বইয়ে খোঁজার সময় নাই
সব কিছু এখানেই পাই

রচনা : শরৎকাল

↬ আমার প্রিয় ঋতু

↬ শরৎকালের উৎসব ও আনন্দ

↬ শরৎকালে বাংলাদেশ

↬ শরতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য

↬ বাংলার শ্রেষ্ঠ ঋতু

↬ শরৎ তোমার অরুণ আলোর অঞ্জলি


ভূমিকা :
‘শরৎ, তোমার শিশির-ধোওয়া কুন্তলে-
বনের পথে লুটিয়ে-পড়া অঞ্চলে
আজ প্রভাতের হৃদয় ওঠে চঞ্চলি।’
ঋতু-রঙ্গমঞ্চে যখন অগ্নিক্ষরা গ্রীষ্মের আতঙ্ক-পাণ্ডুর বিবর্ণতা মুছে গেছে, যখন বর্ষার বিষণ্ণ-বিধুর নিঃসঙ্গতা আর নেই, তখনই নিঃশব্দ চরণ ফেলে শরতের আবির্ভাব। মুখে তার প্রসন্ন হাসি। অঙ্গে তার স্বর্ণবরণ মোহন কান্তি। তার স্নিদ্ধ রূপ-মাধুর্য সহজেই আমাদের মনকে নাড়া নেয়। শরৎ যে পূর্ণতার ঋতু! শরৎ আসে হালকা চপলা ছন্দে। এসেই মেঘ আর রৌদ্রের লুকোচুরি খেলায় মাতে। শরৎ শুভ্রতার প্রতীক। গাছের পাতায় ঝকঝকে রোদের ঝিলিক, ভরা নদীর পূর্ণতা, নদীতীরে ফুটে থাকা অজস্র কাশফুল, শিউলি আর সারা আকাশ জুড়ে তুলোর মতো শুভ্র মেঘ-এসবই জানিয়ে দেয় শরৎ এসে গেছে। তাই রৌদ্রবরণ, শুভ্রতার প্রতীক শরৎই আমার প্রিয় ঋতু।

পর্যায়কাল ও বৈশিষ্ট্য : বর্ষার অবসানে তৃতীয় ঋতু শরৎ এক অপূর্ব শোভা ধারণ করে আবির্ভূত হয়। ভাদ্র ও আশ্বিন (আগস্ট মাসের মধ্যভাগ থেকে অক্টোবর মাসের মধ্যভাগ পর্যন্ত) মিলে শরৎকাল। ভাদ্র (সেপ্টেম্বর) মাসে তাপমাত্র আবার বৃদ্ধি পায়, আর্দ্রতাও সর্বোচ্চে পৌঁছে। শরৎকালে বনে-উপবনে শিউলি, গোলাপ, বকুল, মল্লিকা, কামিনী, মাধবী প্রভৃতি ফুল ফোটে। বিলে-ঝিলে ফোটে শাপলা আর নদীর ধারে কাশফুল। এ সময়ে তাল গাছে তাল পাকে। হিন্দুদের দুর্গাপূজাও এ সময় অনুষ্ঠিত হয়।

শরতের অনুপম রূপরাশি : ঋতুরঙ্গশালায় শরৎ আর বসন্ত হল শূদ্র।
‘একজন শীতের আর একজন গ্রীষ্মের তলপি বহন করিয়ে আনে। মানুষের সঙ্গে এখান প্রকৃতির তফাত। প্রকৃতির ব্যবস্থায় যেখানে সেবা সেইখানেই সৌন্দর্য, যেখানে নম্রতা সেইখানেই গৌরব। তাহার সভায় শূদ্র যে সে ক্ষুদ্র নহে, ভার যে বহন করে সমস্ত আবরণ তাহারই। তাই তো শরতের নীল পাগড়ির উপরে সোনার কলকা, বসন্তের সুগন্ধ পীত উত্তরীয়খানি ফুলকাটা। ইহারা যে পাদুকা পরিয়া ধরণী-পথে বিচরণ করে তাহা রঙ-বেরঙের সূত্রশিল্পে বুটিদার; ইহাদের অঙ্গদে কুণ্ডলে কুণ্ডলে অঙ্গুরীয়ে জহরতের সীমা নাই।’

