My All Garbage

Shuchi Potro
সাধারণ জ্ঞান অ্যাসাইনমেন্ট-২০২১ বাংলা রচনা সমগ্র ভাবসম্প্রসারণ তালিকা অনুচ্ছেদ চিঠি-পত্র ও দরখাস্ত প্রতিবেদন প্রণয়ন অভিজ্ঞতা বর্ণনা সারাংশ সারমর্ম খুদে গল্প ব্যাকরণ Composition / Essay Paragraph Letter, Application & Email Dialogue List Completing Story Report Writing Graphs & Charts English Note / Grammar পুঞ্জ সংগ্রহ বই পোকা হ য ব র ল তথ্যকোষ পাঠ্যপুস্তক CV & Job Application বিজয় বাংলা টাইপিং My Study Note আমার কলম সাফল্যের পথে
About Contact Service Privacy Terms Disclaimer Earn Money


বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শিক্ষা সহায়ক ওয়েব সাইট

রচনা : স্বাধীনতা যুদ্ধে বিদেশিদের ভূমিকা

ভূমিকা : বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ বিশ্ব ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। মাত্র নয় মাসের যুদ্ধে স্বাধীনতা লাভে যাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ ছিল তারা হলেন আমাদের বিদেশি বন্ধুগণ। বিদেশি বন্ধুদের আন্তরিক সমর্থন ও সাহায্যের কারণে এত স্বল্প সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করতে সক্ষম হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সময় এবং স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বিদেশি বন্ধুদের ভূমিকা অবিস্মরণীয়। ভিনদেশি এসব মানুষের কাছে বাংলাদেশ চিরঋণী। মুক্তিযুদ্ধের সময় এ সকল মহান ব্যক্তি ও সংগঠনের অবদান বাঙালি জাতিকে প্রাণপণ লড়াইয়ে উৎসাহ জুগিয়েছিল।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পটভূমি : বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ কয়েক যুগ ধরে বাঙালিদের মনে পুতে রাখা জাতীয়তাবাদের উন্মেষের ফসল। বাঙালির স্বজাত্যবোধ প্রকাশ পেয়েছে ১৯৪৭ সাল থেকে শুরু করে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত ঘটিত কিছু ঘটনাবলীর ওপর ভিত্তি করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঘটনার মধ্যে রয়েছে ১৯৫২ সালের মাতৃভাষা বাংলার দাবীতে ভাষা আন্দোলন। ১৯৫৪ সালের নিবার্চনে যুক্তফ্রন্টের জয়, ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খানের জোরপুর্বক ক্ষমতা দখল করে সামরিক শাসন জারি, ১৯৬২ সালের হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলন, ১৯৬৬-এর ছয় দফা দাবী উত্থাপন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুথান এবং ১৯৭০ সালের নিবার্চন, এসব ঐতিহাসিক ঘটনাবলীর মাধ্যমে বাঙালির নিজস্ব জাতি চেতনা গড়ে ওঠে। বাংলার মানুষ পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙ্গে মুক্ত এবং স্বাধীন স্বদেশ প্রতিষ্ঠায় উজ্জীবিত হয়।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ : ২৫ মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার মাধ্যমে শুরু হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ। পরবর্তীতে মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করলে বাঙালি জাতি স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়ে। সারাদেশে শুরু হয় তুমুল যুদ্ধ। সারাদেশকে এগারটি সেক্টরে বিভক্ত করা হয়। ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠন করা হয় বাংলাদেশের অন্তর্বতীকালীন সরকার। অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের রাষ্ট্রপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি পাকিস্তানের কারাগারে থাকায় উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। তাজউদ্দিন আহমেদ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তাদের বলিষ্ঠ নেতৃত্বের মাধ্যমে স্বাধীনতা যুদ্ধে বাংলাদেশ নয় মাসে পাকিস্তানের রিরুদ্ধে জয়লাভ করে। অবশেষে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর যৌথবাহিনীর কমান্ডার জগজিৎ সিং অরোরার কাছে পাক বাহিনীর জেনারেল এ,কে, নিয়াজি ৯৩ হাজার সৈন্যসহ আত্মসমর্পণ করে। ফলে বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের মানচিত্রে জায়গা করে নেয়।

