প্রবন্ধ রচনা : দয়া

History 📡 Page Views
Published
29-Apr-2019 | 05:55 AM
Total View
3.5K
Last Updated
24-Dec-2024 | 04:33 PM
Today View
0

↬ দয়ার গুরুত্ব


ভূমিকা : ইংরেজ কবি Wordsworth লিখেছেন :
That best portion of good man’s life 
His little, nameless, unremembered acts 
Of kindness and of love. 

বাঙলা প্রবাদেও আছে, “হিংসার-অধিক পাপ নেই, দয়ার-অধিক ধর্ম নেই”। দয়া মানুষের একটি মহৎ গুণ। পরকে দয়া দেখানোর প্রবৃত্তি মানুষের অন্তরে এমন একটি গুণের জন্ম দেয় যার সাহায্যে মানুষ মনুষ্যত্ব বিকাশের পথে বহুদূর অগ্রগামী হতে পারে। 

মানুষ সমাজবদ্ধ জীব। সমাজের আবেষ্টনীতে প্রত্যেক মানুষ প্রত্যেকের ওপর নির্ভরশীল হয়ে বাস করে। সমাজে যেমন ধনী ও বিত্তশালী লোক বাস করে তেমনি বাস করে দরিদ্র ও অসহায় লোক। সমাজে বসবাসরত দরিদ্র ও অসহায় লোকের প্রতি অনুকম্পা প্রদর্শন করাকেই দয়া বলা হয়। দয়া প্রদর্শনে অভ্যস্ত হলে অন্তরের সুপ্ত সদ্গুণগুলো জাগ্রত হয়ে ওঠে এবং তার দ্বারা মানুষ আত্মত্যাগের আদর্শে দীক্ষালাভ করে। ধনী-দরিদ্রের মধ্যে সমাজে প্রম্প্রীতি গড়ে তোলার জন্যে দয়ার অনুশীলন অপরিহার্য। 

সত্যিকারের দয়া কী? : দয়া প্রদর্শন করার ক্ষেত্রে আমরা সাধারণভাবে বুঝি যে, ভিখারিকে ভিক্ষা দেওয়া। আসলে দয়া প্রদর্শনের স্বরূপ কিন্তু তা নয়। সার্থকভাবে দয়া প্রদর্শন করতে হলে একজন দীন-দরিদ্রকে এমনভাবে দয়া দেখাতে হবে যা দ্বারা তার অভাব চিরতরে দূর হয় এবং সে নিজের পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়াতে পারে, অর্থাৎ স্বাবলম্বী হতে পারে। অনেকে নিজের নাম জাহির করার জন্যে সস্তা পন্থায় দয়া-দাক্ষিণ্য দেখিয়ে থাকে। এতে তার আত্মার মঙ্গল হয় না, বরং আত্মা কলুষিত হয়ে ওঠে। তাই পরম আন্তরিকতার সঙ্গে দয়া পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তিকে দয়া দেখাতে হবে। দয়া সকলকে দেখানো যায়,- বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী, সকলকে। সত্যিকারভাবে দয়া প্রদর্শনের মাধ্যমে মানবাত্মার উৎকর্ষ সাধিত হয়ে থাকে। 

ধর্মপুস্তকে দয়া প্রদর্শনের বর্ণনা : আমাদের কোরআনে বর্ণিত আছে যে, ডান হাতে দান করলে বাম হাতে যেন না জানে,- অর্থাৎ দয়া প্রদর্শনের মাধ্যমে যেন কোনোভাবেই গর্ব বা অহঙ্কার প্রকাশ না পায়। বাইবেলে বলা হয়েছে, দরিদ্রের প্রতি দয়া বা অনুকম্পা দেখানোর অর্থ হল সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা। 

দয়া সম্পর্কে জনসমর্থিত বিশ্বাস : মুসলমানগুণ প্রকৃতিগতভাবেই দনশীল। তারা যে ধর্ম-শিক্ষায় শিক্ষিত সে শিক্ষা ভিখারিকে দরজা থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার শিক্ষা দেয় না, বরং ভিখারির প্রতি সদয় ব্যবহার করার শিক্ষা দেয়। নিরন্ন মানুষকে অন্নদান করা মুসলমানদের হৃদয়ের ব্রত। প্রতিটি মুসলমান আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করে যে, যদি তারা ভুখা-নাঙ্গা মানুষের প্রতি সদয় না হয় তাহলে তার সৃষ্টিকর্তার রোষানলে পড়বেই। সুতরাং ইসলাম ধর্মে দয়া-দাক্ষিণ্যের মহিমাকে অনেক উচ্চে তুলে ধরা হয়েছে। ইসলাম ধর্মে যে যাকাতের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, সে ব্যবস্থা নিঃসন্দেহে দয়ার মহিমাই ব্যক্ত করে। 