হালকা কুয়াশা আর বিন্দু বিন্দু মজে ওঠা শিশির, শারদপ্রভাতের প্রথম সলজ্জ উপহার। এর ওপর যখন সূর্যের আলো পড়ে তখন মনে হয় চারদিকে ছড়িয়ে আছে অজস্র মুক্তোদানা। যথার্থই শরতের নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের তুলনা নেই। আকাশে এখন গাঢ় নীলিমার অবারিত বিস্তার। ক্ষান্ত-বর্ষণ সুনীল আকাশের পটভূমিকায় জলহারা লঘুভার মেঘপুঞ্জ। ধীর মন্থর ছন্দে তার কেবলই সৌন্দর্যের নিরুদ্দেশ যাত্রা। দিকে দিকে তার প্রসন্ন হাসির নম্র আভা। নদী-সরসীর বুকে কুমুদ-কলমের নয়ন-মুগ্ধকর সমারোহ-শোভা। দিগন্ত-বিস্তার সবুজ ধানের ক্ষেত। তার শ্যামশস্য হিল্লোলে আনন্দ-গুঞ্জরণ। গাছে গাছে পত্রপল্লবে সবুজের ছড়াছড়ি। প্রাঙ্গণে প্রাঙ্গণে শেফালি-সৌরভ। আঙিনায় আঙিনায় গুচ্ছ গুচ্ছ দোপাটির বর্ণসজ্জা। নদীকূলে কাশের বনে শুভ্র তরঙ্গ-কম্পন। প্রভাতে তৃণপল্লবে নবশিশিরের ভীরু স্পর্শ। তাতে অরুণ-আলোর রক্ত-আভার লজ্জানম্র ভুবন-ভোলানো রূপ-কান্তি। গাছে গাছে, ডালে ডালে, দোয়েল পাপিয়ার প্রাণমাতানো সুরমূর্ছনা। নৈশ নীলাকাশে রজতশুভ্র জোছনার উদাস-করা হাতছানি। শারদ-লক্ষ্মীর এই অপরূপ রূপলাবণ্য মর্ত্যভূমিকে করেছে এক সৌন্দর্যের অমরাবতী।

শরতের রাত : স্নিগ্ধতা আর কোমলতার এক অপূর্ব রূপ নিয়ে আসে শরতের রাতে। শরৎ-রাত্রির চাঁদ সারা রাত ধরে মাটির শ্যামলিমায় ঢেলে দেয় জোছনাধারা। মাঝে মাঝে বয়ে যায় স্নিগ্ন বাতাস। দূর থেকে ভেসে আসে শিউলির সুবাস। মন কিছুতেই ঘরে আটকে থাকতে চায় না। কেবলই ছুটে যেতে চায় বাইরে। ঝকঝকে জোছনায় পাখিদের ভ্রম হয়। ভোর হয়ে গেছে ভেবে ডেকে ওঠে কাক। ভোর হতে না হতেই শিশিরসিক্ত শিউলি ঝরে পড়ে সবুজ ঘাসে। কমলা বোঁটায় তখনও টলমল করে জলের কণা। কবি-হৃদয় চঞ্চল হয়। লেখে কবিতা কিংবা গান :
‘আমরা বেঁধেছি কাশের গুচ্ছ, আমরা গেঁথেছি শেফালিমালা
নবীন ধানের মঞ্জরি দিয়ে সাজায়ে এনেছি বরণডালা।’
শরতে নীল সরোবরে পদ্মের সাথে হৃদয় মেলে ফুটে ওঠে বাংলাদেশের প্রাণ। শরতে কেবলি বর্ণের স্নিগ্ধতা আর উদারতা। সবুজ, নীল আর সাদার এমন অপূর্ব সমন্বয় আর কোনো ঋতুতে দেখা যায় না। জননী বাংলাদেশ আপনার হৃদয় উজাড় করে মেলে ধরে এই শরতে।

শরতের উৎসব : এমনি করেই ধীরে ধীরে উৎসবের সাজে সেজে ওঠে শস্যবিচিত্রা ধরিত্রী। আকাশে-বাতাসে বাসে মধুর আগমনী গান। মানুষের মনে লাগে উৎসবের রঙ। শরতের ভুবনবিজয়ী রূপের প্রেক্ষাপটেই রচিত হয় উৎসব-বেদী। বাঙালির হৃদয়মন আসন্ন উৎসবের আনন্দ-জোয়ারে প্লাবিত হয়। বাঙালির মধ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের শ্রেষ্ঠ শারদ-উৎসব দুর্গাপূজার আয়োজনে মুখরিত হয় বাংলার গ্রাম-নগর। দিকে দিকে তারই আনন্দ-স্রোত, কলোচ্ছ্বাস।

ছুটির ঋতু শরৎ : শরতের অনুপম রূপ-বৈভবের মাঝখানেও বাঙালির মনে বেজে ওঠে ছুটির বাঁশি। আকাশে-বাতাসে তার উদার মুক্তির আহ্বান। জোছনা-পুলকিত রাত্রির মোহিনী রূপ বাঙালিকে উতলা করে। ঘরের বন্ধন ছিন্ন করে সে ওই অফুরান সৌন্দর্যের জোয়ারে ভেসে যেতে চায়। তার শিউলি-বিতানে, শিশির-সিক্ত তৃণপল্লবে, আকাশে সীমাহীন নীলিমায়, দোয়েল-শ্যামার কলকণ্ঠ, ভ্রমরের-গুঞ্জনে তার কেবলই উদাস হাতছানি ছুটির সাদর আমন্ত্রণ। একে উপেক্ষা করার সাধ্য কার! গৃহবন্দী জীবনের ক্লান্তি ভুলতে সে দূর-দূরান্তরে বেরিয়ে পড়ে। শরৎ তাই ছুটির ঋতু। অবকাশের ঋতু। বাঙালির মনকে সে করেছে সৌন্দর্যের তীর্থাভিমুখী। ‘শরতের রৌদ্রের দিকে তাকাইয়া মনটা কেবল চলি চলি করে- বর্ষার মতো সে অভিসারে চলা নয়, সে অভিমানের চলা।’