স্বাধীনতাযুদ্ধে বিদেশি ব্যক্তিবর্গের অবদান : বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে বাঙালিদের পাশাপাশি বিদেশি অনেক ব্যক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। যাদের ভূমিকার কারণে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন ত্বরান্বিত হয়। বিদেশিদের মধ্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালনকারীদের সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা নিচে তুলে ধরা হলো-

ইন্দিরা গান্ধী : ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রর বিরোধিতা সত্ত্বেও বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্বজনমত গড়ে তোলেন। তার অনুরোধেই জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করে উত্থাপিত প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট প্রদান করে রাশিয়া। তিনি যুদ্ধের সময় ভারতে অবস্থান গ্রহণকারী বাঙালি শরণার্থীদের ক্যাম্প পরির্দশন করেন। এসময় তিনি প্রায় এক কোটি শরণার্থীর দুঃখ-দুর্দশা লাঘবের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

আঁদ্রে মার্লো : আঁন্দ্রে মার্লো বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পক্ষে অবস্থানগ্রহণকারী বিশ্ব ব্যক্তিত্ব। তিনি ফ্রান্সের বুদ্ধিজীবী ও দার্শনিক। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণে তার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেলে সারাবিশ্বে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জোরালো সমর্থন গড়ে ওঠে।

জর্জ হ্যারিসন : আমেরিকান পপ সংগীত তারকা জর্জ হ্যারিসন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ভারতের বিখ্যাত সংগীত শিল্পী পন্ডিত রবি শংকরের অনুরোধে একটি কনসার্ট করতে রাজি হন। হ্যারিসনের ব্যান্ড পার্টি ব্রিটলস ১৯৭১ সালে নিউইয়র্কের ম্যাসিন স্কয়ারে “কনসার্ট ফর বাংলাদেশ” নামে একটি কনসার্টের আয়োজন করেন। হ্যারিসনের ইচ্ছায় বাংলাদেশে পাকিস্তানিদের নিমর্ম হত্যাযজ্ঞের স্থির চিত্র প্রদর্শিত হয়। ফলে বাংলাদেশে পাকিস্তানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ঘৃণার সৃষ্টি হয়। হ্যারিসনের আন্তরিক চেষ্টার ফলে উক্ত কনসার্ট থেকে প্রায় আড়াই লাখ ডলার অনুদান সংগৃহিত হয়। যার সবটাই বাংলাদেশে নিপীড়নের শিকার মানুষের জন্য প্রদান করা হয়।

জোয়ান বায়েজ : বিখ্যাত সংগীত তারকা জোয়ান বায়েজ বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেন। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পক্ষে গান রচনা করেন। যার শিরোনাম ছিল “বাংলাদেশ বাংলাদেশ”। তার মতো একজন বিশ্বখ্যাত তারকার বাংলাদেশ নিয়ে গান রচনা করায় বাংলাদেশর স্বাধীনতা যুদ্ধ নিয়ে বিদেশিদের টনক নড়ে।

সাইমন ড্রি : সাইমন ড্রিং বাংলাদেশে পাকিস্তানিদের গণহত্যার খবর প্রথম বর্হিবিশ্বে প্রচার করেন। তিনি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বিশ্ব দরবারে পাকিস্তানিদের গণহত্যার চিত্র তুলে ধরেন।

উথান্ট : স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন জাতিসংঘের মহাসচিব মিয়ানমারের নাগরিক উথান্টও অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি বাংলাদেশে পাকিস্তানিদের গণহত্যার বিষয়ে ইয়াহিয়া খানের কাছে উদ্বেগ জানান। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে ভারতে আশ্রয়রত বাঙালি শরণার্থীদের জন্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সাহায্য আসে।

শ্রী-কুদরিয়া ভেৎসেব : ভারত সফররত সোভিয়েত প্রতিনিধি দলের নেতা শ্রী কুদরিয়া ভেৎসেবের বলিষ্ঠ ঘোষণার মাধ্যমে প্রথম বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়। তিনি বলেন যে, বাংলাদেশকে সাহায্য করতে গিয়ে ভারত আক্রান্ত হলে রাশিয়া ভারতের পাশে দাঁড়াবে।

