My All Garbage

Shuchi Potro
সাধারণ জ্ঞান বাংলা ব্যাকরণ বাংলা রচনা সমগ্র ভাবসম্প্রসারণ তালিকা অনুচ্ছেদ চিঠি-পত্র ও দরখাস্ত প্রতিবেদন প্রণয়ন অভিজ্ঞতা বর্ণনা সারাংশ সারমর্ম খুদে গল্প ভাষণ লিখন দিনলিপি সংলাপ অ্যাসাইনমেন্ট-২০২১ English Grammar Composition / Essay Paragraph Letter, Application & Email Dialogue List Completing Story Report Writing Graphs & Charts পুঞ্জ সংগ্রহ বই পোকা হ য ব র ল তথ্যকোষ পাঠ্যপুস্তক CV & Job Application My Study Note আমার কলম সাফল্যের পথে
About Contact Service Privacy Terms Disclaimer Earn Money


বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শিক্ষা সহায়ক ওয়েবসাইট

সাধারণ জ্ঞান : মোতাহের হোসেন চৌধুরী [ জীবন ও বৃক্ষ, শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব ]

মোতাহের হোসেন চৌধুরী

মোতাহের হোসেন চৌধুরী কবে জন্মগ্রহণ করেন? — ১৯০৩ সালে। 

তিনি কোথায় জন্মগ্রহণ করেন? — কাঞ্চনপুর, নোয়াখালী। 

তিনি মূলত কী ছিলেন? — বিশিষ্ট গদ্যশিল্পী।

তিনি কোন আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন? — বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন। 

তাঁর রচিত গদ্যগ্রন্থগুলোর নাম কী? — 'সংস্কৃতি–কথা' (১৯৫৮), 'সভ্যতা' (১৯৬৫), 'সুখ' (১৯৬৮)।
 
তিনি সংস্কৃতি সম্পর্কে ধর্মনিরপেক্ষ ও মানবতাবাদী সংজ্ঞাার্থ দেন কোন প্রবন্ধে? — 'সংস্কৃতি–কথা' গ্রন্থে। 

মোতাহের হোসেন চৌধুরীর 'সংস্কৃতি–কথা'র আলোকে সংস্কৃতি সম্পর্কে তাঁর ভাবনা ব্যক্ত কর?
মোতাহের হোসেন চৌধুরী সংস্কৃতি ও শিক্ষা এই দুটো বিষয় নিয়ে ভেবেছেন। তবে সংস্কৃতি নিয়েই তিনি ভেবেছেন বেশি। শিক্ষা সম্পর্কিত তাঁর প্রধান বিবেচনা এক অর্থে সংস্কৃতি ভাবনারই ফল। শিক্ষার উপযোগিতা ও অন্তর সাধনা দুটোই তিনও চেয়েছেন। শিক্ষাগ্রহণ করে মাছ ভাত জোগাড়ের ব্যবস্থা করতে হবে বটে কিন্তু মনুষ্যত্বের বিকাশ বাধাগ্রস্ত করে নয়। মনুষ্যত্বের বিকাশ বলতে তিনি বোঝাতেন সুসংস্কৃত হওয়াকে আর এটাই তাঁর সংস্কৃতি চেতনা। তাঁর বিখ্যাত প্রবন্ধ বইয়ের নাম 'সংস্কৃতি–কথা' এবং এখানে একটি প্রবন্ধের নামও তিনি রেখেছেন একই নামে। এই একটি প্রবন্ধ বুঝে পড়লে সংস্কৃতি নিয়ে কোনো বাঙালিকে আর নতুন করে অব্য কোনো পাঠ করতে হবে না। 'সংস্কৃতি' বলতে সমাজবিজ্ঞান বা নৃবিজ্ঞানে যেসব প্রচলিত কথা বলা হয় মোতাহের হোসেন চৌধুরী কিন্তু সেইসব কথা বলেন নি। তিনি বলেছেন— কোনো সমাজের জনগোষ্ঠীর সামষ্টিক কর্মকানণ্ডের সংস্কৃতির প্রতিফলন ঘটে। নিষ্ঠাকে তিনও গুরুত্ব দিয়েছেন এবং বলেছেন, নিষ্ঠার সঙ্গে সাধনা করলেই সংস্কৃতি উপভোগের ক্ষমতা জন্মে। আর ধর্মকে তিনও 'পুরো' সংস্কৃতি বলেন নি, বলেছেন সংস্কৃতির 'অঙ্গ'। তাই তাঁর বক্তব্য, ধার্মিক হওয়া মানে সংস্কৃতিমান হওয়া, আর সংস্কৃতিমান হওয়া মানে পুরো ধার্মিক হওয়া। পাকিস্তানের যে সময় তিনি এই বক্তব্য উল্লেখ করেছিলেন, কালের বিচারে তা ছিল যথেষ্ট সাহসী। আর তাঁর সংস্কৃতি–ভাবনা আজকের বন্ধ্যা সময়ে বিশেষ প্রয়োজনীয় বলে মনে হয়। 

তিনি আর কী রচনায় প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন? — কবিতা রচনায়। 