শরতের অর্থনৈতিক অবদান : শরৎ ফসলের ঋতু নয়। আগামী ফসলের সম্ভাবনার বাণীই সে বহন করে আনে। পাকা ধানের ডগায় সোনালি রোদ গলে গলে পড়ে। চকচক করে কৃষকের চোখ আনন্দে। দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ ধানের ক্ষেত দেখে কৃষক আশায় বুক বাঁধে। আর কিছুদিন পরেই ঘরে উঠবে সোনার ধান, পরম আদরের ধান। শরৎ তাই আগামী ফসলের সম্ভাবনার বাণী। মাঠে মাঠে নবজীবনের আশ্বাস। বর্ষায় যে বীজ বপন, হেমন্তে যে পাকা ফসলের পরিণত-প্রতিশ্রুতি, শরতে তারই পরিচর্যা। অনাগত দিনের স্বপ্ন-সম্ভাবনায় তার নম্র নেত্রে খুশির ঝিলিক। এরই ওপর কৃষি-প্রধান বাংলাদেশের আয়-ব্যয়ের হিসাব রচিত হয়। তাই অর্থনৈতিক প্রবাহে শরৎ ঋতুরও রয়েছে এক অপরিহার্য ভূমিকা।

শারদীয় সাহিত্য : বাঙালির জাতিয় উৎসবকে স্মরণীয় ও সার্থক করে তোলার জন্য বাঙালি কবি সাহিত্যিকের দল তাঁদের বরণীয় রচনা-সম্ভারে পরিপূর্ণ করে তোলেন সংবাদ-সাময়িকীর শারদ সংখ্যাগুলো। অত্যন্ত পরিশ্রমে তাঁরা পাঠক-পাঠিকাদের কাছে তুলে দেন তাঁদের নতুন নতুন সৃষ্টি। তাঁদের নব নব ভাবনাচিন্তার ফসল পাঠক-মন পরিতৃপ্ত হয়। রূপে-রসে রঙে-বৈচিত্র্যে মাখামাখি শারদসংখ্যাগুলোর এসময়েই আবির্ভাব। এগুলোও শারদ-উৎসবের এক অনন্য সম্পদ।

উপসংহার : জগতে কিছুই স্থায়ী নয়। শরতের প্রসন্ন বর্ণবৈভবও একদিক স্তিমিত হয়ে পড়ে। আনন্দমুখর উৎসব-সমারোহ থেমে যায়। কালচক্রের আবর্তনে শুধুই পট-পরিবর্তন। এবার শরৎ-বিদায়ের লগ্ন আসে এগিয়ে। শিশির বিছানো, শিউলি-ঝরা পথের ওপর দিয়ে কখন যে নিঃশব্দে চলে গেছে। পথে পথে রেখে গেছে ম্লান, ঝরা শেফালি, বিষণ্ণ কাশের গুচ্ছ, আর মাঠভরা নতুন ধানের মুঞ্জরি। বিসর্জনের বেদনায় আমাদের মন ব্যথাতুর হয়ে ওঠে। অশ্রুভারাক্রান্ত হৃদয়ে তার বিদায়-পথের দিকে চেয়ে থাকে এই বাংলার মাঠ-প্রান্তর, পশু-পাখি, মানুষ তরুলতা। মনের কোণে জমে থাকে বিদায় মুহূর্তের বিষণ্ণতা। সর্বত্রই উৎসব শেষের অশ্রুবিধুর আকুলতা। শরৎ যে আমাদের প্রাণের ঋতু! আমার প্রিয় ঋতু। এ ঋতু চক্রের মহিমায় বাংলাদেশ চিরকাল অপূর্ব সুখ, সৌন্দর্য ও শান্তির নিকেতন।
‘এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি,
সকল দেশের রানী সে যে আমার জন্মভূমি।’
শুধু জননী জন্মভূমি রূপেই নয়, রূপসী বাংলার এই ষড়ঋতু নানা বর্ণ-গন্ধ গানের সমারোহে নিত্য-আবর্তিত হয়ে চলে। কিন্তু শহরবাসী ও শহরমুখী বাঙালি আজ আর অন্তরে অনুভব করে না তার সাদর নিমন্ত্রণ। ঋতু-পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে প্রকৃতি যখন বিবাহের কণ্যার মতো অপরূপ সাজে সেজে উঠবে বাঙালি তখন শুনবে কলকারখানার যন্ত্রঘর্ঘর-ধ্বনি কিংবা কম্পিউটারে অঙ্ক মেলাতে ব্যস্ত থাকবে সওদাগরি অফিসে।


