My All Garbage

Shuchi Potro
সাধারণ জ্ঞান বাংলা ব্যাকরণ বাংলা রচনা সমগ্র ভাবসম্প্রসারণ তালিকা অনুচ্ছেদ চিঠি-পত্র ও দরখাস্ত প্রতিবেদন প্রণয়ন অভিজ্ঞতা বর্ণনা সারাংশ সারমর্ম খুদে গল্প ভাষণ লিখন দিনলিপি সংলাপ অ্যাসাইনমেন্ট-২০২১ English Grammar Composition / Essay Paragraph Letter, Application & Email Dialogue List Completing Story Report Writing Graphs & Charts পুঞ্জ সংগ্রহ বই পোকা হ য ব র ল তথ্যকোষ পাঠ্যপুস্তক CV & Job Application My Study Note আমার কলম সাফল্যের পথে
About Contact Service Privacy Terms Disclaimer Earn Money


বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শিক্ষা সহায়ক ওয়েব সাইট

খুদে গল্প : রক্তঝরা ফাগুন

'রক্তঝরা ফাগুন' শিরোনামে একটি খুদে গল্প লেখ।

রক্তঝরা ফাগুন

প্রভাতফেরিতে মৌমিতা সবার কন্ঠে কন্ঠ মিলালো - 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি।' গাইতে গাইতে কন্ঠ তার রুদ্ধ হয়ে আসছিল। ভীষণ কান্না পাচ্ছিল। বারবার মনে পড়ছিল চাচার কথা। যে চাচা ১৯৫২ সালের মিছিলে ছিলেন, গুলিবদ্ধ হয়েছিলেন। কিন্তু তার লাশ খুঁজে পাওয়া যায় নি। পুলিশের গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়েছিল, জানিয়েছিল প্রত্যক্ষদর্শীরা। মৌমিতার বাবা গিয়েছিলেন নানা জায়গায়, খোঁজ পাননি। ভাষা আন্দোলনের উত্তাল দিনগুলোতে চাচাকে ধরে রাখা যায়নি ঘরে। দাদি তাকে হাত ধরে ঘরে নিয়ে আটকে রেখেছিলেন। তারপরও কিভাবে পালিয়ে গিয়েছিলেন মিছিলে। বাসায় যতক্ষণ থাকতেন কেবল মাতৃভাষার অধিকার আর মর্যাদা নিয়েই কথা বলতেন। ঢাকার কোথায় কোথায়, কার কার নেতৃত্বে মিছিল হচ্ছে তা বলতেন। পুলিশ কীভাবে তাদের খুঁজছে এবং পুলিশের চোখ এড়িয়ে কীভাবে তারা সংগঠিত হতেন সেসব কথা বিস্ময়কর মনে হতো। দাদা চাচাকে উৎসাহিত করতেন। মাতৃভাষার গুরুত্ব সম্পর্কে নানা দিক থেকে ধারণা দিয়ে উদ্বুদ্ধ করতেন, মৌমিতার বাবাও মাঝে মাঝে যোগ দিতেন, কিন্তু চাচার মতো অতটা সক্রিয় ছিল না। চাচা পুলিশের ধাওয়া খেয়েছেন, মার খেয়েছেন, হাজত বাস করেছেন দু একদিন। সে কারণে তার সাহস যেমন বেড়ে গিয়েছিল, তেমনি আন্দোলনের সাথে একাত্ম হয়ে গিয়েছিলেন। মৌমিতা নাম জানা ভাষাশহিদদের সাথে ওর চাচা কথাও শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে শহিদ মিনারে ফুল দিতে আসে প্রতিবছর। শহিদদের রক্তঝরা ফাগুন ওর চাচার স্মৃতি হয়ে কাছে টেনে নেয়।


একই খুদে গল্প আবার সংগ্রহ করে দেওয়া হলো


১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি। আনিসের কাছে তখন ঢাকা শহরের পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত মনে হতে লাগল। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে প্রায় প্রতিদিনই শিক্ষার্থীদের মিটিং, মিছিল আর বিক্ষোভ চলছিল। এখানে ওখানে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষও চলতে থাকে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই আনিসের শ্বশুর তার স্ত্রী লতাকে নিয়ে একদিন ঢাকায় চলে এলেন। অবশ্য লতার এই আগমন ঠেকানোর জন্য সেবার আনিসের আর তেমন কিছুই করার ছিল না।

