বইয়ে খোঁজার সময় নাই
সব কিছু এখানেই পাই

অনুচ্ছেদ : দারিদ্র্য বিমোচন

দারিদ্র্য বিমোচন


দারিদ্র্য এমন একটি অর্থনৈতিক অবস্থা, যখন একজন মানুষ জীবনযাত্রার ন্যূনতম মান অর্জনে ব্যর্থ হয়। স্বল্প আয়ের কারণে সে জীবনধারণের অপরিহার্য দ্রব্যাদি ক্রয় করার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। দারিদ্র জনগোষ্ঠীর উপার্জনের সামর্থ্য বাড়িয়ে দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব। বাংলাদেশ সরকার দীর্ঘকাল ধরেই নানা কার্যক্রমের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচনের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০১০ সালের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশের ১৭.৬% লোক দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। আর তাই সরকার দারিদ্র বিমোচনের জন্য পল্লি উন্নয়ন কার্যক্রমে গুরুত্ব দিচ্ছে। দারিদ্র বিমোচন-সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানগুলো বহুমূখী। এদের মধ্যে পল্লি সমবায় সমিতি, ঋণদান ব্যবস্থা, সেচ ব্যবস্থা, মৎস্য ও গবাদিপশু উন্নয়ন, পল্লি এলাকার শিল্পউন্নয়ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। সম্প্রতি বাংলাদেশের অতি দরিদ্র পরিস্থিতির বেশ উন্নতি হয়েছে। দেশে হতদরিদ্রের সংখ্যা কমেছে। সাত বছরের ব্যবধানে প্রায় ৮০ লাখ হতদরিদ্র লোক অতি দারিদ্র্যসীমার ওপরে উঠেছে। বিশ্ব ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাবে, গত অর্থবছর শেষে অতি দারিদ্র্যের হার দেশের মোট জনসংখ্যার ১২.৯ শতাংশে নেমে এসেছে। বিশ্বের ‘সর্বাধিক জনসংখ্যার ঘনত্বের’ এই দেশটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্য হ্রাসের সংগ্রামে জাতিসংঘ ঘোষিত আটটি সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সবচেয়ে গুরুত্ববহ প্রথম লক্ষ্যটি নির্ধারিত সময়সীমার দুই বছর আগেই অর্জন করেছে। এতে প্রমাণিত হয় যে, বাংলাদেশ সফলভাবে দারিদ্র্য বিমোচন এগিয়ে যাচ্ছে। দরিদ্র জনগোষ্ঠির জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করার লক্ষ্যে এ যাবৎ গৃহীত দেশের সবকটি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় মাত্রাভেদে পল্লি উন্নয়নে গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। সম্পদের সুষম বণ্টন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, কর্মমুখী প্রশিক্ষণ প্রদান দারিদ্র্য বিমোচনে সহায়ক হবে। দারিদ্র্যের কারণগুলো থেকে উত্তরণের মাধ্যমেই মূলত দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব।

No comments