রচনা : সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ

ভূমিকা : বাংলাদেশ আমাদের দেশ। এই দেশে আমাদের জন্ম। এ দেশের আলোহাওয়ায় আমরা বেঁচে থাকি। এদেশকে নিয়ে আমরা উজ্জ্বল আগামীর স্বপ্ন দেখি। ধনে মানে গৌরবে এদেশ একদিন পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। একটি উন্নত দেশ হিসেবে পৃথিবীতে পরিচিতি লাভ করবে। এমন সম্ভাবনাকে বুকে নিয়ে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। বিভিন্ন দিক থেকে বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় দেশ। এই সম্ভাবনার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও আমরা লাভ করেছি। সম্প্রতি জাতিসংঘ বাংলাদেশকে অনুন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এটা বাংলাদেশের এক বড়ো অর্জন। ব্যবসায়-বাণিজ্য, তথ্য প্রযুক্তি, প্রাকৃতিক সম্পদ, জনশক্তি, পর্যটন শিল্পসহ নানা ক্ষেত্রে বাংলাদেশের রয়েছে অপার সম্ভাবনা। ত্রিশ লাখ মানুষের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তুলতে এই সম্ভাবনাকে আমাদের বাস্তবে রূপ দিতে হবে।

সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ
সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ

সম্ভাবনার নানা দিগন্ত : অনেক দিক দিয়েই বাংলাদেশ একটি অপার সম্ভাবনাময় দেশ। প্রাকৃতিক সম্পদের প্রচুর সম্ভাবনা আছে বাংলাদেশে। এর মধ্যে খনিজ সম্পদ ও সমুদ্র সম্পদই প্রধান। খনিজ সম্পাদের মধ্যে গ্যাসই প্রধান। নতুন নতুন গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কার হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এই গ্যাস উত্তোলন করে শিল্পকারখানায় ব্যবহার করলে আমাদের অর্থনীতির প্রভূত উন্নতি সম্ভব। এছাড়া কয়লা ও চুনা মাটিকে ব্যবহার করে বিদ্যুৎ ও সিরামিক শিল্পের বিকাশ সাধন সম্ভব। প্রাকৃতিক সম্পদের মধ্যে সমুদ্র সম্পদ অন্যতম আমাদের বিশাল সমুদ্র অঞ্চল থেকে মৎস্য আহরণ করে তা বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যায়। এছাড়াও সমুদ্রের তলদেশে ও পানিতে রয়েছে নানা খনিজ দ্রব্য। এসব সম্পদ আহরণ করে কাজে লাগানো সম্ভব।

জনশক্তি একটি দেশের প্রধান সম্পদ। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে। প্রায় ষোল কোটি মানুষ আছে এদেশে। এর মধ্যে প্রায় দুই কোটি মানুষ বিদেশে গিয়ে কাজ করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। প্রশিক্ষণ দিয়ে আরো মানুষকে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করা যায়। দেশের চাহিদা মিটিয়ে তাদেরকে বিদেশে রপ্তানি করে আরও বৈদেশিক মুদ্রা আয় সম্ভব।

পর্যটন শিল্প আধুনিক বিশ্বে একটি সম্ভাবনাময় খাত। বাংলাদেশেরও রয়েছে এই সম্ভাবনা। বাংলাদেশে অবস্থিত বিশ্বের বৃহত্তম সমুদ্রসৈকত, সুন্দরবন ও পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকা পর্যটনের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় স্থান। প্রতি বছর প্রচুর দেশি-বিদেশি পর্যটক বাংলাদেশের এসব এলাকা পর্যটন করেন। এই পর্যটকের থাকা, খাওয়া, যাতায়াতসহ নানা ধরনের সহযোগিতা দিয়ে গড়ে উঠছে পর্যটন শিল্প। এই শিল্পখাতকে প্রাধান্য দিয়ে একদিকে যেমন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে উপার্জিত হতে পারে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা।

বর্তমান যুগ হলো তথ্যপ্রযুক্তির যুগ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ছাড়া এযুগে মানুষ অচল। বর্তমান পৃথিবীতে আয়ের একটি বড়ো খাত হিসেবে গড়ে উঠেছে তথ্যপ্রযুক্তি। অল্প কিছু দিন হলো বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যেই এ খাতের উন্নয়নে এগিয়ে এসেছে তরুণ উদ্যোক্তারা। যথাযথ প্রশিক্ষণ ও সরকারি সহায়তা পেলে অচিরেই এই খাত হবে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সবচেয়ে বড় খাত। 

সম্ভাবনার প্রতিবন্ধকতা : সম্ভাবনা থাকলেই শুধু হবে না। সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে না পারলে সব সম্ভাবনাই ব্যর্থ হবে। এ ক্ষেত্রে রয়েছে প্রচুর প্রতিবন্ধকতা। সম্ভাবনা বাস্তবায়নের প্রধান অন্তরায় হলো রাজনীতিক অস্থিতিশীলতা। দেশে প্রায়শই হরতাল, ধর্মঘটসহ নানা রাজনীতিক অশাস্তি লেগে থাকে। শান্তিপূর্ণ রাজনীতিক পরিবেশ সৃষ্টি করতে না পারলে সম্ভাবনার বাস্তবায়ন দারুণভাবে ব্যাহত হবে। এছাড়া সম্ভাবনার সকল ক্ষেত্রে সরকারি সহায়তা থাকতে হবে। দুঃখজনক হলেও সত্য সরকারি কাজে ঢিলেমি তথা লাল ফিতার দৌরাত্ম্য এক্ষেত্রে এক বড়ো বাধা। বাংলাদেশ জনশক্তিতে বলিয়ান হলেও যথাযথ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের অভাবে দক্ষ জনশক্তির অভাব রয়েছে। পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে জনশক্তিকে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করে আর্থনীতিক ব্যাপক উন্নতি করা সম্ভব। 

উপসংহার : মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনের ফলে বাংলাদেশে সম্ভাবনার যে দুয়ার উন্মোচিত হয়েছে তাকে কাজে লাগাতে হবে। একই সঙ্গে খুঁজে বের করতে হবে সম্ভাবনার নতুন নতুন ক্ষেত্র। এজন্য প্রয়োজন গবেষণা। প্রয়োজন দেশপ্রেম। আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করে সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগিয়ে সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখি।
Post a Comment (0)
Previous Post Next Post