[ একই রচনা আরেকটি বই থেকে সংগ্রহ করে দেয়া হলো ]


ভূমিকা :
“শরৎ রাণীর বীণা বাজে
কমলদলে।
ললিত রাগের সুর ঝরে তাই
শিউলি তলে।”
                                                                  -রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

ঋতুরঙ্গময়ী রূপসী বাংলার তৃতীয় ঋতু শরৎ। ঋতু পরিবর্তনের বিচিত্র ধারাপথে নিয়ত উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে তার অন্তহীন রূপের খেলা, রঙের খেলা ও সুরের খেলা। বর্ষণ ধৌত, মেঘমুক্ত আকাশের সুনীল রূপকান্তি, আলো ছায়ার লুকোচুরি, শিউলি ফুলের মন উদাস করা গন্ধ, নদীতীরে কাঁশফুলের অপূর্ব শুভ্র সমারোহ, প্রভাতে তৃণপল্লবে নতুন শিশিরের আলিম্পন, তাতে প্রভাত সূর্যের রশ্মিপাত এবং শুভ্র জ্যোৎস্না পুলকিত রাত্রি- এই অনুপম রূপরাশি নিয়ে বাংলাদেশে শরতের আবির্ভাব ঘটে। এ সময়ে নানা উৎসব আনন্দে মেতে ওঠে বাংলার গ্রাম ও শহর।

শরতের আগমন : বর্ষার পরেই শরতের আগমন। গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহের পর বর্ষাকে প্রথম প্রথম প্রিয়জন মনে হলেও এর দীর্ঘ অবস্থান আর একরোখা আধিপত্যের কারণে শেষ পর্যন্ত আর মোটেই ভালো লাগে না। নির্ধারিত সময়কালে আষাঢ় শ্রাবণ শেষ হওয়ার পরও যেন বর্ষার ফিরে যাওয়ার নামগন্ধ নেই। এজন্যই বর্ষার একঘেয়ে যন্ত্রণার পর শরতের আগমনে অনেকটা স্বর্গ সুখ অনুভূত হয়। যেন মানবসমাজের জন্য নতুন আশার সংবাদ নিয়ে শরতের আগমন ঘটে। ভাদ্র-আশ্বিন দু মাস শরৎকাল। ভাদ্রে তার আগমন, আশ্বিনে তার ঐশ্বর্যের প্রকাশ, আর কার্তিকের সূচনায় তার অন্তর্ধান।

শরতের বৈশিষ্ট্য : বর্ষার অত্যাচারের পর শরতের আকাশ ও প্রকৃতি নতুন রূপে সাজে। শরৎ বর্ষার মাধুর্যকে গ্রহণ করে। কিন্তু তার সর্বনাশা রূপকে বরদাস্ত করে না। সে আসে অমল ধবল মেঘের পাল তুলে। ঝলমলে রোদ, ফুরফুরে নির্মল হাওয়া আর আকাশে ভেসে বেড়ায় সাদা মেঘের ভেলা। প্রকৃতির রাজ্যে নতুন চেতনার সঞ্চার করে শরতের আবির্ভাব হয়। সে আসে প্রশান্ত মাধুর্য নিয়ে। বর্ষার বেদনামলিন বক্ষে যে আনন্দ ফুটি ফুটি করছিল, শরতে তার অপরূপ আবির্ভাব ঘটে। শরতে পৃথিবী যেন সদ্যস্নাতা তরুণীর মূর্তি পরিগ্রহ করে অপরূপ মহিমায় দেখা দেয়। তারই বন্দনার জন্য গাছ থেকে শেফালি ঝরে পড়ে। শরতের মূর্তিতে নিহিত রয়েছে একটি পরিতৃপ্তির হাসি। বর্ষার আলো আঁধারি ক্রীড়ার সমাপ্তিতে শরতে আলোকের মেলা বসে। শরৎ তাই আলোর শিশু। তার আগমনে বিশ্ব চরাচরে মধুর আনন্দের সাড়া পড়ে যায়। সে আনন্দের অভিব্যক্তি ঘটে নানা উৎসব অনুষ্ঠানে। শরতের এসব বৈশিষ্ট্যে মুগ্ধ হয়ে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথশরৎ’ কবিতায় বলেছেন-
“আজি কী তোমার মধুর মুরতি
হেরিনু শারদ প্রভাতে।
হে মাত বঙ্গ, শ্যামল অঙ্গ
ঝলিছে অমল শোভাতে।
পারে না বহিতে নদী জলধার,
মাঠে মাঠে ধান ধরে নাকো আর-
ডাকিছে দোয়েল, গাহিছে কোয়েল
তোমার কানন সভাতে।
মাঝখানে তুমি দাঁড়ায়ে জননী
শরৎকালের প্রভাতে।”

