খুদে গল্প : স্মৃতির মনিকোঠায়

Article Stats 📡 Page Views
Reading Effort
364 words | 3 mins to read
Total View
1K
Last Updated
23-Dec-2025 | 10:50 AM
Today View
0
'স্মৃতির মনিকোঠায়' শিরনামে একটি খুদে গল্প রচনা করো।

স্মৃতির মনিকোঠায়

বেশিদিন আগের কথা নয়। এইতো সেদিন বাসস্ট্যান্ডে ছেলের জন্য দাঁড়িয়ে ছিলেন সায়েদ সাহেব। ছেলে তার ঢাকায় লেখাপড়া করে। আজ ছেলে বাড়ি আসবে। তাই সায়েদ সাহেবের আনন্দের সীমা নেই। বাবার হৃদয় বুঝি এমনই হয়। সন্তানের মুখ দেখতে বাবা যে কতটা ব্যাকুল থাকেন, তা বাবা না হলে হয়ত বুঝা কঠিন। বাড়ির কাছাকাছি বাস যতই এগুচ্ছে বাবার যেন আর তর সইছে না। কয়েক মিনিট পর পর ফোন করে কেবল জানতে চায় 'আব্বু তুমি কতটুকু এসেছো?' যেন ভালবাসার প্রবল স্রোত উত্তাল সমুদ্রের মতো হৃদয়মাঝে আছড়ে পড়ে। বাস স্ট্যান্ডে বাস থামতেই ছেলের হাত থেকে ব্যাগ নিয়ে যান সায়েদ সাহেব। রিকশা চালককে খুব গর্ব করে বলেন আমার ছেলে এসেছে ঢাকা থেকে। ছেলে তখনো বোঝে না, বাবার হৃদয় কতটা পাগল, কতটা স্নেহের ডোরে আবদ্ধ। ছেলে কী খেতে পছন্দ করে তা খুব খেয়াল করে নিয়ে আসে সায়েদ সাহেব। তখন ঈদের ছুটি চলছিল। ঈদের দুদিন আগে সায়েদ সাহেব অফিস থেকে বাড়িতে ফিরছিলেন। রাত আটটার দিকে একটি অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোন আসে সুমনের আম্মুর মোবাইল নাম্বারে। সায়েদ সাহেব যে গাড়িতে বাড়ি ফিরছিলেন সে বাসটি বিপরীত দিক থেকে আসা বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুমড়ে মুচড়ে গেছে। যাত্রীদের অধিকাংশের অবস্থা শোচনীয়। যারা বাসের সামনের সারিতে ছিলেন তাদের অবস্থা বেশি আশঙ্কাজনক। সায়েদ সাহেব চালকের পেছনের সিটেই বসা ছিলেন। বাসটি উল্টে গিয়ে ইঞ্জিনটি তার দুপায়ের উপর পড়েছে। খবরটি শুনে পরিবারে অজানা আশঙ্কায় কান্নায় রোল পড়ে গেল। সদর হাসপাতালে ছুটে গেল সুমন। পরিচিত কয়েকজন তার মুমূর্ষু বাবার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। যে কেউ দেখলে মনে করবে মৃত লাশ পড়ে আছে। কোনো মতে নিজেকে সস্বরণ করে সুমন। ডাক্তার বলেছে হয়ত তার বাবার দুটো পা কেটে ফেলা লাগবে। কান্না আর থামাতে পারে না সুমন। রাত কেটে ভোর হলো। এম্বুলেন্সে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যাওয় হলো তার বাবাকে। দীর্ঘ এক বছর চিকিৎসার পর সায়েদ সাহেব সুস্থ হয়ে ওঠেন। তার পা অক্ষত থাকে ঠিকই কিন্তু তার ভেতর বাসা বাঁধে দুরারোগ্য ব্যাধি ক্যান্সার। ডাক্তার বলে দিয়েছে তাকে আর বাঁচানো যাবেনা। পরিবারের সর্বস্ব বিলিয়ে দিয়েও আর বাঁচানো গেল না সুমনের বাবাকে। সুমন এখন ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত। প্রায়ই বাড়ি যায়। কিন্তু তার বাবা আর বাসস্ট্যান্ডে তার জন্য অপেক্ষা করে না। ঘন ঘন ফোন করে খবরও নেয় না। আজ বাবার শূণ্যতা সে হাড়ে হাড়ে অনুভব করে। স্মৃতিপটে ভেসে ওঠে বাবার সেই অপেক্ষা, সেই স্নেহ-ভালোবাসা।
- ৬০ -

💎 উপরের লিখাগুলো ওয়ার্ড ফাইলে সেভ করুন!

মাত্র 10 টাকা Send Money করে অফলাইনে পড়ার জন্য বা প্রিন্ট করার জন্য উপরের লিখাগুলো .doc ফাইলে ডাউনলোড করুন।

Download (.doc)

Sribas Ch Das

Founder & Developer

HR & Admin Professional (১২+ বছর) ও কোচিং পরিচালক (১৪+ বছর)। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সহজ Study Content নিশ্চিত করতেই এই ব্লগ।

🏷️ Tag Related

⚡ Trending Posts

Facebook Messenger WhatsApp LinkedIn Copy Link

✅ The page link copied to clipboard!

Leave a Comment (Text or Voice)




Comments (0)