ডব্লিউ এস. ওডারল্যান্ড : ন্যাদারল্যান্ডস এর বংশোদ্ভূত অস্ট্রেলীয় নাগরিক ডব্লিউ এস. ওডারল্যান্ড বাংলাদেশের বাটা কোম্পানির কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করছিলেন। তিনি ২য় বিশ্বযুদ্ধের একজন যোদ্ধা ছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে তিনি বাংলাদেশের পক্ষে যুদ্ধে অংশ নেন।

এ্যান্থনি মাসকারেনহাস : ব্রিটিশ সাংবাদিক এ্যান্থনি মাসকারেনহাসকে বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়েছিল পাকিস্তানের পক্ষে সংবাদ ছাপানোর জন্য। তিনি তা না করে বিবেকের তাড়নায় বাঙালিদের উপর পাকিস্তানিদের গণহত্যার চিত্র বিদেশি পত্রিকায় তুলে ধরেন। বাংলাদেশে পাকবাহিনীর গণহত্যা নিয়ে তার রচিত বই ‘র‌েইপ অব বাংলাদেশ’ এবং ‘লিগ্যাসি অব ব্লাড’।

সিডনি স্যান্ডবার্গ : নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক সিডনি স্যান্ডবার্গ পাকিস্তানি শাসকদের অপকীর্তি নিয়ে রিপোর্ট ছাপান। একারণে তাকে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ বহিষ্কার করে।

এডওয়ার্ড এফ. কেনেডি : তিনি মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্রেট দলীয় সদস্য। ১৯৭১ সালে তিনি আমেরিকার পাকিস্তানঘেষা পররাষ্ট্রনীতির বড় সমালোচক ছিলেন।

উপরোক্ত ব্যক্তিবর্গ ছাড়াও স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতীয় সেনাবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ডার লে. জেনারেল জগজিৎ সিং আরোরা, সোভিয়েত প্রেসিডেন্ট নিকোলাই পদগোনি এবং প্রধানমন্ত্রী অ্যালেগ্রেই কেসিগিনের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য।

বিদেশি সংগঠনের ভূমিকা : বিদেশি ব্যক্তিবর্গের ভূমিকার পাশাপাশি বিদেশি অনেক সংগঠনও বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। সংগঠনগুলো হলো-

সোভিয়েত নারী কমিটি : সোভিয়েত নারী কমিটি বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ ও আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল।

জাতিসংঘ : জাতিসংঘ স্বাধীনতা যুদ্ধে নিপীড়িত বাংলাদেশিদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল এবং যোগ্য মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা রেখেছিল।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় : কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের অনেক শিক্ষককে ভিজিটিং ফেলো হিসেবে নিয়োগ দেয়। সংগঠনটি মুক্তিযুদ্ধের উপর অনেক তথ্যচিত্র তৈরি করে এবং পুস্তক রচনা করে। এটি স্বাধীনতাযুদ্ধ ছাড়াও পরবর্তীতে বাংলাদেশের পুনর্গঠনে সহায়তা করে।

বিভিন্ন পত্রিকা : স্বাধীনতা যুদ্ধে যেসব সংগঠন অনেক বড় ভূমিকা রেখেছিল তাদের মধ্যে কিছু পত্রিকা উল্লেখযোগ্য। পত্রিকাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ডেইলি টেলিগ্রাম, গার্ডিয়ান, নিউ স্টেটম্যান, টাইমস, ইকোনোমিস্ট, সানডে টাইমস, অবজারভার, বিবিসি ইত্যাদি।

রাজনৈতিক দল : ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি, সোসালিস্ট পার্টি, জনসংঘ, রাশিয়ান সোসালিস্ট পার্টি এবং মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্রেট পার্টি স্বাধীনতাযুদ্ধে বাংলাদেশকে সমর্থন করেছিল।