শরৎকালের সৌন্দর্য : শরতের অনুপম সৌন্দর্যে কবির কি হৃদয়গ্রাহী উপলব্ধি। শরৎকালে বাংলাদেশে যে রূপঐশ্বর্য ফুটে ওঠে তা অন্য ঋতুতে দেখা যায় না। রাত্রিকালে শারদশশীর উজ্জ্বল কিরণে পথঘাট প্লাবিত হয়ে অপরূপ সৌন্দর্যমণ্ডিত হয়ে ওঠে, চাঁদের উজ্জ্বল কিরণে বাংলার কাশবন, গৃহচূড়া ও নদীর নির্জন বুক সমস্তই হাস্যময়ী রূপ ধারণ করে। শরৎকালের জ্যোৎস্নাচ্ছন্ন রাতে গ্রামগঞ্জের নরনারী গানের মধ্যে ডুবে থাকে। তারা যাত্রা, কবিগান ইত্যাদি নিয়ে পাড়া থেকে অন্য পাড়ায় আসর জমায়।

বর্ষণক্ষান্ত আকাশের পটভূমিকায় রৌদ্রবসন শরতের এই উদার আনন্দময় আবির্ভাব সত্যি নয়নাভিরাম। তার রোদের রং কচিকাঁচা তরল সোনার মতো। শারদীয় মৃদুমন্দ হাওয়া, ফোটা ফুলের স্নিগ্ধ সৌরভ, নীলিমার দিগন্ত বিস্তৃত পরিবেশ মানবমনকে উদাস করে তোলে। রাতের শিউলি ঝরে পড়ে প্রভাতের পদদ্ধনিতে, খেতের ফসল আমন্ত্রণ জানায়, জানান দিয়ে যায় শরতের বার্তা। শরতের আগমনে বাংলার বন-উপবন, দোয়েল, কোয়েল, ময়নার কলকাকলিতে মুখর হয়ে ওঠে। সাজিয়ে তোলে অপূর্ব সাজে। শরতের এই সৌন্দর্যময় পটভূমিকায় শস্য বিচিত্রা ধরিত্রীর অনির্বচনীয় রূপলাবণ্য, সেই সঙ্গে নদীর ভরাস্রোতে ভাসমান পালতোলা নৌকাশ্রেণি এবং রজত শুভ্র জ্যোৎস্নার পুলকিত স্নিগ্ধ সমারোহ বাংলাদেশকে পরিণত করে এক অপরূপ সৌন্দর্যের অমরাবতীতে। এই সৌন্দর্যের জন্য শরৎকে ঋতুর রাণী বলা হয়ে থাকে। ছড়াকার মোহাম্মদ আবদুল মান্নান শরতের রূপে মুগ্ধ হয়ে লিখেছেন-
“বর্ষা শেষে রাণীর বেশে
এলো শরৎ এলো,
ধানের ক্ষেতে উঠলো মেতে
বাতাস এলোমেলো।
এলোমেলো তাইতো হলো
সবার রাঙা মন,
রাঙা হলো গগনতল
বন-উপবন।”

শরতের অর্থনৈতিক অবদান : শরৎ ফসলের ঋতু নয়। শরৎ তাই ফসল কাটে না। ফসল পাকানোও তার কাজ নয়, ফসল কাটার তাড়া নেই তার। সে শুধু বাঙালির মনের মণিকোঠায় বহন করে নিয়ে আসে আগামী ফসলের উজ্জ্বল সম্ভাবনাময় বাণী। বাংলাদেশে বিগত বর্ষায় যে ফসল ফলিয়েছে এবং যা আগামী হেমন্তে খামারে ওঠবে, শরৎ সেই ফসলের শুভ সম্ভাবনার সংবাদ বহন করে এনে বাংলাদেশের অন্তরে বইয়ে দেয় এক অনবদ্য আনন্দের বন্যা। ক্রমে, সেই আনন্দ পরিণত হয় এক বর্ণাঢ্য উৎসব সজ্জায়। শরতের এই উজ্জ্বল অর্থনৈতিক পটভূমিকায় রচিত হয় শারদীয় উৎসবের প্রাণোচ্ছল আয়োজন। আর, শরৎ যে আগামী ফসলের সম্ভাবনার বাণী বহন করে নিয়ে আসে, তার শুগভীর আশ্বাসেই কৃষিমাতৃক বাংলাদেশের সারা বছরের আয় ব্যয়ের হিসাব নিকাশ রচিত হয়ে যায়। সেই আশ্বাসের নিবিড় স্পর্শে বাঙালির মুখে ফুটে ওঠে উৎসবের অমলিন হাসি। শরৎ বাংলাদেশের আনন্দের অগ্রদূত, বাঙালির উৎসবের বার্তাবহ, তার সচ্ছলতার নিপুণ কারিগর।

