বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শিক্ষা সহায়ক ওয়েব সাইট

প্রতিবেদন : স্কুল লাইব্রেরি সম্পর্কে বিবরণ দিয়ে

তোমার স্কুল লাইব্রেরি জরিপ করে প্রধান শিক্ষকের বরাবর একটি প্রতিবেদন লেখো।

বা, মনে করো, তুমি ফরহাদ, বগুড়া জিলা স্কুলের দশম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থী। তোমার স্কুল লাইব্রেরি সম্পর্কে বিবরণ দিয়ে প্রধান শিক্ষক বরাবর একটি প্রতিবেদন প্রণয়ন করো।


২৯শে জানুয়ারি, ২০২১

বরাবর
প্রধান শিক্ষক
চৌধুরীগাঁও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
সোনারগাঁও, নারায়ণগঞ্জ।

বিষয় : বিদ্যালয় গ্রন্থাগার সংক্রান্ত প্রতিবেদন।
স্মারক ফা. ১৯/০২

জনাব,
সবিনয়ে জানাচ্ছি যে, আপনার স্মারক ফা. ১৯/০২, ২৭ জানুয়ারি, ২০২১-এর পরিপ্রেক্ষিতে নারায়ণগঞ্জ জেলার চৌধুরীগাঁও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের লাইব্রেরি সরেজমিনে জরিপ করে লাইব্রেরির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য আপনার সদয় অবগতির জন্য নিবেদন করছি।

চৌধুরীগাঁও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় গ্রন্থাগারটির সংস্কার প্রয়োজন

১. বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর পর বিদ্যালয় লাইব্রেরি স্থাপিত হলেও বর্তমানে বিদ্যালয় লাইব্রেরির অবস্থা খুবই করুণ। বইয়ের সংখ্যাও কম। তার ওপর রয়েছে নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থা। বিদ্যালয় উন্নয়নের সাথে সাথে বিদ্যালয় লাইব্রেরির উন্নয়ন মোটেও হয়নি। শিক্ষার্থীর সংখ্যা এবং বইয়ের প্রয়োজন বাড়লেও বইয়ের সংখ্যা বাড়েনি, বরং কমেছে। অনেক শিক্ষার্থী-শিক্ষক বই নিয়ে ফেরত দেননি। গ্রন্থাগারিক অনেক বই খুঁজে পাচ্ছেন না, বইয়ের হিসাব মেলাতে পারছেন না। বিদ্যালয় থেকে প্রতি বছর বইয়ের জন্যে টাকা বরাদ্দ থাকার কথা থাকলেও বিদ্যালয়েল আর্থিক দুরবস্থার জন্যে বরাদ্দ দেওয়া হয় না। বর্তমানে বিদ্যালয়ের বইয়ের সংখ্যা মোট ৫০০। যা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল।

২. বিদ্যালয় গ্রন্থাগারে বিভিন্ন বিষয়ে উন্নতমানের বই থাকা দরকার। শিক্ষার্থীদের পাঠগান ও পাঠগ্রহণের স্বার্থে প্রয়োজনীয় সহায়ক বই থাকা দরকার। বিদ্যালয় লাইব্রেরিতে রেফারেন্স বইয়ের বড়ই অভাব। তা ছাড়া বিদ্যালয় গ্রন্থাগারের বইয়ের বিষয়, সংখ্যা ও মানের মধ্যেও সংগতি নেই। এর কারণ বিদ্যালয় গ্রন্থাগারিকের পদটি শূন্য। তথা বিজ্ঞানের শিক্ষক অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে গ্রন্থাগারিকের দায়িত্ব পালন করেন। ফলে তিনি প্রয়োজনীয় সময় দিতে পারেন না।

৩. লাইব্রেরির বই রক্ষণাবেক্ষণে বৈজ্ঞানিক কোনো পদ্ধতি অবলম্বন করা হয় না। বিদ্যালয় লাইব্রেরিতে ক্যাটালগ নেই, বই ইস্যু এবং ফেরত নেওয়ার ব্যাপারেও অব্যবস্থা রয়েছে।

রয়োজনীয় সুপারিশসমূহ

১. শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের প্রয়োজন মেটাতে বিভিন্ন বিষয়ে উন্নতমানের পর্যাপ্ত সংখ্যক বই ক্রয় করে বিদ্যার্থী লাইব্রেরিতে সরবরাহ করতে হবে।

২. বিদ্যালয় লাইব্রেরিতে বইয়ের জন্যে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ দিতে হবে।

৩. সরকারি ও বিভিন্ন বেসরকারি সংখ্যা থেকে অনুদান হিসেবে বিদ্যালয় লাইব্রেরির জন্যে বই সংগ্রহ করতে হবে।

৪. গ্রন্থাগারিকের শূন্যপদে অবিলম্বে লোক নিয়োগ দিতে হবে।

৫. বিদ্যালয় গ্রন্থাগারে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বই রক্ষণাবেক্ষণের জন্যে দশমিক পদ্ধতিতে পুস্তকের তালিকা প্রণয়ন করতে হবে।

৬. কার্ড ইস্যু ছাড়া বিদ্যালয় লাইব্রেরি থেকে বই ইস্যু করা যাবে না। বই ইস্যু করার পর নির্দিষ্ট সময়ে বই ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

৭. বিদ্যালয় গ্রন্থাগার তত্ত্বাবধানে সচেষ্ট হতে হবে। এজন্যে শক্তিশালী একটি কমিটি গঠন করা দরকার।

৮. শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিদ্যালয় গ্রন্থাগারের জন্যে বার্ষিক চাঁদা নিতে হবে। কোনো অবস্থাতেই চাঁদা মওকুফ করা যাবে না।

প্রতিবেদন তৈরিতে যেসব শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সহায়তা করেছেন, তাঁদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

নিবেদক
সাবরিনা আক্তার দোলা
দশম শ্রেণি, বিজ্ঞান বিভাগ
চৌধুরীগাঁও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
নারায়নগঞ্জ

No comments