তিনি কবে মৃত্যুবরণ করেন? — ১৮ই সেপ্টেম্বর, ১৯৫৬ সালে। 

'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু জিজ্ঞাসা

সংসারটা আজ কিসে পরিপূর্ণ? — স্থুলবুদ্ধি ও জবরদস্তিপ্রিয় মানুষের।

জীবনকে সার্থক ও সুন্দর করে না তুলে অন্যের ক্ষতি মানুষ কেন করে? — প্রেম ও সৌন্দর্যের স্পর্শ লাভ করে নি বলে। এজন্য এরা নিষ্ঠুর ও বিকৃতবুদ্ধি। 

প্রাবন্ধিক জীবনের সার্থকতা কোথায় খুঁজেছেন? — বৃক্ষের মধ্যে। 

তপোবনপ্রেমিক রবীন্দ্রনাথ জীবনের গতি খুঁজেছেন কোথায়? — নদীর গতিতে। উল্লেখ্য তিনি নদীকেই মনুষ্যত্বের প্রতীক ভেবেছেন। 

মানুষের জীবনের সাধনা কী হওয়া উচিত নয়? — অনবরত ধেয়ে চলা।

বৃক্ষের মধ্যে রবীন্দ্রনাথ কী বলেছেন? — অন্তরের সৃষ্টি ধর্ম। 

বৃক্ষ বৃদ্ধি ছাড়া আর কীসের ইঙ্গিত দেয়? — প্রশান্তির। শান্ত ও সহিষ্ণুতার সে জীবনের ভার বহন করে।

'জীবন ও বৃক্ষ' প্রবন্ধটি কোন গ্রন্থ থেকে নেওয়া? — 'সংস্কৃতি কথা' গ্রন্থ থেকে।

অহংকার কাদের প্রধান দেবতা? — বিচারবিবেচনা ও চিন্তাচেতনাহীন লোকদের। 

'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' থেকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু জিজ্ঞাসা

'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধটি কোন গ্রন্থ থেকে নেওয়া? — 'সংস্কৃতি কথা' গ্রন্থ থেকে।

'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধে লেখক মানুষের জীবনকে কিসের সাথে তুলনা করেছেন? — দোতলা ঘরের সাথে। 

জীবনসত্তার ঘর থেকে মানবসত্তার ঘরে উঠবার মই কী? — শিক্ষা।

'ক্ষুৎপিপাসা'র ব্যাসবাক্যসহ সমাস নির্ণয় কর। — ক্ষুধা ও পিপাস — দ্বন্দ্ব সমাস।

'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধে লেখক কোনটিকে অভিনন্দনযোগ্য মনে করেছেন? — অন্ন চিন্তার নিগড় থেকে মানুষকে মুক্তি দেওয়ার চেষ্টা। 
 
প্রচুর অন্নবস্ত্র পেলে আলো–হাওয়ার স্বাদ পেলে মানুষ কোন স্থানকে স্বর্গতুল্য মনে করে? — কারাগার।

'অন্নবস্ত্রের প্রাচুর্যের চেয়েও মুক্তি বড়' —এই বোধটি কীসের পরিচায়ক? — মানুষের মনুষ্যত্বের বলে প্রাবন্ধিক মনে করেন।

কোথায় মুক্তি নেই? — যেখানে চিন্তার, বুদ্ধির ও আত্নপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই।

কীসের জন্য মনুষ্যত্বের সাধনা ব্যর্থ হওয়া অসম্ভব নয়? — অন্নবস্ত্রের দুশ্চিন্তায়।

অর্থচিন্তায় ব্যস্ত মানুষ কী অর্জনে অক্ষম? — প্রকৃত মনুষ্যত্ব। 

প্রকৃত মনুষ্যত্ব অর্জনে সক্ষম নয় কারা? — অর্থচিন্তার ব্যস্ত মানুষ।

'লেফাফাদুরস্তি আর শিক্ষা এক কথা নয়' —উক্তিটি কার? — মোতাহের হোসেন চৌধুরীর।

'লেফাফা' অর্থ কী? — চিঠি আবৃত করার খাম।

'লেফাফাদুরস্তি' অর্থ কী? — বাইরে  ঠিকঠাক ভেতরে ফাঁকা।

শিক্ষার আসল কাজ কী? — মূল্যবোধ সৃষ্টির উপায়মাত্র।

কীসের মাধ্যমে মূল্যবোধ তথা মনুষ্যত্ব লাভ করা যায়? — শিক্ষার মাধ্যমে।

কীসের ফলে মানুষের আত্মিক মৃত্যু ঘটে? — লোভের ফলে।

অন্নচিন্তা মানুষের কোন সত্তার অন্তর্ভুক্ত? — জীবসত্তা।

'শিক্ষা ও মনুষ্যত্ব' প্রবন্ধে লেখক শিক্ষার কী রকম সুফল প্রত্যাশা করেছেন? — ব্যক্তিগত ও সামগ্রিক। 

সহজে দানাপানি পাওয়ার লোভে খাঁচায় বন্দি না হওয়াটা কোন সত্যকে প্রমাণ করে?  — অন্নবস্ত্রের প্রাচুর্যের চেয়ে মুক্তি বড়।

No comments