আনিসের সঙ্গে লতার বিয়ে হয়েছিল দুই বছর আগে। আনিস মাঝে মাঝে বাড়ি গিয়ে দু-তিন দিন থেকে আবার ঢাকায় ফিরে আসত। সরকারি চাকরির সুবাদে সে ঢাকায় একটা ছোট ঘর ভাড়া করে থাকত । তার চাকরির বয়স তখন মাত্র আড়াই বছরের মতো। বিয়ের পর থেকেই লতার ইচ্ছে ছিল ঢাকায় স্বামীর কাছে বেড়াতে যাবে। কিন্তু বাড়তি খরচের ভয়ে আনিস নানা অজুহাতে এতদিন লতার সেই ঢাকা আসার ইচ্ছাটা ঠেকিয়ে রেখেছিল।

যতবারই আনিস বাড়িতে গেছে লতা ওকে ঢাকায় বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার জন্য আবদার করেছে। আনিস নানা অজুহাতে তাকে বারণ করেছে। এবারও লতার ঢাকা আসা হতো না, যদি বাবা জমিজমা সংক্রান্ত কাজে ঢাকায় না আসতেন। লতাকে নিষেধ করতে আনিসেরও বিবেকে বাঁধল। বিয়ের পর থেকে বেচারি লতাকে নিয়ে সে গ্রামের বাইরে কোথাও যায়নি। মেয়েটাও তো আর তেমন কিছু চায়নি। দুদিনের জন্য ঢাকায় বেড়াতে আসতে চেয়েছে। প্রকৃতিতে ফাল্গুন এসেছে ঠিকই কিন্তু বাঙালির মনে তখন গ্রীষ্মের দাবদাহ চলছে। পরিস্থিতিও দিন দিন খারাপের দিকেই যাচ্ছিল। আনিসের মনও তাই চিন্তিত হয়ে উঠল!

লতাকে আনিসের কাছে রেখে আনিসের শ্বশুর একদিন পরেই বাড়ি ফিরে গেলেন। ঢাকা শহর ঘুরে দেখিয়ে এক সপ্তাহ পরে আনিস লতাকে বাড়ি দিয়ে আসবে— এমনটাই সিদ্ধান্ত ছিল।

অফিস থেকে বিকেলে বাসায় ফিরে আনিস লতাকে নিয়ে রিকশায় বেড়াতে বের হয়। বড় বড় দালানকোঠা, বাস-গাড়ি খুব বিস্ময়ের সঙ্গে দেখতে থাকে লতা। রাস্তার পাশে ফুটে থাকা কৃষ্ণচূড়া দেখে লতা খুবই বিমোহিত হয়ে যায়! কিন্তু আনিসের মনে শঙ্কা জাগে দেশের যা পরিস্থিতি, যেকোনো সময় একটা অঘটন ঘটে যেতে পারে। তাই আর সন্ধ্যার পর বাইরে থাকাটা নিরাপদ মনে করে না আনিস। রাতে রেডিওতে ভাষা আন্দোলনের খবর শুনে আনিসের মন আরও বিক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। খবরে বলল, আগামীকাল ঢাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। সারারাত প্রায় নির্ঘুম কাটাতে হলো আনিসকে। অবশ্য লতা অত কিছু বোঝে না। সে গ্রামের মেয়ে। সে শুধু জানে, মাতৃভাষার জন্য শহরের বাঙালিরা আন্দোলন করছে। লতা তাই রাত গভীর হওয়ার আগেই ফাল্গুনের হিমেল বাতাসে ঘুমিয়ে যায় ।

পরদিন ছিল ফেব্রুয়ারির ২১ তারিখ সকালে যথারীতি আনিস অফিসে গেল। লতা স্বাভাবিকভাবেই ঘরে ছিল। হঠাৎ সে বাইরে অনেক হৈ-চৈ শুনতে পেল। জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখল, লোকজন বলাবলি করছে– আজ নাকি পুলিশ ছাত্রদের মিছিলে গুলি করেছে। অনেক লোক আহত হয়েছে। কেউ কেউ মারাও গেছে। চারদিক থেকে লতা মিছিলের তীব্র স্লোগান শুনতে পেল 'রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই।’ লতার মনে তখন ভয় কাজ করতে শুরু করল। মনটা অস্থির হয়ে উঠল। হঠাৎ দরজায় জোরে কড়া নাড়ার শব্দ। বাইরে আনিসের কণ্ঠ শুনে দরজা খুলে দেয় লতা। | দরজায় কোনো রকমে দাঁড়িয়ে থাকা আনিস লুটিয়ে পড়ে। তার ডান হাতে গুলি লেগেছে। রক্তে ভেসে গেছে জামা। লতা এক টুকরো কাপড় এনে আনিসের ক্ষতস্থানে বেঁধে দেয়। লতার হাত কাঁপতে থাকে। তার চোখে পানি, হাতে রক্ত।

No comments