আশা-যাওয়া চলছে। ভ্রমণ বিরাসীরা বেড়িয়ে ফিরছে। ছেলেরা পড়তে বসছে, সুর করে পড়া মুখস্থ করছে। 

রাত নামছে আমার মনের মধ্যে কেমন একটা অব্যক্ত অনুভূতি, কেমন একটা অজানা বেদনার উপলব্ধি, মনে হচ্ছে- 
দিনের শেষে ঘুমের দেশে ঘোমটা পরা ঐ জায়া 
ভুলালোরে, ভুলালো মোর সব। 

উপসংহার : বর্ষণ মুখর সন্ধ্যা আর হেমন্তকালীন সন্ধ্যার মধ্যে রয়েছে যথেষ্ট পার্থক্য। আমাদের অনুসন্ধিৎসু মন যদি যে পার্থক্য চিনে নিজকে ধন্য করতে পারে তবেই হবে হেমন্তকালীন সন্ধ্যার প্রকৃত মূল্যালয়।


আরো দেখুন :

No comments