সাংস্কৃতিক সংগঠন : ভারতে বাংলাদেশের পক্ষে শিল্পী-সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী সমিতি গঠন করা হয়। যারা স্বাধীনতা যুদ্ধের পক্ষে প্রচারণায় ভূমিকা পালন করে।

বিদেশি রাষ্ট্রের ভূমিকা : বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে বিদেশি রাষ্ট্র ভারত এবং সোভিয়েত ইউনিয়নের ভূমিকা ছিল সবচেয়ে বেশি। ভারত বাংলাদেশকে সামরিক শক্তি, শরণার্থীদের আশ্রয় প্রদান এবং বিশ্বে বাংলাদেশের পক্ষে জনমত গঠনে ভূমিকা রাখে। যুদ্ধের শেষের দিকে ভারত বাংলাদেশের মুক্তিযাদ্ধাদেরকে নিয়ে মিত্রবাহিনী গড়ে তোলে। যা যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। ভারতের পর সবচেয়ে বেশি ভূমিকা ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের। সোভিয়েত রাশিয়া জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্বাধীনতার বিপক্ষে উত্থাপিত প্রস্তাবের বিপক্ষে ভেটো দেয় এবং বাংলাদেশে ভারতের মাধ্যমে অস্ত্র সরবরাহ করে। যুক্তরাষ্ট্র সপ্তম নৌবহর নিয়ে বাংলাদেশ আক্রমণ করতে এলে সোভিয়েত ইউনিয়ন ষষ্ঠ নৌবহর পাঠায়। ফলে মার্কিন নৌবহর ফিরে যেতে বাধ্য হয়। দুটি দেশ ছাড়াও আরো যে কয়েকটি দেশ বাংলাদেশের পক্ষে ভূমিকা রেখেছিল সেগুলো হলো- যুগোস্লাভিয়া, জার্মানি, ভেনিজুয়েলা, ফ্রান্স, সুইডেন, আজেন্টিনা, সেনেগাল, পোল্যান্ড, ভিয়েতনাম, অস্ট্রেলিয়া, কিউবা প্রভৃতি। উক্ত দেশগুলো স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশকে দ্রুত স্বীকৃতি দেয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে সুসংহত করে।

বিদেশিদের সম্মাননা প্রদান : ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, রাজনীতিক, শিল্পী, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও বিভিন্ন সংগঠন বাংলাদেশকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছে। স্বাধীনতা যুদ্ধে জয়লাভে তাদের ভূমিকা অবিস্মরণীয়। সরকার তিন ক্যাটাগরিতে এই বিদেশিদের সম্মাননা প্রদান করেছে। যথা-
(ক) বাংলাদেশ স্বাধীনতা সম্মাননা
(খ) বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা
(গ) মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা।

প্রথম পর্বে ভারতের প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে ২০১১ সালের ২৫ জুলাই বাংলাদেশ স্বাধীনতা সম্মাননা পুরস্কার দেয়া হয় যা আর কাউকে প্রদান করা হবে না। দ্বিতীয় পর্বে ২০১২ সালের ২৭ মার্চ মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য ৮৩ জন বিদেশিকে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা প্রদান করা হয়। তৃতীয় পর্বে ২০১২ সালের ২০ অক্টোবর আরো ৬১ জন বিদেশি বন্ধুকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্মাননা প্রদানের চতুর্থ ধাপের অনুষ্ঠান হয় ডিসেম্বর ২০১২ সালে। এই পর্বে সরকার ৫৬৮ জন বিদেশি বন্ধু ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা প্রদান করেছে। এ সম্মাননা প্রদানের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকার বিদেশিদের অবদানকে কৃতজ্ঞতা ভরে স্মরণ করে।

উপসংহার : বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে বিদেশিদের অবদান অবিস্মরণীয়। বিদেশিরা যেভাবে বাংলাদেশিদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে তা বিশ্বের অন্যকোনো দেশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে খুব কমই দেখা যায়। বিদেশিদের প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ সমর্থন এবং সহযোগিতার মাধ্যমে বাঙালিরা প্রচন্ড মানসিক শক্তি লাভ করে যা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে জয়লাভের ক্ষেত্রে বড় ধরণের ভূমিকা পালন করে।

No comments