শরতের উৎসব : শরতে উৎসবের সাজে সেজে ওঠে শস্যময়ী বাংলাদেশ। জলে স্থলে আর গগনে গগনে বেজে ওঠে মাটির কন্যার আগমনী গান। বাঙালি হিন্দুদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা শরতেই উদযাপিত হয়। তাই একে বলা হয় শারদীয় উৎসব। আকাশে ও মাটিতে শুভ্রতার অপূর্ব সমারোহের মধ্যে যেন শারদলক্ষ্মীপূজা, শ্যামাপূজা, ভ্রাতৃদ্বিতীয়া- সবই শরৎ ঋতুর আলোকোজ্জ্বল অবদান।

শরতের ফুল : শরৎকালে ফোটে নানা জাতের ফুল। শেফালি, মালতী, জুঁই, টগর, কামিনী ইত্যাদি শারদীয় ফুল। এসমস্ত ফুলের সৌরভ ও সৌন্দর্যে সকলেই মুগ্ধ হয়। শিশিরস্নাত উজ্জ্বল শারদ প্রভাতে ঝরা শেফালির স্নিগ্ধ মদির সুবাস চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। শরতে মৃদুমন্দ হাওয়া ফুলের স্নিগ্ধ সৌরভ, নীল আকাশ তলে দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ মাঠ মনকে উদস করে তোলে। ছড়াকার আবু সালেহ তাই বলেন-
“শরৎ এলে যায় হারিয়ে মন
হাত ছানিতে ডাকে যে কাঁশবন
শিউলী ফুলে মন জড়িয়ে যায়
যাই হারিয়ে সাদা মেঘের নায়
ধানের গাছে সজীবতার ছবি
এই শরতে হেসে ওঠে কবি।”

উপসংহার : শরৎ বাংলাদেশকে উৎসবের আনন্দে হাসিয়ে এবং বিসর্জনের বেদনায় কাঁদিয়ে বিদায় গ্রহণ করে। তার চলার পথে পড়ে থাকে বিষণ্ণ ঝরা কাঁশের গুচ্ছ, ছিন্ন ম্লান শেফালির মালা, আর নবীন ধানের অজস্র মঞ্জুরী। শিশিরাশ্রুপূর্ণ চোখে বাংলাদেশ তার বিদায় পথের দিকে করুণ বিষণ্ণ হৃদয়ে চেয়ে থাকে। বর্ষা বাঙালির প্রিয় ঋতু, শরৎ বাংলাদেশের হৃদয়ের ঋতু। বর্ষা তার স্বাচ্ছন্দ্যের করিগর, আর শরৎ তার আনন্দের অগ্রদূত। তাই শরতের প্রতিষ্ঠা বাংলাদেশের হৃদয়ের মণিকোঠায়।


[ একই রচনা আরেকটি বই থেকে সংগ্রহ করে দেয়া হলো ]


যে কবি বর্ষার যত প্রশসংসাই করুন না কেন, একসময় বর্ষার অলস মন্থর একঘেয়েমি, বিষণ্ণ-বিধুর নিঃসঙ্গতা আমাদের মনকে নিস্তেজ করে তোলে। মন আকুল হয়ে ওঠে আলো ঝলমল সূর্যের মুখ দেখার জন্যে। ভিজে ভারী থমথমে পরিবেশে হাঁপিয়ে ওঠে মন। তাই মুক্তি খোঁজে নির্মেঘ আলো ঝলমলে নীল আকাশে। ঠিক তখনই শরৎ আসে আর অরুণ আলোর অঞ্জলির স্বর্ণচ্ছটায় ঝলমল করে। তার স্নিগ্ধ রূপমাধুর্য সহজেই মনকে নাড়া দেয়। মন গেয়ে ওঠে-
‘শরৎ, তোমার শিশির-ধোওয়া কুন্তলে-
বনের পথে লুটিয়ে-পড়া অঞ্চলে
আজ প্রভাতের হৃদয় ওঠে চঞ্চলি।’

শরৎ যেন নিয়তই খুশিতে ভরপুর। হালকা চপল ছন্দ তার। মেঘ ও রৌদ্রের লুকোচুরি খেলতে খেলতে শরৎ আসে। একটু মেঘ, এক পশলা বৃষ্টি, এক ঝলক হাওয়া- পরক্ষণেই সোনালি রোদ্দুর। গাছের পাতায় রোদের ঝিকিমিকি, আকাশে পেজা তুলোর মতো টুকরো মেঘের ভেলা। বাতাসে কী এক খুশির সুর। আবার হয়তো খণ্ড মেঘে ছেয়ে গেল আকাশ। এমনিভাবে মেঘ আর রোধের খেলা খেলে শরৎ আসে বাংলায়।