নির্বিচারে দন করা অনুচিত : দয়ার যোগ্য প্রার্থীকে দয়া দেখানো বাঞ্ছনীয়। কিন্তু যারা দয়া পাওয়ার যোগ্য নয় তাদেরকে দয়া দেখালে তারা অলস ও অকর্মণ্য হয়ে পড়বে। তাই দয়া-দাক্ষিণ্য ও সাহায্য-সহযোগিতার ক্ষেত্রে বিচার-বিবেচনা প্রয়োজন। বিত্তশালী ব্যক্তিরা যথাযথভাবে এ মর্মে বিবেচনা করবেন যে, যেন তাদের কাছ থেকে সাহায্য পেয়ে সাহায্যপ্রাপ্তরা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে। চিরকাল যেন পরমুখাপেক্ষী হয়ে না থাকে। উদাহরণস্বরূপ, আমাদের মহানবী হযরত মুহম্মদ (স) এক ভিখারিকে কুঠার ক্রয় করে দিয়ে তাকে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। শারীরিকভাবে যারা বিকলাঙ্গ বা কর্মক্ষম নয় তাদের প্রতি বিত্তশালীদের বিশেষভাবে সদয় দৃষ্টি রাখা একান্ত কর্তব্য। 

মহৎ গুণ হিসেবে দয়ার স্থান ও জীবে দয়া : মানুষের মধ্যে যেমন ষড়রিপুর তাড়না রয়েছে তেমনি রয়েছে সুকুমার বৃত্তির প্রেরণা। মানুষকে বলা হয় সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব। পৃথিবীর সবকিছুই মানুষের ভোগ ব্যবহারের জন্যে যেন তৈরি। সেজন্যে জীবজগতের প্রতি মানুষের কর্তব্য রয়েছে। সবকিছু তার পদানত বলে অত্যাচার বা নিষ্ঠুরতার কসাই বানাতে হবে এমন হীনতার নির্দেশ স্রষ্টা দেন নি। সহানুভূতি, আত্মত্যাগ, ক্ষমা, ন্যায়নিষ্ঠা, সত্যনিষ্ঠা, পরদুঃখকাতরতা, সৌজন্য, বিনয়, উদারতার মতোই দয়া মনুষ্যজীবনে একটি উল্লেখযোগ্য মহৎ গুণ। পৃথিবীতে তাঁরা মানুষ ও জীবের কল্যাণকে প্রাধান্য দিয়ে ঘোষণা করেছিলেন ‘জীব হত্যা মহাপাপ’। যিশুখ্রিস্ট, হযরত মুহম্মদ (স) তাঁদের বাণী ও কর্মসাধনায় জীবের প্রতি দয়া প্রদর্শনের উপরে সমধিক গুরুত্ব প্রদান করেছেন। জীবের প্রতি মানুষের ধর্ম হচ্ছে প্রেম প্রদান। স্বামী বিবেকানন্দও বলেছেন- 
‘জীবে দয়া করে যেই জন সেইজন সেবিছে ঈশ্বর।’ 

চরিত্র গঠনে দয়ার ভূমিকা : চরিত্র মানবজীবনের অলংকার। সচ্চরিত্রবান মানুষের মহত্ত্ব ও খ্যাতি দয়াব্রতে আরো মধুর হয়ে ওঠে। জগতে যারা মানুষ ও জীবের প্রতি অত্যাচার ও দুর্ব্যবহার করে গেছে তাদের জীবন ও ইতিহাস কলঙ্কিত হয়েছে। হালাকু খাঁ, নাদির শাহ, তৈমুর লং, হিটলার প্রমুখের নিষ্ঠুরতা ও হিংস্রতা ছিল লোমহর্ষক। আবার স্বভাব থেকে নিষ্ঠুরতা পরিহার করে কেউ কেউ মানুষ ও জীবের প্রতি সেবাকর্মে নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে বিখ্যাত হয়ে আছেন। কলিঙ্গ যুদ্ধের সংগঠক সম্রাট আশোককে চণ্ডাশোক নামে অভিহিত করা হয়। এ যুদ্ধে এক লক্ষ মানুষ নিহত, দেড় লক্ষ দেশান্তরিত এবং এর বহুগুণ যুদ্ধজনিত দুর্ভিক্ষ ও মহামারীতে মৃত্যুমুখে পতিত হয়। যুদ্ধের সর্বনাশা রূপ অশোকের মনকে শোক, দুঃখ ও অনুশোচনায় মুহ্যমান করে তোলে। তিনি বৌদ্ধ ধর্মে দীক্ষিত হয়ে ধর্মপ্রাণ হয়ে ওঠেন। পরবর্তী ত্রিশ বছরে তিনি আর কোনো যুদ্ধ করেন নি। ক্ষমাকেই জীবনের মহান ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেন। জীবের প্রতি দয়ার্দ্র হয়েই অশোকের মন বিগলিত হয়েছিল। সে জীব মানুষই হোক কিংবা পশুই হোক। খলিফা হযরত উমর (রা)-এর নামও এ প্রসঙ্গে স্মরণ করা যেতে পারে। তিনিও প্রথম জীবনের দুর্দান্ত স্বভাব পরিত্যাগ করে কোমলমতি হয়ে উঠেছিলেন। চাকরকে উটের পিঠে উঠিয়ে রশি ধরে তিনি হেঁটেছেন। পরের প্রতি মমতা মানুষকে কত উচ্চমার্গে পৌঁছে দিতে পারে আমিরুল মোমেনীয় হযরত উমর (রা)-এর চরিত্র-মাহাত্ম্য ও জীবনাদর্শ এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ। 

