My All Garbage

Shuchi Potro
সাধারণ জ্ঞান অ্যাসাইনমেন্ট-২০২১ বাংলা রচনা সমগ্র ভাবসম্প্রসারণ তালিকা অনুচ্ছেদ চিঠি-পত্র ও দরখাস্ত প্রতিবেদন প্রণয়ন সারাংশ সারমর্ম খুদে গল্প ব্যাকরণ Composition / Essay Paragraph Letter, Application & Email Dialogue List Completing Story Report Writing Graphs & Charts English Note / Grammar পুঞ্জ সংগ্রহ বই পোকা হ য ব র ল তথ্যকোষ পাঠ্যপুস্তক CV & Job Application বিজয় বাংলা টাইপিং My Study Note আমার কলম সাফল্যের পথে
About Contact Service Privacy Terms Disclaimer Earn Money


বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শিক্ষা সহায়ক ওয়েব সাইট

খুদে গল্প : মৌনতা

'মৌনতা' শিরোনামে একটি খুদে গল্প লেখ।

মৌনতা

২মার্চ আবিরের জন্মদিন। আর মাত্র একদিন বাকি। গেস্ট লিস্ট করা শেষ। আবিরের সহপাঠী বন্ধুদের সবাইকে আসতে বলেছেন আবিরের মা। বাবা প্রথমে আপত্তি করেছিলেন খরচের কথা ভেবে। আবিরের দাদা সে দায়িত্ব নেয়াতে সলভ হয়ে গেছে। এদিকে আবিরের দশ বছর পূর্তিতে আবিরের নানী দশ পাউন্ডের একটি কেক গিফ্ট করবেন। নানা দিবেন প্রিন্স স্যুট। আবির আনন্দে আত্মহারা। ছেলের আনন্দ দেখে আবিরের মা খুব আনন্দিত। সমাজেও তাঁর পরিবারের সম্মান বাড়বে। আবিরের স্কুল টিচারদেরও বলা হয়েছে। আবিরের মা নিজে গিয়ে তাদের দাওয়াত করে এসেছেন। ড্রিইংরুমে পার্টির ব্যবস্থা করার কথা ছিল। কিন্তু লোকসংখ্যা বেশি বলে বাড়ির ছাদে শামিয়ানা টাঙিয়ে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। ডেকোরেটরের লোকজন ছাদ সাজানো শুরু করেছে। আবিরের বাবা ১লা মার্চ পে ডে বলে অফিসে গিয়েছেন। তাড়াতাড়ি ফিরবেন বলে গেছেন। বাসায় আবিরের মা আর কাজের লোকজন। ঘর সাজানোর টুকিটাকি এখনো অনেক কাজ বাকি সেগুলো নিয়ে ব্যস্ত আবিরের মা। বাসার কয়েকটি বিল্ডিংয়ের পরেই আবিরেএ স্কুল। স্কুল ছুটি হলে ধুপধাপ পা ফেলে বাড়ি এলো আবির। এসেই খালামণিকে ফোন করল- খালামণি আরো কিছু গিফ্ট আর র‍্যাপিং পেপার কিনতে হবে, বুঝলে। তুমি তৈরি থেকো। আমি সন্ধ্যা এসে তোমাকে নিয়ে শপিংয়ে যাবো। ওকে, বাই। ফোন রেখে মাকে উদ্দেশ্য করে বলল- মামণি, আমার খুব ক্ষিধে লেগেছে। তুমি টেবিলে খাবার দাও, আমি গোসল করে আসি।

বাথরুমে গরম পানিটা ঠান্ডা করতে দিয়ে তোয়ালে নিয়ে ব্যাটম্যান খেলায় মেতে উঠলো আবির। মা টেবিলে খাবার দিয়ে দুবার ডেকে এসেছে। আবির দরজা খোলেনি। বাইরে থেকে ভেতরে পানি পড়ার শব্দ ছাড়া আর কিছুই শোনা যায় নি। তারপর বিশ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করে ছেলেকে বের হতে না দেখে চাবি দিয়ে দরজা খুলল আবিরের মা। আবির স্কুল থেকে আসার আগেই ছুটা কাজের লোকেরা বিদায় নিয়েছে। বাড়িতে আবিরের মা একা। দরজা খুলেই সে দেখল টাওয়াল র‍্যাকের সাথে তোয়ালে জড়িয়ে দাঁড়িয়ে আছে আবীর। শুধু মাথাটা একদিকে একটু কাত হয়ে আছে। মাথাটা ঘুরে উঠায় সবকিছু অন্ধকার দেখল সে। কিন্তু বিপদে ধৈর্য হারাতে নেই, অজ্ঞান হলে চলবে না। মনের জোরে সাহস সঞ্চয় করে, তোয়ালে কেটে আবিরকে কোলে নিয়ে ছুটে গেল প্বার্শবর্তী ক্লিনিকে। সেখান থেকে বড় হাসপাতালে। তারপর সিএমএইচ, ডাক্তার, ইনজেকশন। পরদিন আবিরের নিষ্পাপ, নিষ্প্রাণ দেহটাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হলো। তাকে ঘিরে রেখেছে আত্মীয়স্বজন, সহপাঠী, শিক্ষক, প্রতিবেশী, অফিসের লোকজন। হ্যাপি বার্থডে লিখা বেলুন গুলো দুলছে। অথচ কারো মুখে কোন শব্দ নেই, কেউ বলছে না- হ্যাপি বার্থডে টু ইউ, হ্যাপি বার্থডে টু ইউ আবির।

No comments