শরতের ছবিটি ভীষণ মনোরম। বর্ষার ঘনঘোর আঁধার সরে যায়। শরতের হাসিমাখা সকাল মেঘের ঘেরাটোপ সরিয়ে পূর্বাশার দুয়ার আলোকিত করে দাঁড়ায়। আশ্চর্য এই আলোয় চারিদিক মনে হয় সোনা দিয়ে মোড়া। বাতাসে ভেসে বেড়ায় কদম, কেয়া আর শিউলির মৃদুমন্দ গন্ধ। নদীর কূলে কূলে কাশের বনে শুভ্র হাসির দোলা লাগে, ধানের শিষগুলো হাওয়ায় দুলতে থাকে। নীড় ছেড়ে পাখিরা বেরিয়ে পড়ে আকাশে, কাননে। তাদের অফুরান কাকলি ও গানে মুখর হয়ে ওঠে চারিদিক- মহাকবি কালিদাস অনেকটা এভাবেই বর্ণনা করেছেন শরতের।

শরতে গাছে গাছে পত্রপল্লবে সবুজের ছড়াছড়ি। বাংলার মাঠে ঘাটে, সবুজ ঘাসে, ধানের ডগায় আর শ্যামল তরুলতার ওপর শরৎ ছড়িয়ে দেয় সোনালি আলো। নগরে, জনপদে, মানুষের চোখেমুখে লাগে তার ছোঁয়া। কলকল ধ্বনিতে বয়ে যাওয়া নদীর ধারালো স্রোতের ওপর সূর্যের আলো চকচক করতে থাকে হীরে মানিকের হাজার ছটার মতো। চকচক করে কৃষকের চোখ আনন্দে। তার এখন আশায় বুক বাঁধার দিন। শ্রাবণের বারিধারার সাথে তাল মিলিয়ে বীজ বপনের কাল শেষ। প্রচণ্ড পরিশ্রমের পর শান্তিতে বিশ্রাম যাপনের কাল এখন। দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ ধানের খেত। তার ওপর রোদের লুকোচুরি খেলা। নদীর কূলে কাশের বনে দোলা লাগে। দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ ধানের খেত। তার ওপর রোদের লুকোচুরি খেলা। নদীর কূলে কাশের বনে দোলা লাগে। শরতের রাত আস অপরূপ মাধুরী নিয়ে। নির্মল আকাশের সমস্ত নীল আর মাটির শ্যামলিমার বুকে শরৎরাত্রির চাঁদ ঢেলে দেয় রজত-ধারা। রজতশুভ্র জ্যোৎস্নার উদাস করা চাতছানি মনকে আকুল করে। বনে বনে ফুলের সমারোহে প্রকৃতি হয়ে ওঠে অপরূপ। সারারাত ধরে ফোটে শেফালি ফুল, সকালে শিশির-ভেজা ঘাসের বুকে সাজায় শুভ্র ফুলের গালিচা। কবি-হৃদয় চঞ্চল হয়ে লেখে পদ্য কিংবা গান-
‘আমরা বেঁধেছি কাশের গুচ্ছ, আমরা গেঁথেছি ফেফালিমালা
নবীন ধানের মঞ্জরী দিয়ে সাজিয়ে এনেছি ডালা।’

শরতে সরোবরে পদ্মের সাথে হৃদয় মেলে দিলে ফুটে ওঠে বাংলাদেশের প্রাণ। জননী বাংলাদেশ আপনার হৃদয়কে আমাদের কাছে উজাড় করে দেয় এই শরতে।

কৃষিকেন্দ্রিক সমাজ আমাদের। সব আনন্দ, সব উৎসব, সব ঐশ্বর্য আমাদের নির্ভর করে মূলত শস্যসম্পদের ওপর। আর শরত আগামী ফসলের সম্ভাবনার বাণী নিয়ে আসে। পুরো বর্ষা জুড়ে যে বীজ বপন চলে, হেমন্তে যে বীজ পাকা ফসলে রূপ নেয় সে বীজের পরিচর্যা চলে স্নিগ্ধ শরৎ জুড়ে। শরৎ মাঠে মাঠে আনে নবজীবনের আশ্বাস। এরই ওপর রচিত হয় কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের আয়-ব্যয়ের হিসেব। কৃষকের চোখে মুখে থাকে আনন্দ, এক স্বপ্নিল অনুভূতি। প্রকৃতির এই স্নিগ্ধ, শান্ত সৌন্দর্যের পটভূমিতে, এই শরতেই হিন্দুরা দুর্গোৎসবে মাতে।

শরতের নির্মল আকাশ হাতছানি দিয়ে ডাকে তেপান্তরে। বর্ষার অলস মন্থরতার পর শরৎ আমাদের জীবনে আনে প্রাণবন্ত উল্লাস। জ্যোৎস্না পুলকিত রাত্রির মোহিনী রূপ উতলা করে বাঙালিকে।