জীবে ও সমাজে দয়া প্রতিষ্ঠার গুরুত্ব : জীবের প্রতি দয়া প্রদর্শন সমাজে প্রতিষ্ঠিত হলে আপনা-আপনি শান্তি-শৃঙ্খলাও প্রতিষ্ঠিত হবে। বিশেষ করে নির্বাক পশু-পাখির প্রতি মানুষের দয়া ও মমত্ব কতদূর প্রকাশ করা উচিত তা তুলনা করা যায় না। বিশ্বনবী হযরত মুহম্মদ (স) তাঁর জীবনে পশু-পাখির প্রতি অতিশয় দয়া প্রদর্শন করেছেন এবং অন্যকেও দয়া প্রদর্শনের কথা বলেছেন। 

উপসংহার : জনসাধারণ এবং দেশের সরকারের উচিত কর্মক্ষম ব্যক্তিদের কর্মের ব্যবস্থা করা, যাতে তারা পরিশ্রমের দ্বারা তাদের জীবিকা নির্বাহ করতে পারে। কর্মক্ষম মানুষ বেকার থাকলে সে স্বভাবতই পরমুখাপেক্ষী হয়ে পড়ে এবং সমাজের বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। উন্নত দেশে কর্মক্ষম ও শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধীদের জন্যেও কর্মের সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করা হয়। আমরাও যদি আমাদের দেশে বিভিন্ন পেশার মাধ্যমে সকলের জন্যে কর্মের ব্যবস্থা করতে পারি তাহলে অসহায়ত্বের অভিশাপ থেকে দেশের মানুষ বহুলাংশে মুক্তি পাবে। আমাদের অন্তরে মানবাত্মার উদ্বোধন আমরা দয়া ও দানের অনুশীলন করব-এটাই হোক আমাদের জীবনের মূলমন্ত্র।


💎 উপরের লিখাগুলো ওয়ার্ড ফাইলে সেভ করুন!

মাত্র 10 টাকা Send Money করে অফলাইনে পড়ার জন্য বা প্রিন্ট করার জন্য উপরের লিখাগুলো .doc ফাইলে ডাউনলোড করুন।

Download (.doc)
Sribas Chandra Das

Sribas Ch Das

Founder & Developer

HR & Admin Professional (১২+ বছর) ও কোচিং পরিচালক (১৪+ বছর)। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সহজ Study Content নিশ্চিত করতেই এই ব্লগ।

🏷️ Tag Related

⚡ Trending Posts

Facebook Messenger WhatsApp LinkedIn Copy Link

✅ The page link copied to clipboard!

Leave a Comment (Text or Voice)




Comments (0)

SSC রুটিন
২০২৬
পরীক্ষা শেষ হয়ে গেছে
বাংলা-১ম পত্র
২১ এপ্রিল ২০২৬ | মঙ্গলবার
⏰ আগামীকাল পরীক্ষা
বাংলা-২য় পত্র
২৩ এপ্রিল ২০২৬ | বৃহস্পতিবার
আর মাত্র ৪ দিন বাকি
ইংরেজি-১ম পত্র
২৬ এপ্রিল ২০২৬ | রবিবার
আর মাত্র ৬ দিন বাকি
ইংরেজি-২য় পত্র
২৮ এপ্রিল ২০২৬ | মঙ্গলবার
আর মাত্র ৮ দিন বাকি
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
৩০ এপ্রিল ২০২৬ | বৃহস্পতিবার
আর মাত্র ১১ দিন বাকি
গণিত
০৩ মে ২০২৬ | রবিবার
আর মাত্র ১৩ দিন বাকি
বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়
০৫ মে ২০২৬ | মঙ্গলবার
আর মাত্র ১৫ দিন বাকি
ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা
০৭ মে ২০২৬ | বৃহস্পতিবার
আর মাত্র ১৮ দিন বাকি
পদার্থবিজ্ঞান / ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা / ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং
১০ মে ২০২৬ | রবিবার
আর মাত্র ১৯ দিন বাকি
ভূগোল ও পরিবেশ
১১ মে ২০২৬ | সোমবার
আর মাত্র ২০ দিন বাকি
কৃষি / গার্হস্থ্য / অন্যান্য
১২ মে ২০২৬ | মঙ্গলবার
আর মাত্র ২১ দিন বাকি
হিসাববিজ্ঞান
১৩ মে ২০২৬ | বুধবার
আর মাত্র ২২ দিন বাকি
রসায়ন / পৌরনীতি / ব্যবসায় উদ্যোগ
১৪ মে ২০২৬ | বৃহস্পতিবার
আর মাত্র ২৫ দিন বাকি
উচ্চতর গণিত / বিজ্ঞান
১৭ মে ২০২৬ | রবিবার
আর মাত্র ২৮ দিন বাকি
জীববিজ্ঞান / অর্থনীতি
২০ মে ২০২৬ | বুধবার