অনুচ্ছেদ : জাতীয় শোকদিবস

জাতীয় শোকদিবস


বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যা করা হয় ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট। এ দিনটিকেই জাতীয় শোকদিবস হিসেবে পালন করা হয়। এ দিনটির সাথে জড়িয়ে আছে জাতির বেদনামিশ্রিত অশ্রুগাঁথা। জাতিকে এ দিনটির যন্ত্রণাকাতর ভার বইতে হয়েছে দীর্ঘদিন। সে এক কলঙ্কময় অধ্যায়। জাতির পিতাকে হত্যা করে ঘাতকরা ক্ষান্ত হয়নি, তাঁর হত্যার বিচাত প্রক্রিয়া বন্ধ করার জন্য অধ্যাদেশ জারি করা হয়। এরপর দীর্ঘ সময় জাতির পিতাকে নিয়ে তেমন আলোচনা হয় নি। জাতির পিতার হত্যার পর সামরিক বেসামরিক যে সরকারই এসেছে জাতির পিতার ব্যাপারে তারা ছিল নির্লিপ্ত। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে জাতির পিতার দিকে বিশেষ নজর দেয়। তারা ১৫ই আগস্টকে জাতীর শোকদিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর থেকে দিনটি জাতীয় শোকদিবস হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মিলাদ মাহফিল ও কাঙালি ভোজের ব্যবস্থা করা হয়। দিনটি থাকে সরকারি ছুটি। বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাসহ সসর্বস্তরের জনগণ জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী এ উপলক্ষে বাণী প্রদান করেন। জাতীয় পত্রিকা ও বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল এ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করে। জাতীয় শোকদিবসকে শুধু একটি বিশেষ দিন হিসেবে পালন করলেই হবে না। জাতির পিতার স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মানের মাধ্যমেই দিনটির যথাযথ তাৎপর্য ও গুরুত্ব প্রতিফলিত হবে।
Post a Comment (0)
Previous Post Next Post