শরতের প্রকৃতিতে কেবলই উদাস করা হাতছানি। ঘর ছেড়ে বেরিয়ে পড়ার আমন্ত্রণ। একে এড়িয়ে যায় সাধ্য কার? শরৎ তাই ছুটির ঋতু, অবকাশের ঋতু। সোনারগাঁ, সুন্দরবন, ময়নামতি, পাহাড়পুর, রাঙামাটি, কাপ্তাই, কক্সবাজার মনকে টানে। মন কেবল বলে-
‘কী করি আজ ভেবে না পাই,
পথ হারিয়ে কোন বনে যাই।’

দারিদ্র্য আর সংকটে জর্জরিত আমরা এই শরতে অন্তত কিছুক্ষণের জন্যে হলেও যন্ত্রণাকে ভুলে যেতে চাই। হারিয়ে যেতে চাই প্রকৃতির মনমাতানে সৌন্দর্য আর আনন্দের মধ্যে। তাই শরৎ বাঙালির মনকে করেছে সৌন্দর্য-পিপাসু। এ ঋতুতে গৃহবন্দি জীবনের ক্লান্তিকর একঘেয়েমি তুচ্ছ মনে হয়। তাই অফুরন্ত সৌন্দর্যের জোয়ারে ভেসে যায় মন।

মূলত ভাদ্র-আশ্চিন এই দুমাস নিয়েই শরৎ। আষাঢ়-শ্রাবণের অবিরল বারিধারার গুরুগম্ভীরতার পর শরৎ যেন ‘হঠাৎ আলোর ঝলকানি’। তাই এই হঠাৎ আলোর ঝলকানিতে ‘ঝলমল করে চিত্ত’। কিন্তু শরতের প্রথমদিকের অনেকটাই বর্ষার বর্ষণে মুখরিত থাকে। আবার হেমন্ত শিশিরভেজা পায়ে খানিকটা আগেই দরজায় কড়া নাড়ে। তাই শরৎ ‘ক্ষণিকের অতিথি’। সকালবেলায় ঘাসের ওপর টলমল করা শিশির বিন্দুর মতোই শরতের স্থায়িত্ব। অথচ এই ক্ষণিকের জন্যে এসেও সে উজাড় করে উদার হাতে মেলে ধরে অফুরন্ত, অজস্র সৌন্দর্যের ভাণ্ডার।

সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তে শরতের প্রকৃতি ধারণ করে এক মনলোভা রূপ। বাংলাদেশের প্রকৃতি রঙে রূপে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে এ সময়। ঝরা শেফালি, কাশের গুচ্ছ আর মাঠ ভরা নতুন ধানের মঞ্জুরি শিল্পী-মন, কবি-মনে এনে দেয় মুগ্ধতার আবেশ। রচিত হয় গান-
আমার নয়ন-ভুলানো এলে-
আমি কী হেরিলাম হৃদয় মেলে-
শিউলিতলার পাশে পাশে ঝরা ফুলের রাশে রাশে
শিশির ভেজা ঘাসে ঘাসে অরুণ রাঙা চরণ ফেলে
নয়ন-ভুলানো এলে-

শরতে বিশ্রাম পায় প্রকৃতি ও মানুষ। গুরু গুরু মেঘধ্বনি কিংবা বজ্রের কাড়া-নাকাড়া নেই, নেই কালবৈশাখীর উন্মত্ততা, গ্রীষ্মের তাপদাহ কিংবা শীতের হিমশীতলতা। সারাদিন মৃদুমন্দ বাতাস, রাতে জ্যোৎস্নায় মাখামাখি।

শরতে হিন্দু-ধর্মাবলম্বীরা বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবে মাতে। শ্রেষ্ঠ শারদ উৎসব দুর্গা পূজা ছাড়াও লক্ষ্মী পূজা, শ্যামা পূজা ইত্যাদিও শরতের উৎসব।

গ্রীষ্মদগ্ধ আর বর্ষাবিধৌত আমাদের এই দেশে শরৎই হলো শান্তি ও সমৃদ্ধির অগ্রদূত। যদিও বাঙালির জীবনে বসন্তের বর্ণসুষমার সমারোহ অনেক। তবু শরৎই আসলে বাংলাদেশের এক অপরূপ বিশেষ রূপ। এ রূপ বাংলার নিজস্ব। এই ঋতুতেই বাঙালির হৃদয় আর প্রকৃতি একাকার হয়ে যায়। শারদ প্রকৃতির মধুর রূপে মুদ্ধ কবি তাই আকুল আবেগে বলে ওঠেন-
আজিকে তোমার মধুর মুরতি
হেরিনু শারদ প্রভাতে
হে মাতঃ বঙ্গ শ্যামল অঙ্গ
ঝলিছে অমল শোভাতে।

15 comments:


Show Comments